খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদির কারাগারে হাজারো বাংলাদেশি, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজনের তথ্য খুঁজছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
সৌদির কারাগারে হাজারো বাংলাদেশি, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজনের তথ্য খুঁজছে সরকার

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন। দেশটিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং কী কারণে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি ঢাকা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায় ঢাকা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জানতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। নথি পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে দণ্ডিত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশকে পাঠায় উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ওই দুই বাংলাদেশির নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। অন্য দেশের বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের উদ্দেশ্য নয়। তবে বিদেশে কোনো বাংলাদেশি দণ্ডিত হলে, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। সাজা মওকুফের সুযোগ থাকলে কূটনৈতিক চ্যানেলে সে বিষয়েও আলোচনা করা হয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ছয় মাসে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে মরদেহ ও সরকারের আর্থিক সহায়তা তাঁর স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থানকালে হামলার শিকার হন তিনি।
ওই হামলায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের আরেক বাংলাদেশি কর্মী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরিও নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা ছিল ২৪।

শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। ফলে দেশটিতে যুদ্ধ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শাহেদ তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শাহেদের মরদেহ দেশে এসেছে। অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাংলাদেশিকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ও নবায়নের বিষয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সংঘাতের কারণে যেসব কর্মী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, তাঁদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মিশনের গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশন থেকে প্রবাসীরা যথাযথ সহায়তা পান না—এমন অভিযোগের বিষয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রতিটি মিশনে শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে। প্রবাসীরা সাধারণত এসব উইংয়ে অভিযোগ জানান। সেখানে প্রবাসীকল্যাণ বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সহায়তা করা দূতাবাস ও সরকারের দায়িত্ব। কোনো মিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং সংকটকালে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশটির কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের অবস্থা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নাগরিকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ইউরোপের দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন তিনি। এ ধরনের অবস্থানকে ‘রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া’ বলেও মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পুতিন। এ সময় ইউক্রেনকে ‘ভ্রাতৃপ্রতীম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা একই জাতির মানুষ।

ইউক্রেন সরকারের বিরুদ্ধে পুতিনের অভিযোগ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের সমালোচনা করে পুতিন অভিযোগ করেন, কিয়েভ সরকার জোর করে নিজেদের নাগরিকদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক মানুষকে রাস্তাঘাট থেকে ধরে নিয়ে সম্মুখসমরে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউক্রেন সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইউরোপের যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনা
রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ইউরোপের দেশগুলোর প্রস্তুতির সমালোচনা করে পুতিন বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে রাশিয়াকে পরাজিত করা ইউরোপের পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না। একইভাবে রাশিয়াও ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করেন তিনি।

পুতিনের এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন সংকট সমাধানে মস্কোর আগ্রহের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে ইউরোপের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ ও আপত্তিও স্পষ্ট হয়েছে।

নভেম্বরের পর হতে পারে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা আবারও শুরু করতে রাশিয়া সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুতিন। এর আগে তাঁর জ্যেষ্ঠ সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছিলেন, ১০ নভেম্বরের পর রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে।

তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ, আলোচ্যসূচি কিংবা সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এর আগে নরওয়ের রাজধানী অসলতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

এসব কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও যুদ্ধ বন্ধে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শেষ পর্যন্ত কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সূত্র: তাস, সিএনএন

কালের আলো/এএইচ/জেএন

ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাতের হুমকি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ
ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাতের হুমকি তেহরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সম্ভাব্য সংঘাতের জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের ডেটা কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

মহসেন রেজাই বলেন, সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইরান আরও ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা হলে হামলাকারীদের সহযোগী দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোও অক্ষত থাকবে—এমন পরিস্থিতি তেহরান মেনে নেবে না।

‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে দেখবে ইরান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মোহাম্মাদি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে হামলা হলে ইরান সেটিকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করবে। সে ক্ষেত্রে তেহরানের সামরিক কৌশলে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সংঘাত শুরু হলে তা প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার জন্য পেন্টাগন লক্ষ্যবস্তুর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করেছে।

এদিকে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেলের বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেল সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রাজনৈতিক কেন্দ্রেও হামলার হুঁশিয়ারি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফারসের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সংঘাতে ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হলে তেহরান সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এমন বক্তব্যে সম্ভাব্য সংঘাতের পরিধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ইরানের এসব হুমকি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

এক রাতেই ৭ তেলবাহী জাহাজে আগুন, যুদ্ধের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
এক রাতেই ৭ তেলবাহী জাহাজে আগুন, যুদ্ধের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে 

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে এক রাতেই সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এসব জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর দেশটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনাটি ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জাহাজের মধ্যে তিনটি নৌমাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি চারটি জাহাজে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের দাবি, জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং ওয়াশিংটনের উৎসাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছিল। তবে জাহাজগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সামুদ্রিক অবরোধকেও যুদ্ধ হিসেবে দেখছে ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় নতুন নীতির কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। ওই নীতি অনুযায়ী, ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করা হলে সেটিকেও যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এ অবস্থানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তেহরান সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে শুধু সরাসরি সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সমুদ্রপথে নেওয়া পদক্ষেপকেও পাল্টা ব্যবস্থার কারণ হিসেবে দেখছে তারা।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিষয়ে আইআরজিসি সতর্কবার্তাও দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব জাহাজের চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহ ও সহায়তা দিচ্ছে এবং পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগাচ্ছে।

নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে শিগগিরই আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানও সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। দেশটির দাবি, যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে আরও জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে ইরান তার হুমকি বাস্তবায়ন করে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে সংঘাত বাড়লে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন