খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যামিলি কার্ড পাবেন আরও ৪০ লাখ নারী, বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন আরও ৪০ লাখ নারী, বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

দেশজুড়ে আরও ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডেটাবেইস তৈরি করা হবে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন ও পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা নির্ধারণে ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাব ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য নেবেন। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত হবে।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ হিসাবের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিবারগুলোকে অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই পাঁচ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম হলে নারী পরিবারপ্রধানকে ভাতার যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া আর ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা এক বিষয় নয়। সব নারী পরিবারপ্রধান কার্ড পেলেও ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম তিন শ্রেণির পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীপ্রধানেরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভাতা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। এ পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ভাতা প্রদানের জন্য।

গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিটির পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রক্সি মিন্স টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।

এ পর্যায়ে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এটিএম ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে তোলা যাবে ভাতা

উপকারভোগীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। এটি সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ তুলতে পারবেন।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাতার অর্থ বিতরণ ও উত্তোলনের একাধিক সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য যাচাই এবং কার্ড বিতরণের কার্যক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নতুন করে আরও ৪০ লাখ নারীকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সমাজকল্যাণসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিউ ইয়র্কের রাতে পুরস্কার হাতে চার তারকার উদযাপন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
নিউ ইয়র্কের রাতে পুরস্কার হাতে চার তারকার উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর যেন কখনো ঘুমায় না। রাতের ঝলমলে আলো, ব্যস্ত সড়ক আর উৎসবমুখর পরিবেশের সেই শহরেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন ঢাকাই শোবিজের চার পরিচিত মুখ। নির্মাতা রায়হান রাফী, অভিনেত্রী তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলাকে একসঙ্গে দেখা গেছে পুরস্কারের ট্রফি হাতে উদযাপনের মুহূর্তে।

১০ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকেই পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার হাতে নিয়ে শহরের রাতের আলোয় ক্যামেরাবন্দী হন চার তারকা। তাঁদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

পুরস্কার হাতে তারকাদের আনন্দঘন মুহূর্ত

ছবিতে তিন অভিনেত্রীকে দেখা গেছে ঝলমলে পোশাকে। অন্যদিকে রায়হান রাফীর পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট ও কালো জ্যাকেট। প্রত্যেকের হাতেই ছিল পুরস্কারের ট্রফি। তাঁদের হাসিমুখ ও উচ্ছ্বাসে ফুটে উঠেছে অর্জন উদযাপনের আনন্দ।

নিউ ইয়র্কের রাতের আলোয় তোলা ছবিগুলোতে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তও ধরা পড়েছে। বিদেশের মাটিতে একসঙ্গে এমন অর্জন উদযাপন তাঁদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন দুই অভিনেত্রী।

মাহির কাছে স্মরণীয় এক রাত

ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে সামিরা খান মাহি লিখেছেন, নিউ ইয়র্ক সিটির একটি রাত তাঁর কাছে অর্জন, বন্ধুত্ব ও সুন্দর স্মৃতি উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

ভিন্ন একটি শহরে এসে পুরস্কার পাওয়া এবং সেই আনন্দ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। হাসি-আনন্দে ভরা এই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

বন্ধুত্বের গল্প শোনালেন তমা মির্জা

একই ধরনের ছবি প্রকাশ করেছেন তমা মির্জাও। ক্যাপশনে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে নিউ ইয়র্কে একসঙ্গে প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, পুরস্কার গ্রহণ এবং নিজেদের অর্জন ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্ত উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তমা লিখেছেন, দীর্ঘ পথচলায় কিছু বন্ধুত্ব জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে। একসঙ্গে থাকার আনন্দ এবং বন্ধুদের পাশে পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, কাজেও রয়েছে যোগাযোগ

তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলার বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ঢাকায় একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের বন্ধুত্বের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় একাধিক প্রকল্পে অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। কাজের সূত্রে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি চার তারকার একসঙ্গে সময় কাটানো এবারের সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। পুরস্কার, বন্ধুত্ব ও আনন্দের এই মুহূর্তগুলোই এখন তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উঠে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পর এ আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত অভিনেত্রীর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

এক ছেলে বিদেশে, অন্য ছেলে নিখোঁজ

নাসিমা খানের পারিবারিক জীবনে নেমে এসেছে এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

জীবনের শেষ সময়ে দুই ছেলের কারও সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর। বড় ছেলে দেশে ফেরার পর মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই কাজ করেছেন তিনি।

১৯৫৯ সালে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’-এর মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাসিমা খান। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অভিনয় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

কালের আলো/এসএ

অতীতের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
অতীতের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

দীর্ঘদিন আইনি অভিভাবকত্বের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং সপ্তাহের সাত দিন কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অতীত জীবনের মানসিক যন্ত্রণা, স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকা জানান, ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর আইনি অভিভাবকত্বের আওতায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপনের সুযোগ ছিল সীমিত।

সপ্তাহে সাত দিন কাজ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও সীমিত

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্রিটনি স্পিয়ার্স দাবি করেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাঁকে সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হয়েছে। এত পরিশ্রমের পরও নিজের ইচ্ছামতো কোথাও গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার মতো স্বাধীনতা তাঁর ছিল না বলে জানান তিনি।

অতীতের এসব অভিজ্ঞতা এখনো তাঁকে ক্ষুব্ধ করে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন এই গায়িকা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, পেশাগত ব্যস্ততা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী জীবন কাটানোর সুযোগ তিনি পাননি।

নিয়ন্ত্রণমুক্ত জীবনে নিজের মতো ভ্রমণ

কঠোর নিয়মকানুন থেকে মুক্ত হওয়ার পর গত কয়েক বছরে নিজের মতো করে একা ভ্রমণ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটনি। পোস্টে নিজের স্বাধীন জীবন, আধ্যাত্মিক চিন্তা এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতার পর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে নতুনভাবে উপভোগ করার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের জীবনকে নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছেন এই তারকা।

পুরোনো অ্যালবামের ২৫ বছর পূর্তি, প্রকাশিত অপ্রকাশিত গান

এদিকে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সংগীতজীবন নিয়েও ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে তাঁর ২০০১ সালের অ্যালবাম ‘ব্রিটনি’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শি’ল নেভার বি মি’ নামে একটি অপ্রকাশিত গান ভক্তদের জন্য প্রকাশ করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এবং পুরোনো গান প্রকাশ—দুই ঘটনাই সম্প্রতি ব্রিটনিকে আলোচনায় রেখেছে। সংগীতজীবনের পাশাপাশি নিজের স্বাধীনতা ও অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যও ভক্তদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ