খুঁজুন
                               
, ,
           

নজরুলের পৌরুষ শুধু বীরত্ব নয়, এর গভীরে ছিল অভিমান, প্রেম ও আত্মদান

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
নজরুলের পৌরুষ শুধু বীরত্ব নয়, এর গভীরে ছিল অভিমান, প্রেম ও আত্মদান

কাজী নজরুল ইসলামের পৌরুষকে শুধু বীরত্ব বা শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। তাঁর পৌরুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল অভিমান, প্রেম, বিপন্নতা, আত্মদান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। উপনিবেশ, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ে এই বহুমাত্রিক পৌরুষই ভিন্ন এক চরিত্র তৈরি করেছিল।

বুদ্ধদেব বসুর চোখে নজরুল ছিলেন বলিষ্ঠ শরীরের পাশাপাশি অফুরান আনন্দে ভরপুর এক ‘মনোলুণ্ঠনকারী’ মানুষ। তাঁর শারীরিক উপস্থিতির মতো সাহিত্যেও ছিল প্রবল প্রাণশক্তি। প্রচলিত ভদ্রলোকসুলভ পৌরুষের বদলে নজরুলের লেখায় দেখা যায় এমন এক সত্তা, যে পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ধারণ করে এবং নতুন সময়ের অনুভবকে ভাষা দিতে চায়।

অভিমানী পৌরুষ

নজরুলের পৌরুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল অভিমান। তিনি নিজেই নিজেকে ‘অতিরিক্ত অভিমানী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই অভিমান কেবল অহমিকা নয়; এর মধ্যে ছিল ভালোবাসা, নৈকট্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রিয়জনের প্রতি অভিমান যেমন দূরত্ব তৈরি করে, তেমনি সেই দূরত্ব ভেঙে আবার কাছে আসার আকাঙ্ক্ষাও বহন করে।

এই জায়গাতেই নজরুলের পৌরুষ প্রচলিত কঠোর পুরুষত্বের ধারণা থেকে আলাদা। তাঁর পৌরুষ ছিল অনুভবপ্রবণ, শরীরী, রক্তাক্ত ও আবেগময়। তাঁর লেখায় রক্ত, অশ্রু, প্রেম, বেদনা ও আকাঙ্ক্ষা একই সঙ্গে উপস্থিত। ফলে তাঁর বীরত্বের সঙ্গে বিপন্নতাও পাশাপাশি অবস্থান করেছে।

তবে এই অনুভবপ্রবণতা তাঁকে ভীরু করেনি। বরং তাঁর পৌরুষ ছিল বীরত্বব্যঞ্জক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন যোদ্ধার মতো—শুধু সৈনিকের মতো নিয়ম মেনে চলা নয়, প্রয়োজন হলে প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া ছিল তাঁর চরিত্রের অংশ।

বীরত্বের কেন্দ্রে আত্মদান

নজরুলের বীরত্ব ছিল দখল বা আধিপত্যের বীরত্ব নয়। এর কেন্দ্রে ছিল আত্মদান। জুলুম ও উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যে শক্তির প্রয়োজন, নজরুল সেই শক্তির সাধনার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে পৌরুষ মানে ছিল নিজের স্বার্থ রক্ষা কিংবা অন্যকে দমন করা নয়; বরং বৃহত্তর মুক্তির জন্য নিজের শক্তি ও প্রাণশক্তি উৎসর্গ করা।

এই কারণেই নজরুলের পৌরুষকে আগ্রাসী পুরুষত্বের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। প্রেমের ক্ষেত্রেও তিনি জবরদখল বা জোর করে অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কাছে প্রেম মানে প্রিয় মানুষকে নিজের সম্পত্তি করে রাখা নয়।

জাতপাত ও পরিচয়ের দেয়াল ভাঙা

নজরুলের বিদ্রোহ শুধু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতপাত, ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক পরিচয়ের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধেও তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

তিনি নিজের পরিচয়কে অস্বীকার না করেও পরিচয়বাদী বিভাজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জাতপাতের কাঠামো মানুষকে যে কৃত্রিম শ্রেণিতে ভাগ করে, নজরুল সেই কাঠামোকেই প্রশ্ন করেছেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষের পরিচয় ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা তাঁর সাহিত্যকর্মে বারবার দেখা যায়।

‘সাম্যবাদী’ ও ‘সর্বহারা’র মতো রচনায় চণ্ডাল, কুলি-মজুর, মাঝি, কৃষক, ধীবর, চোর-ডাকাত ও সমাজের অন্যান্য প্রান্তিক মানুষের কথা উঠে এসেছে। হিন্দু-মুসলমানের বিভাজন অতিক্রম করে নতুন সামাজিক সম্পর্ক তৈরির আকাঙ্ক্ষাও ছিল তাঁর চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নারী-পুরুষের সমতা, নারীর উচ্চশিক্ষার অধিকার, নারী সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন এবং অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধেও নজরুলের অবস্থান ছিল প্রগতিশীল। ফলে তাঁর বিদ্রোহ ছিল বহুমাত্রিক—রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক।

‘পুরুষকারই আসল জিনিস’

নজরুলের চিন্তায় জন্মপরিচয়ের চেয়ে মানুষের নিজস্ব কর্ম ও সক্ষমতার গুরুত্ব বেশি। তিনি মনে করতেন, বংশ বা জাতিগত পরিচয় মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। নিজের কর্ম ও মনুষ্যত্বের ওপর দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ভাবনাই তাঁর পৌরুষের একটি মৌলিক দিককে সামনে আনে—জন্ম নয়, পুরুষকার। অর্থাৎ মানুষের পরিচয়ের চূড়ান্ত ভিত্তি তার কাজ, সাহস ও মনুষ্যত্ব।

নেতৃত্বের মহিমাকেও প্রশ্ন

নজরুল প্রচলিত ক্ষমতা ও নেতৃত্বের অন্ধ আনুগত্যও মেনে নেননি। তরুণদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ ও অনুভূমিক। তিনি নিজেই ‘নেতা হওয়ার লোভ’ থেকে দূরে থাকার কথা বলেছেন।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ শ্রদ্ধার বদলে নিজের বোধ দিয়ে সত্যকে যাচাই করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিদ্রোহ মানে কাউকে না-মানা নয়; বরং যা বোঝা যায় না, সেটিকে মাথা উঁচু করে ‘বুঝি না’ বলতে পারাও বিদ্রোহের অংশ।

প্রযুক্তি ও আধুনিকতার অন্ধ উচ্ছ্বাসও নয়

নজরুলকে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবে দেখলে তাঁর আধুনিকতা-বিষয়ক সংশয়ও চোখ এড়িয়ে যায়। বৈদ্যুতিক ও শিল্পযুগের সম্ভাবনা যেমন তিনি অনুভব করেছিলেন, তেমনি প্রযুক্তির কারণে শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের ওপর তৈরি হওয়া নতুন ধরনের শোষণও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।

রেল, স্টিমার, বিদ্যুৎ, কলকারখানা মানুষের আরাম বাড়ালেও শিল্পায়নের প্রতিযোগিতায় বহু শ্রমজীবী মানুষ তাদের পেশা হারাচ্ছে—নজরুল তাঁর লেখায় এই সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। এই কারণে তাঁর চিন্তায় আধুনিকতা ছিল না অন্ধ প্রযুক্তিপূজা; বরং মানুষের জীবনে প্রযুক্তির প্রভাবকে প্রশ্ন করার প্রবণতাও ছিল।

শেষ পর্যন্ত মানুষের মুক্তিই লক্ষ্য

জীবনের শেষ অভিভাষণেও নজরুল তাঁর মূল আকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্ট করে গেছেন—হিন্দু-মুসলমানের সংঘাত, জাতিগত বিদ্বেষ, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা। তাঁর নিজের ভাষায়, এই অসাম্য ও ভেদজ্ঞান দূর করতেই তিনি এসেছিলেন।

তাই নজরুলের পৌরুষকে কেবল শক্তি, বীরত্ব কিংবা কর্তৃত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর পৌরুষের ভেতরে ছিল অভিমানী প্রেমিক, বিপন্ন মানুষ, বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং আত্মদানকারী সত্তা—যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়, কিন্তু অন্যকে দখল করে নিজের শক্তি প্রমাণ করতে চায় না।

নজরুলের স্বতন্ত্রতা সম্ভবত এখানেই—তিনি পরিচয়ের অলংকার গ্রহণ করেছেন, কিন্তু পরিচয়ের খাঁচায় নিজেকে বন্দী করেননি; বিদ্রোহ করেছেন, কিন্তু বিদ্রোহকে নিছক ধ্বংসে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর পৌরুষের কেন্দ্রে ছিল মানুষের মুক্তি, মর্যাদা ও বেঁচে থাকার অধিকার।

কালের আলো/এসএ

কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

কিশোর গ্যাং নির্মূলে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীমকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ওসিকে সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যে পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর চাপ দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান তিনি।

সভায় চাঁদাবাজি বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারত্বের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

চিফ হুইপের বক্তব্যে নিজের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার অভিযোগও উঠে আসে। এ বিষয়ে ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’ তবে আউয়াল ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য তথ্য বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ দখলবাজি করলে তাঁকে সরাসরি ফোনে না পেলেও যেন বার্তা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি।’ নিজের নাম ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পেলে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজির সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। কোস্টগার্ডের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’ থানায় দালালি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন তিনি। পাথরঘাটায় উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি এবং থানাকেন্দ্রিক দালালি বন্ধ করা। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

প্রতি রাতে মুখ খুলে ঘুমান? শরীরে হতে পারে যেসব সমস্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রতি রাতে মুখ খুলে ঘুমান? শরীরে হতে পারে যেসব সমস্যা
মুখ খোলা রেখে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাস। বিশেষ করে সর্দি, অ্যালার্জি কিংবা নাক বন্ধ থাকলে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রতিদিন রাতে মুখ খুলে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা মুখের স্বাস্থ্য, দাঁত ও মাড়ির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি এটি নাকের সমস্যা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে জটিলতারও ইঙ্গিত হতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ কিংবা ঠোঁট ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এমনটা চলতে থাকলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া কেন বেশি উপকারী

মানবদেহে নাক শুধু শ্বাস নেওয়ার অঙ্গ নয়, বরং ফুসফুসে প্রবেশের আগে বাতাসকে পরিশোধন, উষ্ণ ও আর্দ্র করার গুরুত্বপূর্ণ কাজও করে। নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম লোম ও শ্লেষ্মা ধুলাবালি এবং বাতাসে থাকা কিছু ক্ষতিকর কণা আটকে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।

অন্যদিকে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস সরাসরি মুখ ও গলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে। এতে মুখের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে মুখ ও গলা শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে নাইট্রিক অক্সাইডেরও সম্পর্ক রয়েছে। এই গ্যাস রক্তনালির কার্যক্রম এবং ফুসফুসে অক্সিজেন ব্যবহারে ভূমিকা রাখে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়াই শরীরের জন্য বেশি উপযোগী।

মুখ খুলে ঘুমালে যেসব সমস্যা হতে পারে

মুখ খোলা রেখে নিয়মিত ঘুমানোর সবচেয়ে পরিচিত প্রভাব হলো মুখের শুষ্কতা। ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে বাতাস চলাচল করলে লালা শুকিয়ে যেতে পারে। অথচ মুখের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং দাঁত ও মাড়িকে সুরক্ষিত রাখতে লালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া: রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকনো লাগতে পারে। কারও কারও গলায় অস্বস্তি, খুসখুসে ভাব কিংবা ব্যথাও দেখা দেয়।

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ: লালা মুখের ভেতরের খাবারের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। লালার পরিমাণ কমে গেলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম বাড়তে পারে। ফলে সকালে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যা: মুখের লালা দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত রাখতে এবং মুখের অম্লীয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ এবং মুখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঠোঁট ফেটে যাওয়া ও জিহ্বায় আস্তরণ: সারা রাত মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। একই সঙ্গে জিহ্বায় সাদা বা ঘন আস্তরণ দেখা দিতে পারে, যদিও এর অন্য কারণও থাকতে পারে।

নাক ডাকা ও ঘুমের ব্যাঘাত: মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে নাক ডাকার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে নাক ডাকার কারণ সব সময় মুখ খোলা রেখে ঘুমানো নয়; নাক বন্ধ থাকা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার মতো সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।

২০২২ সালে Polymers সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় মুখের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার সঙ্গে দাঁতের ক্ষয় ও মুখের সংক্রমণের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কি ঘুমের মান নষ্ট করে?

প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি সকালে ক্লান্ত লাগে, মাথাব্যথা হয় কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পাশাপাশি এসব লক্ষণ থাকলে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ধরনের সমস্যার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই অবস্থায় ঘুমের সময় গলার পেছনের শ্বাসনালি বারবার আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা বা হাঁসফাঁস করা, সকালে মাথাব্যথা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে শুধু মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়েছে, এমন নয়। নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি, নাকের পর্দা বাঁকা হওয়া কিংবা টনসিলের সমস্যার কারণেও রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

কেন মুখ খুলে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি হয়?

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ সর্দি বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করেন। আবার দীর্ঘদিনের নাকের সমস্যা, নাকের ভেতরের গঠনগত জটিলতা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে নাক, গলা ও শ্বাসনালির সমস্যা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করে কিংবা দিনের বেলায় অস্বাভাবিক ক্লান্ত থাকে—এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মুখ খুলে ঘুমানো কমাতে কী করবেন?

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস কমাতে প্রথমে এর কারণ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নাক বন্ধ থাকলে তার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ঘুমানোর ঘর অতিরিক্ত শুষ্ক না রাখার বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাসনালির সমস্যা শনাক্ত না করে মুখ বন্ধ রাখার জন্য জোর করা কিংবা ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানো নিরাপদ সমাধান নয়। এতে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে, বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকলে বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার আশঙ্কা থাকলে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সাধারণত বড় সমস্যা নয়। তবে প্রতিদিন সকালে মুখ অতিরিক্ত শুকিয়ে থাকা, দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা, নিয়মিত জোরে নাক ডাকা কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে বারবার দম বন্ধ হয়ে আসা, হাঁসফাঁস করা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত মূল্যায়ন জরুরি।

সব মিলিয়ে, মুখ খুলে ঘুমানো সব সময় গুরুতর রোগের লক্ষণ না হলেও দীর্ঘদিনের অভ্যাস হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। মুখের আর্দ্রতা ও দাঁতের সুরক্ষা বজায় রাখার পাশাপাশি নাক দিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার পথে কোনো বাধা আছে কি না, সেটি শনাক্ত করাই সুস্থ ঘুম ও ভালো স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

 

সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোথায়? আলিফ হত্যা নিয়ে উদ্বেগ আসকের

নেত্রকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোথায়? আলিফ হত্যা নিয়ে উদ্বেগ আসকের

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিবৃতিতে আসক এ দাবি জানায়। সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা শুধু একজন মানুষের জীবনের অধিকার কেড়ে নেয় না, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করে।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ

আসকের বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলিফ ফকির এর আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন। আগের হামলার পরও একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে গুলি করে হত্যার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। আসকের মতে, কোনো সাংবাদিক আগে হামলার শিকার হওয়ার পরও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সাংবাদিক হত্যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি

আসক মনে করে, একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা কেবল ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়; এটি সমাজে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ, অনিয়ম তুলে ধরা এবং ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টায়। ভয়ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কায় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়লে জনগণের তথ্য জানার সুযোগও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংবিধান ও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সুরক্ষিত অধিকার

বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে আসক। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার এবং ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়েছে। এ ছাড়া নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি—আইসিসিপিআরের ৬ ও ১৯ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে জীবনের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে। আসকের বক্তব্য, এসব অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

তদন্তে প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রসঙ্গে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অবহেলা, প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংস্থাটি তদন্তপ্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসক বলেছে, সাংবাদিকেরা যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা আশঙ্কা ছাড়াই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্থাটির মতে, স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়। এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি