খুঁজুন
                               
, ,
           

গণিত গবেষণা নিয়ে বিতর্ক, ওপেনএআই বয়কটের আহ্বান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
গণিত গবেষণা নিয়ে বিতর্ক, ওপেনএআই বয়কটের আহ্বান

গণিতের শত শত সমস্যার সমাধান প্রকাশ করে বিতর্কের মুখে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাপদ্ধতি, বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ এবং ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গণিতবিদদের একটি সংগঠন। এ ঘটনায় গণিতবিদদের ওপেনএআই বয়কটের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকসের অভিযোগ, গণিতবিদদের অনুরোধ ছাড়াই এ ধরনের গবেষণা পরিচালনা করেছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গবেষণাসংক্রান্ত নথি প্রকাশের পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি।

৩৭৭ সমস্যার সমাধান প্রকাশ, গিটহাবে ৭০০-এর বেশি ফাইল

গত সপ্তাহে ওপেনএআই গণিতের ৩৭৭টি সমস্যার সমাধান প্রকাশ করে। পাশাপাশি গিটহাবে ৭০০টির বেশি ফাইল নিয়ে একটি সংগ্রহশালা উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এত বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করলেই যে গণিত গবেষণায় কার্যকর অবদান রাখা হয়, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকস।

সংগঠনটির মতে, গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা, নৈতিকতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। গণিতবিদেরা ওপেনএআইকে এ ধরনের গবেষণা পরিচালনার অনুরোধ জানাননি বলেও দাবি করেছে তারা। তাদের দৃষ্টিতে, এই উদ্যোগ গবেষণার অগ্রগতির চেয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা বেশি।

পরামর্শক গোষ্ঠীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন

ওপেনএআই নিজেদের উদ্যোগের পক্ষে গণিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি পরামর্শক গোষ্ঠীর পরামর্শের কথা উল্লেখ করেছে। তবে অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকসের দাবি, ওই গোষ্ঠী উন্নত পর্যায়ের গণিত সমস্যায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।

এ কারণে পরামর্শক গোষ্ঠীর অবস্থান উপেক্ষা করে ওপেনএআই বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।

নাভিয়ের–স্টোকস সমস্যার সমাধানের দাবি

বিতর্কের মধ্যে গত মাসে ওপেনএআই দাবি করে, তাদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই মডেল গণিতের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত সমস্যা নাভিয়ের–স্টোকসের সমাধান করেছে।

নাভিয়ের–স্টোকস সমীকরণ তরল ও গ্যাসের প্রবাহ ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়। এ সমীকরণসংক্রান্ত একটি সমস্যা গণিতের সাতটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার অন্তর্ভুক্ত। এসব সমস্যার প্রতিটির সমাধানের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে।

তবে এআইয়ের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার দাবি এবং গণিতবিদদের কাছে গ্রহণযোগ্য, কঠোরভাবে যাচাই করা গাণিতিক প্রমাণ উপস্থাপন এক বিষয় নয়। এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে প্রমাণের যথার্থতা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

এআইয়ের প্রমাণ যাচাই নিয়ে উদ্বেগ

গণিত গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণের স্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এআইয়ের তৈরি জটিল গাণিতিক যুক্তি অনেক সময় মানব গবেষকদের পক্ষে সহজে বোঝা বা যাচাই করা কঠিন হতে পারে।

অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এআই এমন গাণিতিক যুক্তি ও প্রমাণ তৈরি করতে পারে, যা যাচাই করা গবেষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এসব প্রমাণের যথার্থতা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর দায়দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিও জটিল হতে পারে।

এ ছাড়া উন্নত এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ যদি কেবল কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে গণিত গবেষণায় অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি।

গণিত গবেষণায় নতুন বিতর্ক

এআইয়ের সাহায্যে জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে এর পাশাপাশি গবেষণার পদ্ধতি, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহারের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক সেই প্রশ্নগুলোকে সামনে এনেছে। এআইয়ের তৈরি ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য, সেগুলো কীভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ সবার জন্য কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে—গণিত গবেষণায় এখন এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে।

কালের আলো/জেএন

১৫ বছর ধরে আবর্জনা কুড়িয়ে চলে ফিরোজের সংসার

রংপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
১৫ বছর ধরে আবর্জনা কুড়িয়ে চলে ফিরোজের সংসার

প্রতিদিন বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ফেলে দেওয়া হয় কাগজ, প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য। অনেকের কাছে এসব শুধুই আবর্জনা। কিন্তু সেই ফেলে দেওয়া জিনিসের মধ্যেই কেউ খুঁজে নেন বেঁচে থাকার অবলম্বন। রোদ-বৃষ্টি, দুর্গন্ধ আর নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বর্জ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করেই চলে তাঁদের সংসার।

এমনই জীবনসংগ্রামের নাম ফিরোজ মিয়া। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা বর্জ্যের স্তূপে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে দেখা যায় তাঁকে। পরনে মলিন পোশাক, মাথায় সবুজ টুপি আর চোখে চশমা—চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যেই তাঁর জীবিকার সন্ধান।

৪৫ বছর বয়সী ফিরোজ মিয়া রংপুর নগরের মুন্সিপাড়া এলাকার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বস্তিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। অভাবের তাড়নায় গত ১৫ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

ফিরোজের মতো অনেক মানুষের প্রতিদিন কাটে অন্যের ফেলে দেওয়া জিনিসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু খুঁজে। কেউ সংগ্রহ করেন পুরোনো কাগজ ও বই, কেউ প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন কিংবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য অন্যান্য সামগ্রী। পরে এসব জিনিস ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

তাঁদের কাছে বর্জ্যের স্তূপ কেবল ময়লা-আবর্জনা নয়, বরং উপার্জনের একটি উৎস। প্রতিকূল পরিবেশে পরিশ্রম করে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়েই খাবার কেনা, ঘরভাড়া দেওয়া এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।

ফিরোজের জীবনসংগ্রাম নগরজীবনের আড়ালে থাকা প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা তুলে ধরে। যাঁদের শ্রমে ফেলে দেওয়া অনেক সামগ্রী আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে, তাঁদের জীবনেই রয়ে যায় অনিশ্চয়তা। যথাযথ কর্মসংস্থান ও সামাজিক সহায়তার সুযোগ পেলে তাঁদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অন্যের ফেলে দেওয়া জিনিস সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁদের সংগ্রহ করা কাগজ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী পুনর্ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এতে বর্জ্যের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এই কাজে যুক্ত অনেক মানুষের নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রী কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ। মিশ্র বর্জ্যের মধ্যে থাকা ধারালো বস্তু, দূষিত সামগ্রী ও ক্ষতিকর পদার্থ থেকে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। তারপরও জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয় তাঁদের।

নগরীর উন্নয়ন মানে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা, ভবন নির্মাণ কিংবা সৌন্দর্যবর্ধন নয়; উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। যাঁরা প্রতিদিন বর্জ্য থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের কাজকে অবহেলা না করে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ জন্য বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা, সংগ্রহকারীদের নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহকারীদের কাজ আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব।

রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতাসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান মিজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমরা প্রতিদিন অপ্রয়োজনীয় মনে করে যেসব জিনিস ফেলে দিই, সেগুলোর কোনো কোনোটি অন্য একজন মানুষের এক বেলার খাবার জোগাড়ের উপায়। তাই বর্জ্য ফেলার আগে ভাবা প্রয়োজন—আমাদের কাছে যা মূল্যহীন, অন্য কারও কাছে তা-ই হয়তো বেঁচে থাকার অবলম্বন।

রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে বর্জ্যের স্তূপে বসে থাকা ফিরোজ মিয়ার দৃশ্যটি সেই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। একটি শহর কতটা উন্নত, তা শুধু তার রাস্তাঘাটের সৌন্দর্য কিংবা স্থাপনা দিয়ে বিচার করা যায় না। সেই শহর তার প্রান্তিক মানুষকে কতটা মর্যাদা, নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার সুযোগ দিতে পারছে, তার মধ্যেও উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সাক্ষাৎকার নিয়ে বিতর্ক, প্রযোজককে ঘিরে ফারিয়ার বিস্ফোরক বার্তা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
সাক্ষাৎকার নিয়ে বিতর্ক, প্রযোজককে ঘিরে ফারিয়ার বিস্ফোরক বার্তা

নতুন সিনেমা ‘লজ্জা’র শুটিং দেখতে গিয়ে সাক্ষাৎকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাংবাদিকেরা। প্রযোজক আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর দিয়াবাড়িতে শুটিং স্পটে হাজির হয়েছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সেখানে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত কথা বলেননি তিনি। এ নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের উদ্দেশে একটি বার্তা দেন নুসরাত ফারিয়া। শুটিং চলাকালে কোনো প্রযোজক, পরিচালক কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাওয়ার আগে আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পীর সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘আগে যাচাই করে নেবেন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে ডাকা হচ্ছে’

ফেসবুক পোস্টে নুসরাত ফারিয়া লেখেন, ‘শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আপনাদের প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ। কোনো প্রযোজক, পরিচালক কিংবা প্রোডাকশন হাউস যখন শুটিং চলাকালীন আপনাদের শুটিং স্পটে আমন্ত্রণ জানায়, তখন দয়া করে আগে যাচাই করে নেবেন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে আপনাদের সেখানে ডাকা হচ্ছে।’

এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাংবাদিকদের ক্যামেরা, বুম ও পরিচয় ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের প্রচার বাড়াতে চান কি না, নাকি সত্যিই কোনো শিল্পীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুটিং স্পটে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে শিল্পীর সম্মতি জরুরি: ফারিয়া

নুসরাত ফারিয়ার মতে, কোনো শিল্পীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হলে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, ওই শিল্পীর কাছ থেকে এ বিষয়ে সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না। কারণ, সাংবাদিকদের সময় মূল্যবান এবং আমন্ত্রণের পেছনে যে উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়, বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্নও হতে পারে।

অভিনেত্রী লেখেন, ‘একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, যে শিল্পীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তাঁর কাছ থেকে আদৌ এ বিষয়ে সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, আপনার সময় অনেক মূল্যবান।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুটিং চলাকালে একজন শিল্পী নির্দিষ্ট কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন। সিনেমা বা অন্য কোনো প্রজেক্টের শুটিংয়ের বাইরে সাক্ষাৎকার দেওয়া আলাদা বিষয়। এ জন্য শিল্পীর সম্মতি ও প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।

‘এক পক্ষের কথা শুনেই পুরো বিষয় সত্য ধরে নেবেন না’

ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি আরও একটি অনুরোধ জানিয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। তাঁর বক্তব্য, কোনো ঘটনার একটি পক্ষের বক্তব্য শুনেই পুরো বিষয়টিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঘটনার পেছনে থাকা বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ফারিয়া লেখেন, ‘আপনারা যা শুনছেন, যা দেখছেন, তার আড়ালেও অনেক বাস্তবতা থাকতে পারে। অনেক সময় পর্দার আড়ালের ঘটনাগুলো আপনাদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে প্রকৃত সত্যটি আড়ালেই থেকে যায়।’

তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুটিং স্পটে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ, সাক্ষাৎকারের সম্মতি এবং ঘটনার সব দিক যাচাই করার বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

‘লজ্জা’ সিনেমায় ফারিয়ার সঙ্গে বাঁধন

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে ‘লজ্জা’ সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে ছবিটি। এর পরিচালক এমএইচ খোকন এবং গল্প লিখেছেন আবদুল আজিজ। সিনেমাটিতে নুসরাত ফারিয়ার পাশাপাশি অভিনয় করছেন আজমেরী হক বাঁধন।

সিনেমাটির শুটিং ঘিরে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ এবং পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আলোচনার মধ্যে নুসরাত ফারিয়ার ফেসবুক পোস্ট নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে প্রযোজক আবদুল আজিজের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনাটির দুই পক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/জেএন

পাঁচ দশকে নেত্রকোনার উন্নয়ন কতটা? এখনো রয়ে গেছে পুরোনো সংকট

নেএকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
পাঁচ দশকে নেত্রকোনার উন্নয়ন কতটা? এখনো রয়ে গেছে পুরোনো সংকট

স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময়ে নেত্রকোনায় বদলেছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, এসেছে একাধিক সরকার, নির্বাচিত হয়েছেন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। কেউ দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রিসভায়, কেউ এলাকার উন্নয়নে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। তবু সড়ক যোগাযোগ, রেলপথ, হাওর ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর অনেক পুরোনো সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—এত বছরে নেত্রকোনার উন্নয়ন কতটা হয়েছে, আর সেই পরিবর্তনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কতটুকু?

কবি, বাউল ও সুফি-সাধকদের স্মৃতিবিজড়িত নেত্রকোনা ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয়। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অন্য অঞ্চলের মতো এ জেলাকেও নতুন করে পথচলা শুরু করতে হয়। তখন এটি ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার একটি মহকুমা। ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়লেও সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘদিন নানা সীমাবদ্ধতা ছিল।

বর্ষায় বিস্তীর্ণ হাওর পানিতে তলিয়ে যায়, আর শুষ্ক মৌসুমে যোগাযোগের দুর্ভোগ পোহাতে হয় অনেক এলাকার মানুষকে। সুপেয় পানির সংকট, নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল, কাঁচা সড়ক এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও জেলার অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

স্বাধীনতার পর নেত্রকোনার রাজনৈতিক ইতিহাসে এসেছে নানা পরিবর্তন। বিভিন্ন সময়ে জেলার সংসদীয় আসনের সীমানা ও বিন্যাসেও পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জেলার পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

পুরোনো সময়ের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন খান। নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ী) আসনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী এই নেতা ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু সরকারের খাদ্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

নেত্রকোনা-১ আসনটি দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নাম জালাল উদ্দিন তালুকদার। তিনি ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জয়ী হন। পরে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

দুর্গাপুর-কলমাকান্দার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে পাহাড়, সীমান্ত ও নদী। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন, সীমান্তবর্তী যোগাযোগ এবং পর্যটন সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জও আলাদা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি।

নেত্রকোনা-২ আসনটি জেলা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাব ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনি ইতিহাসে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, ফজলুর রহমান খান, আশরাফ আলী খান খসরু ও আরিফ খান জয়ের মতো নেতাদের নাম রয়েছে।

আরিফ খান জয় ২০১৪ সালের পর যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরুও এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক এ আসনে নির্বাচিত হন।

জেলা সদর হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে কাজ হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, পৌর শহরের অনেক সড়কের অবস্থা এখনো নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মহুয়া অডিটোরিয়ামও বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৬ সালে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন।

আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৩ আসনেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এ এলাকার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিক্ষা এবং নদী-খাল ব্যবস্থাপনা। নদী ও খাল পুনঃখননের মতো উদ্যোগের কথা বিভিন্ন সময়ে সামনে এলেও স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, এখনো কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

অন্যদিকে, নেত্রকোনা-৪ জেলার অন্যতম হাওরপ্রধান আসন। মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ এলাকায় বর্ষায় নৌপথই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ইতিহাসে এ আসনের সঙ্গে মমিন পরিবারের নাম বিশেষভাবে আলোচিত। অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন খানের পর তাঁর স্ত্রী রেবেকা মমিন ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হাওর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা ও যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওরবাসীর জীবনমান বদলে দেওয়ার মতো টেকসই পরিবর্তন এখনো সীমিত। তাঁদের মতে, দীর্ঘ সময় জনপ্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতায় থাকার কারণে উন্নয়নের আরও বড় সুযোগ ছিল।

পূর্বধলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৫ আসনের নির্বাচনি সীমানাও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও পূর্বধলা নিয়ে আসনটি গঠিত ছিল। পরে শুধু পূর্বধলা নিয়ে বর্তমান আসনটি গঠিত হয়। এ আসন থেকে ডা. মোহাম্মদ আলী, জালাল উদ্দিন তালুকদার, আবদুল করিম আব্বাসী, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও আহমদ হোসেনসহ বিভিন্ন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাছুম মোস্তফা নির্বাচিত হন।

পূর্বধলার উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস এবং একাধিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি থাকার পরও প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ ও অবকাঠামো নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ রয়েছে।

নেত্রকোনার সঙ্গে নদী ও হাওরের সম্পর্ক শুধু ভৌগোলিক নয়, অর্থনৈতিকও। মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুড়ী, বারহাট্টা ও কেন্দুয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষি, মাছ ও জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল।

নদীভাঙন রোধ, খাল পুনঃখনন, হাওরের যোগাযোগব্যবস্থা, মাছের উৎপাদন, কৃষি এবং কর্মসংস্থান—প্রতিটি সরকারই এসব বিষয়কে উন্নয়ন আলোচনায় এনেছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগের অনেকগুলোই প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি।

তবে জেলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রকল্পের কৃতিত্ব এককভাবে কোনো সংসদ সদস্যের নামে দেওয়া সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। সংসদ সদস্যরা সাধারণত এলাকার দাবি সংসদে তুলে ধরেন এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে সমর্থন দেন। অন্যদিকে, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার ওপর।

স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময়ে নেত্রকোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা, নদী-খাল পুনঃখনন, আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং হাওরকেন্দ্রিক অবকাঠামোতে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের গতি ও বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে সীমান্ত, হাওর ও প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কতটা পৌঁছেছে, সেটিই বড় বিবেচ্য বিষয়।

এখন নেত্রকোনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা। নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যোগাযোগব্যবস্থা, হাওর ব্যবস্থাপনা, কৃষি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকটগুলোকে কতটা বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে রূপ দিতে পারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর নেত্রকোনার মানুষের প্রত্যাশা শুধু নতুন প্রকল্প বা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা চায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছাক প্রত্যন্ত গ্রাম, সীমান্তবর্তী এলাকা ও হাওরাঞ্চলে। এমপি-মন্ত্রীরা এসেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন, আবার বিদায় নিয়েছেন—এখন সময় উন্নয়নের দৃশ্যমান ও টেকসই ফল দিয়ে সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের মূল্যায়ন করার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি