খুঁজুন
                               
, ,
           

গর্তে পানি, কাদায় দুর্ভোগ—চলাচলই দায়

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
গর্তে পানি, কাদায় দুর্ভোগ—চলাচলই দায়

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর থেকে মৌলভীবাজারের আথানগিরি পর্যন্ত সড়ক যেন এখন পুকুরের সারি। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও জমে আছে বৃষ্টির পানি, আবার কোথাও কাদায় একাকার পুরো রাস্তা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা, ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি দিয়ে চলাচল এখন রীতিমতো দুর্ভোগের নাম। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানালেও বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ।

নবীগঞ্জ উপজেলার দরগাপাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া জান্নাত মনি। তিনি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের দিনারপুর কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের জন্য তাঁকে গজনাইপুর-আথানগিরি সড়ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে নির্ধারিত সময়ে যানবাহন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও অটোরিকশার জন্য ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে কলেজে পৌঁছানোর কথা।

সম্প্রতি সড়কটি পরিদর্শনের সময় ফারিয়া জান্নাত মনিকে হেঁটে কলেজে যেতে দেখা যায়। তিনি জানান, রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় আগের মতো সহজে গাড়ি পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সময় নষ্ট না করে হেঁটেই কলেজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এতে শারীরিক ক্লান্তি আসে, যার প্রভাব পড়ে ক্লাসে মনোযোগের ওপর। বিশেষ করে পরীক্ষার দিন নির্দিষ্ট সময়ে কেন্দ্রে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার থেকে কাগাবলা, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আথানগিরি হয়ে সড়কটি পৌঁছেছে মৌলভীবাজার শহরে। নবীগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদরের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি।

কাগাবলা, আথানগিরি, নবীগঞ্জের শতক, তারালিয়া, লামরোহ, মাহমদপুর ও গজনাইপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। সড়কের পাশে রয়েছে দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর কলেজ, পানিউমদা রাগিব রাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং দিনারপুর মাদ্রাসা। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ছাড়াও কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচল করতে হয় এই পথ দিয়ে।

কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বাড়ছে, আবার হেঁটে চলাচল করতেও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি সর্বশেষ পাকা করা হয়েছিল প্রায় ২০ বছর আগে। তিন বছর আগে একবার সংস্কারকাজ করা হলেও সড়কের কয়েকটি অংশের অবস্থা এখনও নাজুক। বিশেষ করে গজনাইপুর থেকে আথানগিরি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। তাঁদের দাবি, নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেও সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি সড়কের গজনাইপুর, জনতার বাজার, শতক বাজার, দরগাপাড়া, কামারগাঁও ও আথানগিরি এলাকায় অসংখ্য গর্ত দেখা গেছে। বৃষ্টির পানি জমে সেগুলো পরিণত হয়েছে কাদাপূর্ণ গর্তে। কোথায় কতটা গভীর গর্ত, তা বোঝা কঠিন হওয়ায় চালকদের সতর্কভাবে যানবাহন চালাতে হচ্ছে।

সড়কের দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার জানায়, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন স্কুলে যেতে ইচ্ছা করে না। এখন নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি ও ময়লা জমে যায়। এতে চলাচলের সময় পোশাক নোংরা হয়ে যায়, ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খানাখন্দের কারণে প্রায়ই অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। কোথাও রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদেরও বিপদে পড়তে হচ্ছে। দ্রুতগতির যানবাহন এলে কিংবা অন্য গাড়িকে পাশ কাটাতে গেলে চালকদের বেকায়দায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, আর সড়কটি দিয়ে যান চলাচলও আগের তুলনায় কমেছে।

জনতার বাজারের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হেলাল মিয়া সড়কের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, ‘এটি সড়ক নয় তো, যেন পুকুর। কোথাও কোথাও ধান রোপণ করা লাগবে। একটা গাড়ি চলার উপায় নেই। বৃষ্টি হলে পানি জমে, মাছও চাষ করা যাবে!’

তাঁর এই মন্তব্যে উঠে এসেছে সড়কটির বর্তমান চিত্র। বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চালাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। এতে চালকদের যেমন সময় ও শ্রম বেশি ব্যয় হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।

শতক গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, আগে থেকেই সড়কটির অবস্থা খারাপ ছিল। গত তিন থেকে চার বছরে বেশির ভাগ অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে।

তিনি আরও জানান, খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। কোনো দ্রুতগতির যানবাহন সড়কে ঢুকলে অন্য গাড়িকে পাশ কাটানোর সময় চালককে বিপাকে পড়তে হয়। এ কারণে আগের তুলনায় যান চলাচল অনেকটা কমে গেছে।

সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ।

গত সোমবার তিনি সমকালকে জানান, বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কটির সংস্কারকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত জুনে বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। সড়কটির বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে তিনি নথি দেখে জানাতে হবে বলে উল্লেখ করেন। তবে সর্বশেষ তিন বছর আগে সড়কটিতে সংস্কারকাজ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেহাল দশায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং মৌলভীবাজার শহরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

বর্ষা এলেই গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাই শুধু সাময়িক মেরামত নয়, সড়কটির টেকসই সংস্কার চান এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, বরাদ্দের জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন অন্তত ১০ থেকে ১৫ গ্রামের মানুষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বদলে গেছে যোগাযোগব্যবস্থা। চিঠির বদলে এখন মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বার্তা। সরকারি সেবাও ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অথচ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরে এখনো চলছে উল্টো চিত্র। মাটি ও ধানের তুষে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরেই অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলছে ডাকসেবা। টিনের চালায় ছিদ্র, ভাঙা দরজা-জানালা আর স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই সংরক্ষণ করতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ও দাপ্তরিক নথি।

শুধু অবকাঠামোর সংকটই নয়, ডিজিটাল সেবার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় এক দশক পরও এখানে নেই কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ। কাগজে-কলমে ই-পোস্ট সেন্টার হলেও বাস্তবে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। অথচ আশপাশের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকার মানুষের ডাকসেবার অন্যতম ভরসা এই ছোট্ট ঘরটি।

স্থানীয় ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য সারওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের পূর্বপুরুষদের মৌখিক অনুমতিতে তাদের একটি টিনের চালার মাটির ঘরে ডাকঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কেটে গেছে কয়েক দশক। কিন্তু ডাকঘরটির জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্থায়ী সরকারি ভবন। পুরোনো ঘরটিরও উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি।

বর্তমানে সরকারহাটের পাশে অবস্থিত এই ডাকঘরটির আয়তন মাত্র ১০ বাই ১২ ফুট। ছোট্ট এই কক্ষেই চিঠিপত্র গ্রহণ, বাছাই ও বিতরণের কাজ চলে। ডাকঘরটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন—পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ আমির হোসেন এবং চিঠি বিলিকারক মিজানুর রহমান।

সরকারিভাবে অফিসের জন্য বরাদ্দ রয়েছে তিনটি চেয়ার ও একটি টেবিল। রেজিস্টার খাতা, কলম, কাগজসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ১৫ টাকা। ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাকঘরটির টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতরের কাগজপত্র ও আসবাব ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষায় ব্যবহার করতে হয় পলিথিন। দরজা-জানালাও ভাঙাচোরা। দেয়ালের নিচের অংশ থেকে ধানের তুষের প্রলেপ খসে পড়ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পুরো ঘরটির অবস্থা এমন হয়েছে যে বাইরে থেকে দেখলে একে পরিত্যক্ত স্থাপনা বলে মনে হতে পারে।

ঘরটির দুর্বল কাঠামো নিয়ে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ডাকসেবা চালু রাখা যেমন কঠিন, তেমনি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, ছাদের টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব রয়েছে, আর দরজা-জানালায় ধরেছে ঘুণ। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে মেরামতের খরচও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। মাসে ১৫ টাকার বরাদ্দ দিয়ে প্রয়োজনীয় কলম ও কাগজ কেনাই কঠিন।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই মাটির ঘরটির উন্নয়ন সম্ভব। এতে শুধু ডাকসেবার পরিবেশই ভালো হবে না, বরং দেশের ডাকব্যবস্থার ইতিহাসের একটি পুরোনো নিদর্শনও সংরক্ষণ করা যাবে।

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে গেলেও তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডাকঘরের রেজিস্টার খাতার তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২২ কর্মদিবসে এই কেন্দ্র থেকে ৩২৪টি চিঠি বিলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্টার্ড চিঠি ৩০৩টি এবং সাধারণ চিঠি ২১টি।

বিলি করা চিঠির বেশির ভাগই সরকারি ও চাকরিসংক্রান্ত। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা এখন একেবারেই কম। তবু সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকঘরটির গুরুত্ব রয়ে গেছে।

আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও স্থানীয় মানুষের কাছে এই ডাকঘর তাই কেবল পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি সেবাকেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

২০১৭ সালে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরকে ‘ই-পোস্ট সেন্টার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে ডাকসেবায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কাগজে-কলমে থাকা এই স্বীকৃতি বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আনোয়ারা উপজেলার ১৩টি ডাকঘর ও উপ-ডাকঘরকে ই-পোস্ট সেন্টার ঘোষণা করা হয়। তবে এসব কেন্দ্রে শুরু থেকে কার্যকরভাবে ডিজিটাল সেবা চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ডাকঘর ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা পোস্টমাস্টার ছৈয়দুল কায়ছার বলেন, তিনি চলতি বছর এখানে যোগদান করেছেন। তাই এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

পটিয়া উপ-বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কম্পিউটার, ইন্টারনেট, প্রিন্টারসহ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি থাকার কথা। তবে এসব যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে ডাকঘরটিকে রক্ষা করতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে জমি ও বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগ।

পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, ভবন নির্মাণ মূলত বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। রাস্তার পাশে তিন শতক জমি দাতা পাওয়া গেলে ডাক বিভাগের কাছে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডাকসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জমি, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ওপর।

একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, অন্যদিকে মাটির ঘরে বৃষ্টির পানি ঠেকিয়ে ডাকসেবা চালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা—তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘর যেন সেই বৈপরীত্যেরই প্রতিচ্ছবি। কয়েক দশক ধরে মানুষের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য এখন জরুরি নিরাপদ ভবন, কার্যকর ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত পরিচালন ব্যয়। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই ডাকঘরের সেবা অব্যাহত রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের একাধিক চলাচল। বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কোথাও বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।

বিক্ষোভের আগেই আটক নেতারা

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছান সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি ১০ অক্টোবর, সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন।

বিমান থেকে নামার আগেই সিজেপির নেতারা ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। ওই ভিডিওতে পুলিশ ও নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। লাইভে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হব জেনেই আমরা দিল্লিতে এসেছি। ভয় পাই না।’

পরে পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশও আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিজেপি এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই নেতাদের আটক করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিল্লিতে না যাওয়ার অনুরোধ অমান্য করায় গুরুগ্রামের বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বন্ধ মেট্রো স্টেশন

সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করছে।

এ ছাড়া দিল্লির সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো থেকে তরুণদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানানো।

তবে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে সিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল রাজধানীর শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভ, আটক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ইন্টারনেট বন্ধের পরিধি এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ

 

৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লাঞ্চে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩৪/১

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লাঞ্চে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৩৪/১

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে খেলা শেষ করা নাজমুল হোসেন শান্তর দল দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৯ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লাঞ্চ বিরতিতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৪ রান।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লেজের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন আফগানিস্তানের পেসাররা। মোহাম্মদ সেলিমের বলে গ্লাভসে লেগে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ইয়ামিন আহমাদজাই এবাদত হোসেনকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

বাংলাদেশের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান। তাইজুল ইসলাম ও এবাদত হোসেনের সঙ্গে ব্যাটিং করার সময় স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে সতীর্থদের দ্রুত বিদায়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৮২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়ামিন আহমাদজাই পেয়েছেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া ইসমত আলম ২টি এবং কায়েস আহমেদ ১টি উইকেট শিকার করেন।এর আগে প্রথম দিনের শুরুতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ওভারপ্রতি ৫.১৫ রান তুলেছিল দলটি।

তবে আফগানিস্তানের বোলাররা পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরেন এবং বাংলাদেশের ইনিংস ৩৪৬ রানেই আটকে দেন।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। হাসান মাহমুদের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সেদিকুল্লাহ অটল।

আউট হওয়ার আগে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৭ রান করেন তিনি। শুরুতে উইকেটের পেছনে ক্যাচের জোরালো আবেদনের পর বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসারের শিকার হন এই ব্যাটার।

লাঞ্চ বিরতিতে আফগানিস্তানের হয়ে উইকেটে ছিলেন বাকি ব্যাটাররা। বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্বিতীয় সেশনে আফগান ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। অন্যদিকে দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবে বাংলাদেশ।

কালের আলো/এসআর/এএএন