খুঁজুন
                               
, ,
           

মিষ্টি খেয়েও ৩৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন, জানালেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাল্লিকা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
মিষ্টি খেয়েও ৩৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন, জানালেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাল্লিকা

ওজন কমানোর কথা ভাবলেই অনেকের মনে প্রথমে আসে কঠোর ডায়েট, পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের চাপ। কিন্তু কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাল্লিকা ফতেহপুরিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, ওজন কমানোর জন্য পছন্দের সব খাবার জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া জরুরি নয়।

মাল্লিকার দাবি, ৯০ কেজি থেকে ৫৫ কেজিতে ওজন কমানোর যাত্রায় তিনি মিষ্টিসহ নিজের পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেননি। বরং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, ক্যালরির হিসাব এবং দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়—এমন খাদ্যাভ্যাস তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা থেকে ৩৫টি শিক্ষা শেয়ার করেছেন মাল্লিকা। তাঁর এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

পছন্দের খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই

মাল্লিকার মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বিস্বাদ বা একঘেয়ে খাবার নয়। নিজের পছন্দের খাবারও তুলনামূলক কম ক্যালরিতে তৈরি করা সম্ভব। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে পছন্দের খাবারকে মানিয়ে নেওয়াই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

তাঁর সবচেয়ে আলোচিত বক্তব্যগুলোর একটি হলো—প্রতিদিন মিষ্টি খেলেও ওজন কমানো সম্ভব। তবে এটিকে কোনো সার্বজনীন নিয়ম হিসেবে নয়, নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মাল্লিকা। রান্নায় তেল ও মাখনের ব্যবহার কমানো, মাপার চামচ দিয়ে উপকরণ ব্যবহার করা এবং খাবারের ওজন মাপার যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাণ নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের তুলনায় কম ক্যালরির বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজের পছন্দের ১০ থেকে ১৫টি খাবার স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরির অভ্যাস গড়ে তোলার কথাও বলেছেন।

ক্যালরি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি

মাল্লিকার মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্যালরি ডেফিসিট সম্পর্কে ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তার তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের তথ্য পড়ে দেখার অভ্যাস করতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কোনো খাবারের গায়ে ‘হেলদি’ বা স্বাস্থ্যকর লেখা থাকলেই সেটি ওজন কমানোর জন্য উপকারী হবে—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে মনে করেন মাল্লিকা।

তাঁর মতে, খাবারকে সবসময় ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’—এই দুই ভাগে ভাগ করার প্রয়োজন নেই। একইভাবে আলাদা করে ‘চিট মিল’ রাখতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।

কখনো পরিকল্পনার বাইরে কোনো খাবার খেয়ে ফেললে কয়েক মাসের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যায় না। এমন পরিস্থিতিতে পরের খাবার থেকেই আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

ওজন কমানো শুধু শরীরের পরিবর্তন নয়

মাল্লিকার অভিজ্ঞতায়, ওজন কমানোর সময় আশপাশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও মতামতের মুখোমুখি হতে হয়। বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সবাই যে নিজের সিদ্ধান্ত বুঝবেন, এমনটাও নয়।

কেউ শরীরকে বেশি মোটা মনে করতে পারেন, আবার কেউ মনে করতে পারেন অতিরিক্ত রোগা হয়ে গেছেন। তবে অন্যের পছন্দ অনুযায়ী শরীরের আকৃতি পরিবর্তন করাই ওজন কমানোর লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন মাল্লিকা।

তাঁর মতে, নিজের শরীর নিয়ে সুস্থ ও ভালো অনুভব করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওজন কমানোর যাত্রা শুধু শারীরিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগগত পরিবর্তনও জড়িয়ে থাকে।

ব্যায়ামে অনুপ্রেরণার চেয়ে নিয়মিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ

ব্যায়াম নিয়েও মাল্লিকার পরামর্শ বেশ বাস্তবধর্মী। তাঁর মতে, প্রতিদিন শরীরচর্চা করার অনুপ্রেরণা থাকবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত থাকার অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়াম করতে ভালোবাসতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম একেবারে কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড না করার চেয়ে ভালো।

সময় কম থাকলে হাঁটাহাঁটিকেও শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটার গুরুত্বও অবহেলা করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

শরীরচর্চা শুরু করতে নতুন পোশাক, জুতা বা দামি সরঞ্জাম কেনাও জরুরি নয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন মাল্লিকা।

ওজন কমানোর সময় আগের বড় মাপের পোশাকগুলোও সঙ্গে সঙ্গে ফেলে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আয়নায় নিজেকে নিয়ে অনুভূতি বদলাতে পারে

ওজন কমানোর পুরো যাত্রায় নিজের চেহারা নিয়ে অনুভূতি সবসময় একই থাকবে না বলেও জানিয়েছেন মাল্লিকা। কোনো দিন আয়নায় নিজেকে ভালো লাগতে পারে, আবার অন্য কোনো দিন নিজের চেহারা নিয়ে খারাপ লাগতে পারে। তাঁর মতে, এটি স্বাভাবিক।

তাঁর অভিজ্ঞতায়, ওজন কমানোর পর শুধু শরীরের আকৃতিই বদলায় না; নিজের শরীর এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হতে পারে।

এই পরিবর্তনের পথে নিজের অগ্রগতি নিয়ে গর্ববোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

তবে মাল্লিকা যে ৩৫টি শিক্ষা শেয়ার করেছেন, সেগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য চিকিৎসা বা পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ নয়। একজন মানুষের ওজন কমানোর পরিকল্পনা তাঁর বয়স, স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

কালের আলো/এসএ

এআই ডিপফেক নিয়ে ক্ষুব্ধ জাহ্নবী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
এআই ডিপফেক নিয়ে ক্ষুব্ধ জাহ্নবী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নিজের জনপ্রিয় গান ‘ছুট্টামালে’-এর ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। অনুমতি ছাড়া নারীদের নিয়ে যৌনতাপূর্ণ ও কাল্পনিক কনটেন্ট তৈরি এবং ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

জাহ্নবীর মতে, প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদায় আঘাত করে না, বরং এটি যৌন নিপীড়নেরই একটি রূপ। একই সঙ্গে নারীর সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমানা ও শরীরের প্রতি সম্মানকে মৌলিক মানবিক বিষয় হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

‘প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার হচ্ছে’

সম্প্রতি দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জাহ্নবী বলেন, নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং অনুমতি ছাড়া কাল্পনিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং অনুমতি ছাড়া কাল্পনিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার করা হচ্ছে। এটি গভীরভাবে আত্মমর্যাদায় আঘাত করে, যা যৌন নিপীড়নের কাছাকাছি।’

অভিনেত্রীর দাবি, শুধু তিনি নন, বিনোদনজগতের প্রায় প্রতিটি নারীই কোনো না কোনোভাবে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্বজুড়েই নারীরা ক্রমবর্ধমানভাবে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সম্মতি’ নিয়ে কোনো জটিলতা নেই

জাহ্নবী স্পষ্ট করে বলেন, একজন নারীর সম্মতি ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করার বিষয়টি নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয়।

তিনি বলেন, ‘সম্মতি, পছন্দ এবং একজন নারীর শরীরের প্রতি সম্মান—এগুলো মানবতার সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে থাকা উচিত।’

তার মতে, একজন নারী কোনো একটি সময়ে সম্মতি দিলেই সব পরিস্থিতিতে সেই সম্মতি প্রযোজ্য হয়ে যায় না। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘না’ বললে সেটিই চূড়ান্ত—সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।

পোশাক কখনো অনুমতির সংকেত নয়

নারীর পোশাককে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত নানা ভুল ধারণারও সমালোচনা করেছেন জাহ্নবী।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন নারী মিনিস্কার্ট পরেছেন মানেই কেউ তাঁর পোশাকের নিচে ক্যামেরা ধরার, আপত্তিকরভাবে ছবি তোলার কিংবা তাঁর শরীরকে যৌনভাবে উপস্থাপন করার অনুমতি পেয়ে যায় না।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, পোশাক, অতীতের সম্মতি কিংবা কোনো পুরোনো আচরণ—কোনোটিই একজন নারীর বর্তমান ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘনের অনুমতি হতে পারে না।

‘এটি শুধু এআই ভিডিওর সমস্যা নয়’

জাহ্নবীর কাছে বিষয়টি কেবল তাঁকে নিয়ে তৈরি কয়েকটি বিকৃত ভিডিওতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এ ঘটনা নারীদের প্রতিদিনের জীবনে নিরাপত্তা, সামাজিক বিচার এবং ব্যক্তিগত সীমানা নিয়ে চলমান বৃহত্তর সংকটেরই অংশ।

তিনি বলেন, ‘এটি একজন নারী হিসেবে বেঁচে থাকার বৃহত্তর বাস্তবতা—সমাজের আড়চোখে তাকানো, বিচারবুদ্ধি জাহির করা, নিরাপত্তার জন্য অবিরাম দরকষাকষি করা এবং এই অনুভূতির সঙ্গে জড়িত যে আমাদের সীমানাগুলো এখনো ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত রয়ে গেছে।’

তার মতে, নারীদের জন্য বাস্তব জীবনের শারীরিক নিরাপত্তার সংকট এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। এর মধ্যেই সেই হুমকি ডিজিটাল জগতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

‘মেয়েদের রক্ষা করো’ বললেই সমাধান নয়

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রচলিত চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন জাহ্নবী।

তিনি মনে করেন, এর সমাধান কেবল মেয়েদের সতর্ক করা বা ‘তোমার মেয়েকে রক্ষা করো’ বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বরং যে মানসিকতা অন্যের ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘনকে অধিকার হিসেবে দেখায়, সেটির পরিবর্তন জরুরি।

বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে নৈতিকতা ও সঠিক-ভুলের বোধ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সমাজে এমন পুরুষদের প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে এবং সঠিক-ভুলের পার্থক্য প্রকাশ্যে তুলে ধরতে সাহসী।

জুনিয়র এনটিআরকে ধন্যবাদ

এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত ভিডিওর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ‘দেভারা: পার্ট ওয়ান’-এর সহশিল্পী জুনিয়র এনটিআরকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাহ্নবী।

জাহ্নবী ও জুনিয়র এনটিআর অভিনীত ‘ছুট্টামালে’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই গানের ফুটেজ ব্যবহার করেই পরবর্তী সময়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহ্নবীকে বিকৃত ও যৌনতাপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে একটি ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা হয়।

ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জাহ্নবী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—প্রযুক্তি যতই শক্তিশালী হোক, একজন মানুষের সম্মতি ও ব্যক্তিগত মর্যাদার সীমারেখা অতিক্রম করার অধিকার কারও নেই।

কালের আলো/জেএন

গবেষণা অর্থায়ন নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি পাবিপ্রবির শিক্ষকদের

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
গবেষণা অর্থায়ন নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি পাবিপ্রবির শিক্ষকদের

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রণীত ‘গবেষণা অর্থায়ন পরিচালনা নির্দেশনা-২০২৬’ প্রত্যাখ্যান ও পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষকরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীমের কাছে স্মারকলিপি দেন।

পদমর্যাদার বদলে গবেষণার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, গবেষণা অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা, গবেষণার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউজিসির উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। তবে নতুন নির্দেশনায় গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক (প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর-পিআই) হিসেবে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের আবেদনের সুযোগ না রাখা এবং পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সুযোগ সীমিত বা বাতিল করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পাবিপ্রবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আশিকুর রহমান অভি বলেন, শুধু পদমর্যাদা কিংবা নির্দিষ্ট ডিগ্রির ভিত্তিতে গবেষকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি না করে গবেষণার সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং গবেষণা প্রস্তাবনার মানের ভিত্তিতে যোগ্যদের পিআই হিসেবে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের পদমর্যাদা তাঁর একাডেমিক অবস্থান নির্দেশ করলেও গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সামগ্রিক সক্ষমতা শুধু পদ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। গবেষণায় প্রকাশনা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, গবেষণাপদ্ধতির জ্ঞান, পূর্ববর্তী প্রকল্পে অংশগ্রহণ, দল পরিচালনা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

পিএইচডি বাধ্যতামূলক হলে বঞ্চিত হবেন অনেক শিক্ষক

শিক্ষকরা জানান, পাবিপ্রবির প্রায় ২১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি নেই। ফলে পিআই হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে পিএইচডি বাধ্যতামূলক করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক যোগ্য শিক্ষক স্বাধীনভাবে গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তাদের মতে, এর ফলে শুধু পাবিপ্রবি নয়, দেশের অন্যান্য বিকাশমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা নেতৃত্ব তৈরি করার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শিক্ষকদের প্রস্তাব, পিআই হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষক হওয়া, প্রাসঙ্গিক একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, মানসম্পন্ন প্রকাশনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, সাইটেশন, পূর্ববর্তী গবেষণা অনুদান ও প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পেটেন্ট, উদ্ভাবন এবং গবেষণার সামাজিক বা নীতিগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তরুণ গবেষকদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান

মানববন্ধনে শিক্ষকরা পিআই হিসেবে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ সব পর্যায়ের শিক্ষকের জন্য সমানভাবে আবেদনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য না করে তাঁদের গবেষণা সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।

তারা বলেন, পদমর্যাদার পরিবর্তে গবেষকের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং গবেষণা প্রস্তাবনার মানকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, প্রথমবার পিআই হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যোগ্য তরুণ গবেষকের প্রকল্পে অভিজ্ঞ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপককে কো-পিআই হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে একদিকে তরুণ গবেষকদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ গবেষকদের সহযোগিতায় প্রকল্পের গবেষণার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শিক্ষক-গবেষকদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা সংশোধনের দাবি

মানববন্ধন থেকে নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘গবেষণা অর্থায়ন পরিচালনা নির্দেশনা-২০২৬’ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষকদের আরও দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে শিক্ষক, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করা উচিত। একই সঙ্গে ইউজিসির সঙ্গে শিক্ষক-গবেষকদের সরাসরি মতবিনিময়সভার আয়োজনেরও দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান অভি, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস. এম. শাহেদুল আলম, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. ফাতেমা বেগম এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন।

এ ছাড়া ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুজ্জামান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. খাইরুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এসএ

আয়কর তল্লাশি নিয়ে ক্ষুব্ধ বলিউড অভিনেত্রী রাকুল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
আয়কর তল্লাশি নিয়ে ক্ষুব্ধ বলিউড অভিনেত্রী রাকুল

ভারতের আয়কর দপ্তরের সাম্প্রতিক তল্লাশি ঘিরে ছড়ানো খবরের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং। অভিনেত্রীর দাবি, আলোচিত ওই তল্লাশি তাঁর বিরুদ্ধে কিংবা তাঁর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল না। তথ্য যাচাই না করে তাঁর নাম জড়ানোয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের সমালোচনাও করেছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন রাকুল। একই সঙ্গে অবৈধ বিদেশি অর্থ লেনদেন, বেনামি সম্পত্তি কিংবা দামি উপহার পাওয়ার মতো অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি।

যেখান থেকে শুরু বিতর্ক

ঘটনার সূত্রপাত ২৮ সেপ্টেম্বর। ওই দিন মুম্বাইয়ে বলিউডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১২টি স্থানে তল্লাশি চালায় আয়কর দপ্তর।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তল্লাশির আওতায় ছিল রাকুল প্রীত সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু জায়গা, তাঁর শ্বশুর ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ভাশু ভগনানির সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান এবং কুমার মঙ্গত পাঠকের প্যানোরামা স্টুডিওস।

তদন্তে কথিত আর্থিক অনিয়ম, চলচ্চিত্রে অর্থায়নের নামে বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং সম্ভাব্য কর ফাঁকির মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

তবে তল্লাশির খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকুলকে ঘিরে শুরু হয় নানা জল্পনা। কিছু প্রতিবেদনে তাঁর নাম এমনভাবে উঠে আসে, যাতে মনে হয় তিনিও আয়কর তদন্তের সরাসরি আওতায় রয়েছেন।

‘তল্লাশিটি আমার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না’

এই জায়গাতেই আপত্তি জানিয়েছেন রাকুল। নিজের বিবৃতিতে তিনি বলেন, তথ্য যাচাই না করে খবরকে চাঞ্চল্যকর করে তোলার প্রবণতা উদ্বেগজনক।

রাকুলের ভাষায়, ‘তথ্য যাচাই না করেই খবরকে চাঞ্চল্যকর করার যে প্রবণতা তথাকথিত অনলাইন প্রতিবেদক ও কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে বাড়ছে, তা হৃদয়বিদারক। তাই বিষয়টি একবারের জন্য পরিষ্কার করে দিতে চাই—তল্লাশিটি আমার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না।’

অভিনেত্রীর অভিযোগ, এ ধরনের অনুমাননির্ভর প্রতিবেদন শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করে না, একজন মানুষের সুনাম ও পেশাজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিদেশে অবৈধ অর্থ পাঠানোর অভিযোগও অস্বীকার

আয়কর তল্লাশি ঘিরে আলোচনায় আসা বিদেশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগও নাকচ করেছেন রাকুল। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগতভাবে কিংবা কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হয়ে তিনি অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কিংবা কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমি কোনো ধরনের অবৈধ বিদেশি অর্থ লেনদেনে জড়িত নই।’

বেনামি সম্পত্তির অভিযোগও অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। দেশের ভেতরে বা বিদেশে অন্য কারও হয়ে তাঁর কোনো বেনামি সম্পত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এমনকি কেউ তাঁকে কোনো সম্পত্তি উপহার দেননি এবং নীতিগতভাবেই তিনি দামি উপহার গ্রহণ করেন না বলে জানিয়েছেন রাকুল।

নিজের পরিচয়ও তুলে ধরলেন অভিনেত্রী

বিবৃতিতে নিজের পেশাজীবনের পথচলার কথাও উল্লেখ করেছেন রাকুল। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং বলিউডে তাঁর কোনো ‘গডফাদার’ ছিল না।

নিজের পরিশ্রমেই ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা তৈরি করেছেন বলে দাবি করে রাকুল বলেন, একজন দায়িত্বশীল ও আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে ২০ বছর বয়স থেকেই তিনি নিয়মিত কর দিয়ে আসছেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—দীর্ঘদিনের পেশাজীবনে অর্জিত সুনাম যেন যাচাইহীন খবরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ভাশু ভগনানির সঙ্গে সম্পর্কেই কি আলোচনায় রাকুল?

রাকুলের নাম আলোচনায় আসার পেছনে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিনেত্রী চলচ্চিত্র প্রযোজক জ্যাকি ভগনানির স্ত্রী। জ্যাকি ভগনানির বাবা ভাশু ভগনানি বলিউডের পরিচিত প্রযোজক এবং পূজা এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে যুক্ত।

আয়কর দপ্তরের তল্লাশির খবর প্রকাশের সময় ভাশু ভগনানি ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম সামনে আসে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাকুলের নামও উঠে আসে।

তবে নিজের বিবৃতিতে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই তল্লাশির সঙ্গে তাঁকে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক নয়।

বিতর্কের মধ্যেই ‘রামায়ণ’-এ নতুন চরিত্র

আয়কর তল্লাশি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন রাকুল। সামনে তাঁর অন্যতম বড় প্রকল্প নিতেশ তিওয়ারির বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’।

ছবিতে রামের চরিত্রে রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে অভিনয় করছেন সাই পল্লবী। রাকুলকে দেখা যাবে শূর্পণখার চরিত্রে।

সাম্প্রতিক সময়ে কাজের পাশাপাশি আয়কর তল্লাশি ঘিরে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় এবার নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

কালের আলো/জেএন