খুঁজুন
                               
, ,
           

 হজ-ওমরাহ নিয়ে কটূক্তিতে শবনম ফারিয়ার ক্ষোভ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
 হজ-ওমরাহ নিয়ে কটূক্তিতে শবনম ফারিয়ার ক্ষোভ

অভিনয়শিল্পীদের হজ ও ওমরাহ পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। অন্যের ইবাদত কবুল হবে কি না, তাঁর নিয়ত কতটা আন্তরিক কিংবা কে কখন হেদায়েত পাবেন—এসব বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই বলে মনে করেন তিনি। ধর্মীয় অনুভূতিকে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশের মাধ্যম না বানিয়ে নিজের চরিত্র, আচরণ ও আমলের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে শবনম ফারিয়া এসব কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কারও ধর্মীয় জীবন কিংবা ইবাদত নিয়ে বিচার করার আগে নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি অভিনয়শিল্পী হওয়ার কারণে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস বা ইবাদতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অন্যের ইবাদত নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই

শবনম ফারিয়া তাঁর পোস্টে বলেন, কারও হজ বা ওমরাহ পালনের ছবি দেখে যদি প্রথমেই নেতিবাচক মন্তব্য করার ইচ্ছা জাগে, তাহলে অন্যকে বিচার করার আগে নিজের দিকে তাকানো উচিত। কার ইবাদত কবুল হবে, কার নিয়ত কতটা আন্তরিক কিংবা কে কখন হেদায়েত লাভ করবেন—এসব সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের বাহ্যিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান দেখে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। কেউ ইবাদত করছেন বলে তাঁর নিয়ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা সেই ইবাদত গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করা অনুচিত।

ধর্মীয় বিষয়ে মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে সম্মান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, অন্যের ইবাদত নিয়ে রায় দেওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেকের নিজের কাজ ও আচরণ নিয়ে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।

হজ-ওমরাহ শুধু অর্থনৈতিক সামর্থ্যের বিষয় নয়

হজ ও ওমরাহ পালনের প্রসঙ্গ তুলে শবনম ফারিয়া বলেন, এসব ইবাদতকে কেবল অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে নিয়ত, তাওফিক ও আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়ও জড়িত।

তাঁর মতে, কে কখন হজ বা ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন, কিংবা কার ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন—তা নিয়ে অন্য কারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির পেশা, অতীত কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর ইবাদতকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করাও ঠিক নয়।

শবনম ফারিয়ার এই বক্তব্য মূলত অন্যের ধর্মীয় জীবন নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান। তাঁর মতে, ধর্মীয় চর্চা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়; তাই কারও ইবাদত নিয়ে বিদ্রূপ বা কটূক্তি করার আগে নিজের মনোভাব ও আচরণ পর্যালোচনা করা জরুরি।

অভিনয়শিল্পী হলেই কি ইবাদত নিয়ে প্রশ্ন উঠবে?

অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গ টেনে শবনম ফারিয়া বলেন, অভিনয় তাঁদের পেশা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক মুসলিম অভিনয়শিল্পী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হজ বা ওমরাহ পালন করেছেন। তাঁদের ইবাদত গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অন্য কারও নেই।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আল্লাহ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। অর্থাৎ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা ইবাদতকে নিজের পছন্দ-অপছন্দের মানদণ্ডে বিচার করে অন্যের ওপর রায় চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় চর্চাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্দেহের চোখে দেখা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। একজন মানুষের পেশাগত পরিচয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস, নিয়ত কিংবা ইবাদতের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না—এমন বার্তাই দিয়েছেন অভিনেত্রী।

নিজেকে ধর্মপরায়ণ দাবি না করেও অন্যকে বিচার না করার আহ্বান

নিজেকে খুব বেশি ধর্মপরায়ণ মানুষ হিসেবে দাবি করেন না শবনম ফারিয়া। তবে অন্যের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের আমল ও আচরণ নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কার কোন আমল, নিয়ত কিংবা প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন, তা মানুষের জানা নেই। তাই অন্যের ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র ও আচরণ ঠিক করার চেষ্টা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও দেখেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলেও তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। কোনো ব্যক্তির জীবনের সব দিক বাইরের মানুষের জানা সম্ভব নয়। তাই সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে ধর্মীয়ভাবে বিচার করা কিংবা তাঁর ইবাদত নিয়ে কটূক্তি করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

ঘুষ, সুদ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন

নিজের পোস্টে শবনম ফারিয়া আরও কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যেসব রাজনৈতিক নেতা মিথ্যা আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে কিংবা যাঁদের বিরুদ্ধে সুদ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের হজ-ওমরাহর ছবি দেখেও কি একইভাবে মন্তব্য করা হয়—এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে এসব উদাহরণ তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো, মানুষের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড কাজ করছে কি না, তা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানানো। ব্যক্তিগত অপছন্দ কিংবা ঈর্ষা থেকে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে তিনি অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তাঁর মূল বক্তব্য হলো, কারও পেশা, পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে ধর্মীয় বিষয়ে আলাদা মানদণ্ড তৈরি করা উচিত নয়।

ভালো না লাগলে এড়িয়ে চলুন, কিন্তু ইবাদত নিয়ে রায় নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিশ্বাস, আনন্দ কিংবা জীবনের সুন্দর মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে করেন শবনম ফারিয়া। কারও এমন পোস্ট ভালো না লাগলে নেতিবাচক মন্তব্য করার পরিবর্তে নীরব থাকা, প্রয়োজনে তাঁকে এড়িয়ে চলা কিংবা আনফলো করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তাঁর মতে, অন্যের ব্যক্তিগত জীবন বা ধর্মীয় চর্চা পছন্দ না হলেই সেখানে কটূক্তি করার প্রয়োজন নেই। মতের অমিল থাকলে দূরে থাকা যায়, কিন্তু কারও ইবাদত কবুল হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

ডিজিটাল যোগাযোগের এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার সময় দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন—শবনম ফারিয়ার বক্তব্যে সেই আহ্বানও উঠে এসেছে।

অন্যের আমল নয়, নিজের চরিত্রের দিকে নজর দেওয়ার বার্তা

পোস্টের শেষাংশে শবনম ফারিয়া বলেন, ধর্ম পালন করলেই কেউ অন্যের ঈমান, নিয়ত কিংবা ইবাদতের বিচারক হয়ে যান না। অন্যের আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়ত ঠিক করার চেষ্টা করা উচিত।

তিনি মনে করেন, কারও ইবাদত কবুল হয়েছে কি না, তা আল্লাহর বিষয়। আর অন্যের ইবাদত নিয়ে কেউ কী ধরনের মন্তব্য করছেন, সেটি তাঁর নিজের আমলনামার সঙ্গে সম্পর্কিত।

শবনম ফারিয়ার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অন্যের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে কটূক্তি বন্ধ করা, ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মকে অন্যকে ছোট করা কিংবা ব্যক্তিগত অপছন্দ প্রকাশের হাতিয়ার না বানিয়ে নিজের জীবন ও আচরণ সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই বেশি জরুরি।

কালের আলো/এসএ

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সামান্য সংক্রমণও হতে পারে প্রাণঘাতী, সেপসিসের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
সামান্য সংক্রমণও হতে পারে প্রাণঘাতী, সেপসিসের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে
সাধারণ সংক্রমণও কখনো কখনো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন দেখা দিতে পারে সেপসিস। এটি এমন একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, যা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা না হলে কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগী সেপটিক শকে আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, সেপসিসের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণের লক্ষণের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নবজাতক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

সেপসিস কী, কেন বিপজ্জনকসেপসিসকে অনেক সময় রক্তদূষণ বলা হলেও এটি শুধু রক্তে জীবাণু প্রবেশ করার ঘটনা নয়। বরং সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ায় নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করাই সেপসিসের মূল বৈশিষ্ট্য। রক্তের কালচার পরীক্ষায় জীবাণু শনাক্ত না হলেও সেপসিস হতে পারে।

এ অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে। রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে এবং রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে রোগী সেপটিক শকে আক্রান্ত হতে পারেন। এ পর্যায়ে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কোন কোন সংক্রমণ থেকে সেপসিস হতে পারে

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাকসহ বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সেপসিস তৈরি হতে পারে। শরীরের কোনো একটি স্থানে শুরু হওয়া সংক্রমণ জটিল হয়ে উঠলে এবং তার বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিত হলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

নিউমোনিয়া সেপসিসের অন্যতম পরিচিত কারণ। এ ছাড়া কিডনি ও মূত্রনালির সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, পেরিটোনাইটিস, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, মেনিনজাইটিস, ত্বকের গভীর সংক্রমণ এবং সংক্রমিত ক্ষত থেকেও সেপসিস হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর কিংবা ক্যাথেটার ব্যবহারের সময় সংক্রমণ হলেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে সব সংক্রমণই সেপসিসে রূপ নেয় না। সংক্রমণের ধরন, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

জ্বর, দ্রুত শ্বাস ও হৃৎস্পন্দন বাড়লে সতর্ক হোন

সেপসিসের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সংক্রমণের মতো মনে হতে পারে। জ্বর, শরীর কাঁপা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ একা সেপসিস নিশ্চিত করে না; রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্রমণের পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন কিংবা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শ্বাস নেওয়া উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ

সেপসিসের বিপজ্জনক দিক হলো, এতে শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। কিছু লক্ষণ দেখে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার আশঙ্কা বোঝা যায়।

মস্তিষ্ক: রোগী হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন, অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন কিংবা স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হতে পারেন। গুরুতর অবস্থায় অচেতন হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

কিডনি: প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এটি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

ফুসফুস: শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

রক্তসংবহন: রক্তচাপ কমে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা ত্বক ফ্যাকাশে বা ছোপছোপ দেখানোর মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

লিভার ও রক্তের উপাদান: গুরুতর অবস্থায় জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং ল্যাকটেটের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এসব পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে সেপসিস হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নেওয়া উচিত নয়। তবে সংক্রমণের সঙ্গে এমন উপসর্গ থাকলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

কারা সেপসিসের বেশি ঝুঁকিতে

বয়স্ক ব্যক্তি, নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের সেপসিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনি বা লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, অস্ত্রোপচারের পর থাকা ব্যক্তি কিংবা যাঁদের শরীরে ক্যাথেটার বা অন্য কোনো চিকিৎসা-সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

সেপসিসের চিকিৎসায় কী করা হয়

সেপসিস একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। সন্দেহ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখার প্রয়োজনও হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক ও পরীক্ষা: ব্যাকটেরিয়াজনিত সেপসিস সন্দেহ হলে চিকিৎসকেরা দ্রুত উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করেন। সম্ভব হলে চিকিৎসায় অযথা দেরি না করে আগে রক্তের কালচারসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার ফল, সংক্রমণের উৎস এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরে ওষুধ পরিবর্তন করা হতে পারে।

শিরায় তরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: রক্তচাপ কমে গেলে বা রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিরায় তরল দেওয়া হয়। হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির অবস্থা বিবেচনা করে তরলের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। প্রয়োজন হলে রক্তচাপ বাড়ানোর ওষুধও দেওয়া হয়।

অক্সিজেন ও অঙ্গের সহায়তা: রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে অক্সিজেন দেওয়া হয়। গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হতে পারে। কিডনি বা অন্য অঙ্গের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে বিশেষায়িত সহায়ক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ: শরীরে পুঁজ জমলে তা নিষ্কাশন, সংক্রমিত ক্যাথেটার অপসারণ কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।

নিবিড় পর্যবেক্ষণ: চিকিৎসার সময় রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। রোগীর অবস্থার পরিবর্তন অনুযায়ী চিকিৎসায় সমন্বয় আনা হয়।

সেপসিস প্রতিরোধে যা করবেন

সেপসিস প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। এ জন্য কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং হাত ময়লা হলে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
  • শরীরের কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
  • ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়াসহ প্রাসঙ্গিক সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।
  • ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও মেয়াদ সম্পর্কে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
  • জ্বর বা সংক্রমণের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

সেপসিসের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দেরি করা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সংক্রমণের পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: ডা. খাজা নাজিমুদ্দিন, অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশে ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার
বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদন ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্ট’-এর বরাতে প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। একই তথ্যে বলা হয়েছে, যৌন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৪৫ শতাংশ শৈশবেই এ পেশায় প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন।

শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের জন্য এ তথ্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। কারণ, শিশুদের যৌন শোষণ শুধু তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, বরং শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

প্রেমের ফাঁদ ও চাকরির প্রলোভনে শোষণের ঝুঁকি

প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা কর্মকাণ্ডের আড়ালে শিশুদের যৌন শোষণের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। অপরাধীরা কখনো বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলে, আবার কখনো ভালো ভবিষ্যৎ বা আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার শিশুদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারণা, প্রলোভন কিংবা শোষণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের সচেতন করা জরুরি।

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রমে বিপুল অবৈধ মুনাফা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম থেকে বছরে প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধ মুনাফা হয়। এর মধ্যে আনুমানিক ১৭২ বিলিয়ন ডলার আসে বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে।

এই পরিসংখ্যান মানবশোষণের অর্থনৈতিক বাংলাদেশে ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকারব্যাপ্তি তুলে ধরে। মানুষের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত এ ধরনের অপরাধের প্রভাব ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের ওপরও পড়ে।

শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

শিশুদের যৌন শোষণ ও পাচার প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ তৈরি, অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতারণা বা শোষণের লক্ষণ শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজ হওয়া, প্রলোভন দেখিয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কিংবা শোষণের সন্দেহজনক ঘটনা দেখা গেলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং তাকে দোষারোপ না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও জরুরি।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যাগুলোর ভিত্তি, সময়কাল ও হিসাবের পদ্ধতি মূল প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে শিশুদের যৌন শোষণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা, সচেতনতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

কালের আলো /জেএন/এসএ