খুঁজুন
                               
, ,
           

সমুদ্রের ধারে গেলেই বাতাস বেশি জোরে লাগে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
সমুদ্রের ধারে গেলেই বাতাস বেশি জোরে লাগে কেন?

সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালেই মুখে এসে লাগে জোরালো বাতাস। কখনও চুল উড়িয়ে দেয়, কখনও জামাকাপড় দুলিয়ে দেয়, আবার ঢেউয়ের শব্দের সঙ্গে মিশে তৈরি করে অন্যরকম এক অনুভূতি। শহরের ভেতরে যে বাতাসকে মৃদু মনে হয়, সমুদ্রের কাছে গেলেই সেটি কেন যেন অনেক বেশি প্রবল মনে হয়। এর পেছনে রয়েছে স্থলভাগ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য, বায়ুচাপের পরিবর্তন এবং উপকূলের খোলামেলা পরিবেশ।

স্থল ও সমুদ্র একইভাবে উত্তপ্ত হয় না

সূর্যের তাপে স্থলভাগ ও সমুদ্র—দুটিই উত্তপ্ত হয়। তবে উষ্ণ হওয়ার ধরন এক নয়। স্থলভাগ তুলনামূলক দ্রুত গরম হয় এবং দ্রুত ঠান্ডাও হয়ে যায়। অন্যদিকে, সমুদ্রের পানি ধীরে ধীরে গরম হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ধরে রাখতে পারে।

দিনের বেলায় সূর্যের তাপে উপকূলের স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে স্থলের কাছের বাতাসও গরম হয়ে হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। তখন সমুদ্রের তুলনামূলক ঠান্ডা ও ভারী বাতাস স্থলভাগের দিকে ছুটে আসে। এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় সমুদ্রবায়ু বা সি ব্রিজ।

তাই সমুদ্রের পাড়ে হাওয়া বেশি মনে হয়

সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে আসা বাতাস উপকূলের কাছে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে দুপুরের পর স্থলভাগ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে থাকলে সমুদ্রবায়ুও তুলনামূলক শক্তিশালী হতে পারে।

শহরের ভেতরে ভবন, গাছপালা, দেয়ালসহ নানা স্থাপনা বাতাসের গতিপথে বাধা তৈরি করে। ফলে বাতাসের প্রকৃত গতি কিছুটা কমে যেতে পারে কিংবা তার দিক পরিবর্তিত হয়। বিপরীতে সমুদ্রের ধারে খোলা জায়গা বেশি থাকায় বাতাস তুলনামূলক বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হয়।

ফলে একই বাতাস উপকূলের খোলা পরিবেশে দাঁড়িয়ে শরীরে অনেক বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।

বিকালের দিকে কেন বাতাস বেশি টের পাওয়া যায়?

দিন যত বাড়ে, সূর্যের তাপে স্থলভাগ তত বেশি উত্তপ্ত হয়। এর ফলে স্থল ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্যও বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে তৈরি হয় বায়ুচাপের পার্থক্য, যা সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে বাতাস প্রবাহে ভূমিকা রাখে।

এ কারণেই অনেক উপকূলীয় এলাকায় দুপুরের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত সমুদ্রের হাওয়া তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। তবে বাতাসের তীব্রতা সব সময় একই থাকে না। আবহাওয়া, ঋতু, উপকূলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের ওপর এর গতি নির্ভর করে।

রাত হলে বদলে যায় বাতাসের দিক

দিনের মতো রাতেও স্থল ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। সূর্য ডোবার পর স্থলভাগ সমুদ্রের তুলনায় দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন স্থলের ওপরের বাতাস ঠান্ডা ও ভারী হয়ে নিচে নামতে থাকে।

অন্যদিকে সমুদ্রের পানি ধীরে ঠান্ডা হওয়ায় তার ওপরের বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকতে পারে। এতে বায়ুচাপের পার্থক্য তৈরি হয়ে অনেক ক্ষেত্রে বাতাসের প্রবাহের দিকও বদলে যায়। তখন স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে বাতাস বইতে শুরু করে। এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু বা ল্যান্ড ব্রিজ।

অর্থাৎ, সাধারণ পরিস্থিতিতে দিনে সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে এবং রাতে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে বায়ুপ্রবাহ দেখা যেতে পারে।

উপকূলের খোলামেলা পরিবেশও বড় কারণ

সমুদ্রের ধারে বাতাস বেশি জোরে অনুভূত হওয়ার পেছনে শুধু তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের পার্থক্যই দায়ী নয়। উপকূলের খোলামেলা পরিবেশও এর অন্যতম কারণ।

ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ভবন ও অন্যান্য কাঠামো বাতাসের গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং তার গতিপথ বদলে দিতে পারে। কিন্তু সমুদ্রের বিশাল জলরাশি থেকে উপকূলের দিকে আসা বাতাসের পথে সাধারণত এমন বাধা কম থাকে।

তাই সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালে বাতাসের সরাসরি প্রবাহ শরীরে বেশি অনুভূত হয়। এর সঙ্গে সমুদ্রবায়ুর প্রভাব যুক্ত হলে হাওয়াকে আরও প্রবল বলে মনে হতে পারে।

ঋতুভেদেও বদলায় সমুদ্রের হাওয়া

সমুদ্রবায়ুর তীব্রতা সারা বছর একরকম থাকে না। গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ায় স্থল ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ফলে দিনের বেলায় সমুদ্রবায়ুও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

তবে উপকূলীয় ঝড়, মৌসুমি বায়ু কিংবা অন্য কোনো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি থাকলে বাতাসের গতি অনেক বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেটিকে কেবল স্বাভাবিক সমুদ্রবায়ু হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই তৈরি হয় এই হাওয়া

সমুদ্রের ধারে দাঁড়ালে মুখে লাগা জোরালো বাতাসের পেছনে রয়েছে প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। স্থল ও জলভাগের ভিন্ন গতিতে উত্তপ্ত ও ঠান্ডা হওয়া, বায়ুচাপের পরিবর্তন এবং উপকূলের খোলা পরিবেশ—সবকিছু মিলেই তৈরি হয় এই বিশেষ বায়ুপ্রবাহ।

তাই সমুদ্রসৈকতে অনুভূত সতেজ বাতাস শুধু বিশাল জলরাশির কারণে নয়; এর পেছনে কাজ করে তাপমাত্রা, বায়ুচাপ ও ভূপ্রকৃতির এক চমৎকার সমন্বয়।

কালের আলো/জেএন

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ শিশু। এ ছাড়া ১০২ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে একজন ও সিলেটে একজন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৯৩ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০ জনে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী-দীপু মনিসহ ১১ জন

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী-দীপু মনিসহ ১১ জন

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, দীপু মনিসহ ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।

মামলায় মোট ৪১ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মৃণাল কান্তি দাস ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

বুধবারের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (শিডিউল ওয়ান অব দ্য রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬)-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বরকে প্রতি বছর সাধারণ ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি