খুঁজুন
                               
, ,
           

লবণাক্ত পানি সুপেয় করতে কক্সবাজারে ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
লবণাক্ত পানি সুপেয় করতে কক্সবাজারে ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব

কক্সবাজারে লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইউএইর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএইর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদির সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইউএইর সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লবণাক্ত পানি পরিশোধনের প্রযুক্তি ব্যবহার এবং এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পটির ব্যয়, প্রযুক্তি, বাস্তবায়নকাল কিংবা অর্থায়নের বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ করা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে এবং বিনিয়োগের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক হবে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএইর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউএইর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতাও কামনা করেন রাষ্ট্রদূত। দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে ইউএইর শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকে ইউএই থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা উন্নতমানের লাইমস্টোন বা চুনাপাথরের ওপর কর কমানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। কর কমানো হলে বাংলাদেশে ইউএইর চুনাপাথর আমদানির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর।

বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ও ইউএইর রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন ড. আবদুল মঈন খান। পাশাপাশি পানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, জনশক্তি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউএইর ইকোনমিস্ট অ্যানালিস্ট শাহমিনা ইশা মান্নান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে লবণাক্ত পানি পরিশোধনের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের সম্মতি, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা ও অর্থায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

একাদশে ভর্তির অনলাইন কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
একাদশে ভর্তির অনলাইন কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে নির্বাচিত ও নিশ্চয়ন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে অনলাইন সিস্টেমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

যেভাবে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে

নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কলেজের কর্তৃপক্ষকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ওয়েবসাইট https://xiclassadmission.gov.bd/ -এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর কলেজের ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন প্যানেলে প্রবেশ করতে হবে।

লগইন করার পর কলেজে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোটার প্রমাণকসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কাগজপত্র যাচাইয়ের নির্দেশনা

ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে এফকিউ, ইকিউ-১, ইকিউ-২ এবং এসকিউ কোটার প্রমাণকসহ প্রযোজ্য নথি যাচাই করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভর্তি অনলাইন সিস্টেমে সম্পন্ন করতে হবে।

সময়ের মধ্যে ভর্তি না করলে দায় নেবে না বোর্ড

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীদের অনলাইন সিস্টেমে ভর্তি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে ভর্তি নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে তার দায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ নেবে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা

একাদশ শ্রেণিতে নির্বাচিত ও নিশ্চয়ন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার শেষ সময় ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা। সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।

রায় অনুযায়ী, রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুই ধারায় প্রত্যেককে সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ধারায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই মামলায় শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও ওই দুই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা এ মামলায় আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে আট আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের রায় ঘোষণা করা হলো।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

 হজ-ওমরাহ নিয়ে কটূক্তিতে শবনম ফারিয়ার ক্ষোভ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
 হজ-ওমরাহ নিয়ে কটূক্তিতে শবনম ফারিয়ার ক্ষোভ

অভিনয়শিল্পীদের হজ ও ওমরাহ পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। অন্যের ইবাদত কবুল হবে কি না, তাঁর নিয়ত কতটা আন্তরিক কিংবা কে কখন হেদায়েত পাবেন—এসব বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই বলে মনে করেন তিনি। ধর্মীয় অনুভূতিকে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশের মাধ্যম না বানিয়ে নিজের চরিত্র, আচরণ ও আমলের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে শবনম ফারিয়া এসব কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কারও ধর্মীয় জীবন কিংবা ইবাদত নিয়ে বিচার করার আগে নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি অভিনয়শিল্পী হওয়ার কারণে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস বা ইবাদতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অন্যের ইবাদত নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই

শবনম ফারিয়া তাঁর পোস্টে বলেন, কারও হজ বা ওমরাহ পালনের ছবি দেখে যদি প্রথমেই নেতিবাচক মন্তব্য করার ইচ্ছা জাগে, তাহলে অন্যকে বিচার করার আগে নিজের দিকে তাকানো উচিত। কার ইবাদত কবুল হবে, কার নিয়ত কতটা আন্তরিক কিংবা কে কখন হেদায়েত লাভ করবেন—এসব সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের বাহ্যিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান দেখে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। কেউ ইবাদত করছেন বলে তাঁর নিয়ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা সেই ইবাদত গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করা অনুচিত।

ধর্মীয় বিষয়ে মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে সম্মান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, অন্যের ইবাদত নিয়ে রায় দেওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেকের নিজের কাজ ও আচরণ নিয়ে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।

হজ-ওমরাহ শুধু অর্থনৈতিক সামর্থ্যের বিষয় নয়

হজ ও ওমরাহ পালনের প্রসঙ্গ তুলে শবনম ফারিয়া বলেন, এসব ইবাদতকে কেবল অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে নিয়ত, তাওফিক ও আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়ও জড়িত।

তাঁর মতে, কে কখন হজ বা ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন, কিংবা কার ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন—তা নিয়ে অন্য কারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির পেশা, অতীত কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর ইবাদতকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করাও ঠিক নয়।

শবনম ফারিয়ার এই বক্তব্য মূলত অন্যের ধর্মীয় জীবন নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান। তাঁর মতে, ধর্মীয় চর্চা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়; তাই কারও ইবাদত নিয়ে বিদ্রূপ বা কটূক্তি করার আগে নিজের মনোভাব ও আচরণ পর্যালোচনা করা জরুরি।

অভিনয়শিল্পী হলেই কি ইবাদত নিয়ে প্রশ্ন উঠবে?

অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গ টেনে শবনম ফারিয়া বলেন, অভিনয় তাঁদের পেশা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক মুসলিম অভিনয়শিল্পী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হজ বা ওমরাহ পালন করেছেন। তাঁদের ইবাদত গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অন্য কারও নেই।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আল্লাহ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। অর্থাৎ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা ইবাদতকে নিজের পছন্দ-অপছন্দের মানদণ্ডে বিচার করে অন্যের ওপর রায় চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় চর্চাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্দেহের চোখে দেখা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। একজন মানুষের পেশাগত পরিচয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস, নিয়ত কিংবা ইবাদতের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না—এমন বার্তাই দিয়েছেন অভিনেত্রী।

নিজেকে ধর্মপরায়ণ দাবি না করেও অন্যকে বিচার না করার আহ্বান

নিজেকে খুব বেশি ধর্মপরায়ণ মানুষ হিসেবে দাবি করেন না শবনম ফারিয়া। তবে অন্যের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের আমল ও আচরণ নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কার কোন আমল, নিয়ত কিংবা প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন, তা মানুষের জানা নেই। তাই অন্যের ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র ও আচরণ ঠিক করার চেষ্টা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও দেখেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলেও তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। কোনো ব্যক্তির জীবনের সব দিক বাইরের মানুষের জানা সম্ভব নয়। তাই সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে ধর্মীয়ভাবে বিচার করা কিংবা তাঁর ইবাদত নিয়ে কটূক্তি করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

ঘুষ, সুদ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন

নিজের পোস্টে শবনম ফারিয়া আরও কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যেসব রাজনৈতিক নেতা মিথ্যা আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে কিংবা যাঁদের বিরুদ্ধে সুদ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের হজ-ওমরাহর ছবি দেখেও কি একইভাবে মন্তব্য করা হয়—এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে এসব উদাহরণ তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো, মানুষের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড কাজ করছে কি না, তা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানানো। ব্যক্তিগত অপছন্দ কিংবা ঈর্ষা থেকে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে তিনি অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তাঁর মূল বক্তব্য হলো, কারও পেশা, পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে ধর্মীয় বিষয়ে আলাদা মানদণ্ড তৈরি করা উচিত নয়।

ভালো না লাগলে এড়িয়ে চলুন, কিন্তু ইবাদত নিয়ে রায় নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিশ্বাস, আনন্দ কিংবা জীবনের সুন্দর মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে করেন শবনম ফারিয়া। কারও এমন পোস্ট ভালো না লাগলে নেতিবাচক মন্তব্য করার পরিবর্তে নীরব থাকা, প্রয়োজনে তাঁকে এড়িয়ে চলা কিংবা আনফলো করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তাঁর মতে, অন্যের ব্যক্তিগত জীবন বা ধর্মীয় চর্চা পছন্দ না হলেই সেখানে কটূক্তি করার প্রয়োজন নেই। মতের অমিল থাকলে দূরে থাকা যায়, কিন্তু কারও ইবাদত কবুল হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

ডিজিটাল যোগাযোগের এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার সময় দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন—শবনম ফারিয়ার বক্তব্যে সেই আহ্বানও উঠে এসেছে।

অন্যের আমল নয়, নিজের চরিত্রের দিকে নজর দেওয়ার বার্তা

পোস্টের শেষাংশে শবনম ফারিয়া বলেন, ধর্ম পালন করলেই কেউ অন্যের ঈমান, নিয়ত কিংবা ইবাদতের বিচারক হয়ে যান না। অন্যের আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়ত ঠিক করার চেষ্টা করা উচিত।

তিনি মনে করেন, কারও ইবাদত কবুল হয়েছে কি না, তা আল্লাহর বিষয়। আর অন্যের ইবাদত নিয়ে কেউ কী ধরনের মন্তব্য করছেন, সেটি তাঁর নিজের আমলনামার সঙ্গে সম্পর্কিত।

শবনম ফারিয়ার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অন্যের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে কটূক্তি বন্ধ করা, ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মকে অন্যকে ছোট করা কিংবা ব্যক্তিগত অপছন্দ প্রকাশের হাতিয়ার না বানিয়ে নিজের জীবন ও আচরণ সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই বেশি জরুরি।

কালের আলো/এসএ