খুঁজুন
                               
, ,
           

ট্রাম্পকে চাপে রাখতে হরমুজে নতুন কৌশল ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পকে চাপে রাখতে হরমুজে নতুন কৌশল ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করতে নতুন কৌশল নিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ধরন ও তৎপরতা বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা এবং তেলের দাম চড়া রাখার লক্ষ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার করছে তেহরান

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে উৎপাদিত মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে বর্তমানে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। কিছু জাহাজ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, বিমার উচ্চ ব্যয় এবং হামলার আশঙ্কা স্বাভাবিক নৌপরিবহনকে জটিল করে তুলেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে ইরান বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের দুই কর্মকর্তা।

তবে নতুন কৌশলের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করতে রাজি হননি তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার ধরন ও গতি—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই তৎপরতার অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলা।

তেলের দাম কমানোর মার্কিন প্রচেষ্টা বানচাল করতে চায় ইরান

ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর প্রচেষ্টা নস্যাৎ করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেলের দাম কমানোর সুযোগ দিতে চায় না তেহরান।

ওই কর্মকর্তা পরিস্থিতিকে দাবার চালের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখনই তেলের দাম কমার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করবে, তখনই ইরান এমন পদক্ষেপ নিতে পারে, যাতে সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়।

ইরানের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি জ্বালানির বাজারকেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তেহরান। তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ের জ্বালানি খরচ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে। এতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে নির্বাচনের ফলাফলে ইরানের কৌশল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। জ্বালানির দাম ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যু নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নজরদারিতে ছোট নৌকা, ব্যবহার হচ্ছে ‘স্পটার’

ইরানের নতুন কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছোট নৌযান ব্যবহার করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দেওয়ার পর ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ছোট নৌকায় ‘স্পটার’ ব্যবহার শুরু করেছে।

স্পটার বলতে এমন ব্যক্তি বা দলকে বোঝানো হচ্ছে, যারা সরাসরি হামলা না চালিয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে অন্য বাহিনীকে তথ্য দেয়। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ছোট নৌকায় অস্ত্র থাকে না। সেগুলো থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গত সপ্তাহে এমন একটি ঘটনার কথা জানতে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কর্মকর্তার দাবি, ইরানের কয়েকজন স্পটার একটি ঐতিহ্যবাহী ‘ধাও’ নৌযানে অবস্থান করে আইআরজিসিকে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছিলেন। পরে মার্কিন বাহিনী ওই নৌযানটির মুখোমুখি হয় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের চলে যেতে বলে। এরপর নৌযানটি ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানান ওই মার্কিন কর্মকর্তা।

ধাও হলো আরব সাগর, পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌযান। মাছ ধরা, পণ্য পরিবহন ও উপকূলীয় চলাচলে এসব নৌযান ব্যবহার করা হয়।

হরমুজের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর আশঙ্কা

ইরানের নতুন কৌশল শুধু হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ না থাকার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান ওমান উপসাগরসহ আরও দূরের জলসীমায় তৎপরতা বাড়াতে পারে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন সূত্র, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির বাইরের এলাকাতেও বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন জলসীমাও রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।

জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার এই হার ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের সময়কার পরিস্থিতির কাছাকাছি। একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের মতে, হামলার গতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত তৎপরতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে এসব হামলার সব কটির জন্য ইরানের দায় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনের সব তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়। ফলে হামলার সংখ্যা ও দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যের পাশাপাশি স্বাধীন যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ।

নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ভাবছেন। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে আর হামলা চালাবেন না।

অন্যদিকে সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এ লক্ষ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ জোরদার এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি চাপের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। একদিকে ইরানের হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা—দুইয়ের প্রভাব পড়ছে সামুদ্রিক বাণিজ্যে।

পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি

ইরানের দুই কর্মকর্তাই বলেছেন, তেহরান এমন পরিস্থিতি তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তাদের আরোপিত বিধিনিষেধ অমান্য করে কোনো জাহাজই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। তাঁদের একজনের ভাষ্য, প্রণালিটি শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার গত রোববারের প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিকে ‘তীব্র’ পর্যায়ে রেখেছে। এটি ঝুঁকির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, আইআরজিসির হামলা, হামলার চেষ্টা ও হয়রানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বা সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত এখন শুধু সামরিক মোকাবিলার বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। তেহরান যদি জাহাজে হামলা ও নৌপথে বিধিনিষেধ আরও বাড়ায়, আর ওয়াশিংটন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে, তাহলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

তিন ম্যাচে ২৩৮ রান, টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানি ফারহানের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
তিন ম্যাচে ২৩৮ রান, টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানি ফারহানের
তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে ২৩৮ রান করে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ভারতের তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মাকে পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানি এই ওপেনার।

টানা তিন ম্যাচে ফারহানের হাফ সেঞ্চুরি

রাওয়ালপিন্ডিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪৭ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন ফারহান। তাঁর ইনিংসে ছিল ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের ছাপ। এ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে সিরিজে টানা তিনটি অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।

তবে ফারহানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরও ম্যাচটি জিততে পারেনি পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হেরে সিরিজের শেষ ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে স্বাগতিকদের। আগের দুই ম্যাচ জিতে অবশ্য সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল পাকিস্তান।

পেছনে পড়লেন অভিষেক শর্মা

তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের অভিষেক শর্মার দখলে। চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ২২৯ রান করেছিলেন তিনি। এবার ২৩৮ রান করে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন ফারহান।

এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ২২৩ রান করেছিলেন তিনি। এরপর রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, যাঁর রান ২১৭। আফগানিস্তানের হযরতউল্লাহ জাজাই ২০৪ রান নিয়ে আছেন তালিকার পরের অবস্থানে।

শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। দলটির হয়ে কুশল মেন্ডিস ৪৭ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ভর করে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন মেন্ডিস।

ফলে ব্যক্তিগত ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়েও শেষ ম্যাচে জয় পাননি ফারহান। তবে তিন ম্যাচে ২৩৮ রান করে সিরিজের ইতিহাসে নিজের নাম তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের এই অধিনায়ক।

কালের আলো/এসএ

অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান নওশাদ জমির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান নওশাদ জমির

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নওশাদ জমির প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদে মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। এগুলো হলো—অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কাঠামোয় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার আহ্বান

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান নওশাদ জমির।

একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, ‘সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

অস্ট্রেলিয়ায় ধবলধোলাই বাংলাদেশের মেয়েরা, শেষ ওয়ানডেতেও ৮ উইকেটে হার

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ায় ধবলধোলাই বাংলাদেশের মেয়েরা, শেষ ওয়ানডেতেও ৮ উইকেটে হার

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও ঘুরে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের জোড়া অর্ধশতকের পরও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এই হারে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশের মেয়েরা।

এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পারায় সিরিজে একটি জয়ও পাওয়া হলো না টাইগ্রেসদের।

শারমিন-স্বর্ণার ফিফটি, তবু ১৭২ রানেই শেষ বাংলাদেশ

ব্রিসবেনে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

মুর্শিদা খাতুন ১, শারমিন সুলতানা ৬ এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা সোবহানা মোস্তারিও এদিন নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৪ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি।

এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার। সতর্ক ব্যাটিংয়ে ৯৩ বলে ৮টি চারের সাহায্যে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ৫০ রানেই থেমে যায় তাঁর ইনিংস। এরপর রিতু মনি ৯ রান করে ফিরলে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

স্বর্ণার লড়াই, কাজে এল না জোড়া অর্ধশতক

১১৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন স্বর্ণা আক্তার। তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন রাবেয়া খান। তবে ১৬ বলে ১৩ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় রাবেয়াকে।

এরপরও হাল ছাড়েননি স্বর্ণা। এক প্রান্ত ধরে রেখে ব্যাটিং করে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ৭১ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৫৪ রান করে আউট হন এই ব্যাটার। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের দুইশ রানে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। দিশা বিশ্বাস ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেগান স্কাট। মাত্র ১৬ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন তিনি।

পেরি-সাদারল্যান্ডের ব্যাটে সহজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ৩৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এতে কিছুটা লড়াইয়ের আশা দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি স্বাগতিকরা।

অভিজ্ঞ অ্যালিসা পেরি ও এনাবেল সাদারল্যান্ডের দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। পেরি ৬৪ বলে ৬৫ রান করেন। অন্যদিকে সাদারল্যান্ড মাত্র ৫২ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দুজনই অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

শেষ পর্যন্ত ১৭ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সিরিজের তিন ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করতে হলো বাংলাদেশের মেয়েদের।

ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

শেষ ওয়ানডেতে শারমিন ও স্বর্ণার অর্ধশতক বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হলেও দলীয় সংগ্রহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানো এবং মাঝের ওভারে জুটি গড়তে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে।

অন্যদিকে, লক্ষ্য তাড়ায় দুই উইকেট হারানোর পরও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তাতে দুই দলের ব্যাটিংয়ের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজে একটিও জয় না পাওয়ায় বাংলাদেশের নারী দলের সামনে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ও চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেল।

কালের আলো/এসএ