সড়ক ভাঙাচোরা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক, সমস্যায় লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগর
লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মচারী ও উদ্যোক্তারা। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা থাকায় কারখানায় পণ্য আনা-নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে মশা ও জীবাণুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পনগরের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে কারখানার মালিক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় কারখানায় মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পাশাপাশি ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও দুর্বল। বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মিতালি বেকারির কর্মচারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, শিল্পনগরের সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও তা বেশিদিন টিকছে না। কিছুদিন পরই সড়ক আবার ভেঙে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভাইয়া গ্রুপের অ্যাডমিন বেলাল হোসেন বলেন, শিল্পনগরের ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এতে মশা ও জীবাণুর বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় মালামাল পরিবহনেও নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এদিকে, সমস্যাগুলো সমাধানে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন বিসিক লক্ষ্মীপুরের শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. জুয়েল চৌধুরী। তিনি বলেন, শিল্পনগরের জন্য একটি প্রধান ফটক নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে সড়কের বেশ কিছু কাজ হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরে আরও কাজ করা গেলে সড়কের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তিনি আরও জানান, শিল্পনগরে নিজস্ব ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ চলছে। পৌরসভার উদ্যোগে একটি ড্রেন নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
জুয়েল চৌধুরী বলেন, আগামী দুই অর্থবছরের জন্য দেওয়া প্রাক্কলন বাস্তবায়িত হলে শিল্পনগরের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা প্লট বরাদ্দ নিয়েও এখনো কাজ শুরু করতে পারেননি, তাঁদেরও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
শিল্পনগরের সড়ক, ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও গতি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array