খুঁজুন
                               
, ,
           

জীবনসঙ্গীর মধ্যে যে গুণগুলো চান মিমি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গীর মধ্যে যে গুণগুলো চান মিমি

টালিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর জীবনে বিয়ে নিয়ে আপাতত তেমন কোনো তাড়াহুড়ো নেই। তবে ভবিষ্যতে জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষকে পাশে চান, তা নিয়ে নিজের মনের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার চাওয়া, জীবনসঙ্গী হতে হবে ভালো মনের মানুষ, যিনি হবেন তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। পাশাপাশি হতে হবে হাসিখুশি, ভ্রমণপ্রিয় এবং তার সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নতুন সিনেমার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিমি। এবারের পূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা তার অভিনীত ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমার। ছবির প্রচারণার ফাঁকে ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিয়ের প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি।

বিয়ের জন্য কেমন পাত্র পছন্দ, এমন প্রশ্নের জবাবে মিমি জানান, জীবনসঙ্গীর মধ্যে সবার আগে ভালো মানুষ হওয়ার গুণটি থাকতে হবে। শুধু স্বামী নয়, তাকে হতে হবে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব, আনন্দ ভাগাভাগি এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর মানসিকতাকেও গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী।

মিমির ভাষায়, ‘ভালো মানুষ হবে। আমার খুব ভালো বন্ধু হবে। খুব ফান লাভিং হবে। আর আমি যেমন ঘুরতে ভালোবাসি, তেমন ভালোবাসবে।’

অর্থাৎ, তার কাছে দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি শুধু ভালোবাসা নয়; বন্ধুত্ব, মানসিক বোঝাপড়া এবং জীবন উপভোগ করার মিলও গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন মিমি। তার মতে, ভবিষ্যৎ সঙ্গীকে তার সন্তানদেরও খুব ভালোবাসতে হবে।

অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক ও ভালোবাসার গুরুত্ব উঠে এসেছে। তার কাছে এমন একজন মানুষই প্রত্যাশিত, যিনি শুধু তাকে নয়, তার পরিবারকেও আপন করে নেবেন।

নিজের বিয়ে নিয়ে অবশ্য এখনই ভাবতে চান না মিমি। বরং অন্যের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেশি ভালো লাগে তার। মজার ছলে অভিনেত্রী জানান, বিয়ের দাওয়াতে যেতে তার বেশ ভালো লাগে। আর খাবারের তালিকায় নিরামিষ পদের আয়োজন একটু বেশি থাকলে তো কথাই নেই!

বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান বোঝাতে মিমি বলেন, ‘আর যখন বিয়ে হবে, তখন বিয়ে নিয়ে ভাবব।’

তার এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, আপাতত বিয়ে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। সময় হলে তখনই এ বিষয়ে ভাববেন। এর আগে নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতেই আগ্রহী এই অভিনেত্রী।

এদিকে, ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমায় সুমিত্রা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এটিই তার প্রথম কাজ। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আবির।

নতুন সিনেমার প্রচারণার ব্যস্ততার মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিমির এই খোলামেলা বক্তব্য ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তবে আপাতত বিয়ের পরিকল্পনার চেয়ে কাজ এবং নিজের মতো করে জীবন কাটানোতেই বেশি মনোযোগী এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ওমরাহ পালন করে আবেগঘন যে বার্তা দিলেন কেয়া পায়েল

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ওমরাহ পালন করে আবেগঘন যে বার্তা দিলেন কেয়া পায়েল

পবিত্র নগরী মক্কায় ওমরাহ পালন করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। পবিত্র কাবা শরিফের সামনে থেকে নিজের জীবনের বিশেষ মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। তবে ধর্মীয় এই অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন কেয়া পায়েল। ভিডিওতে কালো বোরখা পরা অবস্থায় পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দেখা যায় তাকে। ওমরাহ পালনের এই বিশেষ মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ভিডিওটির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন।’

নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা

ওমরাহ পালনের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ ও নেতিবাচক মন্তব্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কেয়া পায়েল। অন্যকে ছোট করে মন্তব্য করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘কেউ বাজে মন্তব্য করে নিজের নিচু মানসিকতার পরিচয় দেবেন না। আপনার মন্তব্য আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারই পরিচয় বহন করে। তাই অন্যকে ছোট করার আগে নিজের মানসিকতার দিকে একটু নজর দিন।’

অভিনেত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়া এবং অনলাইনে অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মুহূর্তও ভাগ করেন ভক্তদের সঙ্গে

ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন কেয়া পায়েল। বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয় তিনি। সেখানে নিজের কাজের খবরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী।

এবার পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন এবং কাবা শরিফের সামনে থেকে নিজের অনুভূতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আলোচনায় এলেন কেয়া পায়েল। একই সঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কালের আলো/জেএন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আহ্বান

ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর বছিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে প্রতি শনিবার সারা দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা, গ্রাম ও শহরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কর্মসূচির আওতায় সবাই নিজ নিজ বাসার আঙিনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের আবাসস্থল অন্তত ১০ মিনিট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

তিনি বলেন, বর্জ্যের সঙ্গে মশার বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। গত নয় বছরের তুলনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছিলায় একটি নান্দনিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার ফুটপাতসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। জনগণ যা চাইবে, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। অটোরিকশা ও হকার উচ্ছেদসহ জনস্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঢাকা গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী। এ ছাড়া ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিশ্ব অর্থনীতির বৈঠক ঘিরে ব্যাংককে বিশেষ প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
বিশ্ব অর্থনীতির বৈঠক ঘিরে ব্যাংককে বিশেষ প্রস্তুতি
বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে থাইল্যান্ড। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর দেশটির রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে এ সভা। এতে বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন।

বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধি, উচ্চপর্যায়ের অতিথি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংককে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে থাই সরকার। সরকারি কর্মীদের নির্দিষ্ট কয়েক দিন বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সভাস্থল, প্রতিনিধিদের থাকার জন্য নির্ধারিত হোটেল এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ১০ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা তদারকি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিচ্ছে থাইল্যান্ড। একই সঙ্গে প্রতিনিধিদের যাতায়াতের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যানজট এড়াতে সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলাকালে ব্যাংককের সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধি, তাঁদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে তাই কর্মদিবসেও সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ব্যাংককের সরকারি দপ্তরের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ১৩ অক্টোবর আগে থেকেই সরকারি ছুটি রয়েছে। এ ছাড়া ১৬ অক্টোবর বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ওই দিন ব্যাংকও বন্ধ থাকবে।

যানজট নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগের আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজন অনুযায়ী একই ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, অফিসগামী মানুষের যাতায়াত কমানো গেলে সভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রতিনিধিদের চলাচল এবং নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সুবিধা হবে।

২১ হোটেলে নিরাপত্তা, দায়িত্বে ৫০০ পর্যটন পুলিশ

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে থাই সরকার। ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে সভার মূল স্থান এবং প্রতিনিধিদের থাকার জন্য নির্ধারিত ২১টি হোটেলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের পর্যটন পুলিশ ব্যুরোর প্রধান ফংসিয়াম মিখানথং জানিয়েছেন, সভাস্থল, প্রতিনিধিদের হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রায় ৫০০ পর্যটন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

নিরাপত্তা কার্যক্রমে সাদা পোশাকে নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের গাড়িবহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এ কাজে প্রায় ৩৯টি দেশের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অংশ নেবেন সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক সভায় অংশ নিতে আসা বিদেশি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিন এবং সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম।

২২ বছর পর সুইজারল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্ট সরকারি সফরে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন। ফলে এবারের সভা দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় সাধারণত বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের অংশগ্রহণের কারণে এ ধরনের সভা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবারের সভায়ও বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে যুক্ত হতে পারে ২২৫ কোটি বাথ

আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের কারণে থাইল্যান্ডের স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির সরকার। থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সভায় অংশ নিতে আসা প্রতিনিধিদের ব্যয়ের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ১০৫ কোটি থেকে ২২৫ কোটি বাথ যুক্ত হতে পারে।

প্রতিনিধিদের হোটেলে থাকা, খাবার, পরিবহন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবায় ব্যয়ের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা ও সেবা খাতে অর্থ প্রবাহ বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক এ আয়োজনের ফলে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতও উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি যানজট, নিরাপত্তা এবং নগর ব্যবস্থাপনার চাপ সামাল দেওয়াও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে প্রতিনিধিদের যাতায়াতে ৩২০টির বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে থাই সরকার। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সম্মেলনের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে বাড়তি উদ্বেগ

সম্মেলনের প্রস্তুতির মধ্যেই ব্যাংকক ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ১০ ও ১১ অক্টোবর বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংকক মহানগর প্রশাসন।

এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টানা তিন দিনে ৩২০ মিলিমিটার বা ১২ দশমিক ৬ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের পর ব্যাংককের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। সে সময় শহরের কিছু অংশকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।

এবারও ভারি বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রতিনিধিদের বিমানবন্দর থেকে হোটেল কিংবা সভাস্থলে যাতায়াতেও সমস্যা হতে পারে।

এ কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি মোকাবিলাও কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে ঘিরে ব্যাংককে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে থাইল্যান্ড। একদিকে ১৯১টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে, অন্যদিকে যানজট, নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বন্যার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে আয়োজকদের। সম্মেলনটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক সুবিধা কাজে লাগানোই এখন থাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কালের আলো/এসএ