খুঁজুন
                               
, ,
           

জি এম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তরায় বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
জি এম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তরায় বিক্ষোভ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে জি এম কাদেরের যোগাযোগ রয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং বিগত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁরা দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি তৎকালীন সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁরা বলেন, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

বিক্ষোভকারীরা উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ব্যবহৃত ব্যানারে তাঁর গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি তুলে ধরা হয়।

কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা জি এম কাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, যাচাই করবে গুগলের নতুন টুল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, যাচাই করবে গুগলের নতুন টুল

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে সিন্থআইডি ডিটেক্টর (SynthID Detector) নামের একটি যাচাইকরণ পোর্টাল। এর মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্টে গুগলের তৈরি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা যায়।

গুগলের এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডিপফেক, কৃত্রিম ছবি ও ভিডিও এবং এআই দিয়ে তৈরি অডিওর ব্যবহার বাড়ছে। এসব কনটেন্টের কারণে অনলাইনে প্রকৃত তথ্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি আধেয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ছবি, ভিডিও বা অডিওর উৎস যাচাইয়ের প্রযুক্তি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যেভাবে কাজ করে সিন্থআইডি ডিটেক্টর

সিন্থআইডি ডিটেক্টর ব্যবহার করে কোনো কনটেন্ট যাচাই করতে প্রথমে synthid.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষা করতে চাওয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল আপলোড করতে হবে। পোর্টালটি ফাইল বিশ্লেষণ করে তাতে গুগলের সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।

সিন্থআইডি হলো গুগলের তৈরি একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের মধ্যে অদৃশ্য ডিজিটাল সংকেত যুক্ত করা যায়। সাধারণ চোখে এসব সংকেত দেখা যায় না। তবে উপযুক্ত শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব।

এই ওয়াটারমার্কের উদ্দেশ্য হলো এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করা সহজ করা। ফলে কোনো ফাইল গুগলের নির্দিষ্ট এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ডিপফেক ও অপতথ্য শনাক্তে কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে ছবি তৈরি, কণ্ঠস্বর নকল এবং বিশ্বাসযোগ্য ভিডিও নির্মাণ করা সম্ভব। এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা কিংবা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করার প্রযুক্তি অনলাইনে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক ছবি, ভিডিও বা অডিও পরীক্ষা করে এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তের চেষ্টা করতে পারবেন।

তবে কোনো ফাইলে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেলেই সেটি সব দিক থেকে ভুয়া—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একইভাবে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত না হলে কনটেন্টটি যে অবশ্যই বাস্তব বা মানুষের তৈরি, সেটিও নিশ্চিত হয় না। কারণ এই প্রযুক্তি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করে।

অংশীদারত্বে প্রযুক্তির প্রসার

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও কাকাওসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ ধরনের কনটেন্ট যাচাই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাপলের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল আধেয়ের উৎস যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। তবে সিন্থআইডি ডিটেক্টর সব ধরনের এআই-নির্মিত ছবি, ভিডিও বা অডিও শনাক্ত করতে পারে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কনটেন্ট যাচাইয়ে ব্যবহারকারীদের করণীয়

সন্দেহজনক কোনো ছবি বা ভিডিও দেখলে শুধু একটি শনাক্তকরণ টুলের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা উচিত। কনটেন্টটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশকের পরিচয় কী, একই ঘটনার নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিবেদন রয়েছে কি না এবং ছবির সঙ্গে দেওয়া বর্ণনা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মেলে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

গুগলের সিন্থআইডি ডিটেক্টর এ ক্ষেত্রে সহায়ক একটি প্রযুক্তিগত উপায় হতে পারে। তবে অনলাইনে অপতথ্য ও ডিপফেক শনাক্ত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি তথ্যের উৎস যাচাই এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন, পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন, পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিতে হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। খবর পাওয়ার পরপরই একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লেও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করেনি। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস : গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পর কেন বাড়ে রক্ত জমাটের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস : গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পর কেন বাড়ে রক্ত জমাটের ঝুঁকি
মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে রক্তনালির সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়। কিন্তু রক্তনালির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে ব্যাহত হতে পারে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় থ্রম্বোসিস। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে এটি হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এমনকি আকস্মিক মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস। রক্ত জমাট বাঁধার কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। ২০২৬ সালের প্রচারণায় নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়, ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট হরমোন চিকিৎসার সঙ্গে এ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

থ্রম্বোসিস কী, কেন বিপজ্জনক?

আঘাত পেলে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য রক্ত জমাট বাঁধা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু রক্তনালির ভেতরে অপ্রয়োজনে জমাট তৈরি হলে তা রক্তপ্রবাহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে। এ অবস্থাই থ্রম্বোসিস।

রক্তনালির ধরন অনুযায়ী থ্রম্বোসিস প্রধানত দুই ধরনের—শিরাজনিত ও ধমনিজনিত। শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে শিরাজনিত থ্রম্বোসিস এবং ধমনিতে জমাট বাঁধলে ধমনিজনিত থ্রম্বোসিস বলা হয়।

শিরায় তৈরি জমাটের কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তের সঙ্গে ফুসফুসের ধমনিতে পৌঁছালে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থাকে পালমোনারি এম্বোলিজম বলা হয়, যা জীবনসংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি বন্ধ হলে ইস্কেমিক স্ট্রোক হতে পারে।

থ্রম্বোসিসের চারটি ধরন

গভীর শিরায় রক্ত জমাট: সাধারণত পায়ের উরু, পিণ্ডলি বা শ্রোণির গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধে। কখনো হাতের গভীর শিরাতেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যাওয়া, ব্যথা ও ত্বক গরম হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট: শিরায় তৈরি জমাটের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে ফুসফুসের ধমনিতে পৌঁছে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে এ অবস্থা হয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ধমনিতে রক্ত জমাট: ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

উপরিভাগের শিরায় রক্ত জমাট: ত্বকের কাছাকাছি শিরায় জমাট ও প্রদাহ তৈরি হলে আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, লালচে ভাব এবং শিরা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

যেসব কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে

থ্রম্বোসিসের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। রক্তপ্রবাহ ধীর হয়ে যাওয়া, রক্তনালির ক্ষতি এবং রক্তের জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া—এ তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা বা শুয়ে থাকা।
  • বড় অস্ত্রোপচার, গুরুতর আঘাত কিংবা দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা।
  • ক্যানসার ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ।
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা।
  • ধূমপান।
  • বয়স বৃদ্ধি।
  • বংশগতভাবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা।
  • নিজের বা পরিবারের সদস্যদের আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস।
  • গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়।
  • ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও নির্দিষ্ট হরমোন চিকিৎসা।

তবে এসব ঝুঁকির উপাদান থাকলেই যে থ্রম্বোসিস হবে, তা নয়। আবার পরিচিত কোনো ঝুঁকির কারণ না থাকলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হতে হবে

থ্রম্বোসিসের লক্ষণ নির্ভর করে শরীরের কোথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে তার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলেও স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে।

পা বা হাতের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে সাধারণত এক পাশের পা বা হাত ফুলে যেতে পারে। আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, চাপ দিলে অস্বস্তি, ত্বক গরম হয়ে যাওয়া কিংবা ত্বকের রং পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট পৌঁছালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় বুকব্যথা বেড়ে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণকে সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা বা সাময়িক অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক।

২০২৬ সালে নারীর স্বাস্থ্য কেন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে?

নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তন এবং শারীরিক অবস্থার কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময় এবং কিছু হরমোনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। একই সঙ্গে জরায়ুর আকার বৃদ্ধির কারণে পায়ের শিরায় রক্তপ্রবাহ ধীর হতে পারে। এসব পরিবর্তন রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়।

গর্ভাবস্থায় এক পাশের পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, নতুন করে ব্যথা কিংবা ত্বক গরম হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়: সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও কিছু সময় নারীর রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে প্রসবের পর প্রথম ছয় সপ্তাহ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি প্রায় তিন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকা, অতিরিক্ত ওজন, আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস কিংবা প্রসবকালীন কিছু জটিলতা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদে চলাফেরা, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও হরমোন চিকিৎসা: ইস্ট্রোজেনযুক্ত কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি এবং নির্দিষ্ট হরমোন চিকিৎসা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সব জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ঝুঁকি এক নয়। নিজের বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত।

পুরুষ ও শিশুদেরও রয়েছে ঝুঁকি

থ্রম্বোসিস শুধু নারীদের সমস্যা নয়; পুরুষদেরও এ ঝুঁকি রয়েছে। বয়স বৃদ্ধি, ধূমপান, স্থূলতা, ক্যানসার, অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা এবং আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস পুরুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এক পাশের পা ফুলে যাওয়া, অকারণে ব্যথা কিংবা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

শিশুদের মধ্যে থ্রম্বোসিস তুলনামূলক বিরল হলেও গুরুতর হতে পারে। নবজাতক, গুরুতর অসুস্থ শিশু, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগী, দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশু এবং শিরায় নল স্থাপন করা শিশুদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্যানসার, গুরুতর সংক্রমণ এবং কিছু বংশগত সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

কীভাবে থ্রম্বোসিস শনাক্ত করা হয়?

শুধু লক্ষণ দেখে থ্রম্বোসিস নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, বয়স, চিকিৎসার ইতিহাস এবং ঝুঁকির উপাদান বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

ডি-ডাইমার পরীক্ষা: রক্ত জমাট ভাঙার প্রক্রিয়ায় তৈরি পদার্থের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এ পরীক্ষার স্বাভাবিক ফল থ্রম্বোসিসের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ডি-ডাইমারের মাত্রা বেড়ে গেলেই রক্ত জমাট বেঁধেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট শনাক্ত করতে শিরার রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা বা ভেনাস আল্ট্রাসনোগ্রাফি বহুল ব্যবহৃত।

ফুসফুসের রক্তনালির বিশেষ চিত্রায়ণ: ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাটের সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।

অন্যান্য পরীক্ষা: পরিস্থিতি অনুযায়ী হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পরীক্ষা, হৃদ্‌যন্ত্রের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। সব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না; চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

থ্রম্বোসিস প্রতিরোধে যা করবেন

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে নিয়মিত বিরতিতে দাঁড়ান ও হাঁটুন।
  • দীর্ঘ ভ্রমণের সময় সম্ভব হলে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পর হাঁটুন এবং বসে থাকাকালে পায়ের পেশি নাড়াচাড়া করুন।
  • চিকিৎসকের অনুমতি অনুযায়ী নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • ধূমপান পরিহার করুন।
  • অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদে চলাফেরা শুরু করুন।
  • ঝুঁকি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত জমাট প্রতিরোধের ওষুধ বা বিশেষ চাপপ্রয়োগকারী মোজা ব্যবহার করুন।
  • গর্ভবতী নারী ও সদ্য সন্তান প্রসব করেছেন এমন নারীরা আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা হরমোন চিকিৎসা শুরুর আগে নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রক্ত জমাট প্রতিরোধ বা চিকিৎসার ওষুধ গ্রহণ করবেন না। এসব ওষুধে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।

সচেতনতাই পারে ঝুঁকি কমাতে

থ্রম্বোসিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে জানা, বিপদের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা নেওয়া। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, সদ্য সন্তান প্রসব করেছেন এমন নারী, অস্ত্রোপচার করা রোগী এবং দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকতে হয় এমন ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবসের মূল বার্তাও হলো—রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা এক পাশের অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।ু

সুত্রঃ ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

কালের আলো/এসএ