খুঁজুন
                               
, ,
           

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর, জনকল্যাণে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর, জনকল্যাণে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর

রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায় সিদ্ধান্তের দৃঢ়তায়, দায়িত্ব বণ্টনের দক্ষতায় এবং জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সক্ষমতায়। দল পরিচালনা, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা—এই চারটি ক্ষেত্রকে একই সূত্রে যুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সংসদ সদস্যদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

  • চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
  • দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, এমপিদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, তিনি শুধু দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলেননি। একই সঙ্গে সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি, উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, নির্বাচনী এলাকার সমস্যা এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর বার্তায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা অনুধাবন এবং জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়গুলো পাশাপাশি এসেছে।

এই সমন্বিত অবস্থানকে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা যায়। যেখানে দলের পরিচয়কে জনসেবার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা, জনপ্রতিনিধিদের কর্মতৎপরতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়গুলো একই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়তা, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বার্তা—চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে হবে না। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বেও নন; সংসদ সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে। এই অবস্থানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমেই আসে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের সম্পর্ক। একটি রাজনৈতিক দল যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, তখন তার নেতাকর্মীদের আচরণ জনমনে সরকারের ভাবমূর্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি অন্যায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধের প্রশ্ন থাকে না; দলের প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা এই জায়গাতেই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দলীয় পরিচয়কে বিশেষ সুবিধার ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার অবস্থান তুলে ধরেছেন। এতে নেতাকর্মীদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা সামনে এসেছে—দলের সুনাম রক্ষা করতে হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান হতে হবে দ্ব্যর্থহীন। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে পার পাবে না। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

পদমর্যাদার চেয়ে জনদায়বদ্ধতা বড়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়েই তাঁরা বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই দলকে ভুলে গেলে চলবে না; নেতাকর্মীদের পাশে রাখতে হবে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এই বক্তব্যের মধ্যে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—রাজনৈতিক সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে সাংগঠনিক প্রচেষ্টা ও জনসমর্থনের সম্মিলিত ফল হিসেবে বিবেচনা করা। একজন জনপ্রতিনিধি যত বেশি মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তত বেশি স্থানীয় সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন। সেই অভিজ্ঞতা সংসদীয় কার্যক্রম ও সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।

বৈঠকে সরকারের আট মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা এবং নির্বাচনী এলাকার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় বলে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। এখানে তাঁর নেতৃত্বের আরেকটি দিক লক্ষণীয়: মাঠপর্যায়ের সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতাকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা জানা জরুরি। কোথায় অবকাঠামোগত বাধা রয়েছে, কোন সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা কোন এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও বাস্তবসম্মত করতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্বের দূরদর্শী গুরুত্ব
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তাঁর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনপ্রিয়, যোগ্য ও স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাখার নির্দেশনাও এসেছে। স্থানীয় সরকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। স্থানীয় সড়ক, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন জনসমস্যার সমাধানে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সরাসরি দৃশ্যমান। এ কারণে স্থানীয় নেতৃত্বের দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যে রয়েছে বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক চিন্তার পরিচয়। স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম, দায়িত্বশীল এবং কাজ করার যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে এলে জনসেবার সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সংযোগ আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাখার নির্দেশনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে মানুষের পছন্দের প্রতিফলন ঘটলে নির্বাচিত প্রতিনিধির দায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নিরপেক্ষতার প্রতি গুরুত্ব—দুটি বিষয়ই স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা শুধু একটি উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, সম্ভাব্য সমস্যা সম্পর্কে আগাম সতর্ক থাকা এবং উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সহযোগিতা করার সুযোগ বাড়ে। এই নির্দেশনার ইতিবাচক তাৎপর্য হলো, ধর্মীয় সম্প্রীতিকে দলীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাস্তব প্রতিফলন সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যে, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দলীয় সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, জনজীবনের স্বাভাবিকতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি আরও মজবুত হয় যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আইনের শাসন, দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনগণের আস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়।

বৈঠকে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জনগণের অর্থ দেশের স্বার্থে ব্যয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি জনস্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশাকে সামনে আনে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যার সমাধান—এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি থাকলে সরকারি কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার স্থান পাওয়াও তাৎপর্যপূর্ণ।

জনআস্থাই চূড়ান্ত মাপকাঠি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় দলের বৈঠকের নির্দেশনাগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে একটি সমন্বিত নেতৃত্বের চিত্র পাওয়া যায়। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক, যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা—প্রতিটি বিষয়ই দায়িত্বশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বার্তার ইতিবাচক দিক হলো, রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের মানদণ্ডও স্পষ্ট করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের তাগিদ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাধা চিহ্নিত করার উদ্যোগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে।

দেশবাসীর কাছে এই অবস্থান আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠতে পারে, কারণ সাধারণ মানুষ এমন রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে অন্যায় প্রশ্রয় পাবে না, জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কথা শুনবেন, সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হবে এবং সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কঠোরতা ও জনমুখী দায়িত্ববোধের একটি সমন্বিত বার্তা উঠে এসেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার নির্দেশনা—এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন দলীয় শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনআস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। আর সেই আস্থাই হবে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর আইনজীবীর দাবি, ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না; গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেলমা ব্লেয়ারকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একাংশ অস্বীকার করেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেলমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তাঁকে স্ট্রেচারে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, সেলমা বাঁধন থেকে একটি পা বের করে ওই কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে একাধিকবার লাথি মারেন।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বুকে লাথি মারার অভিযোগ রয়েছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় নিউইয়র্কের কুইন্স আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাতে আদালতে হাজির হলে তাঁর আইনজীবী শন বার্নস অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আদালত নগদ ২০ হাজার ডলার জামিন অথবা ৬০ হাজার ডলারের বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে।

উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

সেলমা ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩৮-এ ভ্রমণের সময় তিনি একজন বিমানকর্মীকে ঘুষি মারেন এবং আরেকজনকে কামড় দেন। এ ছাড়া উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় দরজা খোলার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে দরজা খোলার চেষ্টার অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ফ্লাইটটি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত প্রায় ১১টার দিকে উড়োজাহাজের এক যাত্রীর আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌঁছায়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশ সদস্যরা উড়োজাহাজটির কাছে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিমানকর্মী আহত হওয়ার কথা জানান। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সেখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কামড়ের দাগের কথা উল্লেখ করেন পাইলট। আহত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরে চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজের কর্মীদের সেলমাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। তবে ঠিক কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল আদালতেও চলবে আইনি প্রক্রিয়া

উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের মামলার পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়েও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

মামলাটি ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। তবে এ ঘটনায় সেলমার আদালতে হাজিরার তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরে পুলিশ কর্মকর্তা ও নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ—দুই পর্যায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক আইনি কার্যক্রম চলছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

আইনজীবীর দাবি, ওষুধ বাদ পড়া ও মাথায় আঘাতে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন

সেলমা ব্লেয়ারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল না। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেলমা এমন একটি ওষুধের একাধিক নির্ধারিত মাত্রা নিতে পারেননি, যা তাঁর গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজের অতিরিক্ত চাপের পর উড়োজাহাজে উঠেছিলেন অভিনেত্রী। যাত্রাপথে তাঁর মাথায় আঘাতও লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধের মাত্রা বাদ পড়া, মাথায় আঘাত এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে সেলমার প্রতিনিধিও ভ্যারাইটিকে বলেছিলেন, তাঁর শারীরিক জরুরি অবস্থার কারণেই কথিত ঘটনাগুলো ঘটেছিল। উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছিল।

তবে এসব বক্তব্য অভিনেত্রীর আইনজীবী ও প্রতিনিধির দাবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

২০১৮ সালে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান

সেলমা ব্লেয়ারের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ সামনে আসায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে তিনি প্রকাশ্যে জানান, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) আক্রান্ত। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রোগ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানোর পর থেকে নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক আইন প্রণয়নের বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।

তবে সেলমার বর্তমান ঘটনায় তাঁর অসুস্থতার ভূমিকা সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা আইনজীবী ও প্রতিনিধির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। কেবল তাঁর রোগের ইতিহাসের ভিত্তিতে ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

২০১৬ সালেও উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন

উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় সেলমা ব্লেয়ারের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর কানকুন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় অস্বাভাবিক আচরণের পর তাঁকে স্ট্রেচারে করে উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। সে সময় তাঁর সঙ্গে চার বছর বয়সী ছেলে ছিল।

পরে সেলমা জানিয়েছিলেন, এক গ্লাস ওয়াইন পান করার পর ওষুধ গ্রহণ করায় তিনি নিজের আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি অভিজ্ঞতাটিকে ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক বলে বর্ণনা করেছিলেন।

একজন মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া তাঁর নিজের কাছেও অস্বাভাবিক ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী।

‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ থেকে হলিউডে পরিচিতি

১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ এবং ২০০১ সালের ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান সেলমা ব্লেয়ার। পরে ২০০৪ সালের ‘হেলবয়’ চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এবার উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবী এসব ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর
নাটকের শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ তাঁর মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)। এতে নাকে আঘাত পান অভিনেত্রী। দুর্ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন তিনি।

তবে আঘাত পেয়েও শুটিং বন্ধ রাখেননি প্রিয়ন্তী। নিজের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও কাজ শেষ করতে শরাত সোমবার ( ১২ অক্টোবর) রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন তিনি। এমনকি আজও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও কষ্টকর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দৃশ্যে তাঁকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হচ্ছিল। কয়েকজন মিলে বেডটি টেনে তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তাঁর মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন।

এ সময় তাঁরা মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুটিং করছিলেন। শট চলাকালে বেডটি ঝাঁকি খাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন চিত্রগ্রাহক। এরপর ক্যামেরাসহ সরাসরি প্রিয়ন্তী উর্বীর মুখের ওপর পড়ে যান তিনি। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের জন্য কিছু দেখতে ও কথা বলতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। অসহনীয় ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়ন্তী লিখেছেন, শুটিংয়ের দুর্ঘটনাটি তাঁর কাছে ছিল ভয়ংকর। ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করানো হয়। বর্তমানে ওষুধ খাচ্ছেন তিনি।

‘কারও কোনো দোষ নেই, এটা দুর্ঘটনা’

দুর্ঘটনায় আহত হলেও কাউকে দায়ী করতে চান না প্রিয়ন্তী উর্বী। তাঁর মতে, শুটিংয়ের সময় সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে ঘটেছে, আর আমি যে ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটা একদম বাস্তব।’

অর্থাৎ, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে দোষারোপ না করলেও সেই মুহূর্তে তাঁকে যে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুর্ঘটনার আকস্মিকতা এবং ব্যথার তীব্রতা—দুটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আহত হয়েও থামেনি শুটিং

দুর্ঘটনার পর শারীরিকভাবে কষ্টে থাকলেও কাজ শেষ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন। পরদিনও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, আর মাত্র একদিন শুটিং করলেই নাটকটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নিজের কারণে পরিচালক কিংবা শুটিং টিমের অন্য সদস্যরা সমস্যায় পড়ুন, তা চাননি তিনি। সে কারণেই কষ্ট থাকা সত্ত্বেও কাজটি শেষ করে দিতে চাইছেন।

তবে আহত অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও শারীরিক সুস্থতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ঘটনার পর নাকে ফোলা ও তীব্র ব্যথা থাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতিও নজর রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

‘মনের মতো’ নাটকে অভিনয় করছেন উর্বী

জানা গেছে, প্রিয়ন্তী উর্বী বর্তমানে ‘মনের মতো’ নামের একটি নাটকের শুটিং করছেন। রাসেল আজম পরিচালিত নাটকটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন আরশ খান।

নাটকটির শুটিং চলাকালেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন প্রিয়ন্তী।

আঘাত ও ব্যথার মধ্যেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন নাকের ফোলা ও ব্যথা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অপেক্ষায় এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ