খুঁজুন
                               
, ,
           

শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী-দীপু মনিসহ ১১ জন

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী-দীপু মনিসহ ১১ জন

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, দীপু মনিসহ ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।

মামলায় মোট ৪১ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মৃণাল কান্তি দাস ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

বুধবারের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ব্রিটেন ছাড়ছেন অতিধনীরা

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
ব্রিটেন ছাড়ছেন অতিধনীরা

ধনীরা দেশ ছাড়লে শুধু বাড়ির ঠিকানা বদলায় না—সরে যেতে পারে করের টাকা, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিটেনে এখন সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর গত দুই বছরে এক ডজনের বেশি অতিধনী দেশ ছেড়েছেন কিংবা ব্রিটেনের সঙ্গে তাঁদের কর-আবাসনের সম্পর্ক কমিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের মূল্য প্রায় ১২০ বিলিয়ন পাউন্ড।

অঙ্কটি অবশ্য ব্রিটেন থেকে ১২০ বিলিয়ন পাউন্ড নগদ বেরিয়ে যাওয়ার হিসাব নয়। এটি সংশ্লিষ্ট ধনীদের মোট সম্পদের মূল্য। কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বড় উদ্বেগ—যাঁরা চলে যাচ্ছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আয়, কর, বিনিয়োগ ও ব্যয়ের কতটা আর ব্রিটেনে থাকবে?

  • ১২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদের মালিকদের দেশত্যাগে বাড়ছে রাজস্ব হারানোর শঙ্কা
  • করনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
  • সরকারের সামনে কঠিন ভারসাম্য

একের পর এক বদলাচ্ছে ঠিকানা

দেশত্যাগী অতিধনীদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তাল। ৩০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদের মালিক মিত্তাল গত বছর তাঁর কর-আবাসন সুইজারল্যান্ডে সরিয়েছেন এবং অধিকাংশ সময় দুবাইয়ে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ডেভিড রুবেনও গ্রীষ্মে মোনাকোয় চলে গেছেন। তাঁর সম্পদের মূল্য প্রায় ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড। আর হেজ ফান্ড ব্যবসায়ী ক্রিস রোকোস গ্রিসে কর-আবাসন সরাচ্ছেন। বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালে প্রায় ৩৩ কোটি পাউন্ড কর দিয়ে তিনি ব্রিটেনের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যক্তিগত করদাতা হয়েছিলেন। অর্থাৎ ব্রিটেন শুধু একজন ধনী বাসিন্দাকে হারাচ্ছে না; হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে ভবিষ্যতের বড় অঙ্কের করও।

‘নন-ডম’ সুবিধা বন্ধেই চাপ বাড়ল

ধনীদের ঠিকানা বদলের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ব্রিটেনের ‘নন-ডম’ করব্যবস্থা বাতিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দীর্ঘদিনের এই বিশেষ সুবিধা তুলে দেওয়া হয়। এর আওতায় ব্রিটেনে বসবাস করেও বিদেশকে স্থায়ী আবাস হিসেবে দেখানো কিছু ব্যক্তি বিদেশি আয় ও সম্পদের ওপর বিশেষ করসুবিধা পেতেন।

নতুন ব্যবস্থায় সেই সুবিধা সংকুচিত হওয়ায় অতিধনীদের করের দায় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মূলধনি মুনাফা, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার করের চাপ নিয়ে উদ্বেগ যোগ হয়েছে। ফলে ব্রিটেনে থাকা এখন অনেক অতিধনীর কাছে শুধু জীবনযাপনের পছন্দ নয়, বড় আর্থিক সিদ্ধান্তও।

ক্ষতি শুধু করভান্ডারে নয়

একজন অতিধনী দেশ ছাড়লে রাষ্ট্রের ক্ষতি তাঁর ব্যক্তিগত আয়করেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যয়, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও অন্য দেশে সরে যেতে পারে।

ফোনসফোরইউ প্রতিষ্ঠাতা জন কডওয়েল এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গ্রেশাম হাউসের প্রধান টনি ডালউডের মতে, ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর কর বাড়তে থাকলে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এখানেই ব্রিটেনের জন্য আসল ঝুঁকি। একজন ধনী চলে যাওয়ার অর্থ শুধু একজন করদাতাকে হারানো নয়; তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি অংশও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়া।

সরকারের যুক্তি উল্টো

তবে ব্রিটিশ সরকার এই প্রবণতাকে অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের দাবি, স্থিতিশীল করব্যবস্থা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষ কর্মশক্তির কারণে ব্রিটেন এখনো আন্তর্জাতিক প্রতিভা ও বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়।

সরকারের এই অবস্থানের পেছনে যুক্তিও আছে। কোনো দেশের করব্যবস্থা শুধু ধনীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি হতে পারে না; করের ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু সেই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যদি অতিধনী ও উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ বিকল্প আবাস খুঁজে নেয়, তাহলে রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগ—দুই দিকেই চাপ তৈরি হতে পারে।

সামনে কঠিন সমীকরণ

তাই ব্রিটেনের সামনে এখন দ্বিমুখী সমীকরণ। একদিকে করব্যবস্থায় ন্যায্যতা ও রাজস্ব বাড়াতে হবে, অন্যদিকে এমন পরিবেশও ধরে রাখতে হবে যাতে অতিধনী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা দেশ ছাড়ার প্রয়োজন অনুভব না করেন।

১২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ তাই শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়। এটি ব্রিটিশ অর্থনীতির সামনে থাকা প্রশ্নেরও প্রতীক—কর বাড়িয়ে কতটা রাজস্ব আদায় করা যাবে, আর সেই করের চাপের কারণে কতটা সম্পদ, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ রাজস্ব দেশের বাইরে চলে যেতে পারে? শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের সাফল্য নির্ভর করবে এই ভারসাম্য কতটা দক্ষতার সঙ্গে ধরে রাখা যায় তার ওপর।

কালের আলো/এসকে/এমকে

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ শিশু। এ ছাড়া ১০২ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে একজন ও সিলেটে একজন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৯৩ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০ জনে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (শিডিউল ওয়ান অব দ্য রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬)-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বরকে প্রতি বছর সাধারণ ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি