খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলা কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র শামসুর রাহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

সাহিত্য ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
বাংলা কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র শামসুর রাহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ ২৩ অক্টোবর। ১৯২৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার মাহুতটুলীর নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রেম, দ্রোহ, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষকে যুগিয়েছে সাহস ও প্রেরণা।

কবির ডাকনাম ছিল ‘বাচ্চু’। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে। দীর্ঘ ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুতোষ রচনাসহ নানা মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জ্বল কবিতা
শামসুর রাহমানের কবিতায় বারবার উঠে এসেছে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং মানুষের মুক্তির স্বপ্ন। তাঁর ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘বর্ণমালা’ ও ‘আমার দুখিনী বর্ণমালা’ কবিতাগুলো বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে সমাদৃত।

কবিতা ও সাংবাদিকতা—দুই ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আজীবন সোচ্চার ছিলেন এই কবি। পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধেও লেখনী চালিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা
১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন শামসুর রাহমান। একই বছর রেডিও পাকিস্তানে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মর্নিং নিউজে ফিরে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৪ সালের শেষ দিকে দৈনিক পাকিস্তানে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি। স্বাধীনতার পর পত্রিকাটি দৈনিক বাংলা নামে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক শাসনামলে দৈনিক বাংলা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাহিত্য পত্রিকা অধুনার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রথম কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ
১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখেছেন তিনি। এসব লেখায় ‘সিন্দাবাদ’, ‘চক্ষুষ্মান’, ‘লিপিকার’, ‘নেপথ্যে’, ‘জনান্তিকে’ ও ‘মৈনাক’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তাঁর লেখনী ছিল সক্রিয়। ১৯৮৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘শৃঙ্খল মুক্তির কবিতা’, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা’, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা’ ও ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবিতা’ শিরোনামে কবিতা লিখেছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রতিবাদ, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার প্রকাশ স্পষ্ট।

পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শামসুর রাহমান পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক ও আনন্দ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা। সাংবাদিকতার জন্যও পেয়েছেন মিৎসুবিশি পুরস্কার।

এ ছাড়া ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। দুই বাংলার পাঠকের কাছেই তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। নাগরিক জীবনের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিমানুষের অনুভূতি এবং সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর কবিতাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা।

মানুষের সংগ্রামে প্রেরণার নাম
শামসুর রাহমান ছিলেন মৃদুভাষী; কিন্তু মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছিলেন দৃঢ় ও সক্রিয়। শুধু কবিতার মাধ্যমে নয়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী চেতনায় তাঁর কবিতা বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে কবি শামসুর রাহমানের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তি আজও নতুন প্রজন্মকে ভাবায়, সাহস জোগায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই শক্তিমান কবি। মৃত্যুর দুই দশক পরও তাঁর সাহিত্যকর্ম ও প্রতিবাদী চেতনা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক।

কালের আলো/আরআইকে/জেএন

সৌদিতে ফ্লাইট বিপর্যয়, আটকে ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদিতে ফ্লাইট বিপর্যয়, আটকে ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী

সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী আটকে পড়েছেন। বিমান চলাচলে বিঘ্ন ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাঁদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে দেশটির সরকার।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সৌদি আরবে হাজারো ভারতীয় ওমরাহযাত্রীর আটকে পড়ার বিষয়টি সামনে আনেন।

ফ্লাইট বাতিলে বিপাকে যাত্রীরা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানান, ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাওয়া প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী মক্কা ও মদিনায় আটকে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁদের দেশে ফেরা ব্যাহত হচ্ছে।

আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএর প্রতি আহ্বান জানান ওয়াইসি। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তাঁদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালুর ব্যবস্থাও করতে বলেন তিনি।

ফিরেছেন ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরাতে বিমান সংস্থা ও ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে পাওয়া ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার আটকে পড়া ওমরাহযাত্রী ভারতে ফিরেছেন। এ ছাড়া নিয়মিত ফ্লাইটে আরও ১০ হাজারের বেশি ওমরাহযাত্রী দেশে ফিরেছেন।

সৌদি আরবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা দিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষও চালু করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করে প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

হামলার পর বিমান চলাচলে বিঘ্ন
সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামোয় হামলার পর বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন ও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত ভারতীয় ওমরাহযাত্রীদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

এভারকেয়ার হাসপাতালে মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
এভারকেয়ার হাসপাতালে মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে অবস্থানকালে ড. আব্দুল মঈন খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তবে মন্ত্রীর অসুস্থতার কারণ, শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টানা তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার, বাড়ছে সরবরাহ-উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
টানা তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার, বাড়ছে সরবরাহ-উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সৌদি আরবে হামলার খবর এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জল্পনা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পথে রয়েছে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৯ দশমিক ৮০ ডলার।

চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

সৌদি আরবে হামলায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে সৌদি আরবে একাধিক হামলার খবর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির একটি তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এসব হামলার কারণে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমন খবরও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই অভিযানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহপথ ও উৎপাদনকেন্দ্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ রয়েছে।

এক বছরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৮৫ শতাংশের বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘পরাস্ত’ করেছে। একই সঙ্গে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আরও কিছুটা এগিয়ে যেতে পারে’। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহপথে হামলা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়ও বাড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং তেল উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থা কতটা স্বাভাবিক থাকে, তার ওপরই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন