খুঁজুন
                               
, ,
           

‘জেলার ২’ আসছে, ট্রেলারেই বাজিমাত করলেন রজনীকান্ত

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
‘জেলার ২’ আসছে, ট্রেলারেই বাজিমাত করলেন রজনীকান্ত

রজনীকান্তের ‘জেলার’ মুক্তির পর বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় উঠেছিল। সিনেমাটির ব্যাপক সাফল্যের পর থেকেই সিক্যুয়ালের অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জেলার ২’-এর ট্রেলার। আর ট্রেলার প্রকাশের পরই নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে সিনেমাটি ঘিরে প্রত্যাশা।

রজনীর সঙ্গে মিঠুন-বিদ্যা, থাকছেন মোহনলালও

প্রায় পৌনে দুই বছর আগে প্রকাশ পেয়েছিল ‘জেলার ২’-এর টিজার। এরপর থেকেই সিনেমাটির নতুন আপডেটের অপেক্ষায় ছিলেন রজনীকান্তের ভক্তরা। এবার ট্রেলারে রজনীকান্তের পাশাপাশি নজর কেড়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী ও বিদ্যা বালন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দেখা গেছে দক্ষিণের সুপারস্টার মোহনলালকেও। জানা গেছে, সিনেমাটিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে থাকছেন তিনি।

আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘জেলার ২’-এর। মুক্তির মাত্র ১০ দিন আগে প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার।

শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা

ট্রেলারের শুরুতেই তৈরি করা হয়েছে রহস্য ও উত্তেজনার আবহ। টানা দুই মাস ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে কে—তা নিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। কিন্তু যার পরিচয় খোঁজা হচ্ছে, তার প্রকৃত পরিচয় বের করা প্রায় অসম্ভব বলেই ইঙ্গিত মেলে ট্রেলারে।

এরপরই অনিরুদ্ধর দুর্দান্ত আবহসংগীতের সঙ্গে পর্দায় আবির্ভাব ঘটে রজনীকান্তের। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অ্যাকশন, স্টাইল ও রজনী-সুলভ ক্যারিশমার প্রদর্শন।

‘লার্জার দ্যান লাইফ’ অবতারে রজনী

আগের সিনেমার মতো ‘জেলার ২’-তেও রজনীকান্তকে দেখা গেছে একেবারে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ অবতারে। কখনো হাতে স্টেনগান নিয়ে শত্রুদের ওপর গুলি চালাচ্ছেন, কখনো আবার নিছক স্টাইল আর সংলাপেই প্রতিপক্ষকে ভীত করে তুলছেন।

ট্রেলারজুড়ে রয়েছে একের পর এক অ্যাকশন দৃশ্য। এর পাশাপাশি রজনীকান্তের পরিচিত স্টাইল ও সংলাপের উপস্থিতিও ভক্তদের নজর কেড়েছে।

একটি দৃশ্যে প্রতিপক্ষকে বেশ শান্তভাবেই জিজ্ঞেস করতে দেখা যায়—চা নাকি কফি, কোনটি পছন্দ? আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই কথোপকথনের আড়ালেই রয়েছে ভয়ংকর হুঁশিয়ারি।

শত্রুদের জন্য রজনীর ‘নতুন কৌশল’

ট্রেলারে রজনীকান্তের চরিত্রকে খলনায়কদের গুপ্তচরবৃত্তি, চ্যালা পাঠানো, ভয় দেখানো কিংবা মনস্তাত্ত্বিক কৌশলকে ‘সেকেলে’ বলে উপহাস করতে দেখা যায়।

এর বিপরীতে নিজের কৌশলও স্পষ্ট করে দেন তিনি—সব শত্রুকে এক জায়গায় জড়ো করে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া!

এই ধরনের সংলাপ ও অ্যাকশন দৃশ্যই ট্রেলারজুড়ে তৈরি করেছে রজনীকান্তের সেই পরিচিত ‘মাস’ আবহ, যার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় তিনি।

হাজার কোটির স্বপ্ন দেখছেন ভক্তরা

ট্রেলার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। অনেক ভক্তের মতে, ‘জেলার ২’ কেবল আরেকটি সিক্যুয়াল নয়; এটি রজনীকান্তের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের তারকাখ্যাতির আরেকটি বড় উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে।

কেউ কেউ এরই মধ্যে সিনেমাটিকে নিয়ে হাজার কোটি রুপির বক্স অফিসের সম্ভাবনাও দেখছেন। তাদের দাবি, ‘জেলার ২’ হতে পারে প্রথম তামিল সিনেমা, যা হাজার কোটি রুপির বক্স অফিস ক্লাবে প্রবেশ করবে।

তবে সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, তার উত্তর মিলবে সিনেমাটি মুক্তির পর। আপাতত ট্রেলারেই স্পষ্ট—রজনীকান্তকে বড় পর্দায় ফের দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন ভক্তরা।

কালের আলো/জেএন

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির পদত্যাগপত্রে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ, ক্যাম্পাসে মানববন্ধন

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ভিসির পদত্যাগপত্রে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ, ক্যাম্পাসে মানববন্ধন

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনের কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন। মামলায় জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল লুট ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, মামলা রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর গভীর রাতে আব্দুস সালামকে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ভিসিকে অপমান, লাঞ্ছিত, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবৈধভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে কাজের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের সঙ্গে এমন ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিএনপি ও কৃষক দলের ৪০ থেকে ৫০ নেতাকর্মী মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে আগে থেকে লেখা একটি পদত্যাগপত্রে ভিসিকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লোক ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার তারা হঠাৎ তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে লাঞ্ছিত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। তাঁর দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভিসির একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, অস্ত্রের মুখে তাঁকেও স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো স্বাভাবিক পদত্যাগ নয়।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম দাবি করেছেন, তাঁতী দল, কৃষক দল, জিয়া মঞ্চ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে ভিসিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তবে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা বলেন, এটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসী ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

নজরুল হুদা আরও দাবি করেন, ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঠিকাদারি কাজ নিয়ে অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিসির বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটিকে ‘মব’ বলা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল হুদা এটিকে ‘প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নিজের কোন অদ্ভুত প্রতিভার কথা জানালেন জাহ্নবী?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
নিজের কোন অদ্ভুত প্রতিভার কথা জানালেন জাহ্নবী?

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরকে নিয়ে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এবার কোনো বিতর্ক বা এআইনির্ভর বিকৃত ভিডিও নয়, বরং নিজেরই বলা এক মজার তথ্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ‘হিডেন ট্যালেন্ট’ বা লুকানো প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে জাহ্নবী জানান, তিনি নাকি নিজের জিহ্বা ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরাতে পারেন। যদিও এই অদ্ভুত ক্ষমতাকে খুব একটা বিশেষ প্রতিভা বলে মনে করেন না অভিনেত্রী। বরং এটিকে ‘বোকা বোকা’ ও তেমন কোনো কাজে লাগে না—এমন একটি দক্ষতা হিসেবেই দেখেন তিনি।

স্কুলেই আবিষ্কার অদ্ভুত প্রতিভা

কীভাবে নিজের এই বিশেষ ক্ষমতার কথা জানতে পেরেছিলেন, সেই গল্পও জানিয়েছেন জাহ্নবী।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের মধ্যে একবার প্রতিযোগিতা হয়েছিল—কে জিহ্বা দিয়ে নিজের নাক স্পর্শ করতে পারেন। সেই প্রতিযোগিতায় অবশ্য সফল হতে পারেননি তিনি।

তবে বন্ধুদের চমকে দিতে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেন জাহ্নবী। তখনই নিজের জিহ্বা ঘোরানোর এই অদ্ভুত ক্ষমতা আবিষ্কার করেন তিনি। এরপর থেকেই এটিকে নিজের ‘হিডেন ট্যালেন্ট’ হিসেবে মনে রেখেছেন অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া

জাহ্নবীর মুখে এই অদ্ভুত প্রতিভার কথা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ বিষয়টি নিয়ে মজা করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—এটিকে আদৌ ‘স্কিল’ বা প্রতিভা বলা যায় কি না।

তবে জাহ্নবীর এই স্বীকারোক্তি যে সাক্ষাৎকারটিকে বেশ মজার করে তুলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

এর আগে এআই ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

এর আগে এআইনির্ভর একটি বিকৃত ভিডিও নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন জাহ্নবী। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবারা: পার্ট ১’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামালে’র ভিডিও এআইয়ের মাধ্যমে বিকৃত করে সেখানে অভিনেত্রীকে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

ওই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছিলেন জাহ্নবী। নারীদের ছবি বিকৃত করে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কাজের নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিনেতা জুনিয়র এনটিআরকেও ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।

তবে এবার কোনো বিতর্ক নয়, বরং নিজের মজার ‘হিডেন ট্যালেন্ট’-এর কারণেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জাহ্নবী কাপুর।

কালের আলো/জেএন

ডিসেম্বরেই চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম হবে ডিজিটাল

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরেই চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম হবে ডিজিটাল

দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও ‘স্মার্ট’ বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম বিবেচনায় প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন অনলাইন সেবার পরিবর্তে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল অটোমেশনের পরিধি বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের শতভাগ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

বন্দর সূত্র আরও জানায়, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আমদানিকারক ও তাদের মনোনীত এজেন্টরা সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনেও সার্বক্ষণিক অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দরের পাওনা পরিশোধ না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ আদায়ের জন্য ‘অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত জুলাইয়ে টিওএসের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমদানি কনটেইনারের ডেলিভারি অর্ডার ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে আমদানিকারকেরা কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে প্রয়োজনীয় নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন।

বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানজট কমাতে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালু করা হচ্ছে। ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্টও (ইআইআর) ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে ট্রাক প্রবেশ, পণ্য বোঝাই ও বের হওয়ার সময়সূচি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া কাস্টমসের নিলামজাত পণ্য সরবরাহ, বিশেষ ডেলিভারি এবং ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কার্যক্রম এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট লজিস্টিকস অংশীদারদের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

বন্দর সচিব জানান, বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিংয়েও ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন বে-টার্মিনালে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্লটভিত্তিক ডিজিটাল পার্কিং টিকিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া বন্দরের ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই’ প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে।

বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ডও রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, জাহাজ বন্দরে আসা, বিল পরিশোধ, কাস্টমস ছাড়পত্র, পণ্য খালাস থেকে চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ও অনুসরণযোগ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। এতে পণ্য খালাসে সময় কমার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত ও বন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি