খুঁজুন
                               
, ,
           

৭০ হাজার খরচে আড়াই লাখ বিক্রি, হিলিতে মরিচ চাষে সাফল্য

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
৭০ হাজার খরচে আড়াই লাখ বিক্রি, হিলিতে মরিচ চাষে সাফল্য

ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় লাভজনক হয়ে উঠেছে কাঁচামরিচ চাষ। ফলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে দিন দিন বাড়ছে কাঁচামরিচের আবাদ। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম ও পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ধানের পরিবর্তে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে মরিচের ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় বাড়তি লাভের আশা করছেন চাষিরা। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

শস্যভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হিলির বিভিন্ন মাঠে এখন বাণিজ্যিকভাবে কাঁচামরিচের আবাদ হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে এ ধরনের চিত্র খুব একটা দেখা যেত না।

হিলির আলিহাট ইউনিয়নের মুর্শিদপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বগুড়ার কাহালু এলাকায় গিয়ে কাঁচামরিচের চাষ দেখে আগ্রহী হন। সেখানকার কৃষকদের কাছ থেকে পরামর্শ ও বীজ সংগ্রহ করে এলাকায় মরিচ চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে অল্প জমিতে আবাদ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে কাঁচামরিচ চাষ করছেন তিনি।

আতিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধান চাষ করেও তেমন লাভ হয়নি। অনেক সময় উৎপাদন খরচই ওঠেনি। কিন্তু কাঁচামরিচে খরচের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি লাভের সুযোগ রয়েছে। এবার তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। জমিতে থাকা মরিচ থেকে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করা হলে বাজারদর কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দাম ভালো থাকলে মরিচ চাষে ভালো লাভ করা সম্ভব। তার মরিচ চাষ দেখে এলাকার আরও অনেক কৃষক এ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগে তিনি রিকশা-ভ্যান চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। গ্রামের এক কৃষকের মরিচ চাষ দেখে ফলন ও লাভের বিষয়ে আগ্রহী হন। পরে জমি বর্গা নিয়ে নিজেও কাঁচামরিচ চাষ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আতিয়ার রহমান বগুড়া থেকে বীজ এনে প্রথমবার মরিচ চাষ করে লাভবান হন। ধান চাষে লোকসান হওয়ায় তার দেখাদেখি গ্রামের অন্য কৃষকরাও মরিচ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ধান চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই আগামী বছর থেকে ধানের আবাদ কমিয়ে কাঁচামরিচ চাষ করার চিন্তা করছেন। আশপাশের জমিতে মরিচের ভালো ফলন দেখে তিনিও এ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।

কাঁচামরিচের আবাদ বাড়ায় স্থানীয় কৃষিশ্রমিকদেরও কাজের সুযোগ বেড়েছে। শ্রমিক তারিকুল ইসলাম বলেন, আগে এ এলাকায় মূলত ধানের জমিতে কাজ করতেন তারা। এখন মরিচের জমিতে গাছ বাঁধা, আগাছা পরিষ্কার, গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া ও অন্যান্য পরিচর্যার কাজ করছেন। এতে তাদের আয়ও বেড়েছে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা কাঁচামরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগে উপজেলায় ২ থেকে ৩ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এমনকি অনেকে জমির পাশাপাশি টবেও মরিচ চাষ করছেন।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কৃষকদের আগ্রহ বাড়তে থাকলে আগামীতে হাকিমপুরে কাঁচামরিচের আবাদ আরও বাড়বে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন

দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। নগরের পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়কে নির্মিত এ ট্র্যাকের মাধ্যমে সাইকেল চালকদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যাতায়াত, শরীরচর্চা ও নগরবাসীর সুস্থ জীবনযাপনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ট্র্যাকটির উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর সড়কের এ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে সাইকেল ট্র্যাক, ফুটপাত ও মাঝখানে বিভাজক। সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাইকেল শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; অনেক মানুষ অফিসে যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজেও এটি ব্যবহার করেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আলাদা জায়গা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নাগরিকদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা কোনো বিলাসিতা নয়। একটি সভ্য ও উন্নত দেশে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার লক্ষ্যেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাইকেল চালানো শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে অনেকে রাস্তায় সাইকেল চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এ বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের উদ্যোগে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাইকেলে যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ বাড়বে।

সাইকেল ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার উপযোগী পথ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে খালের দুই পাশে হাঁটার রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়রকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র জানান, ট্র্যাকটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। এর দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি হাঁটার পথও তৈরি করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করা হয়েছে। সাইকেল ট্র্যাক ও সৌন্দর্যবর্ধিত হাঁটার পথের পাশাপাশি দুই পাশে ফুটপাত এবং সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে বিভাজক নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

মিরপুরের ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি ছিল দীর্ঘ ২০ বছরের। সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি সড়কে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে। এ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সড়কের পাশের দোকানিদের নিজেদের আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি দোকানের সামনে পুনরায় হকার বসতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একটি বড় রাজনৈতিক দল উচ্ছেদ হওয়া কিছু ফুটপাতের দোকানিকে বাসায় ডেকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে নথি ও তথ্য রয়েছে। কেউ ফুটপাত নিয়ে টালবাহানা করলে কিংবা পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কেউ ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি।

অটোরিকশা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে। অটোরিকশাচালকদের দাবি নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক উন্নয়নের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি আঁকার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের ইতিহাস রচনায় জীবন উৎসর্গকারী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব গ্রাফিতি স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নেতৃত্বদানকারীদের ছবি গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এতে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিও থাকবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতনতা জরুরি। একজনের অসচেতনতার কারণে অন্যরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন, যার প্রভাব পুরো নগরীর ওপর পড়ে।

ডিএনসিসির মিরপুর জোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের পিলারে আগের সরকারের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম হোসেন বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

উপাচার্য জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি লিখিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি