খুঁজুন
                               
, ,
           

গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির তিন নেতার সঙ্গে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তবে তাঁর পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, বৈঠকটি ছিল গোপন এবং এতে রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত তৃতীয় ব্যক্তি কে ছিলেন কিংবা এ বিষয়ে তাঁর দাবির পক্ষে কী তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তা পোস্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন জামায়াত নেতাদের ভারতবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় কোনো কূটনীতিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠক এক বিষয় নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, তাঁরা কী কারণে এবং কোন স্বার্থে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে এমন বৈঠকে অংশ নেবেন।

রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বৈঠকের প্রকৃতি, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক তৈরির উদ্দেশ্যে ওই বৈঠক হয়ে থাকতে পারে। তিনি বিষয়টিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ হিসেবেও উপস্থাপন করেন।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি নৈতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে বৈঠকের বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তবে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে—রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যও তাঁর উত্থাপিত অভিযোগের অংশ। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কথিত গোপন বৈঠক নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য নথি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। এ ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ার, এ টি এম মাছুম কিংবা জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে বৈঠকে কথিত ভারতীয় কর্মকর্তার পরিচয় ও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বঙ্গভবনে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি সেরা শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
বঙ্গভবনে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি সেরা শিক্ষার্থীরা

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশ ও নতুন স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।সম্প্রতি জারি করা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য বঙ্গভবন পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি দল।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে দলটি বঙ্গভবন পরিদর্শনে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ পায়। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পায়।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাদের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশ ও নতুন স্বপ্নের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব উঠে আসে।রাষ্ট্রপতি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারলে একদিকে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, অন্যদিকে দেশ ও জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ছে সরকার

কুটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ছে সরকার

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের অব্যাহত ভূমিকার জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় ২০০৬ সালে নিজের জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফর এবং তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও তুলে ধরেন তিনি।অন্যদিকে তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করেন।

তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের জনমিতিক সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তারো আসো।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ তরুণ। পাশাপাশি দেশটিতে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে।ছাড়া শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বিষয়েও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন তিনি। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

ইপিএর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আগ্রহ কাজে লাগাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার এবং দক্ষ কর্মী তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের আইনি ও নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি এই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

যেখানে-সেখানে বাস থামানো বন্ধে আসছে নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
যেখানে-সেখানে বাস থামানো বন্ধে আসছে নতুন নিয়ম

রাজধানীর সড়কে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং নির্ধারিত স্টপেজ না মানার প্রবণতা বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর কয়েকটি রুটে চালু হতে যাচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতি। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট রুটে একটি কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া বাস থামানোর বিরুদ্ধে জরিমানা ও অভিযান জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করে আসছে। যাত্রী তুলতে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা, যেখানে-সেখানে থামানো এবং নির্ধারিত স্টপেজ উপেক্ষা করার কারণে সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করে বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের পরিবর্তে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা করা।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ছয়টি সাধারণ বাস রুটে এবং তিনটি সার্কুলার রুটে নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণ রুটগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে নন-এসি এবং একটি রুটে এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর প্রবণতা কমানো। এতে শুধু বাস কোম্পানির পরিচালনব্যবস্থায় পরিবর্তন নয়, সড়কে চলাচলের নিয়ম মানার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামালে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের যেখানে-সেখানে হাত দেখিয়ে বাস থামানোর প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রী তুলতে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বন্ধ হলে সড়কে যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।প্রথম পর্যায়ে ৩২টি প্রস্তাবিত সাধারণ বাস রুটের মধ্যে ছয়টি রুট নির্বাচন করা হয়েছে। এসব রুটে বিভিন্ন পরিবহনের বাস নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হবে।গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত রুটে শিববাড়ী, টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে ভিআইপি পরিবহন ও বিকাশ পরিবহনের বাস ‘ভিআইপি পরিবহন’ কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হবে। এ রুটে বাসের সংখ্যা ২৫৩টি।

মিরপুর-কেরানীগঞ্জ রুটে চিড়িয়াখানা, মিরপুর-১, কল্যাণপুর, শাহবাগ, জিরো পয়েন্ট ও বাবুবাজার হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন ও মেট্রো লিংকের বাস ‘চিড়িয়াখানা সিটি বাস’ কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হবে। এ রুটে বাস থাকবে ১৩৩টি।ঘাটারচর-ডেমরা রুটে মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, মৎস্যভবন, রাজমনি, মৌচাক, রামপুরা ও বনশ্রী হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে ‘রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ’ কোম্পানির অধীনে ৭০টি বাস পরিচালিত হবে।ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, শাহবাগ, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান ফ্লাইওভার, মাতুয়াইল ও সাইনবোর্ড হয়ে বাস চলবে। এ রুটে রজনীগন্ধা, মালঞ্চ, সময় ও মিডলাইন পরিবহনের বাস ‘ফোর স্টার বাস লাইন’ কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হবে। এ রুটে বাসের সংখ্যা ১৫০টি।

ঘাটারচর-ধউর রুটে মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, টেকনিক্যাল, মিরপুর-১, কালশী, বিমানবন্দর ও আবদুল্লাহপুর হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে পরিস্থান ও প্রজাপতি পরিবহনের বাস ‘পিএনপি সিটি সার্ভিস’ কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হবে। এ রুটে থাকবে ১৯০টি বাস।অন্যদিকে টঙ্গী-ঢাকেশ্বরী রুটে কলেজগেট, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, এক্সপ্রেসওয়ে, ফার্মগেট, আসাদগেট, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলবে। এ রুটে ‘ঢাকা চাকা’ কোম্পানির অধীনে ২০টি বাস পরিচালিত হবে।সাধারণ বাস রুটের পাশাপাশি রাজধানীর তিনটি সার্কুলার রুটেও নতুন ব্যবস্থার আওতায় বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব রুটে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে বাস চলাচল করবে।প্রথম সার্কুলার রুটটি ফার্মগেট থেকে শুরু হয়ে পলাশী, পান্থপথ সিগন্যাল, সেন্ট্রাল রোড, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট ও আজিমপুর হয়ে চলাচল করবে। এ রুটে ‘ঢাকা চাকা’ কোম্পানির ২০টি বাস চলবে।

দ্বিতীয় সার্কুলার রুটটি মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে আসাদগেট, ধানমন্ডি-২৭, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, পলাশী, জিগাতলা ও শংকর হয়ে আবার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে ফিরবে। এ রুটেও ‘ঢাকা চাকা’ কোম্পানির ২০টি বাস পরিচালিত হবে।তৃতীয় সার্কুলার রুটটি কদম চত্বর থেকে শুরু হয়ে জমজম টাওয়ার, হাউস বিল্ডিং, স্লুইস গেট, কামারপাড়া খালপাড়, মেট্রো ডিপো, নর্থ স্টেশন ও সেন্ট্রাল স্টেশন হয়ে পঞ্চবটিতে পৌঁছাবে। এ রুটে ‘উত্তরা’ বাস কোম্পানির ২০টি বাস চলাচল করবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম মনে করেন, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীর বাস চলাচল ও ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তাঁর মতে, বাস পরিচালনার পাশাপাশি নির্ধারিত স্টপেজ ও সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি।তিনি বলেন, আইন অমান্যকারী বাসচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা প্রয়োজন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর বাস পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় রাজধানীর ১৭টি স্থানে অবৈধ ও বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলকারী বাসের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ফুলবাড়িয়া যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আউয়াল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কাশেম জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৭টি স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। যেখানে-সেখানে বাস থামানো বন্ধ করা এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামালে জরিমানাও করা হচ্ছে।রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের ওপর। নির্ধারিত রুট ও স্টপেজ মেনে বাস চলাচল নিশ্চিত করা গেলে যাত্রী ওঠানো-নামানো নিয়ে প্রতিযোগিতা কমতে পারে। একই সঙ্গে সড়কে অযথা যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।তবে নতুন ব্যবস্থায় বাস কোম্পানিগুলোর সমন্বয়, চালকদের নিয়ম মানানো এবং যাত্রীদের নির্ধারিত স্টপেজ ব্যবহারে অভ্যস্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হবে কি না, তা স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি