খুঁজুন
                               
, ,
           

শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একটি শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরকে তার বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে শিশু দ্রুত শেখে, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তার বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ফলে শিশুর জীবনে ঘরই হয়ে ওঠে প্রথম পাঠশালা, আর মা-বাবাই হয়ে ওঠেন তার প্রথম শিক্ষক।

শৈশবের এই সময়টিতে শিশুর মানসিকতা, আচরণ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং শিশুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ—সবকিছুই তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবারের পরিবেশেই মূল্যবোধের শুরু

বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারেই মা-বাবা দুজনকেই কাজের প্রয়োজনে দিনের বড় একটি সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনেক শিশু প্লে-স্কুল, ডে-কেয়ার কিংবা অন্য স্বজনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।

তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মনোবিশ্লেষকদের মতে, শিশুর বিকাশে শুধু কতক্ষণ সময় দেওয়া হচ্ছে তা নয়, সেই সময়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার মনোযোগ, কথা বলা, শিশুর কথা শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও ইতিবাচক যোগাযোগের মাধ্যমে শিশু ধীরে ধীরে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি অনুচিত—তা বুঝতে শেখে। এর মাধ্যমে তার আচরণগত নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারে।

মায়ের আচরণ থেকেই শেখে শিশু

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, শিশুর প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষা তৈরিতে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিবেশেই শিশু ভালোবাসা, যত্ন, সহানুভূতি, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মতো বিষয়গুলো প্রথম শেখে।

শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকে সরাসরি বলা কথাই শেখে না; তাঁদের দৈনন্দিন আচরণও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, অন্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেন, সমস্যা হলে কীভাবে তা সামাল দেন—এসব দেখেও শিশু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ তৈরি করতে থাকে।

সময় কম হলেও সচেতন উপস্থিতি জরুরি

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক মা-বাবার পক্ষেই সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো সম্ভব হয় না। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে সন্তানের জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে শিশুর সঙ্গে অল্প সময় কাটালেও তা যদি মনোযোগী ও আন্তরিক হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার দিনের অভিজ্ঞতা শোনা, খেলায় অংশ নেওয়া কিংবা কোনো সমস্যায় পাশে থাকা—এসব ছোট ছোট বিষয় শিশুর চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে কিছু শিশু ছোট বয়স থেকেই একা থাকার বা নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস তৈরি করে। এর ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দক্ষতাও তৈরি হতে পারে।

তাহলে সমাজে অপরাধ বা বৈষম্য কেন?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—মা যদি শিশুর প্রথম শিক্ষক হন এবং পরিবার যদি তার প্রথম শিক্ষার জায়গা হয়, তাহলে বড় হয়ে মানুষ অপরাধ, সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ে কেন?

এর উত্তর শুধু পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি এবং বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর প্রভাব থাকে।

শৈশবে পরিবার ইতিবাচক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি নতুন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এসব বাহ্যিক প্রভাব তার চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাও জরুরি

একটি শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের শিক্ষা ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল শিশুকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়; আর পরিবার তার আচরণ, মূল্যবোধ, সম্পর্কবোধ ও সামাজিকতার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলোতে মা-বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, যত্ন, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে পরিবার শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর লালন-পালনকে শুধু খাবার, পোশাক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানো এবং ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

রাড্ডা সেন্টার দখলে ‘৪০ জনের চক্র’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
রাড্ডা সেন্টার দখলে ‘৪০ জনের চক্র’

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলচেষ্টার ঘটনায় নেপথ্যের একটি বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। ইন্ধনদাতা, অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও হামলা বাস্তবায়নকারীদের সমন্বয়ে প্রায় ৪০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। তালিকাভুক্তদের ধরতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২০ জন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং দোকানদার সমবায় সমিতির সদস্য রয়েছেন। তবে তদন্তের মূল লক্ষ্য এখন সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বাইরে গিয়ে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার ‘মাথা’ হিসেবে যারা কাজ করেছে, তাদের ধরতে পারলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। শাহ আলী থানায় করা মামলাটি গত রবিবার (০৪ অক্টোবর) ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। যদিও ঘটনার শুরু থেকেই ডিবি তদন্তে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • মাঠে ভাড়াটে, পেছনে অর্থ ও প্রভাবশালীরা
  • ইন্ধনদাতা-অর্থদাতা-পরিকল্পনাকারী শনাক্ত; ২০ গ্রেপ্তার
  • নেপথ্যের হোতাদের ধরতে দেশজুড়ে অভিযান

৪০ জনের তালিকা, দেশজুড়ে অভিযান

ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রায় ৪০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় থাকা আট থেকে ১০ জন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকিদের ধরতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের অনেকে ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে ঢাকার বাইরে চলে গেছেন। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হয়েছে।

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির গতিবিধিও পর্যবেক্ষণে রেখেছে গোয়েন্দারা। ডিসি রাকিব খান বলেন, সরকার এ ঘটনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

দখলের পর বহুতল ভবনের পরিকল্পনা

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বলছেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখলে নেওয়াই ছিল স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি অংশের মূল লক্ষ্য। শুধু দখল নয়, পরে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় কয়েকজন বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই অর্থের উৎস এবং বিনিয়োগকারীদের পরিচয় খুঁজছে গোয়েন্দারা।

তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন—কেন একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখলে এত বড় আয়োজন? জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের আড়ালে কি বড় কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জমির মালিকানা, আগের বিরোধ ও সম্ভাব্য ভবন নির্মাণ পরিকল্পনার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

২৫০ অজ্ঞাত আসামির আড়ালে কারা

শাহ আলী থানায় করা মামলায় এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি হানিফ মিয়া। তিনি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মামলায় আরও প্রায় ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, অজ্ঞাত আসামিদের বড় একটি অংশ ছিল ভাড়ায় আনা লোক। ভবন ভাঙচুর ও দখলচেষ্টায় অংশ নিতে অর্থের বিনিময়ে তাঁদের ঘটনাস্থলে আনা হয়েছিল।

এতে তদন্তে সরাসরি হামলাকারী ও নেপথ্যের সংগঠকদের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মাঠে থাকা লোকজনের পরিচয় বের করার পাশাপাশি তাঁদের কে সংগঠিত করেছিল, কে অর্থ দিয়েছিল এবং কার নির্দেশে তারা কাজ করেছে—এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার রাতে মাইক্রোবাসে ‘নির্দেশনা’

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, ঘটনায় তিন রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য আবু হানিফ, শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ লেলিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, ঘটনার রাতে তাঁরা একটি মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে হামলাকারীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তাঁরা। ওই গাড়িতে আরও দুই থেকে তিনজন ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এই তিনজনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। ডিবি জানিয়েছে, তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে এবং তাঁরা পলাতক।

রাজনীতি ও দোকানদার সমিতির যোগসূত্র

ডিসি রাকিব খান জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। আরেকটি অংশ দোকানদার সমিতির সঙ্গে যুক্ত।

হামলা ও ভাঙচুরে যে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, সেই সমিতির চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সম্পাদক শাহ আলম ও অফিস সহকারী শাহাদাত রয়েছেন। অন্য দুজন হলেন সদস্য আতিকুর ও কামরুল। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, সমিতির নাম ব্যবহার করে হামলাটি কীভাবে সংগঠিত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগাযোগ কতটা ছিল।

২০ গ্রেপ্তার, নজর ‘মাথাদের’ দিকে

ঘটনায় ডিবি ও পুলিশ মিলে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে শাহ আলী থানার ওসি মো. রাজীব হোসেন জানিয়েছেন। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা-কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব আহমেদ সোহেল, জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের ঢাকা জেলা শাখার সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লা এবং শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন। এ ছাড়া শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

নেপথ্যের অর্থের সন্ধানে তদন্ত

রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঘটনাটি শুধু আকস্মিক হামলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থাগুলো। দখলের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য, বিপুলসংখ্যক লোকের উপস্থিতি, অর্থের জোগান এবং রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।

ডিবির ভাষ্য, সরাসরি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করাই এখন অগ্রাধিকার। কার অর্থে হামলাকারীরা মাঠে নেমেছিল, কার পরিকল্পনায় দখলের উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতে জায়গাটি কীভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিললেই রাড্ডা সেন্টারকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে। তদন্ত এখন তাই হামলাকারীদের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছেছে নেপথ্যের সেই ‘৪০ জনের’ কাছে—যাদের হাত ধরেই রাড্ডা সেন্টার দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।

কালের আলো/এএএন/এমকে

এআইয়ের কারণে কি এক হয়ে যাচ্ছে মানুষের চিন্তা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
এআইয়ের কারণে কি এক হয়ে যাচ্ছে মানুষের চিন্তা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের কাজকে আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত করে দিয়েছে। লেখা তৈরি, পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা নতুন ধারণা বের করার মতো কাজে কয়েক মুহূর্তেই এআইয়ের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সৃজনশীল বিভিন্ন কাজেও দ্রুত বাড়ছে এর ব্যবহার। তবে এআইয়ের এই সুবিধার পাশাপাশি নতুন একটি প্রশ্নও সামনে আসছে—মানুষ যত বেশি এআইয়ের ওপর নির্ভর করবে, তত কি তার চিন্তা ও সৃজনশীলতা একই ধরনের হয়ে উঠবে? সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণার ফলাফল এই আশঙ্কার কিছুটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাইকোলজি টুডে।

এআইয়ে সৃজনশীলতা বাড়লেও কমেছে বৈচিত্র্য

২০২৪ সালে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আনিল দোশি এবং ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের অলিভার হাউজার ৩০০ জন অংশগ্রহণকারীকে ছোট গল্প লিখতে দেন।

অংশগ্রহণকারীদের একটি দলকে গল্পের ধারণা তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অন্য দলকে কোনো এআই সহায়তা দেওয়া হয়নি।

গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের সহায়তা নেওয়া গল্পগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে যাঁরা শুরুতে অপেক্ষাকৃত কম সৃজনশীল ছিলেন, তাঁদের লেখায় উন্নতি বেশি দেখা যায়।

তবে এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে আসে। এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গল্পগুলো একে অপরের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি মিল ছিল। অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি লেখার মান বাড়লেও সামগ্রিকভাবে গল্পগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য কিছুটা কমে যায়।

এআই মডেলের উত্তরেও একই প্রবণতা

২০২৬ সালে পিএনএএস নেক্সাস জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় ২২টি এআই মডেল এবং ১০০ জনের বেশি মানুষের সৃজনশীলতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এআই মডেলগুলোর দেওয়া উত্তর মানুষের উত্তরের তুলনায় অনেক বেশি একই ধরনের ছিল। অর্থাৎ একই ধরনের সৃজনশীল প্রশ্নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এআই মডেলের উত্তরগুলোতে মানুষের উত্তরের তুলনায় বেশি মিল দেখা যায়। এর সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে মনোবিজ্ঞানের ‘অ্যাঙ্করিং’ বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে।

প্রথম পাওয়া ধারণাই হয়ে উঠতে পারে ‘অ্যাঙ্কর’

মনোবিজ্ঞানী আমোস টভারস্কি ও ড্যানিয়েল কাহনেম্যান ১৯৭৪ সালের গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মানুষ শুরুতে পাওয়া কোনো সংখ্যা, তথ্য বা ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এই প্রাথমিক তথ্য পরবর্তী চিন্তা ও সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো বিষয়ে মানুষ নিজে চিন্তা করার আগেই যদি এআইয়ের কাছ থেকে একটি উত্তর পেয়ে যায়, তাহলে সেটিই তার চিন্তার প্রথম ভিত্তি বা ‘অ্যাঙ্কর’ হয়ে উঠতে পারে। একই ধরনের প্রশ্নে লাখো মানুষ যদি এআইয়ের কাছ থেকে কাছাকাছি ধরনের উত্তর পান, তাহলে তাঁদের পরবর্তী চিন্তা ও ধারণার মধ্যেও কিছুটা মিল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাহলে কি এআই সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেবে?

গবেষণাগুলোর ফলাফল এমনটা বলছে না যে এআই ব্যবহার করলেই মানুষের সৃজনশীলতা হারিয়ে যাবে। বরং বিষয়টি নির্ভর করতে পারে এআইকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো—কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজের চিন্তা তৈরি করা। ধারণাগুলো অসম্পূর্ণ বা অপরিণত হলেও প্রথমে নিজের মতো করে লিখে নেওয়া যেতে পারে। এরপর এআইকে সেই ধারণা পরিশীলিত, বিস্তৃত বা সংগঠিত করার কাজে ব্যবহার করা হলে ব্যক্তিগত চিন্তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। অর্থাৎ এআইকে নিজের হয়ে চিন্তা করার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে নিজের চিন্তার সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ভিন্নভাবে ভাবার গুরুত্ব বাড়ছে

সবাই যখন একই ধরনের এআই টুল ব্যবহার করছে এবং কাছাকাছি ধরনের উত্তর পাচ্ছে, তখন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে চিন্তা করার গুরুত্ব আরও বেড়ে যেতে পারে। একই সমস্যার জন্য এআই যে সমাধান দিচ্ছে, সেটিই চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি দিয়ে তা যাচাই করা প্রয়োজন। কখনো কখনো প্রচলিত বা নিরাপদ ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করাই একজন মানুষের কাজকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলতে পারে।

মানুষের অভিজ্ঞতার জায়গা এখনো আলাদা

মানুষের সৃজনশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আবেগ, হাস্যরস ও সহমর্মিতা। এসব বিষয় এআইয়ের সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রেও গবেষণা হয়েছে। ২০২৫ সালে নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, একই ধরনের সহানুভূতিশীল বার্তা মানুষ ও এআই—দুই পক্ষের নামে উপস্থাপন করা হলে অংশগ্রহণকারীরা মানবসৃষ্ট বার্তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মানবিক সংযোগ এখনো সৃজনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

এআইয়ের সঙ্গে মানুষের ভবিষ্যৎ সৃজনশীলতা

এআই নিঃসন্দেহে মানুষের কাজকে দ্রুত ও সহজ করে তুলছে। তবে একই সঙ্গে এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা চিন্তার বৈচিত্র্য কমিয়ে দিতে পারে কি না—এ প্রশ্নটি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এআইকে ব্যবহার করার সময় নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও কৌতূহলকে সামনে রাখা জরুরি। প্রথমে নিজে ভাবা, নিজের ধারণা তৈরি করা এবং পরে এআইয়ের সাহায্যে সেটিকে আরও উন্নত করা হলে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সৃজনশীলতাও ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এআই হয়তো কাজের গতি বাড়াবে, কিন্তু কোনো ধারণাকে সত্যিকার অর্থে আলাদা করে তুলতে মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল চিন্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে থাকতে পারে।

কালের আলো/এসএ

গুজব বা দরবৃদ্ধি দেখে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নয়: বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
গুজব বা দরবৃদ্ধি দেখে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নয়: বিএসইসি

মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফান্ডের নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতি এ আহ্বান জানায় কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুঁজিবাজারে কিছু মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি এনএভির তুলনায় বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে লেনদেন হতে দেখা যাচ্ছে। বাজারমূল্য ও ফান্ডের অন্তর্নিহিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে এ ধরনের অস্বাভাবিক ব্যবধানকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিএসইসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো মিউচুয়াল ফান্ড নগদায়ন করা হলে ইউনিটহোল্ডারদের ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই প্রকৃত এনএভি বিবেচনা না করে বেশি দামে ইউনিট কিনলে বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

বিএসইসি বলেছে, শুধু কোনো ইউনিটের বাজারদর বাড়ছে দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। একইভাবে গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়েও বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কমিশনের পরামর্শ, বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের সর্বশেষ প্রকাশিত ইউনিটপ্রতি এনএভি, আর্থিক অবস্থা, মেয়াদ ও পোর্টফোলিওসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে হবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি ও সম্ভাব্য রিটার্ন বিবেচনার পর সচেতনভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি