খুঁজুন
                               
, ,
           

একনেকে অনুমোদন, পঞ্চগড়ে হচ্ছে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
একনেকে অনুমোদন, পঞ্চগড়ে হচ্ছে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু

পঞ্চগড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের দাবির পর বহুল প্রত্যাশিত ‘দ্বিতীয় করতোয়া সেতু’ নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটি জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একনেকের পঞ্চম সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে সেতুটি।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। চলতি অক্টোবর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেতুটি নির্মিত হলে ভজনপুর, আটোরখাড়ি, ময়নাগুড়ি, আমতলী ও মিরগড়সহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও পাথর পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পঞ্চগড়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার আলী প্রকল্পটির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্বিতীয় করতোয়া সেতুর অনুমোদন জেলাবাসীর জন্য বড় সুখবর। ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মানের সেতুটি নির্মিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ওই স্থানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল। সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগের পাশাপাশি কৃষি, পাথর ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এসব এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে। সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান চলছে। এসব অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অন্যান্য বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা বড় সমস্যা। পাশাপাশি সাধারণ অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও এপিবিএন নিয়মিত কাজ করছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি এপিবিএনের আইনগত কাঠামোয় তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাহিনীটিতে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ায় ক্যাম্পের অপরাধ তদন্তে এপিবিএনের কর্মকর্তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফেন্সিং ও কাঁটাতার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধ বা সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলাদা উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেখছে। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, সমস্যাটি সমাধানে সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় অনেক অতিবাহিত হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের কোনো প্রস্তাব তার জানা নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার

বৈঠক শেষে জঙ্গল সলিমপুর নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি জমি ও পাহাড়কে সুশাসনের আওতায় আনতে সেখানে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারটি স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের পুনর্বাসন এবং এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল। এলাকাটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব ও এপিবিএনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিইউএফটিতে জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা, গুরুত্ব এআইনির্ভর ব্যবসায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
বিইউএফটিতে জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা, গুরুত্ব এআইনির্ভর ব্যবসায়

উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবসায়িক সমাধানকে উৎসাহ দিতে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) শুরু হয়েছে ‘বিইউএফটি জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬ (৩.০)’।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ মেলা আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শেষ হবে। বিইউএফটি বিজনেস ক্লাবের আয়োজনে এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত মেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতের পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষমতায়ন: উদ্যোক্তা, উদ্ভাবন ও টেকসই ডিজিটাল রূপান্তর’। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা এবং উদ্ভাবনী ও টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

মেলার উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিইউএফটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মেসবা উদ্দিন আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, মালয়েশিয়ার স্পেকট্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়সারুল হক, বিইউএফটির ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং রেজিস্ট্রার মো. রফিকুজ্জামান।

এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ আবদুর রহিমসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মেলায় শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ করা, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

আয়োজনে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

আজ মেলার দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জেআরসির মাধ্যমে বৈঠক হচ্ছে এবং দুই দেশের কারিগরি দল কাজ করছে। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করা। ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হলেও ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করা হয়। তবে ওই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তির পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করতে সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে ওই বছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরুর লক্ষ্য

পদ্মা ব্যারেজকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বড় একটি প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ শেষ করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি