বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরকে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় এনে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সংযোজন এবং ব্যবসাবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এই কৌশল বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি সঞ্চারের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে এগোচ্ছে সরকার
- বন্দরের সক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা
- জাতীয় স্বার্থ, ব্যবসাবান্ধব সেবা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে গুরুত্ব
জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখেই ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি বা জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় এবং ব্যবসায়ী-আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা গেলে দেশের বন্দরব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জন সম্ভব। একটি আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত বন্দরব্যবস্থা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে বন্দর সক্ষমতার যোগসূত্র
বাংলাদেশের বন্দরব্যবস্থা দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে তৈরি পণ্য রপ্তানি, জ্বালানি সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বন্দরের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কেবল পরিবহন অবকাঠামোর অগ্রগতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজন পূরণে সরকার এখন জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে।’
সরকারের যুগান্তকারী এই উদ্যোগের ফলে বন্দর উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের পরিবর্তে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কোন বন্দরে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, কীভাবে বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো যায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কী ধরনের বিনিয়োগ দরকার—একটি সমন্বিত কৌশল এসব বিষয়ে পরিকল্পিত দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় বাড়বে দক্ষতা ও সেবার মান
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’
দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত। তাই সব পক্ষের দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো হলে বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর যে গুরুত্ব উঠে এসেছে, তা জাতীয় বন্দর কৌশলের ইতিবাচক দিকগুলোর একটি। কারণ, বন্দরের কার্যকারিতা শুধু একটি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে না; পণ্য খালাস, শুল্কায়ন, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এসব কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হলে বন্দর ব্যবহারকারীরা আরও সহজ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক বন্দরের পথে
জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা জাইকার অভিজ্ঞতা এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।’
এই প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রকৃত অর্থেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পরিচালনপদ্ধতির সমন্বয় বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, টার্মিনাল পরিচালনা, ডিজিটাল সেবা এবং সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে বন্দর পরিচালনার সামগ্রিক মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের কার্যকারিতা, সেবার মান এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে এসব উদ্যোগের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।
অবকাঠামো থেকে সেবার উৎকর্ষ—বন্দর উন্নয়নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে।
মন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি বন্দর উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে একই অবকাঠামো থেকেও বেশি কার্যকারিতা অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক সড়ক ও নৌপরিবহন সংযোগের উন্নয়ন সরবরাহব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে পারে।
এর ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সময়মতো পণ্য পরিবহন এবং মানসম্মত বন্দরসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বন্দর কৌশল এসব চাহিদাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে পারলে তা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ পাবে গুরুত্ব
শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্য জাতীয় বন্দর কৌশলকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে। বন্দরের সেবা যত বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ পরিকল্পনা তত বেশি গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবার উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশের বন্দরগুলোর রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে এসব বন্দরকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে পৃথিবী এগিয়েছে, বাংলাদেশও এগিয়েছে। দেশের বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এখন সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রীর মূলত জাতীয় বন্দর উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছেন। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের সেবার মান ও সক্ষমতাকেও সময়োপযোগী করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নত ব্যবহার, দক্ষ পরিচালনব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয় দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তুলতে পারে।
মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার
নৌপরিবহনমন্ত্রী এমন উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি একই সঙ্গে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানান।
শেখ রবিউল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
কালের আলো/এমএএএমকে
আপনার মতামত লিখুন
Array