বাজারে নতুন নোটের আদলে জাল টাকা, উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা
সুনামগঞ্জের বাজারে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তারা একাধিক জাল নোট শনাক্ত করেছেন। এসব নোট কোথা থেকে এসেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যাংকারদের ধারণা, একটি চক্র কৌশলে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দিতে পারে।
সোমবার দুপুরে সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখায় টাকা জমা দিতে গিয়ে জাল নোট শনাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ব্যাংকটির ক্যাশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডিড রাইটারের সহযোগী আতিকুর রহমান দানিস গত কয়েক দিনে তিনবার একটি করে জাল নোট জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে টাকার উৎস জানতে চান কর্মকর্তারা।
আতিকুর রহমান জানান, আমবাড়ি এলাকার এক জমির ক্রেতা তাঁকে টাকা দিয়েছিলেন। পরে ওই ক্রেতাকে ব্যাংকে আসতে বলা হলে তিনি জানান, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আমবাড়ি বাজারের এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে টাকা তুলে তিনি তা দিয়েছেন। ৫০০ টাকার পাঁচ বান্ডিল নোটের মধ্যে থাকা টাকা যেভাবে পেয়েছিলেন, সেভাবেই ডিড রাইটারকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে টাকাগুলো সেলাই করা বা অক্ষত বান্ডিল ছিল না।
এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তারা আমবাড়ি বাজারের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ব্যাংক থেকে তোলা টাকাই গ্রাহককে দিয়েছেন। গ্রাহক তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০০ টাকা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একই দিন সকালে কাজী হুমায়ুন নামের আরেক গ্রাহকের টাকা গণনার সময় ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পাওয়া যায়। এ ছাড়া ১ হাজার টাকার একটি নতুন জাল নোটও শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
শান্তিগঞ্জের ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, বাজারে নতুন ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোটের মতো দেখতে জাল নোট পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর দাবি, জাল নোটের সঙ্গে জড়িত চক্র দরিদ্র মানুষকে ব্যবহার করে এসব নোট বাজারে ছড়িয়ে দেয়।
পূবালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রধান ক্যাশ কর্মকর্তা বিপ্লব ভট্টাচার্য জানান, গত সপ্তাহে তাঁদের শাখাতেও ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পাওয়া গেছে। পণ্য কেনাবেচার সময় ব্যবসায়ীদের সতর্কভাবে টাকা যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও জয়েন্ট কাস্টডিয়ান মল্লিক শামস উদ্দিন জামি বলেন, গত কয়েক দিনে তাঁদের শাখায় ৫০০ ও ১ হাজার টাকার একাধিক জাল নোট শনাক্ত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম আজাদ বলেন, ব্যাংকে টাকা যাচাইয়ের যন্ত্র রয়েছে। ক্যাশ কর্মকর্তারা সতর্ক থাকলে জাল নোট শনাক্ত করা সম্ভব। তাঁর মতে, যাচাইয়ের পরও জাল নোট শনাক্ত না হলে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হবে। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হবে।
জাল নোটের উৎস ও বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পথ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত না হওয়ায় ঘটনাগুলো তদন্তের দাবি রাখে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে টাকা লেনদেনের সময় নোটের নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যাচাই করার পাশাপাশি সন্দেহজনক নোট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array