খুঁজুন
                               
, ,
           

ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রধানের পদত্যাগ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রধানের পদত্যাগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওপেনএআইয়ের দীর্ঘদিনের কর্মী ও সাবেক নিরাপত্তা প্রধান ডেভিড রবিনসন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর দাবি, এআই উন্নয়নের বর্তমান ধারা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক লেখায় রবিনসন বলেন, এআই তৈরি ও উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সতর্ক হতে হবে। তাঁর মতে, এআই মডেল যত শক্তিশালী হচ্ছে, ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণও তত বড় হচ্ছে।

২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন রবিনসন

ডেভিড রবিনসন ২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন। শুরুতে তিনি নীতিমালা পরিকল্পনার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের সেফটি সিস্টেমস দলের নেতৃত্ব দেন। ওপেনএআইয়ের বড় এআই মডেল প্রকাশের সময় যেসব নিরাপত্তা প্রতিবেদন তৈরি করা হতো, সেগুলোর প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। দীর্ঘদিন এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার তিনি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

শুধু আইন করলেই হবে না

রবিনসনের মতে, এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু নতুন আইন, নীতিমালা বা নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ তৈরি করলেই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চঝুঁকির প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিনয়ী থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। তাই কোনো ঝুঁকি দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে শুরু থেকেই সম্ভাব্য বিপদ বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

‘ধাপে ধাপে উন্মুক্ত’ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন

ওপেনএআইয়ের ‘ইটারেটিভ ডিপ্লয়মেন্ট’ বা ধাপে ধাপে এআই প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রবিনসন। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রযুক্তি বা মডেল ব্যবহারকারীদের কাছে উন্মুক্ত করার পর বাস্তব ব্যবহারে সমস্যা শনাক্ত হলে ধীরে ধীরে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা হয়। তবে রবিনসনের দাবি, এআই যত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে, এই ধরনের পদ্ধতিতে কোনো ভুলের পরিণতিও তত ভয়াবহ হতে পারে। ফলে শুধু বাস্তব ব্যবহারের পর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার সুযোগ সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নাও হতে পারে।

এআই এজেন্টের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরলেন

নিজের উদ্বেগের পক্ষে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন রবিনসন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাগিং ফেসে একটি ঘটনায় ভুলবশত ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলোর একটি দল সক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। অন্য একটি ঘটনায় প্রশিক্ষণাধীন একটি মডেল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থাকা বিধিনিষেধ এড়িয়ে যায়। রবিনসনের দাবি, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বিষয়টি শনাক্ত করলেও মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়নি। অ্যানথ্রপিকের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুল কনফিগারেশনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনা উল্লেখ করে রবিনসন বোঝাতে চেয়েছেন, এআই ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থার সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

‘ট্রায়াল অ্যান্ড এররের সময় শেষ’

রবিনসনের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তাগুলোর একটি হলো—মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম হয়ে উঠতে পারে এমন এআই ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষা চালিয়ে ভুল থেকে শেখার সুযোগ সব সময় নাও থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এররের সময় শেষ’। অর্থাৎ শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হওয়ার পর সেটি ঠিক করার সুযোগ পাওয়ার ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করা উচিত নয়। বরং প্রযুক্তি ব্যবহারের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো নিরাপত্তা চান

এআই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যস্ত বিমানবন্দরের মতো উচ্চঝুঁকির খাতের পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন রবিনসন। তাঁর মতে, একাধিক স্তরের নিরাপত্তা, বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে মানুষের অনিবার্য ভুলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ‘সেফটি কালচার’ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পদত্যাগ করেও এআইয়ের সম্ভাবনা অস্বীকার করছেন না

তবে ওপেনএআই থেকে পদত্যাগ করলেও এআই মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে—এমন বিশ্বাস রয়েছে রবিনসনের। তাঁর আপত্তি মূলত এআই উন্নয়নের বর্তমান গতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ওপেনএআইসহ অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানকে আরও নিরাপদভাবে প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য চাপ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, ততই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রবিনসনের পদত্যাগ সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

স্লো ওভার রেটে শাস্তি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
স্লো ওভার রেটে শাস্তি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের

অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হয়। নিউ চণ্ডিগড়ে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে সেই শাস্তিই পেল ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দুই দলের শাস্তির মাত্রা এক নয়। নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ করতে ভারতের দেরি হয়েছে বেশি, তাই তাদের জরিমানাও হয়েছে বেশি।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, স্লো ওভার রেটের কারণে ভারতের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

৪ ওভার পিছিয়ে ভারত

নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ভারত চার ওভার পিছিয়ে ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পিছিয়ে ছিল দুই ওভার। এ কারণে দুই দলের বিরুদ্ধেই স্লো ওভার রেটের অভিযোগ আনা হয়।

মাঠের আম্পায়ার জয়ারামন মাদানাগোপাল ও স্যাম নোগাজস্কি, তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ এবং চতুর্থ আম্পায়ার বীরেন্দ্র শর্মা দুই দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

পরে ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট বিষয়টি পর্যালোচনা করে দুই দলের জন্য জরিমানার সিদ্ধান্ত জানান।

ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেন। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

সিরিজ অবশ্য ভারতের

স্লো ওভার রেটের শাস্তির পাশাপাশি তৃতীয় ওয়ানডেতে অবশ্য ভারতের জন্য ফল ছিল হতাশার। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৩৫২ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচটি ৫ উইকেটে হেরে যায় ভারত।

তবে শেষ ম্যাচে হারলেও সিরিজ হাতছাড়া হয়নি ভারতের। প্রথম দুই ওয়ানডেতে জয় পাওয়ায় সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল ভারত। ফলে তৃতীয় ম্যাচের পরও সিরিজের ট্রফি থাকছে ভারতের কাছেই।

কালের আলো/এসএ

শেষ বলে জিতল শ্রীলঙ্কা, হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
শেষ বলে জিতল শ্রীলঙ্কা, হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। শেষ বলে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।

সাদিয়ার ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাইমুনা নাহের। ৬ বল খেলে তিনি করেন মাত্র ১ রান। আরেক ওপেনার অচেনা জান্নাত ২৪ বলে ১৬ রান করেন। বিবি আয়েশা কোনো রান না করেই আউট হন।

এরপর চতুর্থ উইকেটে নিশিতা আক্তার নিশিকে সঙ্গে নিয়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটিতে রান আসতে থাকে। নিশিতা রানআউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ২৬ রান করেন।

অধিনায়ক সাদিয়া অবশ্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। মাত্র ২২ বলে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাউন্ডারি।

এ ছাড়া সাদিয়া আক্তার ১৮ বলে ১৮, ফারজানা ইয়াসমিন ৭ বলে ৬ এবং কুমারি শ্রীবণী রাণী ৫ বলে ৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

শেষ বলে জয় শ্রীলঙ্কার

১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন নেটমি উপেক্ষা। তবে এরপর দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে এগিয়ে নেন ব্যাটাররা।

ওই জুটিই মূলত শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। ওপেনার সাঞ্জানা কাভিন্দি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন। তার সঙ্গে বালাসুরিয়া করেন ২১ রান। মানুদি ১১, মাথসারা ৯, সেওমিনি ১০ এবং লিমানসা ২ রান যোগ করেন।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের উত্তেজনা গড়ায় শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ বলে প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। ফলে খুব কাছে গিয়েও জয় থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নিশিতা আক্তার নিশি সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। ফারজানা ইয়াসমিন ও আফরিন মিম নেন একটি করে উইকেট।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে হেরে যাওয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য পরের ম্যাচটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মেসি

দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন এই মহাতারকা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে অনুষ্ঠিত হবে।

আর্জেন্টিনার হয়ে এটিই মেসির শেষ ম্যাচ। আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এই ম্যাচকে মেসির প্রাপ্য বিদায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শেষবারের মতো আর্মব্যান্ড হাতে

৩৯ বছর বয়সী মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুশীলন কেন্দ্রে তার পৌঁছানোর ছবি প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামেই শেষবারের মতো আলবিসেলেস্তেদের জার্সি পরবেন মেসি। তার বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদেরও এই বিশেষ ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হতে মাঠে থাকবেন আর্জেন্টিনার পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররাও।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির রেকর্ড

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। তার নেতৃত্বে দলটি জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ।

জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডও মেসির দখলে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনার হয়ে তার ২০৮তম ও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি।

একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই চিত্র। অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বড় তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা এনে দিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।

‘আমার আর কিছু দেওয়ার নেই’

আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান মেসি। সে সময় তিনি জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ পাওয়ার সময় এসেছে।

তার এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে মেসির দুই দশকের বেশি সময়ের সম্পর্ক।

তবে ক্লাব ফুটবলে এখনই থামছেন না মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে তার খেলা অব্যাহত থাকবে। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায় নিলেও ফুটবল মাঠে মেসিকে আরও কিছুদিন দেখা যাবে।

মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) এর বেনিন ম্যাচ তাই শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়—আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা। দেশের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে শেষবারের মতো মাঠে দেখার অপেক্ষায় থাকবে হাজারো সমর্থক।

কালের আলো/এসএ