খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির অভিযোগ নাহিদের

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির অভিযোগ নাহিদের

চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের মানুষ প্রত্যাশিত অধিকার ফিরে পাচ্ছে না।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগসংক্রান্ত দুর্নীতি ও বাণিজ্যের প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, বিদেশে আওয়ামী লীগ, দেশে বিএনপি। এ দুই শক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না।’ তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনের আগে সমঝোতা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিএনপি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষায়, ‘চাঁদাবাজ আর স্বৈরাচার একাকার হয়ে গেছে।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শরীয়তপুর বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী দেশপ্রেমিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া শরীয়তপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, সদস্যসচিব সবুজ তালুকদারসহ দলের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় বক্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে আরও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আকাশ প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত কক্সবাজার এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) বিমান বাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিট এই মহড়া পরিচালনা করে। মহড়া সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সফল মহড়া পেশাদারিত্বের ইতিবাচক প্রতিফলন
একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর শক্তি শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এসব সরঞ্জাম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রস্তুতির একটি ইতিবাচক দিককে তুলে ধরেছে।

  • কক্সবাজারে লাইভ ফায়ারিং পরিদর্শন বিমান বাহিনী প্রধানের
  • আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব
মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ, আধুনিকায়নকে কেবল সরঞ্জাম সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশসীমার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উপযুক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বিত প্রস্তুতি অপরিহার্য। এফএম-৯০-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের অনুশীলন নিয়মিত পরিচালিত হলে সদস্যদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মহড়া পরিদর্শনকালে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল শরিফুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম মাহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঘাঁটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ভিত্তি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম এবং এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে নতুন সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি উন্নয়নে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে সফল এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রমে একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা। আধুনিকায়ন, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বিত চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার পথনকশা প্রস্তুত হচ্ছে।

কালের আলো/এএএএমকে

জার্মান পর্যটকের হারানো ম্যাকবুক উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
জার্মান পর্যটকের হারানো ম্যাকবুক উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষ থেকে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ ঘটনায় পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান পর্যটক ক্রিলের হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন আইজিপি। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নাটোর রেলস্টেশনে হারিয়ে যায় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার।

গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের ম্যাকবুক ও ক্যামেরা সেখানে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে দেখেন, সেখানে রাখা তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা আর নেই।

নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ক্রিল। পরে সহায়তা চেয়ে নাটোর থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ করেন।

ল্যাপটপে ছিল ছয় মাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুকটি ক্রিলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল। ফলে ল্যাপটপটি ফিরে পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

কাপুড়িয়াপট্টির দোকান থেকে উদ্ধার ম্যাকবুক

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক ক্রিলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরাটির বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কৃতজ্ঞতা জানালেন জার্মান পর্যটক

হারানো ম্যাকবুক ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় পাওয়া ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতি হিসেবে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পুলিশের নির্দেশনা

অনুষ্ঠানে আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পেশাদার সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় পুলিশের সব ইউনিটকে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত ও পেশাদার সেবা দেওয়া এবং মানুষের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেন আইজিপি। পাশাপাশি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একজন বিদেশি পর্যটকের হারানো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উদ্ধার ও তা ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা দেশের পর্যটন খাতে নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের সেবার মান নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

মেমোরি চিপের সংকটে স্মার্টফোনের বাজারে ১৪ বছরের রেকর্ড ধস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
মেমোরি চিপের সংকটে স্মার্টফোনের বাজারে ১৪ বছরের রেকর্ড ধস

মেমোরি চিপের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ বছরের মধ্যে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এবারই স্মার্টফোন সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাড়ায় মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এআই খাতে চিপের ব্যাপক ব্যবহার স্মার্টফোন নির্মাতাদের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদামে।

এআইয়ের চাহিদায় চিপের সংকট, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছেন।

চিপের সরবরাহ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আবার কিছু নির্মাতা উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে মুনাফা ধরে রাখার কৌশল অনুসরণ করছে।

এতে একদিকে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের জন্য নতুন ফোন কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজারে শীর্ষে স্যামসাং, তবু সরবরাহ কমেছে

বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্যামসাং। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, এ সময় বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের ২৩ শতাংশ ছিল প্রতিষ্ঠানটির দখলে।

গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ সিরিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং মধ্যম দামের স্মার্টফোন তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের তুলনামূলক স্থিতিশীল সরবরাহ স্যামসাংকে এগিয়ে থাকতে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহে পতন হয়েছে। গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন সরবরাহ কমেছে ৩ শতাংশ।

অ্যাপলের বাজার হিস্যা ২২ শতাংশ

স্যামসাংয়ের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল। তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের ২২ শতাংশ দখলে ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর আইফোন ১৭ সিরিজের সব মডেল বাজারে এলেও চলতি বছর আইফোন ১৮ সিরিজের সাধারণ মডেলটি বাজারে আসেনি। ফলে নতুন আইফোন বাজারে ছাড়ার প্রথম মাসে বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কম ছিল।

স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও নতুন মডেল বাজারে আসার সময়সূচি সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহে বড় পতন

মেমোরি চিপের সংকটে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে কয়েকটি চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে অপো ও ভিভোর স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। শাওমির সরবরাহ কমেছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।

মুনাফা ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে শাওমি কম দামের স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সীমিত করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদেশি বাজারে ব্যবসার পরিসরও কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে গেলে কম দামের স্মার্টফোন তৈরি ও বিক্রি করে আগের মতো মুনাফা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে নির্মাতারা উৎপাদন কমানো কিংবা তুলনামূলক বেশি দামের মডেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাজেট ফোনের ক্রেতাদের বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

পুরোনো ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিলপি জৈন বলেন, ক্রেতারা প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় পুরোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। তাঁদের অনেকে নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে সংস্কার করা ব্যবহৃত স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দামের ও উন্নত সুবিধাসম্পন্ন ফোনের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

এই প্রবণতা স্মার্টফোন বাজারে নতুন ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ক্রেতাদের একটি অংশ ফোনের ব্যবহারকাল বাড়িয়ে নতুন ডিভাইস কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করে উন্নত সুবিধার ফোন কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফলে বাজারে কম দামের নতুন স্মার্টফোনের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত ও সংস্কার করা ফোনের গুরুত্ব বাড়তে পারে।

বছরের বাকি সময়েও সংকটের আশঙ্কা

চলতি বছরের বাকি সময়েও স্মার্টফোন বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাতারা উৎপাদন কমানো, স্মার্টফোনের মডেলের সংখ্যা সীমিত করা এবং বেশি দামের ফোনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রাখতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন কম বাজেটের ক্রেতারা। মেমোরি চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহ সীমিত থাকা এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফোনের দাম বাড়লে নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন অনেক ক্রেতা। এতে বাজারে চাহিদা আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে কম দামের ফোনের বিকল্প সীমিত হয়ে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার স্মার্টফোন শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও মেমোরি চিপের সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ এই শিল্পকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আগামী মাসগুলোতে চিপের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং নির্মাতাদের মূল্য ও উৎপাদন কৌশলই বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ