খুঁজুন
                               
, ,
           

নজরুলের পৌরুষ শুধু বীরত্ব নয়, এর গভীরে ছিল অভিমান, প্রেম ও আত্মদান

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
নজরুলের পৌরুষ শুধু বীরত্ব নয়, এর গভীরে ছিল অভিমান, প্রেম ও আত্মদান

কাজী নজরুল ইসলামের পৌরুষকে শুধু বীরত্ব বা শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। তাঁর পৌরুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল অভিমান, প্রেম, বিপন্নতা, আত্মদান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। উপনিবেশ, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ে এই বহুমাত্রিক পৌরুষই ভিন্ন এক চরিত্র তৈরি করেছিল।

বুদ্ধদেব বসুর চোখে নজরুল ছিলেন বলিষ্ঠ শরীরের পাশাপাশি অফুরান আনন্দে ভরপুর এক ‘মনোলুণ্ঠনকারী’ মানুষ। তাঁর শারীরিক উপস্থিতির মতো সাহিত্যেও ছিল প্রবল প্রাণশক্তি। প্রচলিত ভদ্রলোকসুলভ পৌরুষের বদলে নজরুলের লেখায় দেখা যায় এমন এক সত্তা, যে পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ধারণ করে এবং নতুন সময়ের অনুভবকে ভাষা দিতে চায়।

অভিমানী পৌরুষ

নজরুলের পৌরুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল অভিমান। তিনি নিজেই নিজেকে ‘অতিরিক্ত অভিমানী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই অভিমান কেবল অহমিকা নয়; এর মধ্যে ছিল ভালোবাসা, নৈকট্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রিয়জনের প্রতি অভিমান যেমন দূরত্ব তৈরি করে, তেমনি সেই দূরত্ব ভেঙে আবার কাছে আসার আকাঙ্ক্ষাও বহন করে।

এই জায়গাতেই নজরুলের পৌরুষ প্রচলিত কঠোর পুরুষত্বের ধারণা থেকে আলাদা। তাঁর পৌরুষ ছিল অনুভবপ্রবণ, শরীরী, রক্তাক্ত ও আবেগময়। তাঁর লেখায় রক্ত, অশ্রু, প্রেম, বেদনা ও আকাঙ্ক্ষা একই সঙ্গে উপস্থিত। ফলে তাঁর বীরত্বের সঙ্গে বিপন্নতাও পাশাপাশি অবস্থান করেছে।

তবে এই অনুভবপ্রবণতা তাঁকে ভীরু করেনি। বরং তাঁর পৌরুষ ছিল বীরত্বব্যঞ্জক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন যোদ্ধার মতো—শুধু সৈনিকের মতো নিয়ম মেনে চলা নয়, প্রয়োজন হলে প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া ছিল তাঁর চরিত্রের অংশ।

বীরত্বের কেন্দ্রে আত্মদান

নজরুলের বীরত্ব ছিল দখল বা আধিপত্যের বীরত্ব নয়। এর কেন্দ্রে ছিল আত্মদান। জুলুম ও উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যে শক্তির প্রয়োজন, নজরুল সেই শক্তির সাধনার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে পৌরুষ মানে ছিল নিজের স্বার্থ রক্ষা কিংবা অন্যকে দমন করা নয়; বরং বৃহত্তর মুক্তির জন্য নিজের শক্তি ও প্রাণশক্তি উৎসর্গ করা।

এই কারণেই নজরুলের পৌরুষকে আগ্রাসী পুরুষত্বের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। প্রেমের ক্ষেত্রেও তিনি জবরদখল বা জোর করে অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কাছে প্রেম মানে প্রিয় মানুষকে নিজের সম্পত্তি করে রাখা নয়।

জাতপাত ও পরিচয়ের দেয়াল ভাঙা

নজরুলের বিদ্রোহ শুধু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতপাত, ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক পরিচয়ের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধেও তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

তিনি নিজের পরিচয়কে অস্বীকার না করেও পরিচয়বাদী বিভাজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জাতপাতের কাঠামো মানুষকে যে কৃত্রিম শ্রেণিতে ভাগ করে, নজরুল সেই কাঠামোকেই প্রশ্ন করেছেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষের পরিচয় ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা তাঁর সাহিত্যকর্মে বারবার দেখা যায়।

‘সাম্যবাদী’ ও ‘সর্বহারা’র মতো রচনায় চণ্ডাল, কুলি-মজুর, মাঝি, কৃষক, ধীবর, চোর-ডাকাত ও সমাজের অন্যান্য প্রান্তিক মানুষের কথা উঠে এসেছে। হিন্দু-মুসলমানের বিভাজন অতিক্রম করে নতুন সামাজিক সম্পর্ক তৈরির আকাঙ্ক্ষাও ছিল তাঁর চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নারী-পুরুষের সমতা, নারীর উচ্চশিক্ষার অধিকার, নারী সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন এবং অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধেও নজরুলের অবস্থান ছিল প্রগতিশীল। ফলে তাঁর বিদ্রোহ ছিল বহুমাত্রিক—রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক।

‘পুরুষকারই আসল জিনিস’

নজরুলের চিন্তায় জন্মপরিচয়ের চেয়ে মানুষের নিজস্ব কর্ম ও সক্ষমতার গুরুত্ব বেশি। তিনি মনে করতেন, বংশ বা জাতিগত পরিচয় মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। নিজের কর্ম ও মনুষ্যত্বের ওপর দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ভাবনাই তাঁর পৌরুষের একটি মৌলিক দিককে সামনে আনে—জন্ম নয়, পুরুষকার। অর্থাৎ মানুষের পরিচয়ের চূড়ান্ত ভিত্তি তার কাজ, সাহস ও মনুষ্যত্ব।

নেতৃত্বের মহিমাকেও প্রশ্ন

নজরুল প্রচলিত ক্ষমতা ও নেতৃত্বের অন্ধ আনুগত্যও মেনে নেননি। তরুণদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ ও অনুভূমিক। তিনি নিজেই ‘নেতা হওয়ার লোভ’ থেকে দূরে থাকার কথা বলেছেন।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ শ্রদ্ধার বদলে নিজের বোধ দিয়ে সত্যকে যাচাই করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিদ্রোহ মানে কাউকে না-মানা নয়; বরং যা বোঝা যায় না, সেটিকে মাথা উঁচু করে ‘বুঝি না’ বলতে পারাও বিদ্রোহের অংশ।

প্রযুক্তি ও আধুনিকতার অন্ধ উচ্ছ্বাসও নয়

নজরুলকে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবে দেখলে তাঁর আধুনিকতা-বিষয়ক সংশয়ও চোখ এড়িয়ে যায়। বৈদ্যুতিক ও শিল্পযুগের সম্ভাবনা যেমন তিনি অনুভব করেছিলেন, তেমনি প্রযুক্তির কারণে শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের ওপর তৈরি হওয়া নতুন ধরনের শোষণও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।

রেল, স্টিমার, বিদ্যুৎ, কলকারখানা মানুষের আরাম বাড়ালেও শিল্পায়নের প্রতিযোগিতায় বহু শ্রমজীবী মানুষ তাদের পেশা হারাচ্ছে—নজরুল তাঁর লেখায় এই সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। এই কারণে তাঁর চিন্তায় আধুনিকতা ছিল না অন্ধ প্রযুক্তিপূজা; বরং মানুষের জীবনে প্রযুক্তির প্রভাবকে প্রশ্ন করার প্রবণতাও ছিল।

শেষ পর্যন্ত মানুষের মুক্তিই লক্ষ্য

জীবনের শেষ অভিভাষণেও নজরুল তাঁর মূল আকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্ট করে গেছেন—হিন্দু-মুসলমানের সংঘাত, জাতিগত বিদ্বেষ, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা। তাঁর নিজের ভাষায়, এই অসাম্য ও ভেদজ্ঞান দূর করতেই তিনি এসেছিলেন।

তাই নজরুলের পৌরুষকে কেবল শক্তি, বীরত্ব কিংবা কর্তৃত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর পৌরুষের ভেতরে ছিল অভিমানী প্রেমিক, বিপন্ন মানুষ, বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং আত্মদানকারী সত্তা—যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়, কিন্তু অন্যকে দখল করে নিজের শক্তি প্রমাণ করতে চায় না।

নজরুলের স্বতন্ত্রতা সম্ভবত এখানেই—তিনি পরিচয়ের অলংকার গ্রহণ করেছেন, কিন্তু পরিচয়ের খাঁচায় নিজেকে বন্দী করেননি; বিদ্রোহ করেছেন, কিন্তু বিদ্রোহকে নিছক ধ্বংসে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর পৌরুষের কেন্দ্রে ছিল মানুষের মুক্তি, মর্যাদা ও বেঁচে থাকার অধিকার।

কালের আলো/এসএ

জরুরি ভিত্তিতে কৃষিশ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
জরুরি ভিত্তিতে কৃষিশ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া

কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট ও আসন্ন ফসল কাটার মৌসুমে সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে অস্থায়ী অভিবাসী কৃষিশ্রমিকদের ভিসা দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় কৃষি উৎপাদক সংগঠন- গ্রেইন প্রোডিউসার্স অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) এ তথ্য জানায়।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় গম, বার্লি ও ক্যানোলা রফতানিকারক দেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল কাটার কাজ শুরু হবে। এ সময় বিপুলসংখ্যক বিদেশি মৌসুমি শ্রমিকের প্রয়োজন হয় কৃষি খাতে।

জিপিএ জানিয়েছে, অভিবাসন কমানোর সরকারি নীতির কারণে কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যেই দেশটির গম, বার্লি ও ক্যানোলা ফসল কাটার মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন থাকা কৃষিশ্রমিকদের ভিসা আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় কৃষি শিল্পের সংগঠনগুলো জরুরি প্রয়োজন থাকা শ্রমিকদের আবেদন চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের কাছে পাঠাতে পারবে।

জিপিএ-র চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন বলেন, ‘এটি একটি সমাধান এবং পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও জানান, তবে অগ্রাধিকার পেলেই যে ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। আবেদনগুলোকে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়া সরকার সামগ্রিকভাবে অভিবাসন কমানোর নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি সরকার অস্থায়ী অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। এতে আগে কয়েক দিনের মধ্যে ভিসা পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে এখন কয়েক মাস সময় লাগছে।

তবে কৃষি খাতের শ্রমিক সংকটের কারণে জরুরি শ্রমশক্তি সরবরাহ বজায় রাখতে এই বিশেষ অগ্রাধিকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম এবিসি-কে জানিয়েছেন, তারা ‘ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন’-এর সাথে যৌথভাবে এমন কর্মীদের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকার দেবে— যারা কৃষিকাজে দক্ষ, ইতোমধ্যে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা প্রদানে আবেদন করেছেন এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন দক্ষ ভিসা প্রক্রিয়াকরণ নির্দেশনায় কৃষি, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, মৎস্য ও সম্পদ খাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শনিবার ‘সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে’

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে ‘ক্লিনিং ডে’তে অংশ নেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে ‘ক্লিনিং ডে’তে অংশ নেওয়ার আহ্বান

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে। ‘সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে’ নামে এ কর্মসূচিতে নগরবাসীকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিএসসিসির ‘বর্ষা পূর্ব জরিপ ২০২৬’ অনুযায়ী, এডিস মশার লার্ভার ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ পাওয়া গেছে বহুতল ভবনে। এছাড়া স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

প্রজননস্থলের মধ্যে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।

যেসব এলাকায় চলবে অভিযান

শনিবার সকাল থেকে ৭৫টি ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকা, সড়ক, ড্রেন, ছাদ ও নির্মাণাধীন ভবনে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং করা হবে। পাশাপাশি জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, টায়ারসহ বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যালি এবং ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ওয়ার্ড পর্যায়ের ‘ক্লিনিং ডে’ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

ডিএসসিসি বলছে, বাসাবাড়ি ও ব্যক্তিগত আঙিনায় জমে থাকা পানি, ফুলের টব, এসি-ফ্রিজের ট্রে কিংবা অন্যান্য পাত্রে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। তাই শুধু মশক নিধন কার্যক্রম নয়, নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখাও জরুরি।

নগরবাসীকে কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে তা অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি। কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের নগরবাসী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চেয়েছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান

নিউইয়র্ক: স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য টু-স্টেট সলিউশন’-এর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

তিনি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৮০৩-এর আওতায় গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন, স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শামা ওবায়েদ।

পাশাপাশি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র ম্যান্ডেট সুরক্ষা ও টেকসই অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

গাজায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও জনমিতিক পরিবর্তন রোধ এবং বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি