খুঁজুন
                               
, ,
           

দুই কিলোমিটার দূরের পদ্মা এখন স্কুলের দুয়ারে

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
দুই কিলোমিটার দূরের পদ্মা এখন স্কুলের দুয়ারে

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খাঁনকান্দি গ্রামের ১২২ নম্বর আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় পদ্মা নদী ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। কিন্তু কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনে নদী এগিয়ে এসেছে বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে। এখন যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

ভাঙনের আশঙ্কায় খুলে রাখা হয়েছে বিদ্যালয় ভবনের টিন ও বেড়া। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিছু আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল। এর মধ্যেই চলছে পাঠদান। কিন্তু নদীভাঙনের আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রতিদিন গড়ে উপস্থিত থাকছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন।

আলম খাঁনকান্দি গ্রামটি পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। চারপাশে নদীবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। একসময় এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় স্থানীয় উদ্যোগ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁর নামেই বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠার সময় নদী থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার। কিন্তু গত দুই বছরে ওই এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরেই পদ্মা প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর দিকে এগিয়ে এসেছে। গত দুই মাসে ভাঙন আরও বাড়ায় নদী এখন বিদ্যালয়ের মাঠের কাছাকাছি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। ইতোমধ্যে আশপাশের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।

বিদ্যালয়টির পাকা মেঝের টিনশেড ভবনে পাঁচটি কক্ষে পাঠদান করা হয়। তবে নদীভাঙনের আশঙ্কায় ভবনের টিন ও বেড়া খুলে রাখা হয়েছে। কিছু আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই খোলা ঘরে চলছে শিশুদের পড়াশোনা।

গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে একসঙ্গে পড়াচ্ছেন দুজন শিক্ষক। পাশের আরেকটি কক্ষে কয়েকজন শিশুকে পাঠদান করছেন একজন শিক্ষক। সকাল থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন পরিস্থিতিতে পাঠদান কত দিন স্বাভাবিকভাবে চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভবনটি রক্ষার পাশাপাশি বিকল্প স্থানে বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের আশপাশের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী আট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা ও জোনায়েদের ভয়, যেকোনো সময় তাঁদের বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্কুলটি ভেঙে গেলে কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা।

শিশুদের এই আতঙ্ক শুধু বিদ্যালয় হারানোর আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে নতুন জায়গায় পড়াশোনার ব্যবস্থা করা, দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান বলেন, এ বছরই এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে। গত দুই মাসে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে এসেছে। প্রতিদিনই তাঁকে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে চিন্তা হয়, পরদিন এসে বিদ্যালয়টি দেখতে পাবেন কি না। ভাঙনের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও অনেক কমে গেছে। অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে গেছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষকের এই উদ্বেগে স্পষ্ট, নদীভাঙন এখন শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর জন্য হুমকি নয়; এটি শিশুদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত করছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশে ভাঙন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এলাকাটি রক্ষায় এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

চলতি বছর আলম খাঁনকান্দি এলাকায় অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। এসব পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে গ্রামের শিশুদের শিক্ষার অন্যতম অবলম্বন বিদ্যালয়টি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হলে শুধু একটি ভবনই হারাবে না, এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগও আরও সংকুচিত হবে।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, পদ্মার তীরবর্তী গ্রামের বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি তাঁরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। প্রয়োজনে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে এখনো বিকল্প জমি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের শিকার হলেও যাতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।

আলম খাঁনকান্দি গ্রামের এই বিদ্যালয়টি একসময় এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে সেই সুযোগ এখন হুমকির মুখে। বিদ্যালয়ের ভবন সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও বিকল্প জমি না পাওয়ায় সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিত।

নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও পড়েছে অনিশ্চয়তায়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর পাশাপাশি ব্যাহত হতে পারে শিশুদের শিক্ষাজীবনও। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয় রক্ষা এবং প্রয়োজনে দ্রুত বিকল্প স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি

ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বদলে গেছে যোগাযোগব্যবস্থা। চিঠির বদলে এখন মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বার্তা। সরকারি সেবাও ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অথচ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরে এখনো চলছে উল্টো চিত্র। মাটি ও ধানের তুষে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরেই অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলছে ডাকসেবা। টিনের চালায় ছিদ্র, ভাঙা দরজা-জানালা আর স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই সংরক্ষণ করতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ও দাপ্তরিক নথি।

শুধু অবকাঠামোর সংকটই নয়, ডিজিটাল সেবার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় এক দশক পরও এখানে নেই কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ। কাগজে-কলমে ই-পোস্ট সেন্টার হলেও বাস্তবে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। অথচ আশপাশের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকার মানুষের ডাকসেবার অন্যতম ভরসা এই ছোট্ট ঘরটি।

স্থানীয় ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য সারওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের পূর্বপুরুষদের মৌখিক অনুমতিতে তাদের একটি টিনের চালার মাটির ঘরে ডাকঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কেটে গেছে কয়েক দশক। কিন্তু ডাকঘরটির জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্থায়ী সরকারি ভবন। পুরোনো ঘরটিরও উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি।

বর্তমানে সরকারহাটের পাশে অবস্থিত এই ডাকঘরটির আয়তন মাত্র ১০ বাই ১২ ফুট। ছোট্ট এই কক্ষেই চিঠিপত্র গ্রহণ, বাছাই ও বিতরণের কাজ চলে। ডাকঘরটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন—পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ আমির হোসেন এবং চিঠি বিলিকারক মিজানুর রহমান।

সরকারিভাবে অফিসের জন্য বরাদ্দ রয়েছে তিনটি চেয়ার ও একটি টেবিল। রেজিস্টার খাতা, কলম, কাগজসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ১৫ টাকা। ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাকঘরটির টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতরের কাগজপত্র ও আসবাব ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষায় ব্যবহার করতে হয় পলিথিন। দরজা-জানালাও ভাঙাচোরা। দেয়ালের নিচের অংশ থেকে ধানের তুষের প্রলেপ খসে পড়ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পুরো ঘরটির অবস্থা এমন হয়েছে যে বাইরে থেকে দেখলে একে পরিত্যক্ত স্থাপনা বলে মনে হতে পারে।

ঘরটির দুর্বল কাঠামো নিয়ে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ডাকসেবা চালু রাখা যেমন কঠিন, তেমনি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, ছাদের টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব রয়েছে, আর দরজা-জানালায় ধরেছে ঘুণ। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে মেরামতের খরচও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। মাসে ১৫ টাকার বরাদ্দ দিয়ে প্রয়োজনীয় কলম ও কাগজ কেনাই কঠিন।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই মাটির ঘরটির উন্নয়ন সম্ভব। এতে শুধু ডাকসেবার পরিবেশই ভালো হবে না, বরং দেশের ডাকব্যবস্থার ইতিহাসের একটি পুরোনো নিদর্শনও সংরক্ষণ করা যাবে।

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে গেলেও তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডাকঘরের রেজিস্টার খাতার তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২২ কর্মদিবসে এই কেন্দ্র থেকে ৩২৪টি চিঠি বিলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্টার্ড চিঠি ৩০৩টি এবং সাধারণ চিঠি ২১টি।

বিলি করা চিঠির বেশির ভাগই সরকারি ও চাকরিসংক্রান্ত। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা এখন একেবারেই কম। তবু সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকঘরটির গুরুত্ব রয়ে গেছে।

আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও স্থানীয় মানুষের কাছে এই ডাকঘর তাই কেবল পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি সেবাকেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

২০১৭ সালে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরকে ‘ই-পোস্ট সেন্টার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে ডাকসেবায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কাগজে-কলমে থাকা এই স্বীকৃতি বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আনোয়ারা উপজেলার ১৩টি ডাকঘর ও উপ-ডাকঘরকে ই-পোস্ট সেন্টার ঘোষণা করা হয়। তবে এসব কেন্দ্রে শুরু থেকে কার্যকরভাবে ডিজিটাল সেবা চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ডাকঘর ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা পোস্টমাস্টার ছৈয়দুল কায়ছার বলেন, তিনি চলতি বছর এখানে যোগদান করেছেন। তাই এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

পটিয়া উপ-বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কম্পিউটার, ইন্টারনেট, প্রিন্টারসহ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি থাকার কথা। তবে এসব যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে ডাকঘরটিকে রক্ষা করতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে জমি ও বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগ।

পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, ভবন নির্মাণ মূলত বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। রাস্তার পাশে তিন শতক জমি দাতা পাওয়া গেলে ডাক বিভাগের কাছে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডাকসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জমি, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ওপর।

একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, অন্যদিকে মাটির ঘরে বৃষ্টির পানি ঠেকিয়ে ডাকসেবা চালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা—তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘর যেন সেই বৈপরীত্যেরই প্রতিচ্ছবি। কয়েক দশক ধরে মানুষের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য এখন জরুরি নিরাপদ ভবন, কার্যকর ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত পরিচালন ব্যয়। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই ডাকঘরের সেবা অব্যাহত রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের একাধিক চলাচল। বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কোথাও বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।

বিক্ষোভের আগেই আটক নেতারা

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছান সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি ১০ অক্টোবর, সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন।

বিমান থেকে নামার আগেই সিজেপির নেতারা ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। ওই ভিডিওতে পুলিশ ও নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। লাইভে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হব জেনেই আমরা দিল্লিতে এসেছি। ভয় পাই না।’

পরে পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশও আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিজেপি এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই নেতাদের আটক করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিল্লিতে না যাওয়ার অনুরোধ অমান্য করায় গুরুগ্রামের বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বন্ধ মেট্রো স্টেশন

সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করছে।

এ ছাড়া দিল্লির সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো থেকে তরুণদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানানো।

তবে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে সিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল রাজধানীর শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভ, আটক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ইন্টারনেট বন্ধের পরিধি এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ

 

৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লাঞ্চে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩৪/১

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লাঞ্চে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩৪/১

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে খেলা শেষ করা নাজমুল হোসেন শান্তর দল দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৯ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লাঞ্চ বিরতিতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৪ রান।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লেজের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন আফগানিস্তানের পেসাররা। মোহাম্মদ সেলিমের বলে গ্লাভসে লেগে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ইয়ামিন আহমাদজাই এবাদত হোসেনকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

বাংলাদেশের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান। তাইজুল ইসলাম ও এবাদত হোসেনের সঙ্গে ব্যাটিং করার সময় স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে সতীর্থদের দ্রুত বিদায়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৮২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়ামিন আহমাদজাই পেয়েছেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া ইসমত আলম ২টি এবং কায়েস আহমেদ ১টি উইকেট শিকার করেন।এর আগে প্রথম দিনের শুরুতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ওভারপ্রতি ৫.১৫ রান তুলেছিল দলটি।

তবে আফগানিস্তানের বোলাররা পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরেন এবং বাংলাদেশের ইনিংস ৩৪৬ রানেই আটকে দেন।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। হাসান মাহমুদের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সেদিকুল্লাহ অটল।

আউট হওয়ার আগে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৭ রান করেন তিনি। শুরুতে উইকেটের পেছনে ক্যাচের জোরালো আবেদনের পর বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসারের শিকার হন এই ব্যাটার।

লাঞ্চ বিরতিতে আফগানিস্তানের হয়ে উইকেটে ছিলেন বাকি ব্যাটাররা। বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্বিতীয় সেশনে আফগান ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। অন্যদিকে দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবে বাংলাদেশ।

কালের আলো/এসআর/এএএন