খুঁজুন
                               
, ,
           

নজরুলের মাদারীপুর আগমন: মৎস্যজীবীদের অধিকার থেকে ‘ধীবরদের গান’

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
নজরুলের মাদারীপুর আগমন: মৎস্যজীবীদের অধিকার থেকে ‘ধীবরদের গান’

১৯২৬ সালের মার্চ। মাদারীপুর তখন ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই সময় নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রাদেশিক মৎস্যজীবী সম্মিলনীর তৃতীয় অধিবেশনকে ঘিরে শহরে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মৎস্যজীবীদের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে আয়োজিত সেই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। শুধু অতিথি হিসেবেই নয়, তাঁর গান ও উপস্থিতি সম্মেলনের আবহকে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা।

১৯২৬ সালের ১০ মার্চ সন্ধ্যায় স্টিমারযোগে মাদারীপুরে পৌঁছান নজরুল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সম্মেলনের সভাপতি হেমন্ত কুমার সরকার, বসন্ত কুমার মজুমদার ও হেমপ্রভা মজুমদার। তাঁদের স্বাগত জানাতে মাদারীপুর স্টিমারঘাটে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। স্থানীয় অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. প্রতাপচন্দ্র গুহরায় এবং সম্পাদক কার্তিকচন্দ্র মল্ল বর্মণ।

পরদিন ১১ মার্চ সকালে শুরু হয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। নজরুল স্বরচিত উদ্দীপনামূলক গান ‘জেলেদের গান’ পরিবেশনের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা করেন। পরে গানটি তাঁর ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে ‘ধীবরদের গান’ নামে সংকলিত হয়।

গানটির সূচনাই ছিল জাগরণের আহ্বান—

‘শোন্ রে ও ভাই জেলে,
এবার উঠ্‌ব রে সব ঠেলে।’

মৎস্যজীবীদের জীবনসংগ্রাম, শোষণ ও অধিকারবঞ্চনার বাস্তবতা গানটির মূল বিষয়। মুটে-মজুর, কৃষকসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হচ্ছে, তখন মৎস্যজীবীরাও কেন পিছিয়ে থাকবে—এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নজরুল তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

‘লাঙল’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যায় গানটি প্রকাশিত হওয়ার সময় এর নিচে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এটি মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত মৎস্যজীবী সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীত। ফলে গানটির সঙ্গে মাদারীপুরের ঐতিহাসিক সম্পর্কটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

বিপ্লবী মাদারীপুর ও প্রতাপচন্দ্র গুহরায়

নজরুলের মাদারীপুর সফরের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্বদেশী আন্দোলনের সময় থেকেই মাদারীপুর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর সমিতির কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বিপ্লবী সংগঠনগুলোও সেখানে সক্রিয় ছিল।

পূর্ণচন্দ্র দাস ১৯২১ সালে গড়ে তোলেন ‘মাদারীপুর শান্তি সেনা সমিতি’। ড. প্রতাপচন্দ্র গুহরায়ও একসময় এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি গান্ধীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে স্বরাজ্য দলে যোগ দেন।

১৯২৬ সালের মৎস্যজীবী সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রতাপচন্দ্র গুহরায়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি বড় জনসমাবেশে পরিণত হয়েছিল।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নজরুলের গান

সম্মেলনের একটি পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের মধ্যে মতপার্থক্য থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় নজরুল হারমোনিয়াম হাতে গান শুরু করেন। তাঁর সংগীত পরিবেশনের ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। পরে শ্রোতাদের অনুরোধে তিনি আরও গান পরিবেশন করেন।

এই ঘটনাটি নজরুলের সংগীতকে কেবল সাংস্কৃতিক বিনোদন হিসেবে নয়, জনসমাবেশে মানুষের আবেগ ও মনোভাবকে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

মাদারীপুরেই ‘হেমপ্রভা’

সম্মেলন শেষ হওয়ার পরও নজরুল মাদারীপুরে ছিলেন। ২৯ ফাল্গুন ১৩৩২ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ সম্মেলনের পরদিন, তিনি মাদারীপুরে বসেই রচনা করেন ‘হেমপ্রভা’।

গানটির নিচে কবি স্থান ও তারিখ হিসেবে লিখেছিলেন—‘মাদারীপুর, ২৯শে ফাল্গুন, ১৩৩২’। হেমপ্রভা মজুমদারের রাজনৈতিক তেজ, দেশপ্রেম ও ব্যক্তিত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই এই গীতিকবিতা রচিত হয়েছিল বলে এর বিষয়বস্তু থেকে বোঝা যায়।

গানের শুরু—

‘এসো বাংলার চাঁদ-সুলতানা
বীর-মাতা বীর-জায়া গো।’

এখানে নজরুল একজন নারী রাজনৈতিক নেত্রীর মধ্যে দেশমাতৃকার মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামী চেতনাকে দেখতে পেয়েছেন। নারীজাগরণ, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা গানটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শতবর্ষে ফিরে দেখা

নজরুলের মাদারীপুর সফরের শতবর্ষ পূর্তি কেবল একটি ঐতিহাসিক তারিখ স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এটি মাদারীপুরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাসকে নতুন করে সামনে আনার সুযোগ।

এই ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ১৯২৬ সালের স্টিমারঘাট বা মৎস্যজীবী সম্মেলনের স্থান শনাক্ত করে সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করা যেতে পারে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়ক, মিলনায়তন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নজরুলের নামে রাখা যেতে পারে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি বা পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি ‘নজরুল কর্নার’ স্থাপন করে তাঁর বই, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত লেখা এবং মাদারীপুর সফরসংক্রান্ত ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে ‘ধীবরদের গান’, ‘হেমপ্রভা’সহ মাদারীপুরে নজরুলের অবস্থান ও সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কোনো এলাকায় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা তুলে ধরে একটি স্মারক স্থাপনও করা যেতে পারে।

সবশেষে, নজরুলের মাদারীপুর আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিনার, নজরুলসংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গবেষণাভিত্তিক আলোচনা এবং একটি মানসম্মত স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা যেতে পারে।

১৯২৬ সালে মাদারীপুরে নজরুলের আগমন ছিল একটি নির্দিষ্ট সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গান ও স্মৃতি সেই ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। মৎস্যজীবীদের অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, সাম্য এবং স্বাধীনতার যে চেতনা তাঁর সৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছিল, শত বছর পরও তা মাদারীপুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ । ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ