খুঁজুন
                               
, ,
           

নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও যুক্ত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও যুক্ত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ

নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি পরিবারকে সম্পৃক্ত করা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি প্রণয়নের সময় দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের এগিয়ে নিতে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নারীর উন্নয়নে পরিবারকে সম্পৃক্ত করার তাগিদ

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। নারীর সক্ষমতা বিকাশ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করতে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা জরুরি।

তার মতে, নারীর জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিবার সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করলে নারীরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগানোর এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারবেন।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, কর্মজীবনে প্রবেশ ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত।

আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগদক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ

নারীর ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগদক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের দক্ষতা, কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ অন্যের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারা একজন নারীর কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে।

তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগদক্ষতা অর্জন এবং নিজেদের সক্ষমতা প্রকাশের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বদলাতে হবে পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।

তার মতে, মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করা গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার ও সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

এ কারণে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচিগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

ঝরে পড়া কিশোরীদের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের জন্য কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ সফল করতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান

কোইকা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নারীর দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুযোগ তৈরির সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতার গুরুত্ব উঠে আসে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিউ ইয়র্কের রাতে পুরস্কার হাতে চার তারকার উদযাপন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
নিউ ইয়র্কের রাতে পুরস্কার হাতে চার তারকার উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর যেন কখনো ঘুমায় না। রাতের ঝলমলে আলো, ব্যস্ত সড়ক আর উৎসবমুখর পরিবেশের সেই শহরেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন ঢাকাই শোবিজের চার পরিচিত মুখ। নির্মাতা রায়হান রাফী, অভিনেত্রী তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলাকে একসঙ্গে দেখা গেছে পুরস্কারের ট্রফি হাতে উদযাপনের মুহূর্তে।

১০ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকেই পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার হাতে নিয়ে শহরের রাতের আলোয় ক্যামেরাবন্দী হন চার তারকা। তাঁদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

পুরস্কার হাতে তারকাদের আনন্দঘন মুহূর্ত

ছবিতে তিন অভিনেত্রীকে দেখা গেছে ঝলমলে পোশাকে। অন্যদিকে রায়হান রাফীর পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট ও কালো জ্যাকেট। প্রত্যেকের হাতেই ছিল পুরস্কারের ট্রফি। তাঁদের হাসিমুখ ও উচ্ছ্বাসে ফুটে উঠেছে অর্জন উদযাপনের আনন্দ।

নিউ ইয়র্কের রাতের আলোয় তোলা ছবিগুলোতে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তও ধরা পড়েছে। বিদেশের মাটিতে একসঙ্গে এমন অর্জন উদযাপন তাঁদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন দুই অভিনেত্রী।

মাহির কাছে স্মরণীয় এক রাত

ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে সামিরা খান মাহি লিখেছেন, নিউ ইয়র্ক সিটির একটি রাত তাঁর কাছে অর্জন, বন্ধুত্ব ও সুন্দর স্মৃতি উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

ভিন্ন একটি শহরে এসে পুরস্কার পাওয়া এবং সেই আনন্দ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। হাসি-আনন্দে ভরা এই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

বন্ধুত্বের গল্প শোনালেন তমা মির্জা

একই ধরনের ছবি প্রকাশ করেছেন তমা মির্জাও। ক্যাপশনে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে নিউ ইয়র্কে একসঙ্গে প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, পুরস্কার গ্রহণ এবং নিজেদের অর্জন ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্ত উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তমা লিখেছেন, দীর্ঘ পথচলায় কিছু বন্ধুত্ব জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে। একসঙ্গে থাকার আনন্দ এবং বন্ধুদের পাশে পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, কাজেও রয়েছে যোগাযোগ

তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলার বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ঢাকায় একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের বন্ধুত্বের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় একাধিক প্রকল্পে অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। কাজের সূত্রে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি চার তারকার একসঙ্গে সময় কাটানো এবারের সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। পুরস্কার, বন্ধুত্ব ও আনন্দের এই মুহূর্তগুলোই এখন তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উঠে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পর এ আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত অভিনেত্রীর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

এক ছেলে বিদেশে, অন্য ছেলে নিখোঁজ

নাসিমা খানের পারিবারিক জীবনে নেমে এসেছে এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

জীবনের শেষ সময়ে দুই ছেলের কারও সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর। বড় ছেলে দেশে ফেরার পর মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই কাজ করেছেন তিনি।

১৯৫৯ সালে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’-এর মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাসিমা খান। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অভিনয় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

কালের আলো/এসএ

অতীতের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
অতীতের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

দীর্ঘদিন আইনি অভিভাবকত্বের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং সপ্তাহের সাত দিন কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অতীত জীবনের মানসিক যন্ত্রণা, স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকা জানান, ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর আইনি অভিভাবকত্বের আওতায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপনের সুযোগ ছিল সীমিত।

সপ্তাহে সাত দিন কাজ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও সীমিত

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্রিটনি স্পিয়ার্স দাবি করেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাঁকে সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হয়েছে। এত পরিশ্রমের পরও নিজের ইচ্ছামতো কোথাও গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার মতো স্বাধীনতা তাঁর ছিল না বলে জানান তিনি।

অতীতের এসব অভিজ্ঞতা এখনো তাঁকে ক্ষুব্ধ করে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন এই গায়িকা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, পেশাগত ব্যস্ততা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী জীবন কাটানোর সুযোগ তিনি পাননি।

নিয়ন্ত্রণমুক্ত জীবনে নিজের মতো ভ্রমণ

কঠোর নিয়মকানুন থেকে মুক্ত হওয়ার পর গত কয়েক বছরে নিজের মতো করে একা ভ্রমণ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটনি। পোস্টে নিজের স্বাধীন জীবন, আধ্যাত্মিক চিন্তা এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতার পর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে নতুনভাবে উপভোগ করার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের জীবনকে নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছেন এই তারকা।

পুরোনো অ্যালবামের ২৫ বছর পূর্তি, প্রকাশিত অপ্রকাশিত গান

এদিকে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সংগীতজীবন নিয়েও ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে তাঁর ২০০১ সালের অ্যালবাম ‘ব্রিটনি’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শি’ল নেভার বি মি’ নামে একটি অপ্রকাশিত গান ভক্তদের জন্য প্রকাশ করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এবং পুরোনো গান প্রকাশ—দুই ঘটনাই সম্প্রতি ব্রিটনিকে আলোচনায় রেখেছে। সংগীতজীবনের পাশাপাশি নিজের স্বাধীনতা ও অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যও ভক্তদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ