খুঁজুন
                               
, ,
           

মাদক নির্মূলে কঠোর সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্বও মাঠে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
মাদক নির্মূলে কঠোর সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্বও মাঠে

মাদকের বিরুদ্ধে এবার শুধু অভিযান নয়, মাঠে নেমেছেন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বও। সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন, জনসচেতনতা কর্মসূচি, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি আসছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই—মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে যুক্ত হলে দলীয় পরিচয় কোনোভাবেই সুরক্ষা দেবে না।

বছরের পর বছর মাদক পরিবার ও সমাজে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ মাদক নির্মূলের লড়াই শুধু পুলিশের হাতে থাকলে কারবারিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ভাঙা কঠিন। জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি মাঠে থাকলে প্রশাসনিক উদ্যোগের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে।

  • রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধ দেখেই ব্যবস্থা
  • সীমান্ত থেকে অনলাইন, সরবরাহ বন্ধে বাড়ছে নজরদারি
  • সরকারের কঠোর বার্তার সঙ্গে এমপিদের সরাসরি তৎপরতা

‘নিজ দলের হলেও আগে ব্যবস্থা’

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক তাঁর এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষক, ইমাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সমাজের সজ্জন ব্যক্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে মাদকবিরোধী কমিটি করা হচ্ছে। ইউনিয়নে ৫১ জন এবং ওয়ার্ডে ২১ সদস্যের কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতি মাসে দুটি সভা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আইনুল হকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—নিজ দলের কেউ মাদক কারবার বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আইন প্রয়োগের এই অবস্থানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। কারণ কারবারিরা রাজনৈতিক আশ্রয় হারালে তাদের স্থানীয় প্রভাবও কমে আসবে।

ময়মনসিংহে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালীবাড়ী যুব স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দেন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ দলীয় নেতাকর্মীদেরও সতর্ক করে ওয়াহাব আকন্দ আরও বলেন, আত্মীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ মাদক কারবারির পক্ষে কথা বললেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২১ জুন ময়মনসিংহে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অর্থাৎ রাজনৈতিক বক্তব্য এখন শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি, সভা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সেটিকে কার্যকর করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

রামগঞ্জে সচেতনতা ও প্রশাসনিক কঠোরতার আহ্বান

গত ৩০ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসার অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, তাঁর এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা রয়েছে। এ কারণে জনসচেতনতা তৈরি, মিছিল-শোভাযাত্রা এবং সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামিনে বেরিয়ে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষার লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

পরিবারকেও প্রতিরোধের অংশ করছেন এমপিরা

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের উদ্যোগে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পরিবারকে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে থানাভিত্তিক ‘মাদক নিয়ন্ত্রক সমন্বয় কমিটি’ করা হয়েছে।

মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের শনাক্ত করার পর তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের সহায়তা। এই উদ্যোগ মাদকবিরোধী লড়াইকে শুধু শাস্তিমূলক অবস্থান থেকে প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ একজন আসক্তকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

৬২ হাজার কোটি টাকার বাজারে আঘাত

অপরাধ বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশে বছরে ৬০ থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য হয়। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও আইসসহ বিভিন্ন মাদক সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও কক্সবাজারের সীমান্তকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে বড় অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। সীমান্ত থেকে রাজধানী পর্যন্ত মাদক পৌঁছাতে একাধিক চেকপোস্ট অতিক্রম করতে হয়। তাই পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে নজরদারিতে আনতে হবে।

তাঁর মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুক্ত হলে অভিযান আরও কার্যকর হবে।

অনলাইন কারবারেও বাড়ছে সক্ষমতা

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই এখন ডিজিটাল পরিসরেও বিস্তৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচার প্রবণতা ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, অনলাইনে অপরাধ হলেও প্রযুক্তির মাধ্যমেই অপরাধী শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে অনলাইনে মাদক বিক্রির মতো অপরাধ শনাক্ত ও তদন্তের সক্ষমতাও বাড়ছে।

কঠোরতার সঙ্গে মানবিক সমাধান

মাদক নির্মূলে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং এমপিদের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছে। এখন এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে তিনটি পথে—মাদকের সরবরাহ বন্ধ, কারবারিদের অর্থের উৎস শনাক্ত এবং আসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজকে যুক্ত করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে যে কমিটিগুলো গড়ে উঠছে, সেগুলো যদি নিয়মিতভাবে কাজ করে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রাখে, তাহলে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও স্থায়ী রূপ পেতে পারে।

সবচেয়ে বড় ইতিবাচক বার্তা হলো—মাদকের বিরুদ্ধে এখন কঠোরতার কথা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে না; রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রকাশ্যে বলছে, ‘নিজ দলের হলেও ছাড় নয়।’ এই অবস্থান কার্যকর হলে মাদক কারবারিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয়ের জায়গা সংকুচিত হবে। আর সেই জায়গাটিই হতে পারে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

কালের আলো/জেএন/এমকে

ফোনের অ্যাপ আপডেট না করলে যে ৫ সমস্যায় পড়তে পারেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ফোনের অ্যাপ আপডেট না করলে যে ৫ সমস্যায় পড়তে পারেন

স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় নিয়মিতই আপডেটের নোটিফিকেশন পান ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অনেকেই অ্যাপ ঠিকঠাক কাজ করছে—এমন ধারণা থেকে নতুন সংস্করণ ইনস্টল না করে নোটিফিকেশনটি এড়িয়ে যান। আপাতদৃষ্টিতে এতে সমস্যা না হলেও দীর্ঘদিন অ্যাপ আপডেট না করলে নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স ও সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নতুন ফিচার যোগ করার পাশাপাশি অ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করা, বাগ ঠিক করা, পারফরম্যান্স উন্নত করা এবং নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হয় আপডেটের মাধ্যমে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে

নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিরাপত্তা। কোনো অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে নিরাপত্তা ত্রুটি থাকলে সাইবার অপরাধীরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে ফোন বা অ্যাপের ভেতরে থাকা তথ্যের ক্ষতি করার সুযোগ পেতে পারে।

কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি সমাধানের জন্য নির্মাতারা সাধারণত নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। তাই দীর্ঘদিন আপডেট না করলে ত্রুটিটি ঠিক করার পরও ব্যবহারকারীর ফোনে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ থেকে যেতে পারে।

নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হবেন

অ্যাপ নির্মাতারা নিয়মিত নতুন সুবিধা যুক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিউজিক, পডকাস্ট, কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবার অ্যাপে নতুন ফিচার পেতে হলে অনেক সময় সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল করা প্রয়োজন হয়।

পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করলে এসব সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে। ফলে নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও অন্যদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়ে।

তবে আপডেটের পর অ্যাপের ইন্টারফেসে পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি আগে থাকা কোনো ফিচার পরিবর্তিত বা বাদও যেতে পারে।

বাগ ও ধীরগতি কমাতে

অ্যাপের কারিগরি ত্রুটি বা বাগ সমাধান করাও আপডেটের অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ধীরগতিতে কাজ করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি ও ফোনের রিসোর্স ব্যবহার করার মতো সমস্যা দেখা দিলে নতুন সংস্করণে তার সমাধান থাকতে পারে।

এ ছাড়া অ্যাপের কোড ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অংশ উন্নত করার মাধ্যমে কার্যকারিতা বাড়ানো হয়। ফলে আপডেটের পর অ্যাপ আগের তুলনায় দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারে।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের সঙ্গে সামঞ্জস্য

স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণ চালু হলে অ্যাপ নির্মাতাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ভেতরে পরিবর্তন আনতে হয়।

অ্যাপ পুরোনো থাকলে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের কিছু সুবিধা ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাপ চালু করতে বা নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহার করতেও সমস্যা হতে পারে। এমনকি কিছু অ্যাপ একপর্যায়ে সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল না করলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করবেন যেভাবে

অ্যাপ আপডেটের ঝামেলা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ডিভাইসেই স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালুর সুযোগ রয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েডে: গুগল প্লে স্টোর খুলে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর Settings → Network preferences → Auto-update apps অপশনে গিয়ে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করা যায়।

আইফোনে: Settings → Apps → App Store-এ গিয়ে App Updates অপশনটি চালু করতে হবে।

তবে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলেও মাঝেমধ্যে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে আপডেট বাকি আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো। কারণ সব আপডেট সবসময় একই সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল নাও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অ্যাপ আপডেটকে শুধু নতুন ফিচার পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। স্মার্টফোনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেও নিয়মিত আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন

এশিয়ার বড় বাজারে রপ্তানি বাড়ায় সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
এশিয়ার বড় বাজারে রপ্তানি বাড়ায় সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলার। ভারতে রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার এসব বাজারে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা, ক্রেতাদের চাহিদা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের নতুন নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য আরও জোরদারের সুযোগও রয়েছে।

চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলায় অংশ নিয়েছে। এতে রপ্তানিকারকেরা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বাজারেও তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এশিয়ার বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের এই প্রবণতা বাংলাদেশের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

এআই চিপের ‘টেরাফ্যাব’ নিজেরাই বানাবে টেসলা-স্পেসএক্স: মাস্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
এআই চিপের ‘টেরাফ্যাব’ নিজেরাই বানাবে টেসলা-স্পেসএক্স: মাস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চিপ তৈরির জন্য নিজেদের বিশাল কারখানা বা ‘টেরাফ্যাব’ নিজেরাই নির্মাণ ও পরিচালনা করবে টেসলা ও স্পেসএক্স। এ উদ্যোগে তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি (TSMC) চাইলে প্রকল্পের একটি অংশ সাবলিজ নিতে পারে, তবে কারখানার মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতে দেওয়া হবে না।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক।

এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে টিএসএমসি হয়তো টেরাফ্যাবের মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এর জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘না, আমরা ফ্যাবটি তৈরি করব এবং চালাব। এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহও যেন না থাকে।’

এরপর তিনি আরও জানান, টিএসএমসি চাইলে টেরাফ্যাবের কিছু অংশ সাবলিজ নিতে পারে। তবে প্রকল্পের মূল পরিচালনা ও মালিকানা তাদের হাতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

টেক্সাসে বিশাল চিপ কারখানার পরিকল্পনা

‘টেরাফ্যাব’ হলো টেক্সাসে টেসলা ও স্পেসএক্সের যৌথভাবে পরিকল্পিত একটি বড় প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপ তৈরির জন্য বিশাল আকারের একটি ফ্যাব বা সেমিকন্ডাক্টর কারখানা গড়ে তোলা।

এআই, রোবটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে টেসলার বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজনীয় চিপের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। স্পেসএক্সের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বিভিন্ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

টিএসএমসির সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা

এর আগে গত সপ্তাহে টেরাফ্যাব প্রকল্পে টিএসএমসির সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মাস্ক। তবে সেই আলোচনার ধরন বা সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এদিকে প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের সম্পৃক্ততার কথাও সামনে এসেছে। ইন্টেলের সিইও লিপ-বু তান বুধবার ব্লুমবার্গ নিউজকে জানান, টেরাফ্যাব প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে ইন্টেল যুক্ত থাকবে।

ফলে টেসলার এআই চিপ উৎপাদন পরিকল্পনায় একদিকে ইন্টেলের সম্পৃক্ততা এবং অন্যদিকে টিএসএমসির সম্ভাব্য সহযোগিতা—দুই বিষয়ই প্রযুক্তি খাতে আগ্রহ তৈরি করেছে।

টিএসএমসি-ইন্টেলের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

মাস্ক যখন টেরাফ্যাবের জন্য বিভিন্ন অংশীদার নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন টিএসএমসির সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ইন্টেলের ভূমিকা কতটা থাকবে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি টিএসএমসি ও ইন্টেল।

তবে মাস্কের সর্বশেষ বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—এআই চিপ উৎপাদনে টেসলা ও স্পেসএক্স নিজেদের অবকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে এবং টেরাফ্যাবের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কালের আলো/জেএন