খুঁজুন
                               
, ,
           

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সুখী রাখে যে ৭ অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সুখী রাখে যে ৭ অভ্যাস

ভালোবাসার গল্পের শুরুটা প্রায়ই হয় রোমাঞ্চকর। প্রথম দেখা, প্রথম কথা, প্রথম হাত ধরা—সবকিছুই যেন কোনো রোমান্টিক সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু সম্পর্ক কয়েক বছর পেরিয়ে গেলে ফুল, চকলেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া রোমান্টিক পোস্ট আর আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। তখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস।

দীর্ঘস্থায়ী সুখী সম্পর্কের পেছনে বড় কোনো গোপন রহস্য নেই। বরং একে অপরের প্রতি সম্মান, বোঝাপড়া, সময় দেওয়া এবং ভুল হলে ক্ষমা চাওয়ার মতো সাধারণ আচরণই ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত শক্ত করে।

১. ছোট্ট একটা ‘ধন্যবাদ’ বলুন

বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর অনেকেই মনে করেন, সঙ্গীকে আবার ধন্যবাদ বলার প্রয়োজন কী। কিন্তু দীর্ঘদিন সুখী দাম্পত্যে থাকা দম্পতিদের অভিজ্ঞতা বলে, ছোট ছোট কাজের স্বীকৃতি সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে।

এক কাপ চা বানিয়ে দেওয়া, বাজার করা, খাওয়ার পর বাসন ধোয়া কিংবা ঘরের কোনো কাজ করে দেওয়ার জন্যও সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে। এতে বোঝা যায়, সঙ্গীর প্রচেষ্টাকে আপনি স্বাভাবিক ধরে নিচ্ছেন না।

সম্পর্কে ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মানও জরুরি। তাই দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও একে অপরকে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ বা অবধারিত ধরে না নেওয়াই ভালো।

২. ঝগড়া হবে, তবে জেতার জন্য নয়

সুখী দম্পতিরা কখনো ঝগড়া করেন না—এ ধারণা ঠিক নয়। মতের অমিল যেকোনো সম্পর্কেই হতে পারে। পার্থক্য তৈরি হয় মতবিরোধের সময় দুজন কীভাবে আচরণ করছেন, সেখানে।

ঝগড়ায় কে জিতল, সেটি বড় বিষয় নয়। বরং দুজন মিলে সমস্যার সমাধান করতে পারছেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সমস্যাটিকে দুজনের যৌথ সমস্যা হিসেবে দেখলে সম্পর্কের ওপর চাপ কমে।

৩. সঙ্গীকে বদলানোর চেষ্টা নয়, বোঝার চেষ্টা করুন

বিয়ের পর অনেকেই আশা করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গীর কিছু অভ্যাস বা স্বভাব বদলে যাবে। কিন্তু কাউকে নিজের পছন্দমতো বদলানোর চেষ্টা অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।

সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব, পছন্দ-অপছন্দ ও স্বভাবকে বোঝার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর। সব বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়; বরং মতের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে গ্রহণ করতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

৪. আলাদা মানুষ হয়েও একসঙ্গে থাকুন

সুস্থ সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে দুজনকে সব সময় একই কাজ করতে হবে। দুজনের আলাদা বন্ধু, শখ, পছন্দ কিংবা ক্যারিয়ার থাকতেই পারে।

একজন আরেকজনের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করলে সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক থাকে। নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে সময় দেওয়া কিংবা নিজের শখ ধরে রাখাও ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫. প্রতিদিন অন্তত কয়েক মিনিট মন খুলে কথা বলুন

সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ হয়তো সব সময় পাওয়া যায় না। তবে প্রতিদিন কয়েক মিনিট মনোযোগ দিয়ে কথা বলার অভ্যাস সম্পর্ককে গভীর করতে পারে।

দিনটি কেমন গেল, কী নিয়ে চিন্তা হচ্ছে, কোনো ঘটনা আনন্দ দিয়েছে কি না—এমন সাধারণ বিষয় নিয়েও কথা বলা যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কথা বলার সময় সত্যিকার অর্থে একে অপরের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।

৬. ভুল হলে ক্ষমা চান, ক্ষমা করতেও শিখুন

দীর্ঘ সম্পর্কের পথে ভুল-ভ্রান্তি থাকবেই। প্রতিটি ভুল বারবার মনে করিয়ে দিলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

নিজের ভুল হলে তা স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি সঙ্গীর ভুলের ক্ষেত্রেও ক্ষমা করতে শেখা প্রয়োজন। তবে ক্ষমা করার অর্থ গুরুতর অন্যায় বা ক্ষতিকর আচরণকে উপেক্ষা করা নয়; বরং পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও ছোটখাটো ভুলকে দীর্ঘদিনের ক্ষোভে পরিণত না করা।

৭. ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত

ভালোবাসাকে আমরা প্রায়ই একটি অনুভূতি হিসেবে দেখি। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে ভালোবাসা অনেকটাই প্রতিদিনের আচরণ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত।

আজও কি সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শুনব? আজও কি তাকে সম্মান করব? কঠিন সময়ে কি তার পাশে থাকব? মতের অমিল হলেও কি সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল থাকব?

প্রতিদিনের এমন ছোট ছোট সিদ্ধান্তই দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। ভালোবাসার বড় প্রকাশের পাশাপাশি নিয়মিত সম্মান, যত্ন, যোগাযোগ ও বোঝাপড়াই শেষ পর্যন্ত একটি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে।

কালের আলো/এসএ

অবিবাহিত বলে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার নিয়ম কোথায়?

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
অবিবাহিত বলে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার নিয়ম কোথায়?

বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও তিন নারীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টে রিটের পর প্রশ্ন উঠেছে—প্রাপ্তবয়স্ক ও বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা কোনো নারীকে শুধু অবিবাহিত হওয়া বা অভিভাবক ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের কারণে আটকে দেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী?

মঙ্গলবার(২৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছেন, তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ওই কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা অনুরূপ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল?

রিটকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ আগস্ট,২০২৬ নেপাল যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁদের বাসায় ভ্রমণের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না, তাঁরা অবিবাহিত কি না এবং অভিভাবক ছাড়া কেন যাচ্ছেন—এ ধরনের প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তিন নারী জানান, তাঁদের বৈধ পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি এবং বিমান টিকিট থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযোগ করেন তাঁরা। অভিযোগটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁরা হাইকোর্টে রিট করেন।

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে নাগরিকের বাংলাদেশ থেকে বের হওয়া এবং দেশে ফিরে আসার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে জনস্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের বিষয়টিও সেখানে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করে শুধু নারী-পুরুষভেদের কারণে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য না করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাসপোর্ট আইনে কী আছে?

বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩ অনুযায়ী পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথি ইস্যু, দেশত্যাগ এবং এ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। আইনটিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যান, বাতিল বা সীমিত করার ব্যবস্থাও আছে।

তবে ‘অবিবাহিত নারী’ হিসেবে আলাদা কোনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—এমন বিধান পাসপোর্ট অর্ডারের সংশ্লিষ্ট ধারায় দেখা যায় না। এ কারণেই তিন নারীর ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা বা অভিভাবকের অনুমতির বিষয়টি বিদেশযাত্রা ঠেকানোর বৈধ ভিত্তি ছিল কি না, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনায় এসেছে।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

রুল জারির পাশাপাশি হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিপিকে তিন নারীর করা অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে এবং আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে আইনগত ভিত্তি ছাড়া যেন ওই তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কেন আলোচনায় বিষয়টি?

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী ইমিগ্রেশনে নিজেদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। নারী ভ্রমণকারীদের বৈবাহিক অবস্থা, পরিবারকে জানানো হয়েছে কি না কিংবা একা ভ্রমণের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা কতটা প্রাসঙ্গিক—এ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাইয়ের এখতিয়ার রয়েছে। প্রশ্ন হলো, বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের নির্দিষ্ট আইনগত কারণ প্রয়োজন এবং বৈবাহিক অবস্থা সেই কারণ হতে পারে কি না। তিন নারীর রিটের পর এখন সেই প্রশ্নের আইনি ব্যাখ্যাই আদালতের সামনে এসেছে।

হাইকোর্টের জারি করা রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এসএ

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্য থাকায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ডেপুটি গভর্নর জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নিয়ন্ত্রণে আসার যথেষ্ট প্রমাণ এখনো নেই। বৈশ্বিক জ্বালানির দাম, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি, দেশে জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত মূল্যের সমন্বয় এবং নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, আগেভাগে নীতি শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ওই সময়ে শিল্প উৎপাদন ০ দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে সহায়তার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং কৃষি, সিএমএসএমই ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের কথা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা ও বিতরণ এখনো দুর্বল। ২০২৬ সালের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বিনিয়োগে ধীরগতি, ঋণগ্রহীতাদের উচ্চ ঝুঁকি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের উদ্বৃত্ত ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

আগামী দিনের অর্থনীতির ঝুঁকি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য বিঘ্ন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য, কঠোর বৈশ্বিক মুদ্রানীতি, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রাজস্ব খাতের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করাই মুদ্রানীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশে রোবট ফোন আনল অনার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে রোবট ফোন আনল অনার

বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইসসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে বড় পরিসরে স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে অনার বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি রোবট ফোন প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন লোগোও উন্মোচন করা হয়।

স্মার্টফোনের পাশাপাশি আসছে টিভি-ল্যাপটপ

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এতদিন বাংলাদেশে মূলত স্মার্টফোনের জন্য পরিচিত থাকলেও এখন পণ্যের পরিধি বাড়াতে যাচ্ছে অনার। এর অংশ হিসেবে দেশের বাজারে ল্যাপটপ ও টেলিভিশন নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।

অনারের টেলিভিশন সিরিজে ৩২ থেকে ১০০ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের পর্দার মডেল থাকবে। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ঘর ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

অনারের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জিটিএম পরিচালক লিও পেই বলেন, বাংলাদেশে অনারের যাত্রা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে শুরু হলেও এখন ফোন তাদের বৃহত্তর স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশ। ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনকে পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তিপণ্য

বাংলাদেশে অনারের অংশীদার স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, অনার বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করছে। এসব পণ্যের মান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কারখানায় তৈরি পণ্যের সমমানের বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ধাপে ধাপে অনারের আরও বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসা হবে।

প্রথমবার প্রদর্শিত রোবট ফোন

‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অনারের তৈরি রোবট ফোন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত এই ডিভাইসটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের পাশাপাশি আগ্রহ দেখান নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও।

চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী রোবট ফোনটি হাতে নিয়ে বলেন, ডিভাইসটি দিয়ে পরীক্ষামূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, প্রচলিত ফিল্ম ক্যামেরা আকারে বড় হওয়ায় অনেক জায়গায় শুটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু রোবট ফোনটি বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করে তুলনামূলক কঠিন পরিস্থিতিতেও শুটিং করা সম্ভব হতে পারে।

আসছে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে ২৮ সেপ্টেম্বর উন্মোচিত অনারের ম্যাজিক৯ প্রো ম্যাক্স মডেলটি শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারে আনা হবে।

এর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় অনারের ম্যাজিক ভি৬ ভাঁজযোগ্য ফোন, বিভিন্ন ট্যাবলেট, ইয়ারবাড, হেডফোন, স্মার্টঘড়ি, স্মার্ট গ্লাস, ল্যাপটপ ও টেলিভিশন।

অনার বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পণ্য ও বিপণনপ্রধান সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে শুধু স্মার্টফোন বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে একটি সমন্বিত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে অনার বাংলাদেশ।

কালের আলো/এসএ