খুঁজুন
                               
, ,
           

রহস্যের জাদুতে ‘দৃশ্যম ৩’, আয় ছাড়াল ৩০০ কোটি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
রহস্যের জাদুতে ‘দৃশ্যম ৩’, আয় ছাড়াল ৩০০ কোটি

রহস্য, সাসপেন্স আর বুদ্ধির লড়াই—‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটি কিস্তিই দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে আলাদা আগ্রহ। সেই ধারাবাহিকতায় অজয় দেবগন অভিনীত ‘দৃশ্যম ৩ : দ্য কনক্লুশন’ ঘিরেও ছিল ব্যাপক প্রত্যাশা। মুক্তির পর বক্স অফিসে ছবিটি বড় সাফল্য পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে ছবিটির বিশ্বব্যাপী ‘গ্রস’ আয় ৩০৩ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে সিনেমাটি।

অজয়ের অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক

অভিষেক পাঠক পরিচালিত সিনেমাটিতে আবারও বিজয় সালগাঁওকর চরিত্রে ফিরেছেন অজয় দেবগন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন টাবু, জয়দীপ আহলাওয়াত, অক্ষয় খান্না, প্রকাশ রাজ ও রজত কাপুরের মতো অভিনেতারা।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অজয় দেবগনের সংযত কিন্তু প্রভাবশালী অভিনয়। বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে তাঁর অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল প্রশংসা পাচ্ছে।

বিশেষ করে জয়দীপ আহলাওয়াতের সঙ্গে অজয়ের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং সিনেমার শেষ অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

শেষের চমকেই জমেছে রহস্য

ছবিটির শুরুর অংশ কিছু দর্শকের কাছে তুলনামূলক ধীর মনে হলেও রহস্যের জট খোলা এবং শেষ মুহূর্তের চমক সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে।

আগের দুই কিস্তির মতো এবারও একটি সাধারণ পরিবারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। পুলিশের তদন্ত, চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং একের পর এক রহস্য গল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

বক্স অফিসে বড় অঙ্কের আয়

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের হিসাবে, সোমবার দিন শেষে ভারতে সিনেমাটির মোট ‘নেট’ আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। দেশটিতে ‘গ্রস’ আয় হয়েছে প্রায় ২৩৭ কোটি রুপি।

আন্তর্জাতিক বাজারের আয় যোগ করলে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট ‘গ্রস’ আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০৩ কোটি রুপি।

এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের তালিকায় ‘দৃশ্যম ৩’ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে আছে ‘ধুরন্ধর ২’, যার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয় ২৮৩ কোটি ৪ লাখ রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রহস্যই কি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি?

‘দৃশ্যম’ সিরিজের জনপ্রিয়তার বড় কারণ এর গল্প বলার ধরন। একটি সাধারণ পরিবার কীভাবে জটিল পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ে, পুলিশের তদন্ত কীভাবে এগোয় এবং প্রতিটি ধাপে কীভাবে নতুন রহস্য সামনে আসে—এসব উপাদান দর্শকদের শেষ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে আটকে রাখে।

নতুন কিস্তিতেও সেই পরিচিত রহস্যময় আবহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন গল্প, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং চমকে ভরা পরিণতি। আর সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই ‘দৃশ্যম ৩’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/জেএন

গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জেআরসির মাধ্যমে বৈঠক হচ্ছে এবং দুই দেশের কারিগরি দল কাজ করছে। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করা। ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হলেও ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করা হয়। তবে ওই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তির পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করতে সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে ওই বছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরুর লক্ষ্য

পদ্মা ব্যারেজকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বড় একটি প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ শেষ করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মহাখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের বাসে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
মহাখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের বাসে আগুন

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে কী কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

একনেকে অনুমোদন, পঞ্চগড়ে হচ্ছে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
একনেকে অনুমোদন, পঞ্চগড়ে হচ্ছে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু

পঞ্চগড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের দাবির পর বহুল প্রত্যাশিত ‘দ্বিতীয় করতোয়া সেতু’ নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটি জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একনেকের পঞ্চম সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে সেতুটি।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। চলতি অক্টোবর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেতুটি নির্মিত হলে ভজনপুর, আটোরখাড়ি, ময়নাগুড়ি, আমতলী ও মিরগড়সহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও পাথর পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পঞ্চগড়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার আলী প্রকল্পটির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্বিতীয় করতোয়া সেতুর অনুমোদন জেলাবাসীর জন্য বড় সুখবর। ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মানের সেতুটি নির্মিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ওই স্থানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল। সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগের পাশাপাশি কৃষি, পাথর ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি