খুঁজুন
                               
, ,
           

যাকে ভালোবাসি, তাকেই কেন বেশি কষ্ট দিই?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
যাকে ভালোবাসি, তাকেই কেন বেশি কষ্ট দিই?

ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গেই আমরা সবচেয়ে বেশি সময় কাটাই, ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিকল্পনা করি এবং নিজের অনুভূতিগুলোও সবচেয়ে খোলামেলাভাবে প্রকাশ করি। তাই সম্পর্ক যত গভীর হয়, আনন্দের পাশাপাশি অভিমান, হতাশা ও কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়তে পারে।

মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিশ্লেষণেও দেখা যায়, যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তার আচরণই অনেক সময় আমাদের ওপর সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। সাইকোলজি টুডে-এর এক বিশ্লেষণে এর অন্যতম কারণ হিসেবে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ঘনিষ্ঠ মানুষই কেন বেশি প্রভাব ফেলেন?

একজন অপরিচিত মানুষের কথা বা আচরণ সাধারণত আমাদের জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তাই তিনি কোনো ছোটখাটো ভুল করলে সেটি সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকা বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বিষয়টি আলাদা। এই মানুষটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নানা সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন। ফলে তাঁর আচরণ আমাদের আবেগকে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাবিত করে।

একটি ছোট মন্তব্য, অবহেলা কিংবা সময় না দেওয়ার ঘটনাও তাই প্রিয় মানুষের কাছ থেকে এলে অনেক বড় মনে হতে পারে।

অপরিচিতের চেয়ে প্রিয় মানুষের কাছে প্রত্যাশা বেশি

অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আমরা সাধারণত সামাজিক ভদ্রতা বজায় রাখি। তিনি কোনো ভুল করলে বিষয়টি অনেক সময় হাসিমুখে এড়িয়ে যাই।

কিন্তু প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। তিনি আমাদের বুঝবেন, সময় দেবেন, গুরুত্ব দেবেন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সমস্যা তৈরি হয় যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তখন হতাশা, রাগ, অভিমান কিংবা অভিযোগ দেখা দিতে পারে। ফলে যে মানুষটির প্রতি আমাদের সবচেয়ে বেশি টান, তাঁর সঙ্গেই কখনো কখনো বেশি তর্ক বা মনোমালিন্য তৈরি হয়।

ভালোবাসায় শুধু ভদ্রতা নয়, দরকার সততাও

একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবসময় শুধু ভালো কথা বলাই যথেষ্ট নয়। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে দুজনেরই নিজের সমস্যা, কষ্ট, অসন্তুষ্টি ও প্রত্যাশার কথা প্রকাশ করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

সঙ্গীর কোনো আচরণে সমস্যা হলে তা নিয়ে কথা বলা সাময়িকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু সবকিছু মনে চেপে রাখার পরিবর্তে সম্মান ও সংযমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যেখানে সামাজিক ভদ্রতা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে গভীর সম্পর্কে সততা, খোলামেলা যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বেশি কষ্ট পাওয়া কি বেশি ভালোবাসার প্রমাণ?

এখানেই বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রিয় মানুষকে কষ্ট দেওয়া বা তাঁর কাছ থেকে কষ্ট পাওয়া নিজে থেকে ভালোবাসার প্রমাণ নয়।

বরং গভীর সম্পর্ক মানুষকে বেশি সংবেদনশীল ও দুর্বল করে তুলতে পারে। সম্পর্কটি যত গুরুত্বপূর্ণ হয়, সেটি হারানোর ভয়, প্রত্যাশা এবং হতাশার প্রভাবও তত বেশি হতে পারে।

তাই কোনো সম্পর্কের মান বিচার করতে শুধু একটি মুহূর্তে কে কী আচরণ করল, সেটি দেখা যথেষ্ট নয়। বরং দুজন মানুষ দীর্ঘমেয়াদে একে অন্যের প্রতি কতটা যত্নশীল, সমস্যার সময় কীভাবে কথা বলেন এবং ভুলের পর কীভাবে সম্পর্কটি মেরামত করেন—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কষ্টের পর কীভাবে সম্পর্ক সামলানো হয়

প্রতিটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেই মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা মানসিক আঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই পরিস্থিতির পর দুজন কীভাবে তা সামাল দেন।

ক্ষমা চাওয়া, নিজের ভুল স্বীকার করা, অন্যজনের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন হলে নিজের আচরণ পরিবর্তন করা—এসব সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী আরন বেন-জিভ তাঁর ‘দ্য আর্ক অব লাভ’ বইয়ে প্রেমের সম্পর্কের পরিবর্তনশীলতা ও ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় পল টি. পি. ওয়াং ও ক্রিস্টোফার এইচ. মেয়ার ভালোবাসার আনন্দের পাশাপাশি এর সঙ্গে থাকা কষ্ট ও তিক্ততার দিকও তুলে ধরেছেন।

ভালোবাসার আসল পরীক্ষা কোথায়?

ভালোবাসা মানেই এমন সম্পর্ক নয়, যেখানে কখনো কষ্ট, অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝি হবে না। বরং গভীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব ঘটনার পর দুজন কীভাবে আবার একে অন্যের কাছে ফিরতে পারেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই, তাঁর আচরণই আমাদের সবচেয়ে বেশি নাড়া দিতে পারে। তাই প্রিয় মানুষকে কষ্ট দিয়ে ফেললে সেটিকে ভালোবাসার স্বাভাবিক অজুহাত না বানিয়ে, কেন কষ্ট হলো তা বোঝার চেষ্টা করা এবং সম্পর্কটিকে আরও ভালো করার উদ্যোগ নেওয়াই হতে পারে সুস্থ ভালোবাসার পরিচয়।

কালের আলো/এসএ

স্লো ওভার রেটে শাস্তি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
স্লো ওভার রেটে শাস্তি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের

অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হয়। নিউ চণ্ডিগড়ে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে সেই শাস্তিই পেল ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দুই দলের শাস্তির মাত্রা এক নয়। নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ করতে ভারতের দেরি হয়েছে বেশি, তাই তাদের জরিমানাও হয়েছে বেশি।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, স্লো ওভার রেটের কারণে ভারতের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

৪ ওভার পিছিয়ে ভারত

নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ভারত চার ওভার পিছিয়ে ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পিছিয়ে ছিল দুই ওভার। এ কারণে দুই দলের বিরুদ্ধেই স্লো ওভার রেটের অভিযোগ আনা হয়।

মাঠের আম্পায়ার জয়ারামন মাদানাগোপাল ও স্যাম নোগাজস্কি, তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ এবং চতুর্থ আম্পায়ার বীরেন্দ্র শর্মা দুই দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

পরে ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট বিষয়টি পর্যালোচনা করে দুই দলের জন্য জরিমানার সিদ্ধান্ত জানান।

ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেন। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

সিরিজ অবশ্য ভারতের

স্লো ওভার রেটের শাস্তির পাশাপাশি তৃতীয় ওয়ানডেতে অবশ্য ভারতের জন্য ফল ছিল হতাশার। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৩৫২ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচটি ৫ উইকেটে হেরে যায় ভারত।

তবে শেষ ম্যাচে হারলেও সিরিজ হাতছাড়া হয়নি ভারতের। প্রথম দুই ওয়ানডেতে জয় পাওয়ায় সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল ভারত। ফলে তৃতীয় ম্যাচের পরও সিরিজের ট্রফি থাকছে ভারতের কাছেই।

কালের আলো/এসএ

শেষ বলে জিতল শ্রীলঙ্কা, হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
শেষ বলে জিতল শ্রীলঙ্কা, হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। শেষ বলে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।

সাদিয়ার ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাইমুনা নাহের। ৬ বল খেলে তিনি করেন মাত্র ১ রান। আরেক ওপেনার অচেনা জান্নাত ২৪ বলে ১৬ রান করেন। বিবি আয়েশা কোনো রান না করেই আউট হন।

এরপর চতুর্থ উইকেটে নিশিতা আক্তার নিশিকে সঙ্গে নিয়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটিতে রান আসতে থাকে। নিশিতা রানআউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ২৬ রান করেন।

অধিনায়ক সাদিয়া অবশ্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। মাত্র ২২ বলে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাউন্ডারি।

এ ছাড়া সাদিয়া আক্তার ১৮ বলে ১৮, ফারজানা ইয়াসমিন ৭ বলে ৬ এবং কুমারি শ্রীবণী রাণী ৫ বলে ৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

শেষ বলে জয় শ্রীলঙ্কার

১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন নেটমি উপেক্ষা। তবে এরপর দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে এগিয়ে নেন ব্যাটাররা।

ওই জুটিই মূলত শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। ওপেনার সাঞ্জানা কাভিন্দি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন। তার সঙ্গে বালাসুরিয়া করেন ২১ রান। মানুদি ১১, মাথসারা ৯, সেওমিনি ১০ এবং লিমানসা ২ রান যোগ করেন।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের উত্তেজনা গড়ায় শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ বলে প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। ফলে খুব কাছে গিয়েও জয় থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নিশিতা আক্তার নিশি সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। ফারজানা ইয়াসমিন ও আফরিন মিম নেন একটি করে উইকেট।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে হেরে যাওয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য পরের ম্যাচটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মেসি

দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন এই মহাতারকা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে অনুষ্ঠিত হবে।

আর্জেন্টিনার হয়ে এটিই মেসির শেষ ম্যাচ। আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এই ম্যাচকে মেসির প্রাপ্য বিদায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শেষবারের মতো আর্মব্যান্ড হাতে

৩৯ বছর বয়সী মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুশীলন কেন্দ্রে তার পৌঁছানোর ছবি প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামেই শেষবারের মতো আলবিসেলেস্তেদের জার্সি পরবেন মেসি। তার বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদেরও এই বিশেষ ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হতে মাঠে থাকবেন আর্জেন্টিনার পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররাও।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির রেকর্ড

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। তার নেতৃত্বে দলটি জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ।

জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডও মেসির দখলে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনার হয়ে তার ২০৮তম ও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি।

একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই চিত্র। অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বড় তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা এনে দিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।

‘আমার আর কিছু দেওয়ার নেই’

আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান মেসি। সে সময় তিনি জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ পাওয়ার সময় এসেছে।

তার এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে মেসির দুই দশকের বেশি সময়ের সম্পর্ক।

তবে ক্লাব ফুটবলে এখনই থামছেন না মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে তার খেলা অব্যাহত থাকবে। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায় নিলেও ফুটবল মাঠে মেসিকে আরও কিছুদিন দেখা যাবে।

মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) এর বেনিন ম্যাচ তাই শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়—আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা। দেশের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে শেষবারের মতো মাঠে দেখার অপেক্ষায় থাকবে হাজারো সমর্থক।

কালের আলো/এসএ