খুঁজুন
                               
, ,
           

ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রধানের পদত্যাগ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রধানের পদত্যাগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওপেনএআইয়ের দীর্ঘদিনের কর্মী ও সাবেক নিরাপত্তা প্রধান ডেভিড রবিনসন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর দাবি, এআই উন্নয়নের বর্তমান ধারা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক লেখায় রবিনসন বলেন, এআই তৈরি ও উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সতর্ক হতে হবে। তাঁর মতে, এআই মডেল যত শক্তিশালী হচ্ছে, ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণও তত বড় হচ্ছে।

২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন রবিনসন

ডেভিড রবিনসন ২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন। শুরুতে তিনি নীতিমালা পরিকল্পনার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের সেফটি সিস্টেমস দলের নেতৃত্ব দেন। ওপেনএআইয়ের বড় এআই মডেল প্রকাশের সময় যেসব নিরাপত্তা প্রতিবেদন তৈরি করা হতো, সেগুলোর প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। দীর্ঘদিন এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার তিনি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

শুধু আইন করলেই হবে না

রবিনসনের মতে, এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু নতুন আইন, নীতিমালা বা নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ তৈরি করলেই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চঝুঁকির প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিনয়ী থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। তাই কোনো ঝুঁকি দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে শুরু থেকেই সম্ভাব্য বিপদ বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

‘ধাপে ধাপে উন্মুক্ত’ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন

ওপেনএআইয়ের ‘ইটারেটিভ ডিপ্লয়মেন্ট’ বা ধাপে ধাপে এআই প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রবিনসন। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রযুক্তি বা মডেল ব্যবহারকারীদের কাছে উন্মুক্ত করার পর বাস্তব ব্যবহারে সমস্যা শনাক্ত হলে ধীরে ধীরে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা হয়। তবে রবিনসনের দাবি, এআই যত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে, এই ধরনের পদ্ধতিতে কোনো ভুলের পরিণতিও তত ভয়াবহ হতে পারে। ফলে শুধু বাস্তব ব্যবহারের পর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার সুযোগ সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নাও হতে পারে।

এআই এজেন্টের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরলেন

নিজের উদ্বেগের পক্ষে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন রবিনসন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাগিং ফেসে একটি ঘটনায় ভুলবশত ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলোর একটি দল সক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। অন্য একটি ঘটনায় প্রশিক্ষণাধীন একটি মডেল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থাকা বিধিনিষেধ এড়িয়ে যায়। রবিনসনের দাবি, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বিষয়টি শনাক্ত করলেও মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়নি। অ্যানথ্রপিকের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুল কনফিগারেশনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনা উল্লেখ করে রবিনসন বোঝাতে চেয়েছেন, এআই ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থার সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

‘ট্রায়াল অ্যান্ড এররের সময় শেষ’

রবিনসনের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তাগুলোর একটি হলো—মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম হয়ে উঠতে পারে এমন এআই ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষা চালিয়ে ভুল থেকে শেখার সুযোগ সব সময় নাও থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এররের সময় শেষ’। অর্থাৎ শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হওয়ার পর সেটি ঠিক করার সুযোগ পাওয়ার ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করা উচিত নয়। বরং প্রযুক্তি ব্যবহারের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো নিরাপত্তা চান

এআই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যস্ত বিমানবন্দরের মতো উচ্চঝুঁকির খাতের পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন রবিনসন। তাঁর মতে, একাধিক স্তরের নিরাপত্তা, বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে মানুষের অনিবার্য ভুলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ‘সেফটি কালচার’ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পদত্যাগ করেও এআইয়ের সম্ভাবনা অস্বীকার করছেন না

তবে ওপেনএআই থেকে পদত্যাগ করলেও এআই মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে—এমন বিশ্বাস রয়েছে রবিনসনের। তাঁর আপত্তি মূলত এআই উন্নয়নের বর্তমান গতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ওপেনএআইসহ অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানকে আরও নিরাপদভাবে প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য চাপ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, ততই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রবিনসনের পদত্যাগ সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে এই রুটে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে ট্রেনটি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ থেকে ৫৪৭ টাকা। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা আরও বিস্তৃত হলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই সেবার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। এতে পথে পরিবহন পরিবর্তনের ঝামেলা কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা, টিকিটের পর্যাপ্ততা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

জাপানের পক্ষে নৈশভোজে অংশ নেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়া ও সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

আধুনিক বিমান বাহিনীর সক্ষমতা কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের কার্যকারিতা বজায় রাখা, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সফরে তিনি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিমান শক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

  • জার্মানিতে উড়োজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিদর্শন
  • চেক প্রজাতন্ত্রে ভবিষ্যৎ বিমানশক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ
  • বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর জার্মানি সফরকালে বিমান বাহিনী প্রধান গ্রোব এয়ারক্রাফট এসই-এর আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির টুসেনহাউজেন-ম্যাটসিসে অবস্থিত উড়োজাহাজ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে গ্রোবের তৈরি প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব বিমানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সফর বিদ্যমান উড়োজাহাজের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতেও সহায়ক হতে পারে।

জার্মানি সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দেশটির অন্যতম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে। বিশেষ করে তাদের IRIS-T SLM ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের উপযোগী। একটি দেশের সমন্বিত ও স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিমান বাহিনী প্রধান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ স্থাপনের দিক থেকে এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

জার্মানি সফর শেষে গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেন। চেক বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে তিনি প্রাগে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আধুনিক আকাশযুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মাল্টিরোল লাইট এয়ারক্রাফট, আধুনিক প্যাসিভ ও অ্যাক্টিভ সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি), কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যৎ বিমান শক্তি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, কার্যকর প্রশিক্ষণ, আধুনিক রণকৌশল এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য। প্রাগের সম্মেলন এসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিমান বাহিনী প্রধানের এই সফরের দুটি অংশ পরস্পরের পরিপূরক। জার্মানিতে তিনি উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিমান বাহিনী প্রধানের জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর কেবল আনুষ্ঠানিক সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

এটি আধুনিক বিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে