খুঁজুন
                               
, ,
           

মাত্র ৩৪ বছরেই চলে গেলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা আরজে মিতে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
মাত্র ৩৪ বছরেই চলে গেলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা আরজে মিতে

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা ওয়াল্টার জুনিয়রওয়াল্টার জুনিয়র আর নেই। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন এই মার্কিন অভিনেতা, সমাজসেবক ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রতিনিধিরা। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেতার প্রতিনিধিরা তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। শন রেইলির দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানানো হয়, প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবক ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী আরজে মিতের মৃত্যুতে তাঁরা শোকাহত।

তাঁর অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনোদনজগতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে যাঁরা তাঁকে চিনেছিলেন, তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন স্মরণীয় এক মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করেও আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার জুনিয়র চরিত্রে পরিচিতি

২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজের মাধ্যমে দর্শকদের নজরে আসেন আরজে মিতে। সিরিজটিতে তিনি ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি পায়।

সিরিজটিতে রসায়নের শিক্ষক ওয়াল্টার হোয়াইটের অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ে মাদকসম্রাট হয়ে ওঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তবে পারিবারিক সম্পর্ক, সংকট ও আবেগের বিভিন্ন মুহূর্তে ওয়াল্টার জুনিয়র চরিত্রটির উপস্থিতিও সিরিজের গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরজে মিতে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটিকে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। সিরিজটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অভিনয়ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই একটি চরিত্রই তাঁকে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়।

সেরিব্রাল পালসি নিয়েও গড়েছিলেন অভিনয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়

আরজে মিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সেরিব্রাল পালসি এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা, যা ব্যক্তির চলাফেরা, পেশির নিয়ন্ত্রণ ও শরীরের সমন্বয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভিজ্ঞতা নিয়েই বিনোদনজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন মিতে।

তবে অভিনয়জীবনের সাফল্যের বাইরেও তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা। সমাজে প্রতিবন্ধিতাকে ঘিরে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির পক্ষে কাজ করেছেন তিনি।

সমাজসেবা ও প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন

অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন আরজে মিতে। শন রেইলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মিতে ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই অভিনেতা।

নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। অভিনয়জগতের পরিচিতি তাঁকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছিল, আর সেই পরিচিতিকে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

ফলে আরজে মিতের পরিচয় কেবল একজন টেলিভিশন অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিনোদনজগতে কাজ করার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততাও তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

টেলিভিশন ইতিহাসে আলোচিত সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচটি মৌসুমে প্রচারিত হয় ‘ব্রেকিং ব্যাড’। অপরাধ, পারিবারিক টানাপোড়েন, নৈতিক সংকট ও মানুষের পরিবর্তনের জটিল গল্পের কারণে সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের জীবনের নাটকীয় পরিবর্তন এবং তাঁর পরিবারের ওপর সেই পরিবর্তনের প্রভাব কাহিনিটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়। ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনয়ের পাশাপাশি অন্যান্য অভিনয়শিল্পীর কাজও সিরিজটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একবিংশ শতাব্দীর সেরা টেলিভিশন সিরিজের তালিকায় ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর নাম উল্লেখ করেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিরিজটি টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও প্রশংসিত কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অকালমৃত্যুতে শোক, অজানা রয়ে গেল কারণ

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আরজে মিতের মৃত্যু তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য বেদনাদায়ক সংবাদ। যে অভিনেতা পর্দায় একটি পরিচিত চরিত্রের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তাঁর অকালপ্রয়াণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর অভিনয়জীবন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড।

তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে অনুমাননির্ভর কোনো তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

অভিনয় ও প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজের মধ্য দিয়ে আরজে মিতে যে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর সেই কাজই তাঁকে দর্শকদের স্মৃতিতে ধরে রাখবে।

কালের আলো/এসএ

বদলাচ্ছে পারিবারিক বাজেট, ছোট হচ্ছে সঞ্চয়ের সুযোগ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
বদলাচ্ছে পারিবারিক বাজেট, ছোট হচ্ছে সঞ্চয়ের সুযোগ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সঙ্গে তাল মেলাতে সংসারের বাজেট নতুন করে সাজাতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। চাল, ডাল, তেল, সবজি ও মাছ-মাংসের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে আয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও সঞ্চয়ের মতো অন্যান্য খাতে খরচের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে অনেককে। মূল্যস্ফীতির ওঠানামার মধ্যেও বাজারে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রত্যাশা বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু বাজারের কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ খাদ্যপণ্যে ব্যয় হয়, তাদের ক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের দামের পরিবর্তনও মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি
  • আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয়ে সতর্ক নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
  • মাসিক বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রয়োজনীয় খাত

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক চাকরিজীবী জানান, কয়েক মাস আগেও মাসের বাজার করতে আট থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন একই ধরনের কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। অথচ গত দুই বছরে বেতন বাড়েনি। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যাতায়াত ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতি মাসেই নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি গ্রামেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে অনেকেই কেনাকাটার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছেন। একই সঙ্গে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মূল্যস্ফীতির হারে ওঠানামা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৮.৩২ শতাংশ এবং আগস্টে ৮.২৬ শতাংশে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে আবার সামান্য বেড়ে হয় ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের দুই মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমার পর সেপ্টেম্বরে তাতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.০২ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭.২২ শতাংশে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯.৩২ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৯.৩০ শতাংশ হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়। বরং দাম বাড়ার গতি কমলেও পণ্যের মূল্য আগের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকাও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয়
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সাধারণ মজুরি সূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৯০ শতাংশ। আগের মাসে তা ছিল ৮.০৫ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৮.২২ শতাংশ। একই সময়ে সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০.৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

এই ব্যবধান পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আয় যে হারে বাড়ছে, তার তুলনায় পণ্য ও সেবার ব্যয় বেশি বাড়লে একই আয় দিয়ে আগের মতো কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যয় পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও পণ্যের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত। পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে পৌঁছানোর খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় এবং আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার ও বন্দর ব্যয়ও বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।

সঞ্চয় ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
মূল্যস্ফীতির প্রভাবে পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মাসিক খরচ বাড়লে সঞ্চয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়তে পারে। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের বাজেট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের নিয়মিত সরবরাহ ও মূল্যস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় পরিকল্পনা সহজ হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও সঞ্চয়ের মতো প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

ভূমিকম্পে ঢাকা ধ্বংসের শঙ্কা, বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ভূমিকম্পে ঢাকা ধ্বংসের শঙ্কা, বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ঢাকা শহরে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ভূমিকম্পে ঢাকার ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা

রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগ বলতে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই বোঝায় না; মানবসৃষ্ট দুর্যোগও রয়েছে। তবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিকম্প হলে শহরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগরব্যবস্থার অভাবে দুর্যোগের সময় প্রাণহানি বেশি হওয়ার উদাহরণও রয়েছে।

তাই দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভবন নির্মাণে নগর ব্যবস্থাপনায় জোর

রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে বাড়িঘর ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনার নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য ভবন নির্মাণ, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

নদীর প্রবাহ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

নগর পরিকল্পনার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীদূষণ রোধের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, নদী ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নদীর প্রবাহ ঠিক রাখা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

দুর্যোগ প্রশমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম।

দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—আগাম প্রস্তুতি, বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা এবং নদী ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীসহ দেশের নগর এলাকাগুলোকে আরও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করেছেন। এ ধরনের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন নোবেলজয়ীকে হেনস্তা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, দেশের মান-মর্যাদা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। দেশের প্রতিনিধিত্বকারী বা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সংযম দেখানো প্রয়োজন।

বিবৃতিতে ডা. তাহের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।

তিনি বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।

তবে বিমানবন্দরের ঘটনাটি সম্পর্কে বিবৃতিতে জামায়াতের নেতার বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার অন্য পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এতে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. তাহের।

তিনি মনে করেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে জামায়াতের এই বিবৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটি ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি