খুঁজুন
                               
, ,
           

মানুষের মতো কথা বলে ময়না, কীভাবে সম্ভব এই বিস্ময়?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
মানুষের মতো কথা বলে ময়না, কীভাবে সম্ভব এই বিস্ময়?

‘কেমন আছো?’, ‘কে রে?’ কিংবা ‘ভাত খাইছ?’—পরিচিত মানুষের মুখে শোনা এমন কথা হুবহু নকল করতে পারে ময়না। কখনো তার কণ্ঠস্বর এতটাই মানুষের মতো শোনায় যে মনে হয়, পাখিটি বুঝি সত্যিই মানুষের ভাষা বুঝতে পারে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব এই বিস্ময়? মানুষের মতো স্বর তৈরি করতে ময়নার শরীরে রয়েছে বিশেষ শব্দযন্ত্র, আর মস্তিষ্কে রয়েছে শোনা শব্দ শেখা ও অনুকরণ করার ক্ষমতা।

ময়নার মানুষের মতো কথা বলার রহস্য লুকিয়ে আছে মূলত তিনটি বিষয়ে—বিশেষ শব্দ তৈরির অঙ্গ, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা এবং শব্দ শেখার ক্ষমতা। এই তিনের সমন্বয়েই মানুষের কণ্ঠস্বরের কাছাকাছি শব্দ তৈরি করতে পারে পাখিটি।

মানুষের স্বরযন্ত্র নয়, ময়নার আছে সিরিংক্স
মানুষের কথা বলার সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস স্বরযন্ত্রের স্বরতন্ত্রীকে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে। এরপর মুখ, জিহ্বা ও ঠোঁটের নড়াচড়ায় সেই শব্দ বিভিন্ন বর্ণ ও কথায় রূপ নেয়।

পাখির ক্ষেত্রেও শব্দ তৈরির জন্য বিশেষ অঙ্গ রয়েছে। এর নাম সিরিংক্স (Syrinx)। এটি শ্বাসনালির নিচের দিকে, যেখানে শ্বাসনালি দুই ভাগ হয়ে ফুসফুসের দিকে গেছে, সেখানে অবস্থিত। সিরিংক্সের সূক্ষ্ম পর্দা ও পেশির সাহায্যে পাখি বিভিন্ন ধরনের শব্দ তৈরি করতে পারে।

কিছু পাখির সিরিংক্সের দুই পাশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ফলে তারা জটিল সুর ও একাধিক শব্দের সমন্বয় তৈরি করতে সক্ষম হয়। মানুষের মতো শব্দ হুবহু নকল করার ক্ষেত্রে এই বিশেষ শব্দযন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করে?
শুধু সিরিংক্স থাকলেই মানুষের কথা নকল করা সম্ভব নয়। শব্দকে মানুষের কথার কাছাকাছি নিয়ে আসতে মুখগহ্বর, জিহ্বা ও ঠোঁটের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। এসবের পরিবর্তনে শব্দের বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। ফলে ময়নার তৈরি শব্দ মানুষের উচ্চারিত শব্দের মতো শোনাতে পারে।

পাখির শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থাও এতে সহায়তা করে। ফুসফুসের সঙ্গে যুক্ত বায়ুথলি শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এবং শব্দ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুপ্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ময়না একাধিক শব্দ বা বাক্যের মতো শোনায় এমন ধ্বনি তৈরি করতে পারে।

তবে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করার ক্ষমতা সব পাখির সমান নয়। ময়না বিশেষভাবে পরিচিত তার স্পষ্ট ও বৈচিত্র্যময় শব্দ অনুকরণের জন্য।

শুনে শুনেই শেখে নতুন শব্দ
ময়নার কথা বলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তার ভোকাল লার্নিং বা শব্দ শুনে শেখার ক্ষমতা। সব প্রাণী অন্যের শব্দ শুনে তা অনুশীলনের মাধ্যমে অনুকরণ করতে পারে না। ময়নার মতো কিছু পাখি আশপাশের শব্দ শুনে সেগুলো মনে রাখতে এবং নিজের কণ্ঠে পুনরায় তৈরি করতে পারে।

একটি ময়না বারবার মানুষের কথা শুনলে সেই শব্দের ধরন আয়ত্ত করার চেষ্টা করতে পারে। অনুশীলনের মাধ্যমে তার উচ্চারণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসবাস করলে বাড়ির সদস্যদের মুখে শোনা শব্দ বা বাক্যও তার অনুকরণের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। বন্য পরিবেশে ময়না অন্য পাখির সঙ্গে যোগাযোগ করে। মানুষের সংস্পর্শে থাকলে তার শোনার অভিজ্ঞতায় মানুষের কণ্ঠস্বরও যুক্ত হয়। তবে প্রতিটি ময়না সমান দক্ষতায় কথা নকল করতে পারে না; ব্যক্তিভেদে এই ক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে।

মানুষের কথা বললেও কি অর্থ বোঝে ময়না?
ময়না যখন মানুষের মতো করে কোনো বাক্য বলে, তখন মনে হতে পারে সে বাক্যটির অর্থও বুঝতে পারছে। কিন্তু শব্দ নকল করা আর মানুষের মতো ভাষা বোঝা এক বিষয় নয়।

কোনো নির্দিষ্ট শব্দের সঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতির সম্পর্ক ময়না শিখতে পারে। যেমন, কোনো পরিস্থিতিতে বারবার একই শব্দ শুনলে পরে সে সেই শব্দটি পুনরাবৃত্তি করতে পারে। তবে মানুষের ভাষার ব্যাকরণ, বিমূর্ত ধারণা ও বাক্যের পূর্ণ অর্থ বোঝার ক্ষমতা রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত শুধু কথা নকল করার ভিত্তিতে দেওয়া যায় না।

অর্থাৎ ময়নার অসাধারণ দক্ষতা হলো মানুষের কণ্ঠস্বরের অনুকরণ। তার এই ক্ষমতা পাখির শব্দ শেখার প্রক্রিয়া ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

ময়নার বিস্ময়কর ক্ষমতা যেন বন্দিত্বের কারণ না হয়
মানুষের কথা নকল করতে পারে বলে ময়না দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। কিন্তু এই আকর্ষণ কখনো বন্য পাখিকে খাঁচায় বন্দী করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ময়না সামাজিক পাখি; বন্য পরিবেশে চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, অন্য পাখির সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিরাপদ আশ্রয় তার স্বাভাবিক জীবনের অংশ।

বন্য পাখি ধরে পোষ মানানোর পরিবর্তে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে থাকতে দেওয়াই দায়িত্বশীল আচরণ। বাংলাদেশে বন্য প্রাণী সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি।

একটি ছোট্ট পাখির মানুষের মতো শব্দ তৈরির পেছনে রয়েছে জটিল শারীরিক গঠন ও শেখার অসাধারণ ক্ষমতা। সিরিংক্স শব্দ তৈরি করে, মুখগহ্বর সেই শব্দকে বদলে দেয়, আর মস্তিষ্ক শোনা শব্দ অনুকরণ করতে সাহায্য করে। এই সমন্বয়ই ময়নাকে করে তুলেছে পাখিজগতের অন্যতম বিস্ময়কর শব্দ-অনুকরণকারী। তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

কালের আলো/এসএ/জেএন

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২১৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ৯৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৮৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২১ জন, রংপুর বিভাগে ১১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল আরও ভয়াবহ। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন।

চলতি বছরেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ডি থ্রি ট্রফির সি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ রিপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ডি থ্রি ট্রফির সি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ রিপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন টুর্নামেন্ট ডোমেস্টিক থ্রি ট্রফির (ডি থ্রি ট্রফি) নিলামে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন পেসার রিপন মণ্ডল। ৯০ লাখ পয়েন্টে তাকে দলে নিয়েছে একমি। এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ লাখ পয়েন্টে দল পেয়েছেন আজিজুল হাকিম তামিম। তাকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নিলামে ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের নিয়ে দলগুলোর মধ্যে দর-কষাকষি হয়। এ ক্যাটাগরিতে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার উল্লেখযোগ্য দামে দল পেয়েছেন। আবার পরিচিত কয়েকজন ক্রিকেটার কোনো দল পাননি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৬৬ লাখ পয়েন্টে ইকবাল হাসান ইমনকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। একই দল ৬২ লাখ পয়েন্টে দলে ভিড়িয়েছে আরিফুল ইসলামকে। অন্যদিকে ৬০ লাখ পয়েন্টে মাহফিজুল ইসলাম রবিনকে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার।

৫৪ লাখ পয়েন্টে সামিউন বশির রাতুলকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। ৪৮ লাখ পয়েন্টে জিসান আলমকেও দলে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ৪২ লাখ পয়েন্টে তোফায়েল আহমেদ রায়হান এবং ৪০ লাখ পয়েন্টে ইরফান শুক্কুরকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। নিলামে ৩৬ লাখ পয়েন্টে তাইবুর রহমান পারভেজকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ৩৪ লাখ পয়েন্টে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে দলে নিয়েছে একমি। ৩২ লাখ পয়েন্টে মাহফুজুর রহমান রাব্বিকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। একই দামে হাবিবুর রহমান সোহান ও রেজাউর রহমান রাজাকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। ৩০ লাখ পয়েন্টে রনি তালুকদারকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। একই দামে আকবর আলীকে দলে পেয়েছে ফরচুন। ২৮ লাখ পয়েন্টে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। একই দামে মুশফিক হাসানকে দলে নিয়েছে ফরচুন। আর ২৪ লাখ পয়েন্টে আবু হাসিমকে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার।

‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২০ লাখ পয়েন্টে দল পেয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, শহিদুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইফরান হোসাইন, সুমন খান, শফিকুল ইসলাম, এস এম মেহেরব হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মইন খান, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, শুভাগত হোম, মোহাম্মদ এনামুল হক ও আনিসুল ইসলাম ইমন।

‘সি’ ক্যাটাগরিতে কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটার নিলামে দল পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আরাফাত সানি, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, মেহেদী মারুফ, সালাউদ্দিন শাকিল ও রবিউল হক। ডি থ্রি ট্রফির এই নিলামে বিভিন্ন দামে ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোর মধ্য দিয়ে দলগুলো নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়েছে। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ পয়েন্টে রিপন মণ্ডলকে দলে নেওয়া ছিল নিলামের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, দলীয় পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা আয়োজন করবে দলটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটির শুরুতেই এ কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয়ভাবে দিনটি পালন করবে বিএনপি।

একই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতাকর্মীরা। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের কর্মসূচিও রয়েছে।

৭ নভেম্বর দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ র‍্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এসব আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরতে আগামী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে একটি আলোচনা সভা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান বিএনপির এই নেতা। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে। ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী এবং নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ চরম অনিশ্চয়তা, বাকশাল ও আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল বলে বিএনপি মনে করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

তবে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে রিজভীর এসব বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় ব্যাখ্যার অংশ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিংবা কোনো গুপ্ত সংগঠনের আশ্রয় নিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। রিজভী আরও বলেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন ও আব্দুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ইমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি