খুঁজুন
                               
, ,
           

সড়ক ভাঙাচোরা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক, সমস্যায় লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগর

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
সড়ক ভাঙাচোরা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক, সমস্যায় লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগর

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মচারী ও উদ্যোক্তারা। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা থাকায় কারখানায় পণ্য আনা-নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে মশা ও জীবাণুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিল্পনগরের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে কারখানার মালিক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় কারখানায় মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পাশাপাশি ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও দুর্বল। বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মিতালি বেকারির কর্মচারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, শিল্পনগরের সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও তা বেশিদিন টিকছে না। কিছুদিন পরই সড়ক আবার ভেঙে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ভাইয়া গ্রুপের অ্যাডমিন বেলাল হোসেন বলেন, শিল্পনগরের ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এতে মশা ও জীবাণুর বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় মালামাল পরিবহনেও নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এদিকে, সমস্যাগুলো সমাধানে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন বিসিক লক্ষ্মীপুরের শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. জুয়েল চৌধুরী। তিনি বলেন, শিল্পনগরের জন্য একটি প্রধান ফটক নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে সড়কের বেশ কিছু কাজ হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরে আরও কাজ করা গেলে সড়কের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিনি আরও জানান, শিল্পনগরে নিজস্ব ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ চলছে। পৌরসভার উদ্যোগে একটি ড্রেন নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

জুয়েল চৌধুরী বলেন, আগামী দুই অর্থবছরের জন্য দেওয়া প্রাক্কলন বাস্তবায়িত হলে শিল্পনগরের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা প্লট বরাদ্দ নিয়েও এখনো কাজ শুরু করতে পারেননি, তাঁদেরও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

শিল্পনগরের সড়ক, ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও গতি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান রিজভীর

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান রিজভীর

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত সরকারের দোসররা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসব বিষয়ে দেশের মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মো. লকাই বিশ্বাসের জন্য নির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর, চিকিৎসা সহায়তা ও কর্মসংস্থান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারত থেকে পতিত সরকারের দোসররা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চক্রান্ত শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে বিদেশের মাটিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপমান করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম কিবরিয়া স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

বক্তব্য শেষে রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মো. লকাই বিশ্বাসের হাতে নবনির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেন। পাশাপাশি তাঁর জন্য চিকিৎসা সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে একটি সেলাই মেশিনও বিতরণ করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অপরাধ দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
অপরাধ দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধ দমনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার বা পালিয়ে যেতে কেউ সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষায়িত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ষড়যন্ত্রের কথা গণমাধ্যমে আসছে। এসব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয় উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে কখনো কখনো তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে অপরাধ দমনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার কিংবা পালিয়ে যেতে কেউ সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে চালু হলো ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব

এদিন চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিআইডির বিশেষায়িত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে সাইবার পুলিশ সেন্টারেরও উদ্বোধন করা হয়।

সাইবার অপরাধের তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এত দিন ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন ল্যাব চালুর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের সুযোগ বাড়বে এবং ঢাকানির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনলাইন প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অপরাধ, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের তদন্তে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই ল্যাবের মাধ্যমে এসব তদন্তে স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তিনি দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছাড়পত্র ছাড়াই ঘের খনন, বিপন্ন নড়াইলের বিল ও জীববৈচিত্র্য

নড়াইল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
ছাড়পত্র ছাড়াই ঘের খনন, বিপন্ন নড়াইলের বিল ও জীববৈচিত্র্য

নড়াইলের বিভিন্ন বিল ও নিম্নাঞ্চলে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও সরকারি বিধিবিধান না মেনে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের খননের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে তিন ফসলি জমির অনেকগুলো এক বা দুই ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।

কৃষক ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, বিলের উন্মুক্ত স্থানে মাটি কেটে উঁচু বাঁধ নির্মাণ এবং গভীর ঘের তৈরি করায় বর্ষায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কুমড়ির বিল, চাচড়ীর বিল, পাটেরশরী বিল ও ইচ্ছামতীর বিলসহ অন্তত ১৮ থেকে ২০টি বিলে হাজার হাজার একর জমিতে চার থেকে আট মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকছে।

লোহাগড়া উপজেলার সুরুশুনা গ্রামের কৃষক তুহিন শেখ জানান, ইচ্ছামতি বিলে আগে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এখন একটির বেশি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কুমড়ি বিলের কৃষক কামরুল ইসলাম ও চাচড়ী বিলের কৃষক আলমগীর বলেন, ঘেরের কারণে বিলে চাষাবাদের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৭টি বিলের মধ্যে অন্তত ২০টিতে অপরিকল্পিত ঘের খননের ফলে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি এক বা দুই ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ ৩০০ একর।

পরিবেশ অধিদপ্তর নড়াইলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া জানান, আইন অনুযায়ী পাঁচ একরের নিচে ঘের খননের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পাঁচ একরের বেশি হলে অবস্থানগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি ফি জমা দিয়ে এসব অনুমতি নিতে হয়। তবে তাঁর ভাষ্য, জেলার কোনো ঘেরই এই নিয়ম মানেনি।

জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নড়াইলের তিনটি উপজেলায় ৫৭টি বিলে মোট ৫ হাজার ৩৯১টি মৎস্যঘের রয়েছে। এসব ঘের থেকে আইন অনুযায়ী ফি আদায় করা গেলে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপরিকল্পিত ঘেরের কারণে শুধু কৃষিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সংকুচিত হচ্ছে উন্মুক্ত জলাভূমি। এতে দেশীয় মাছ, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বিচরণ কমছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।

নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান সৈয়দ মোর্শেদ হাসান বলেন, উন্মুক্ত বিল পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির অন্যতম আশ্রয়স্থল। জলাশয়গুলো ব্যক্তিগত ঘেরে রূপ নেওয়ায় নিরাপদ খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে পাখির আগমন এবং জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

পরিবেশকর্মী যাযাবর মনিরের অভিযোগ, ঘেরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে আশপাশের খাল-বিলের পানি দূষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নড়াইলের সভাপতি শাহ আলম বলেন, উন্মুক্ত জলাশয় মাছ চাষের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জলাশয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ হারান।

এনজিও স্বাবলম্বীর নির্বাহী পরিচালক কাজী হাফিজুর রহমান অপরিকল্পিত ও অবৈধ ঘেরের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, কৃষিজমিতে ঘের করতে হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ফসলি জমিতে ঘের তৈরি না করার জন্য চাষিদের নিয়মিত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত ঘের খনন নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদন নিশ্চিত করা না গেলে নড়াইলের কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি