খুঁজুন
                               
, ,
           

রামপালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪৪২ মেগাওয়াট

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রামপালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪৪২ মেগাওয়াট

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ নামে এ উদ্যোগের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এর মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের সাহায্যে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের ঋণে বার্ষিক সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময় পাওয়া যাবে ১৬ বছর।

প্রকল্পটি রামপালের ‘ব্লক-বি’ এলাকায় ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে। জমিটি আগে থেকেই বিপিডিবির অধিগ্রহণ করা থাকায় নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এতে প্রকল্প ব্যয়ও তুলনামূলক কম থাকবে।

কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ জন্য তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং ২৩০ কেভির তিনটি বে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পে সর্বনিম্ন ৬৪০ ওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌর ফটোভোলটাইক মডিউল, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার, পুলিং সাবস্টেশনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ, ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা, সৌর ফটোভোলটাইক মডিউল ও মাউন্টিং স্ট্রাকচার কেনায় ব্যয় হবে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৪৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আসবে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমাতে সহায়তা করবে প্রকল্পটি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। নির্মাণকালে প্রকল্প কার্যালয়ে ২৫ জন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় ২০০ জন সাময়িক শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। কেন্দ্র চালু হলে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ২৬১ জনের কর্মসংস্থান হবে।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি কাঠামোর ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নিজের কোন অদ্ভুত প্রতিভার কথা জানালেন জাহ্নবী?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
নিজের কোন অদ্ভুত প্রতিভার কথা জানালেন জাহ্নবী?

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরকে নিয়ে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এবার কোনো বিতর্ক বা এআইনির্ভর বিকৃত ভিডিও নয়, বরং নিজেরই বলা এক মজার তথ্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ‘হিডেন ট্যালেন্ট’ বা লুকানো প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে জাহ্নবী জানান, তিনি নাকি নিজের জিহ্বা ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরাতে পারেন। যদিও এই অদ্ভুত ক্ষমতাকে খুব একটা বিশেষ প্রতিভা বলে মনে করেন না অভিনেত্রী। বরং এটিকে ‘বোকা বোকা’ ও তেমন কোনো কাজে লাগে না—এমন একটি দক্ষতা হিসেবেই দেখেন তিনি।

স্কুলেই আবিষ্কার অদ্ভুত প্রতিভা

কীভাবে নিজের এই বিশেষ ক্ষমতার কথা জানতে পেরেছিলেন, সেই গল্পও জানিয়েছেন জাহ্নবী।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের মধ্যে একবার প্রতিযোগিতা হয়েছিল—কে জিহ্বা দিয়ে নিজের নাক স্পর্শ করতে পারেন। সেই প্রতিযোগিতায় অবশ্য সফল হতে পারেননি তিনি।

তবে বন্ধুদের চমকে দিতে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেন জাহ্নবী। তখনই নিজের জিহ্বা ঘোরানোর এই অদ্ভুত ক্ষমতা আবিষ্কার করেন তিনি। এরপর থেকেই এটিকে নিজের ‘হিডেন ট্যালেন্ট’ হিসেবে মনে রেখেছেন অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া

জাহ্নবীর মুখে এই অদ্ভুত প্রতিভার কথা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ বিষয়টি নিয়ে মজা করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—এটিকে আদৌ ‘স্কিল’ বা প্রতিভা বলা যায় কি না।

তবে জাহ্নবীর এই স্বীকারোক্তি যে সাক্ষাৎকারটিকে বেশ মজার করে তুলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

এর আগে এআই ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

এর আগে এআইনির্ভর একটি বিকৃত ভিডিও নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন জাহ্নবী। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবারা: পার্ট ১’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামালে’র ভিডিও এআইয়ের মাধ্যমে বিকৃত করে সেখানে অভিনেত্রীকে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

ওই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছিলেন জাহ্নবী। নারীদের ছবি বিকৃত করে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কাজের নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিনেতা জুনিয়র এনটিআরকেও ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।

তবে এবার কোনো বিতর্ক নয়, বরং নিজের মজার ‘হিডেন ট্যালেন্ট’-এর কারণেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জাহ্নবী কাপুর।

কালের আলো/জেএন

ডিসেম্বরেই চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম হবে ডিজিটাল

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরেই চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম হবে ডিজিটাল

দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও ‘স্মার্ট’ বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম বিবেচনায় প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন অনলাইন সেবার পরিবর্তে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল অটোমেশনের পরিধি বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের শতভাগ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

বন্দর সূত্র আরও জানায়, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আমদানিকারক ও তাদের মনোনীত এজেন্টরা সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনেও সার্বক্ষণিক অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দরের পাওনা পরিশোধ না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ আদায়ের জন্য ‘অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত জুলাইয়ে টিওএসের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমদানি কনটেইনারের ডেলিভারি অর্ডার ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে আমদানিকারকেরা কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে প্রয়োজনীয় নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন।

বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানজট কমাতে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালু করা হচ্ছে। ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্টও (ইআইআর) ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে ট্রাক প্রবেশ, পণ্য বোঝাই ও বের হওয়ার সময়সূচি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া কাস্টমসের নিলামজাত পণ্য সরবরাহ, বিশেষ ডেলিভারি এবং ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কার্যক্রম এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট লজিস্টিকস অংশীদারদের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

বন্দর সচিব জানান, বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিংয়েও ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন বে-টার্মিনালে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্লটভিত্তিক ডিজিটাল পার্কিং টিকিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া বন্দরের ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই’ প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে।

বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ডও রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, জাহাজ বন্দরে আসা, বিল পরিশোধ, কাস্টমস ছাড়পত্র, পণ্য খালাস থেকে চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ও অনুসরণযোগ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। এতে পণ্য খালাসে সময় কমার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত ও বন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাতীয় দল ছাড়ার কারণ জানালেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
জাতীয় দল ছাড়ার কারণ জানালেন রোনালদো

পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জে জেসুসের বিরুদ্ধে দুবার কথা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন দলের অধিনায়ক ও তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো নিয়ে কোচের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধের জেরেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো।

যে প্রতিশ্রুতিতে ভাঙল সম্পর্ক

রোনালদোর দাবি, জেসুসের সঙ্গে আগে থেকেই তার একটি পরিকল্পনা হয়েছিল। শারীরিক সক্ষমতা ঠিক রাখতে নরওয়ে ও ডেনমার্ক—দুই ম্যাচেই তাকে না খেলানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন পরিস্থিতি বদলে যায়। রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচের সময় কোচ তাকে প্রায় ৩০ মিনিট খেলানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রোনালদো বলেন, ‘সবাই জানে এরপর কী হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আমি ওয়ার্মআপ করেছি, মিনিটগুলো পার হতে দেখেছি, কিন্তু আমাকে মাঠে নামানো হয়নি। ম্যানেজার আমার সঙ্গে করা কথা রাখেননি।’

বৈঠকে ছিল আল নাসরের কর্মকর্তাও

ঘটনার পর জেসুসের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন রোনালদো। সেই বৈঠকে তার ক্লাব আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনহোও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান পর্তুগিজ তারকা।

রোনালদোর দাবি, ওই বৈঠকে পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনাটি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, সে বিষয়েও একটি সমঝোতা হয়েছিল। এমনকি এ নিয়ে আট দফার একটি নথিও তৈরি করা হয়।

সেখানে উল্লেখ ছিল, রোনালদো কখনো মাঠে নামার দাবি জানাননি, কোচের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেছেন এবং তাকে ওয়ার্মআপ করিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামানোর বিষয়টি কোচের ভুল ছিল।

‘দ্বিতীয়বার কথা রাখেননি’

তবে রোনালদোর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে জেসুস যে বক্তব্য দেন, তা ব্যক্তিগত বৈঠকে হওয়া আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আর এটিকেই তিনি কোচের দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন।

রোনালদোর ভাষায়, ‘এটি দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমার সঙ্গে করা কথা রাখেননি। আর কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অপেক্ষা না করে আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

ঘটনার পর রোনালদোর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোচের সঙ্গে তার সম্পর্কের এই টানাপোড়েন পর্তুগাল দলের সামনের ম্যাচ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/জেএন