খুঁজুন
                               
, ,
           

সিনেমা হলের সুদিন ফেরাতে উদ্যোগ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর, ১ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব পর্যালোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
সিনেমা হলের সুদিন ফেরাতে উদ্যোগ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর, ১ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব পর্যালোচনায়

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শকদের আবার প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এ লক্ষ্যে হল মালিকদের সমস্যা সমাধান, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ, ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের আমদানি-রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সিনেমা হল বাঁচাতে আলোচনায় আসা ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিনেমা হল মালিকদের সমস্যাগুলো জানতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

  • আধুনিকায়ন, অর্থায়ন ও দর্শক বৃদ্ধিতে সমন্বিত পরিকল্পনা
  • ভালো সিনেমা নির্মাণ, দক্ষ শিল্পী তৈরি ও ই-টিকেটিং চালুর ওপর গুরুত্ব
  • চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চায় সরকার

হল আধুনিকায়নে অর্থায়নের সম্ভাবনা
সিনেমা হলের আধুনিকায়ন ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে অর্থায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুরোনো হলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, দর্শকসুবিধা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বড় পর্দার আকর্ষণ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্ব
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রেক্ষাগৃহের স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব উঠে এসেছে। আধুনিক পরিবেশ, উন্নত দর্শকসেবা এবং মানসম্মত চলচ্চিত্রের সমন্বয় ঘটানো গেলে দর্শকদের হলমুখী করার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দর্শক বাড়াতে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ
দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শকসংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো সিঙ্গেল স্ক্রিনে বিপুল আসনসংখ্যার বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক—সব পক্ষই উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা-ও বিবেচনায় নিতে হবে।

চলচ্চিত্র রপ্তানি ও দক্ষ শিল্পী তৈরিতে উদ্যোগ
দেশীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা বাংলাদেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ই-টিকেটিংয়ে বাড়বে স্বচ্ছতা
সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক টিকেটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

লিখিত দাবি জমা দিতে আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দকে তাঁদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থায়ন, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আধুনিক প্রদর্শনব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে দেশের সিনেমা হলগুলোর উন্নয়ন এবং দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এসআর

ইসমাইল জবিউল্লাহ

4. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইউএনডিপির সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
4. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইউএনডিপির সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে চায় সরকার

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আরও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একই সঙ্গে নাগরিককেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন, সরকারি সেবা সহজীকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংস্থাটির সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগসের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে সহযোগিতা চান উপদেষ্টা। বৈঠকে বাংলাদেশের সরকারি খাতের সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের জন্য সহজ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সুশাসন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব

বৈঠকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইউএনডিপির সহযোগিতা চেয়েছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। সরকারের এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির অভিজ্ঞতা ও অংশীদারত্ব কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিককেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা সহজীকরণে ইউএনডিপির সহযোগিতা চেয়েছেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা।

নাগরিকদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি সেবা আরও কার্যকর ও সহজ করার উদ্যোগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সঙ্গে ইউএনডিপির অংশীদারত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

সরকারি খাতের সংস্কারে অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিশেষ করে সরকারি খাতের সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিআইইউর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং নীতিমালা ও সেবার বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ ইউএনডিপির

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

অন্যদিকে, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত এবং সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউএনডিপি। তবে বৈঠকে আলোচিত উদ্যোগগুলোর বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা নতুন কোনো প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা

বৈঠকে ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ এবং সংস্থাটির ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ (এসআইপিএস) প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক ড. দেলোয়ার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।

সুশাসন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নাগরিককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ভবনটির ছয়তলায় একটি দোকানে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার দুই মিনিট পর, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা।

ছয়তলার একটি দোকানে আগুন

ফায়ার সার্ভিস জানায়, চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় একটি দোকানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলটির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা দোকান ও ভবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের কার্যক্রম চলছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানা যেতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

এক দিনে ৪ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত লাখ ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত লাখ ছাড়াল

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৮ জনে। আর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন।

অক্টোবরের ১১ দিনেই মৃত্যু ৬২ জনের

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতিটি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মাসভিত্তিক মৃত্যুর এই হিসাব বলছে, চলতি বছরের মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুতে মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি তুলে ধরছে।

এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ২১৬৭ জন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৬৭ জন ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৭১ জন। এ ছাড়া খুলনায় ২৯৮ জন, চট্টগ্রামে ২৮৭ জন, রাজশাহীতে ২৫৩ জন, বরিশালে ২৪৩ জন, ময়মনসিংহে ১০২ জন এবং রংপুরে ৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক এই চিত্রে ঢাকা বিভাগে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তবে দেশের অন্যান্য বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৫ হাজারের বেশি রোগী

নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৪২৮ জন।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯৫ হাজার ৩৩১ জন। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গু সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং পানি জমতে পারে এমন পাত্র খালি রাখা প্রয়োজন।

জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লাখ ছাড়িয়েছে। এক দিনে নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি