খুঁজুন
                               
, ,
           

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দাপটে আতঙ্ক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দাপটে আতঙ্ক

রাজধানী থেকে জেলা শহর—অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দাপটে বাড়ছে প্রকাশ্য গুলি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ড। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ ২১ জেলায় ১৩৮টি গুলির ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬৭ জনের, আহত হয়েছেন অন্তত ১৪৫ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১৩ শতাধিক এখনো উদ্ধার হয়নি। এর সঙ্গে সীমান্তের চোরাই পথেও দেশে ঢুকছে নতুন অস্ত্র। ফলে অপরাধীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা এখন জননিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

  • ৯ মাসে ২১ জেলায় ১৩৮ গুলির ঘটনা
  • প্রাণ গেছে ৬৭ জনের
  • লুট হওয়া ১৩ শতাধিক অস্ত্র এখনো অধরা

রাজধানীতে প্রকাশ্যেই অস্ত্রের ব্যবহার

রাজধানীর বাংলামোটরে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওষুধ ব্যবসায়ী সোহানের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাঁকে মারধর এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা সেই উদ্বেগেরই উদাহরণ। এ সময় তাঁর মাথায় অস্ত্রের বাঁট দিয়েও আঘাত করা হয়। পরে অস্ত্রসহ বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিএমপি সূত্র জানায়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে রাজধানীতে ১৭টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে খুলনায় ঘটেছে সর্বোচ্চ ৩৯টি ঘটনা। চট্টগ্রামেও ঘটেছে ৩১টি।

লুটের অস্ত্রই এখন বড় উদ্বেগ

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ অপরাধীদের হাতে চলে যায়। থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১৩ শতাধিক এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুধু লুট হওয়া অস্ত্রই নয়, সীমান্তের চোরাই পথেও দেশে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় অপরাধীদের সক্ষমতাও বাড়ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দিয়েই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে।

কিশোর-তরুণরাই ভাড়াটে শ্যুটার

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে অস্ত্রধারী ছোট ছোট চক্র। এসব চক্রে কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে ভাড়াটে শ্যুটার হিসেবে। অর্থের বিনিময়ে তারা চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ছিনতাই ও আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্র ব্যবহার করছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঘটনাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা প্রতিশোধের আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র, কমছে না ব্যবহার

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, শুক্রবার (১ মে) থেকে বুধবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ হাজার ৭২২ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ১৬৫টি ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠনের কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালেও দেশে ২৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন; মারা যান অন্তত ৮০ জন। অর্থাৎ চলতি বছরের পরিসংখ্যান কোনো বিচ্ছিন্ন প্রবণতা নয়। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিপরীত চিত্রই তুলে ধরছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে শুধু অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের মধ্যে সমাধান সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, সীমান্তপথে অস্ত্র প্রবেশ বন্ধ, অস্ত্রধারী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অস্ত্রের উৎস শনাক্ত—এই চার ক্ষেত্রে একযোগে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট থামানো কঠিন হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

ঢাকা-প্যারিস সম্পর্কে অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ঢাকা-প্যারিস সম্পর্কে অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবার বড় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিকে মোড় নিচ্ছে। পানি, স্যানিটেশন ও নগর অবকাঠামোয় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ফরাসি অর্থায়নের পর এবার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও নতুন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ফ্রান্সের এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লের বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চলমান প্রকল্প দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

  • উন্নয়ন সহায়তার পর এবার বিনিয়োগ-বাণিজ্যে নজর
  • এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজও আলোচনায়

উন্নয়নে ফ্রান্সের বড় বাজি

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার খাতে ফ্রান্সের আর্থিক সম্পৃক্ততা এখন বড় আকার নিয়েছে। এএফডির অর্থায়নে চারটি প্রকল্প চলছে—সায়েদাবাদ পানি পরিশোধন প্ল্যান্টের তৃতীয় পর্যায়, ঢাকা টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়, চট্টগ্রামের নর্থ কাট্টলী স্যানিটেশন প্রকল্প এবং নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এসব উদ্যোগে ফ্রান্সের অর্থায়ন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নগর চাহিদা। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো এখন শুধু জনসেবা নয়, টেকসই নগরায়ণেরও শর্ত।

রাজধানীর বাইরে নতুন বিস্তার

ফরাসি সহায়তায় সাতটি শহর ও পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নের নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ফলে সহযোগিতার পরিধি ঢাকার বড় অবকাঠামো প্রকল্প ছাড়িয়ে জেলা ও পৌর পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এয়ারবাসে বাড়তি গুরুত্ব

বৈঠকে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গটি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অর্থনৈতিক মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের পাশাপাশি বড় বাণিজ্যিক চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলে ঢাকা-প্যারিস সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক হতে পারে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ একনেকে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ একনেকে

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নগর ড্রেনেজ, রেলওয়ের লোকোমোটিভ থেকে নৌযান, আবার গ্রামীণ সড়ক থেকে নারী উদ্যোক্তা—উন্নয়নের একাধিক খাতকে একসঙ্গে সামনে রেখে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বড় অঙ্কের এই বিনিয়োগের ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১০টি, সংশোধিত দুটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প একটি।

  • এক সভায় ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
  • রামপালে সৌরবিদ্যুৎ, পঞ্চগড়ে সেতু, রেলে ৩০ লোকোমোটিভ, নৌপথে ৪৩ জলযান
  • নগর-গ্রামেও বড় বিনিয়োগ

নগরায়ণের চাপে অবকাঠামোতে বড় ধাক্কা

একনেকের এবারের অনুমোদনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে নগর অবকাঠামো। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। শহর সম্প্রসারণের সঙ্গে নাগরিক সেবার অবকাঠামো পিছিয়ে পড়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তার চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট। বিশেষ করে সড়কের সঙ্গে ড্রেনেজ ও ফুটপাতকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গ্রামে অবকাঠামো, নারীর হাতে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ফলে এবারের বিনিয়োগে শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প সফল হলে নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ দুটি উদ্যোগই স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

জ্বালানি খাতে এবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ফলে প্রকল্পটির সাফল্য শুধু কেন্দ্র নির্মাণের ওপর নয়, পরবর্তী গ্রিড ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপরও নির্ভর করবে।

রেল-নৌ ও সড়ক যোগাযোগে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

রেলপথে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। নৌপরিবহন খাতে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহের পাশাপাশি দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ করা হবে। এসব উদ্যোগ যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো পরিবহন অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে পারে।

প্যারিসের চ্যান্সারি ভবনও উন্নয়ন তালিকায়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনসহ কয়েকটি চলমান প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে জয়পুরহাটের নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প রয়েছে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিনোদনের জায়গা রেললাইন, শিবচরে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
বিনোদনের জায়গা রেললাইন, শিবচরে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

বিকেল হলেই মাদারীপুরের শিবচরের রেললাইন ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ হাঁটছেন, কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অনেকে আসছেন স্টেশন এলাকায়। নতুন রেলপথকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলে তৈরি হয়েছে বিনোদনের নতুন জায়গা। তবে আনন্দের এই ভ্রমণই অনেক সময় পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে।

রেললাইন চালুর পর শিবচরে ট্রেনে কাটা পড়ে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রেললাইনে ঘোরাঘুরি ও ছবি তুলতে গিয়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত শিবচর অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে কমপক্ষে অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের কেউ রেললাইন পার হতে গিয়ে, আবার কেউ আত্মহত্যার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।

শিবচরের পুলিয়া, মালিগ্রাম, সূর্যনগর ও পাঁচ্চর এলাকায় বিকেল হলেই রেললাইনের পাশে মানুষের জটলা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর কোথাও কোথাও সেই ভিড় আরও বেড়ে যায়। ট্রেন আসার সময় অনেকে সরে গেলেও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। গত মাসেও সূর্যনগর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরেই এ এলাকায় রেল দুর্ঘটনায় অর্ধডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে শিবচরে রয়েছে পদ্মা ও শিবচর স্টেশন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পদ্মা সেতু হয়ে আংশিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এ পথে পুরোপুরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী ও খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে।

রেললাইনে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার বলেন, ‘বাড়ির কাছেই রেললাইন। বান্ধবীরা মিলে এখানে এসেছি। একটু সময় কাটানো ও ছবি তোলার জন্য আসা। রেললাইনে ঝুঁকি আছে, তারপরও অনেকেই এখানে ঘুরতে আসে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় রেললাইন নতুন। এ কারণে মানুষের কৌতূহলও বেশি। মাঝেমধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়েও স্টেশনে ঘুরতে আসি। তবে ট্রেন আসার সময় দূরত্ব বজায় রাখি। প্রথম দিকে শিবচরের পাঁচ্চর এলাকায় রেললাইনে ছবি তুলতে গিয়ে কয়েকজন মারা গেছেন। একই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুও হয়েছিল।’

শিবচর-ভাঙ্গা রেলপথে দায়িত্ব পালনকারী রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। মানুষের অসচেতনতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। বিকেল হলেই অনেকে রেললাইনে আড্ডা দেন, হাঁটাহাঁটি করেন। অনেকেই ট্রেনের সময়সূচি জানেন না। আবার ট্রেন আসতে দেখেও কেউ কেউ রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রেনের গতি সম্পর্কেও অনেকের ধারণা নেই। এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিবচর স্টেশনের মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘এই রেলপথটি খুবই গতিশীল। এখানে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে মানুষের হাঁটাহাঁটি বন্ধ করতে হবে। মানুষের অসচেতনতার কারণেই প্রাণহানি বেশি হচ্ছে। স্টেশনের আশপাশে দর্শনার্থীরা এলে আমরা তাঁদের সচেতন করার চেষ্টা করি।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইনে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্ধে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয়দেরও রেললাইনে হাঁটাহাঁটি, আড্ডা ও ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তা না হলে বিনোদনের জন্য রেললাইনে আসা মানুষের ভিড় আরও প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি