খুঁজুন
                               
, ,
           

পড়াশোনা নয়, প্রতিভা-পরিশ্রমেই আলিয়ার সাম্রাজ্য

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
পড়াশোনা নয়, প্রতিভা-পরিশ্রমেই আলিয়ার সাম্রাজ্য

বলিউডে প্রতিষ্ঠা পেতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই শেষ কথা নয়—নিজের ক্যারিয়ার দিয়ে সেই কথাই যেন বারবার প্রমাণ করেছেন আলিয়া ভাট। পড়াশোনা শেষ করে প্রচলিত পথে এগোনোর বদলে অল্প বয়সেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে করণ জোহরের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক; এরপর এক দশকের কিছু বেশি সময়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী হিসেবে।

তবে আলিয়ার গল্পটা শুধু তারকা পরিবারের মেয়ে থেকে নায়িকা হয়ে ওঠার গল্প নয়। বরং গ্ল্যামার, পারিবারিক পরিচয় ও সুযোগের বাইরে নিজের অভিনয়ক্ষমতা দিয়ে জায়গা করে নেওয়ার গল্পও এটি। ‘হাইওয়ে’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘রাজি’, ‘গলি বয়’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ কিংবা ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’—বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে হাজির করেছেন তিনি।

১৯ বছরেই শুরু, এরপর বদলে গেল পথ

২০১২ সালে মুক্তি পায় ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে অভিনয় করা সেই ছবিতে আলিয়া ছিলেন একেবারেই নতুন মুখ। কিন্তু অভিষেকের পর খুব বেশি সময় নেননি নিজেকে প্রমাণ করতে।

‘হাইওয়ে’তে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর ‘টু স্টেটস’, ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’, ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’, ‘ডিয়ার জিন্দেগি’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’—একটির পর একটি ছবিতে চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিজের আলাদা স্বাক্ষর তৈরি করেন।

২০১৬ সালের ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়ার পর তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে আর সংশয়ের খুব একটা জায়গা থাকেনি। পরে ‘রাজি’, ‘গলি বয়’ ও ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র মতো সিনেমায় পুরস্কারজয়ী পারফরম্যান্স তার অবস্থান আরও শক্ত করে। ফিল্মফেয়ারের হিসাবে এখন পর্যন্ত আলিয়ার ছয়টি জয় রয়েছে, যার মধ্যে ‘হাইওয়ে’র জন্য ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডও রয়েছে।

‘গাঙ্গুবাই’ থেকে ‘রানি’—চরিত্র বদলেছে, বেড়েছে স্বীকৃতি

সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ আলিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গঙ্গা থেকে গাঙ্গুবাই হয়ে ওঠার জটিল চরিত্রে তার অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়ের নজর কাড়ে। এই ছবির জন্য ২০২৩ সালের ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান তিনি।

এর পর ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’তে একেবারে ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দেখা যায় তাকে। বাঙালি সাংবাদিক রানি চ্যাটার্জির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০২৪ সালের ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান আলিয়া।

এভাবেই ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকে একই ছাঁচে আটকে না রেখে চরিত্রের সঙ্গে বদলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক

আলিয়ার সাফল্যের গল্প এখন আর শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে তিনি প্রযোজনাতেও পা রেখেছেন। ‘ইটারনাল সানশাইন প্রোডাকশনস’ নামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে গল্প বলার অন্য দিকেও নিজের উপস্থিতি তৈরি করেছেন।

‘ডার্লিংস’ ও ‘জিগরা’র মতো প্রকল্পে প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনের সৃজনশীল সিদ্ধান্তেও নিজের জায়গা তৈরি করছেন আলিয়া।

ব্যবসায়ও বাড়ছে সাম্রাজ্য

আলিয়ার পরিচয় এখন শুধু বলিউড অভিনেত্রী হিসেবে নয়। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে তার পরিধি। শিশুদের পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘Ed-a-Mamma’র সঙ্গে তার উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি Phool.co-তেও তার ইক্যুইটি অংশীদারিত্ব রয়েছে বলে ফর্চুন ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্যাশন দুনিয়াতেও তার প্রভাব ক্রমেই আন্তর্জাতিক হয়েছে। তিনি গুচির প্রথম ভারতীয় গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালে ফর্চুন ইন্ডিয়ার ‘Most Powerful Women’ তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন আলিয়া।

পরিবারও সিনেমার, কিন্তু পরিচয় নিজের

আলিয়ার জন্মই হয়েছে চলচ্চিত্র-ঘনিষ্ঠ পরিবারে। বাবা মহেশ ভাট পরিচালক ও প্রযোজক, মা সোনি রাজদান অভিনেত্রী। বোন পূজা ভাটও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। পরে স্বামী হিসেবে জীবনে এসেছেন আরেক তারকা রণবীর কাপুর।

ফলে বলিউডে প্রবেশের দরজা তার জন্য তুলনামূলকভাবে পরিচিত ছিল—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে ঢুকে দীর্ঘদিন টিকে থাকা এবং শীর্ষ সারির অভিনেত্রী হয়ে ওঠা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। আলিয়ার ক্যারিয়ার দেখলে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গাটি তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে রাখেননি।

ব্যক্তিজীবনেও আলোচনার কেন্দ্রে

ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনও বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছে আলিয়ার। রণবীর কাপুরের সঙ্গে প্রেম, ২০২২ সালে বিয়ে এবং একই বছর কন্যাসন্তান রাহার জন্ম—সবকিছু নিয়েই ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

তবে মাতৃত্বের পরও কাজ থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। বরং অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড—সব ক্ষেত্রেই নিজের ব্যস্ততা ধরে রেখেছেন।

নতুন দশকে আরও বড় ঝুঁকি

আলিয়ার সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারও দেখাচ্ছে, নিরাপদ চরিত্রের মধ্যে আটকে থাকার ইচ্ছা তার নেই। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আলফা’তে তাকে দেখা গেছে YRF Spy Universe-এর প্রথম নারী-নেতৃত্বাধীন অ্যাকশন ছবির কেন্দ্রে। ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন শর্বরী, অনিল কাপুর ও ববি দেওল।

সামনেও তার হাতে রয়েছে বড় প্রকল্প। ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এ রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলের সঙ্গে তাকে দেখা যাবে; ছবিটির মুক্তির তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৭ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

৪ হাজার ৬০০ কোটির সম্পদ—কতটা সত্য?

আলিয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা—এমন দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়। তবে এ ধরনের সেলিব্রিটি ‘নেট ওয়ার্থ’ হিসাব সাধারণত বিভিন্ন সম্পদ, ব্র্যান্ড চুক্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের আনুমানিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে; তাই নির্দিষ্ট অঙ্কটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অভিনয়ের পারিশ্রমিকের বাইরেও এখন তার আয় ও প্রভাবের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত। সিনেমা, প্রযোজনা, ব্যবসা, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন—সব মিলিয়ে আলিয়া নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন-ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন।

অসম্পূর্ণ পড়াশোনা নয়, সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের গল্প

আলিয়ার গল্পকে তাই শুধু ‘পড়াশোনা শেষ না করেও সফল’—এই একটি বাক্যে আটকে রাখলে তার ক্যারিয়ারের বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। তার আসল গল্প হলো অল্প বয়সে সিদ্ধান্ত নেওয়া, একের পর এক কঠিন চরিত্র গ্রহণ করা, ব্যর্থতা ও সমালোচনা সামলে নিজেকে বদলানো এবং অভিনয়ের বাইরেও নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করা।

১৯ বছর বয়সে যে মেয়েটি ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন, আজ তিনি অভিনেত্রী, প্রযোজক, উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মুখ। আর এই দীর্ঘ পথচলাই দেখিয়েছে—তারকা পরিবার দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই দরজার ওপারে নিজের জায়গা ধরে রাখতে লাগে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়ার সাহস।

কালের আলো/জেএন

ফোনের অ্যাপ আপডেট না করলে যে ৫ সমস্যায় পড়তে পারেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ফোনের অ্যাপ আপডেট না করলে যে ৫ সমস্যায় পড়তে পারেন

স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় নিয়মিতই আপডেটের নোটিফিকেশন পান ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অনেকেই অ্যাপ ঠিকঠাক কাজ করছে—এমন ধারণা থেকে নতুন সংস্করণ ইনস্টল না করে নোটিফিকেশনটি এড়িয়ে যান। আপাতদৃষ্টিতে এতে সমস্যা না হলেও দীর্ঘদিন অ্যাপ আপডেট না করলে নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স ও সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নতুন ফিচার যোগ করার পাশাপাশি অ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করা, বাগ ঠিক করা, পারফরম্যান্স উন্নত করা এবং নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হয় আপডেটের মাধ্যমে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে

নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিরাপত্তা। কোনো অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে নিরাপত্তা ত্রুটি থাকলে সাইবার অপরাধীরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে ফোন বা অ্যাপের ভেতরে থাকা তথ্যের ক্ষতি করার সুযোগ পেতে পারে।

কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি সমাধানের জন্য নির্মাতারা সাধারণত নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। তাই দীর্ঘদিন আপডেট না করলে ত্রুটিটি ঠিক করার পরও ব্যবহারকারীর ফোনে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ থেকে যেতে পারে।

নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হবেন

অ্যাপ নির্মাতারা নিয়মিত নতুন সুবিধা যুক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিউজিক, পডকাস্ট, কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবার অ্যাপে নতুন ফিচার পেতে হলে অনেক সময় সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল করা প্রয়োজন হয়।

পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করলে এসব সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে। ফলে নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও অন্যদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়ে।

তবে আপডেটের পর অ্যাপের ইন্টারফেসে পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি আগে থাকা কোনো ফিচার পরিবর্তিত বা বাদও যেতে পারে।

বাগ ও ধীরগতি কমাতে

অ্যাপের কারিগরি ত্রুটি বা বাগ সমাধান করাও আপডেটের অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ধীরগতিতে কাজ করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি ও ফোনের রিসোর্স ব্যবহার করার মতো সমস্যা দেখা দিলে নতুন সংস্করণে তার সমাধান থাকতে পারে।

এ ছাড়া অ্যাপের কোড ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অংশ উন্নত করার মাধ্যমে কার্যকারিতা বাড়ানো হয়। ফলে আপডেটের পর অ্যাপ আগের তুলনায় দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারে।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের সঙ্গে সামঞ্জস্য

স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণ চালু হলে অ্যাপ নির্মাতাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ভেতরে পরিবর্তন আনতে হয়।

অ্যাপ পুরোনো থাকলে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের কিছু সুবিধা ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাপ চালু করতে বা নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহার করতেও সমস্যা হতে পারে। এমনকি কিছু অ্যাপ একপর্যায়ে সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল না করলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করবেন যেভাবে

অ্যাপ আপডেটের ঝামেলা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ডিভাইসেই স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালুর সুযোগ রয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েডে: গুগল প্লে স্টোর খুলে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর Settings → Network preferences → Auto-update apps অপশনে গিয়ে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করা যায়।

আইফোনে: Settings → Apps → App Store-এ গিয়ে App Updates অপশনটি চালু করতে হবে।

তবে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলেও মাঝেমধ্যে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে আপডেট বাকি আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো। কারণ সব আপডেট সবসময় একই সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল নাও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অ্যাপ আপডেটকে শুধু নতুন ফিচার পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। স্মার্টফোনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেও নিয়মিত আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন

এশিয়ার বড় বাজারে রপ্তানি বাড়ায় সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
এশিয়ার বড় বাজারে রপ্তানি বাড়ায় সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলার। ভারতে রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার এসব বাজারে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা, ক্রেতাদের চাহিদা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের নতুন নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য আরও জোরদারের সুযোগও রয়েছে।

চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলায় অংশ নিয়েছে। এতে রপ্তানিকারকেরা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বাজারেও তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এশিয়ার বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের এই প্রবণতা বাংলাদেশের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

এআই চিপের ‘টেরাফ্যাব’ নিজেরাই বানাবে টেসলা-স্পেসএক্স: মাস্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
এআই চিপের ‘টেরাফ্যাব’ নিজেরাই বানাবে টেসলা-স্পেসএক্স: মাস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চিপ তৈরির জন্য নিজেদের বিশাল কারখানা বা ‘টেরাফ্যাব’ নিজেরাই নির্মাণ ও পরিচালনা করবে টেসলা ও স্পেসএক্স। এ উদ্যোগে তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি (TSMC) চাইলে প্রকল্পের একটি অংশ সাবলিজ নিতে পারে, তবে কারখানার মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতে দেওয়া হবে না।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক।

এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে টিএসএমসি হয়তো টেরাফ্যাবের মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এর জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘না, আমরা ফ্যাবটি তৈরি করব এবং চালাব। এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহও যেন না থাকে।’

এরপর তিনি আরও জানান, টিএসএমসি চাইলে টেরাফ্যাবের কিছু অংশ সাবলিজ নিতে পারে। তবে প্রকল্পের মূল পরিচালনা ও মালিকানা তাদের হাতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

টেক্সাসে বিশাল চিপ কারখানার পরিকল্পনা

‘টেরাফ্যাব’ হলো টেক্সাসে টেসলা ও স্পেসএক্সের যৌথভাবে পরিকল্পিত একটি বড় প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপ তৈরির জন্য বিশাল আকারের একটি ফ্যাব বা সেমিকন্ডাক্টর কারখানা গড়ে তোলা।

এআই, রোবটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে টেসলার বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজনীয় চিপের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। স্পেসএক্সের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বিভিন্ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

টিএসএমসির সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা

এর আগে গত সপ্তাহে টেরাফ্যাব প্রকল্পে টিএসএমসির সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মাস্ক। তবে সেই আলোচনার ধরন বা সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এদিকে প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের সম্পৃক্ততার কথাও সামনে এসেছে। ইন্টেলের সিইও লিপ-বু তান বুধবার ব্লুমবার্গ নিউজকে জানান, টেরাফ্যাব প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে ইন্টেল যুক্ত থাকবে।

ফলে টেসলার এআই চিপ উৎপাদন পরিকল্পনায় একদিকে ইন্টেলের সম্পৃক্ততা এবং অন্যদিকে টিএসএমসির সম্ভাব্য সহযোগিতা—দুই বিষয়ই প্রযুক্তি খাতে আগ্রহ তৈরি করেছে।

টিএসএমসি-ইন্টেলের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

মাস্ক যখন টেরাফ্যাবের জন্য বিভিন্ন অংশীদার নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন টিএসএমসির সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ইন্টেলের ভূমিকা কতটা থাকবে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি টিএসএমসি ও ইন্টেল।

তবে মাস্কের সর্বশেষ বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—এআই চিপ উৎপাদনে টেসলা ও স্পেসএক্স নিজেদের অবকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে এবং টেরাফ্যাবের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কালের আলো/জেএন