সাদ-সোহেলের নাইটক্লাব বিতর্কে শাস্তির হুঁশিয়ারি
ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হারের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই নতুন বিতর্কে পড়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল। দলের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাকে ঘিরে নাইটক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর এবার মুখ খুলেছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। এমন আচরণকে অপেশাদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বিষয়টি দলের জন্য ভালো কিছু হয়নি।
ফিফা আসিয়ান কাপের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাকে নাইটক্লাবে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তবে দুই ফুটবলারই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ছবিটি পুরোনো এবং ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর তোলা নয়। ফলে ছবিটির সময়কাল ও ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দুই সতীর্থকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নিজের অসন্তোষ জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের আসলে এটা করা উচিত হয়নি। এটা অপেশাদারের মতো কাজ হয়েছে। কারণ আমরা মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছি। তারপর আমরা শুনলাম, ওরা ওখানে গেছে। দলের জন্য এটা কোনো ভালো কিছু হয়নি। এখন ম্যানেজমেন্ট এটা নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলবে।’
জামালের বক্তব্যে স্পষ্ট, বড় ব্যবধানে হারের পর দলের খেলোয়াড়দের আচরণ ও পেশাদারত্ব নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে ছবিটি নিয়ে দুই ফুটবলারের বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত সময়কাল যাচাই করা জরুরি।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকও। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি ক্রীড়া ভাতা পেয়ে থাকলে তা বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফুটবলের ফলাফল এমনিতেই খুব খারাপ হয়েছে। তার ওপর এই অভিযোগ। আমি খুব হতাশ হয়েছি।’
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঘটনাটি তদন্তের ক্ষেত্রে শুধু সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানার ভূমিকা নয়, জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘কোথায় ছিল তার ম্যানেজমেন্ট। কারা দায়িত্বে ছিল। যারা নাইটক্লাবে গিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ডেফিনেটলি ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা নাইটক্লাবে গিয়েছেন, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা যদি ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকেন, তাহলে তা বাতিল করা হবে।’
ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে সমালোচনা এমনিতেই তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে দুই ফুটবলারকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
তবে ছবিটি পুরোনো বলে খেলোয়াড়দের দাবি এবং অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array