খুঁজুন
                               
, ,
           

৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি, আজকের মানুষের সঙ্গে অবিশ্বাস্য মিল!

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি, আজকের মানুষের সঙ্গে অবিশ্বাস্য মিল!

প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করা এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকেরা। জীবাশ্ম খুলির ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেল ও শারীরিক গঠনের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে এই মুখাবয়ব। গবেষকদের মতে, সেই মানুষকে আধুনিক পোশাক পরিয়ে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় তাকে আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারত।

এই পুনর্গঠন প্রাচীন মানুষের শারীরিক গঠন, বিবর্তনের ইতিহাস এবং আধুনিক মানুষের সঙ্গে তাদের সাদৃশ্য নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, এত প্রাচীন সময়ের একজন হোমো স্যাপিয়েন্সের মুখমণ্ডলের সঙ্গে বর্তমান মানুষের মিল গবেষণাটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

মরক্কোর জীবাশ্ম থেকে মুখচ্ছবি পুনর্গঠন

১৯৬০-এর দশকে উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর জেবেল ইরহুদ এলাকায় একটি জীবাশ্ম খুলি আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কারের পর প্রথম দিকে খুলিটিকে নিয়ান্ডারথাল মানুষের বলে মনে করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী গবেষণায় জীবাশ্মটির পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যায়।

২০১৭ সালে প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, জেবেল ইরহুদের জীবাশ্মগুলো প্রাচীন হোমো স্যাপিয়েন্সের নিদর্শন। এগুলোর বয়স আনুমানিক ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর। ফলে আধুনিক মানুষের উৎপত্তি ও প্রাথমিক বিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে জেবেল ইরহুদ গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পরিণত হয়েছে।

সেই জীবাশ্মের খুলির গঠন বিশ্লেষণ করেই এবার মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে খুলির ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেল এবং আফ্রিকার মানুষের শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্য। এসব উপাত্তের সমন্বয়ে গবেষকেরা প্রাচীন মানুষটির সম্ভাব্য মুখের অবয়ব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

ভ্রূরেখায় পার্থক্য, মুখমণ্ডলে আধুনিক মানুষের ছাপ

পুনর্গঠিত মুখচ্ছবিতে আধুনিক মানুষের সঙ্গে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য দেখা গেছে। তবে চেহারায় কিছু পার্থক্যও ছিল। গবেষকদের তৈরি অবয়বে ওই মানুষের ভ্রূরেখা তুলনামূলকভাবে বেশি দৃঢ় এবং মুখমণ্ডলের গঠনে আধুনিক মানুষের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়।

এই পার্থক্যগুলো প্রাচীন হোমো স্যাপিয়েন্সের শারীরিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। মানুষের মুখমণ্ডল ও খুলির গঠন দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে সেই পরিবর্তনের মধ্যেও আধুনিক মানুষের সঙ্গে প্রাচীন পূর্বসূরিদের বেশ কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মিল ছিল বলে এই পুনর্গঠন থেকে ধারণা পাওয়া যায়।

অবশ্য পুনর্গঠিত মুখচ্ছবিকে ওই ব্যক্তির চেহারার হুবহু প্রতিরূপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জীবাশ্ম থেকে খুলির গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও মুখের নরম টিস্যু, ত্বক এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি নির্ধারণ করা কঠিন। তাই এটি মূলত প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি সম্ভাব্য মুখাবয়ব।

মস্তিষ্কের আয়তনেও আধুনিক মানুষের সঙ্গে মিল

গবেষণায় প্রাচীন ওই মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন পাওয়া গেছে প্রায় ১ হাজার ২৩০ ঘন সেন্টিমিটার। অন্যদিকে, আধুনিক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের গড় মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১ হাজার ২৩৪ ঘন সেন্টিমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই সময়ের মানুষের মস্তিষ্কের আয়তনের এই কাছাকাছি অবস্থান গবেষণার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। প্রায় ৩ লাখ বছর আগের একজন হোমো স্যাপিয়েন্সের মস্তিষ্কের আয়তন আধুনিক মানুষের গড় আয়তনের কাছাকাছি হওয়া থেকে বোঝা যায়, মানুষের বিবর্তনকে শুধু মস্তিষ্কের আকারের পরিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

তবে মস্তিষ্কের আয়তনে মিল থাকলেই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা, চিন্তাভাবনা কিংবা আচরণে দুই সময়ের মানুষের মধ্যে সম্পূর্ণ মিল ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও আচরণ বুঝতে মস্তিষ্কের গঠনের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করতে হয়।

ত্বক, চুল ও চোখের রং নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রাচীন মানুষটির ত্বক, চুল ও চোখের রং কেমন ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জীবাশ্ম খুলি থেকে সাধারণত মুখের হাড়ের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও এসব বৈশিষ্ট্য নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

গবেষকেরা সম্ভাব্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে পুনর্গঠিত মুখচ্ছবিতে কালো চুল ও দাড়ি যুক্ত করেছেন। তবে এগুলোকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ, প্রাপ্ত জীবাশ্ম থেকে ওই ব্যক্তির প্রকৃত চুলের ধরন, দাড়ি কিংবা ত্বকের রং সরাসরি নিশ্চিত করা যায়নি।

এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ডিজিটাল পুনর্গঠন প্রাচীন মানুষের সম্ভাব্য চেহারা কল্পনা করার একটি কার্যকর উপায়। জীবাশ্মের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয় অতীতের মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য আরও সহজে তুলে ধরতে সাহায্য করছে।

জেবেল ইরহুদে মিলেছে একাধিক মানুষের জীবাশ্ম

মরক্কোর জেবেল ইরহুদ এলাকায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন হোমো স্যাপিয়েন্সের ২২টি জীবাশ্ম হাড় পাওয়া গেছে। শুধু মানুষের হাড় নয়, এই এলাকায় প্রাচীন মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

সেখানে পাথরের তৈরি হাতিয়ার, আগুন ব্যবহারের প্রমাণ এবং শিকার করা প্রাণীর হাড় পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন প্রাচীন মানুষের জীবনযাপন, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং খাদ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষকদের ধারণা পেতে সহায়তা করে।

জীবাশ্ম ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রাচীন মানুষের অস্তিত্ব, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার ইতিহাস পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। জেবেল ইরহুদের আবিষ্কারগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো আফ্রিকায় হোমো স্যাপিয়েন্সের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দেয়।

মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন আগ্রহ

প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি আধুনিক মানুষের সঙ্গে কতটা মিল থাকতে পারে, তা সামনে এনে দিয়েছে এই পুনর্গঠন। মুখমণ্ডলের কিছু পার্থক্য এবং মস্তিষ্কের আয়তনের উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য প্রাচীন ও আধুনিক মানুষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে মানুষের বিবর্তন ছিল দীর্ঘ ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। কোনো একটি জীবাশ্ম বা পুনর্গঠিত মুখচ্ছবি দিয়ে সেই ইতিহাসের সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়। বরং বিভিন্ন সময়ের জীবাশ্ম, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সমন্বয়েই মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে হেরিটেজ সাময়িকীতে।

সূত্র: ইয়াহু

কালের আলো/এসএ

কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে মিলল পৌনে তিন কোটি টাকার অলংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে মিলল পৌনে তিন কোটি টাকার অলংকার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ডায়মন্ড, প্লাটিনাম ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। এ ঘটনায় এক যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন।

এ সময় মো. জনি রহমান নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করেন। তার ব্যাগ স্ক্যান করার সময় আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ডায়মন্ডখচিত স্বর্ণালংকার, প্লাটিনামের আংটি ও বিভিন্ন মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ডখচিত ১৮ ক্যারেটের সোনার ৩৮৯টি আংটি, যার ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ডায়মন্ডখচিত প্লাটিনামের ১৫১টি আংটি, সাদা সোনার তিনটি আংটি, রুপার দুটি আংটি, পাঁচটি সোনার লকেট, একটি সোনার চেইন এবং ৪৭২টি সোনার নাকফুল জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫ ক্যারেটের ডায়মন্ড পাথর, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরসহ মোট ৭২০টি পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড পাওয়া যায়।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে এসব পণ্য আনার কারণে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ফৌজদারি মামলা করেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নিউইয়র্কে শাকিবের সঙ্গে দীঘির ছবি ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে শাকিবের সঙ্গে দীঘির ছবি ভাইরাল
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির একটি ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সহশিল্পী শাকিবের সঙ্গে দেখা হয়েছে দীঘির। সেই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর স্মৃতিচারণে মেতেছেন ভক্তরা।

শাকিব খান ও দীঘিকে একসঙ্গে দেখে অনেকের মনে পড়েছে ২০০৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘চাচ্চু’র কথা। সেই সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন দীঘি। সময়ের ব্যবধানে ছোট্ট জুঁই এখন বড় হয়েছেন, নিজেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

নিউইয়র্কে একই অনুষ্ঠানে শাকিব-দীঘি

শনিবার (১০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন শাকিব খান ও দীঘি। সেখানেই তাদের দেখা হয় এবং একসঙ্গে ছবি তোলেন তারা।

দীঘির প্রকাশ করা ছবিতে শাকিব খানকে কালো শার্ট, ব্লেজার ও সানগ্লাসে দেখা গেছে। অন্যদিকে দীঘির পরনে ছিল নীল ও সোনালি নকশার পোশাক। ছবির ক্যাপশনে শাকিবকে ‘মেগাস্টার’ বলে উল্লেখ করেছেন দীঘি।

ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ পুরোনো দিনের সিনেমার স্মৃতি সামনে এনেছেন, কেউ আবার শাকিব ও দীঘিকে নতুন কোনো চলচ্চিত্রে একসঙ্গে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

‘চাচ্চু’ সিনেমায় ছোট্ট জুঁইয়ের চরিত্রে দীঘি

পরিচালক এফ আই মানিকের ‘চাচ্চু’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে। ব্যবসাসফল এই চলচ্চিত্রে শাকিব খানের ভাইয়ের মেয়ে জুঁই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দীঘি। শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে এবং তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

সিনেমাটিতে শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন অপু বিশ্বাস ও ডিপজলসহ অন্য শিল্পীরা। চলচ্চিত্রটি সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় কাজগুলোর একটি হিসেবেও পরিচিত।

শিশুশিল্পী হিসেবে দীঘির জনপ্রিয়তার পেছনে ‘চাচ্চু’র ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে শাকিব খানের সঙ্গে ‘দাদীমা’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’, ‘১ টাকার বউ’ ও ‘তোর কারণে বেঁচে আছি’র মতো চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে।

ভক্তদের স্মৃতিতে পুরোনো জুটি

শাকিব ও দীঘির সাম্প্রতিক ছবিটি ঘিরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে শৈশবের সিনেমার স্মৃতি। কেউ মজা করে দীঘির সঙ্গে শাকিবের সম্পর্ককে ‘চাচা-ভাতিজি’র পর্দার পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়েছেন। আবার কেউ তাদের নতুন করে পর্দায় একসঙ্গে দেখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

একসময় শিশুশিল্পী দীঘিকে শাকিব খানের সঙ্গে পর্দায় দেখে অভ্যস্ত ছিলেন দর্শক। এখন দুজনই নিজ নিজ অবস্থানে পরিচিত মুখ। তাই নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা শুধু একটি ছবি প্রকাশের ঘটনা নয়, বরং পুরোনো ঢালিউডের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উপলক্ষও হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৩ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৫৩০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৫০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৫০ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬০ জন, রংপুর বিভাগে ৮৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮০৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও ১ হাজার ৭৯৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের।

এর আগের বছর, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। সে বছর মারা যান ৫৭৫ জন।

আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। ওই বছর রোগটিতে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

চলতি বছরেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি