খুঁজুন
                               
, ,
           

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির
শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ লক্ষ্য অর্জনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখার তাগিদ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্টদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সৌজন্য সাক্ষাতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ

সাক্ষাৎকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নজরদারি এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ তৈরি এবং মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা এবং মাদক প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সভায় অংশ নেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় লালন উৎসব ও নজরুল বর্ষকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠাতব্য শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামী শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো, বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উৎসব এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের, কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। সবাইকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

. টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
. টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?
প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ ডিম দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার পরিচিত একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার—বিভিন্নভাবে ডিম খাওয়া যায়। পেশির গঠন, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

একসময় ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলতেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ডিম রাখা যেতে পারে। এর উপকারিতা নির্ভর করে ডিম কতটা খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন কেমন—এসব বিষয়ের ওপর। নিয়মিত ডিম খেলে সম্ভাব্য পাঁচটি উপকার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. পেশি গঠন ও মেরামতে সাহায্য করে

ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে, যা পেশি গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পেশি মেরামত এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা পেশির শক্তি বাড়াতে চান, তাঁদের খাদ্যতালিকায় ডিম উপকারী হতে পারে। ব্যায়ামের পর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে পেশির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে শুধু ডিম খেলেই পেশি বাড়বে, এমন নয়। এর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যও প্রয়োজন।

২. হৃদ্‌স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এটি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় ছিল। তবে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের প্রভাব সবার শরীরে এক রকম নয়। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত ডিম খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

ডিমে থাকা প্রোটিন, কোলাইন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে ডিম খেলে সবার ভালো কোলেস্টেরল বাড়বে কিংবা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমবে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে এবং খাদ্যতালিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ কত—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁদের রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি, হৃদ্‌রোগ রয়েছে বা চিকিৎসক বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁদের নিয়মিত ডিম খাওয়ার পরিমাণ সম্পর্কে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. মস্তিষ্ক ও চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে

ডিমে রয়েছে কোলাইন, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামের নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই রাসায়নিক উপাদান স্মৃতিশক্তি, শেখা এবং পেশির কার্যক্রমসহ শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

এ ছাড়া ডিমের কুসুমে লুটেইন ও জেক্সানথিন নামের দুটি ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। এগুলো চোখের রেটিনায় উপস্থিত থাকে এবং চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে; সুষম খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ চোখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক।

তবে নিয়মিত ডিম খেলেই স্মৃতিশক্তি অসাধারণ হয়ে উঠবে কিংবা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা প্রতিরোধ করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মস্তিষ্ক ও চোখ ভালো রাখতে সামগ্রিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ডিম একটি কার্যকর খাদ্যবিকল্প হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে খাবারের মাঝখানে অতিরিক্ত নাশতা খাওয়ার প্রবণতা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কমতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতায় ডিম খেলে অন্য কিছু নাশতার তুলনায় তৃপ্তি বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। তবে ওজন কমার বিষয়টি নির্ভর করে সারা দিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং শরীর কতটা শক্তি ব্যয় করছে, তার ওপর।

ডিম ভেজে খাওয়ার সময় অতিরিক্ত তেল, মাখন বা বেশি ক্যালোরিযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করলে খাবারের মোট ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে। তাই সেদ্ধ ডিম বা অল্প তেলে রান্না করা ডিম সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে।

৫. ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে

ডিমে থাকা প্রোটিন শরীরের কোষ ও টিস্যু গঠন এবং মেরামতে প্রয়োজনীয়। চুল ও নখের গঠনেও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ডিমে বায়োটিন, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অবদান রাখে।

শরীরে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে চুল ও নখের স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণে সুষম খাদ্য সহায়ক হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণের পরও চুল পড়া বা ত্বকের সমস্যা থাকলে তার পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত বৈশিষ্ট্য কিংবা অন্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

তাই প্রতিদিন ডিম খেলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে বা চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়। এসব ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও সমস্যার প্রকৃত কারণ বিবেচনা করা জরুরি।

প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া উচিত?

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ডিমের উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেক সুস্থ মানুষ সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারেন। তবে সবার জন্য প্রতিদিন এক বা দুটি ডিম একইভাবে উপযুক্ত—এমন সর্বজনীন নিয়ম নেই।

ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণশস্য এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়াই স্বাস্থ্যকর পুষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, টানা ৩০ দিন পরিমিত পরিমাণে ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পেতে পারে। তবে এর ফলাফল সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। পেশি গঠন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্ক ও চোখের স্বাস্থ্য এবং ত্বক-চুলের যত্নে ডিম সহায়ক হলেও এর উপকার পেতে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/এসএ

হুথি হামলায় সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে বিপর্যয়, বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
হুথি হামলায় সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে বিপর্যয়, বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার খবরের পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সৌদি আরবের ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায় হুথিরা। এতে ভবনটির একাংশে আগুন ধরে গেলেও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা নতুন করে তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার পর ভবনটির একাংশে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে রাজধানী রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ায় কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।

এসব ঘটনায় জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত চার দফা হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৩ জন নিহত এবং চার শতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে হতাহতের এই সংখ্যা, বিমানবন্দরে হামলার বিবরণ এবং ফ্লাইট চলাচল বন্ধের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে নেই। ফলে এসব তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে যাত্রী পরিবহন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জনসমক্ষে আসা বন্ধ করেছেন এবং তাঁকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যুবরাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তাঁর অবস্থান নিয়ে এসব তথ্যের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবের রাজকীয় স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কার খবর সত্য হলে তা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

হুথিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও রাজকীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয় হুথিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথিরা জ্বালানি ডিপো ও প্রশাসনিক ভবনকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জোটটি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সানার আল-সাবাহ থেকে হোদেইদাহ ও রাস ইসা বন্দর পর্যন্ত হুথিদের স্থাপনা ধ্বংস করা হতে পারে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও বন্দরকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামো দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলা হলে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকায় হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা জোরদার করা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে হামলার প্রকৃত মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি