খুঁজুন
                               
, ,
           

রিয়াদে হামলার আতঙ্ক, ‘মরুভূমির দাভোস’ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
রিয়াদে হামলার আতঙ্ক, ‘মরুভূমির দাভোস’ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সৌদি আরবের
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এফআইআই) আয়োজন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন আয়োজকেরা। সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্তত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নির্বাহী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিদের সৌদি আরবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্মেলন বাতিল বা নির্ধারিত সময় পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

অক্টোবর, ২০২৬ এর শেষ দিকে রিয়াদে এফআইআইয়ের দশম আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, বিনিয়োগকারী এবং আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি আরবের অর্থনীতি বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহীদের যাতায়াত পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন একজন ব্যক্তি বলেছেন, সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ রিয়াদের বাইরে অবস্থিত বিমানঘাঁটি কিংবা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবতরণ করে সড়কপথে সৌদি রাজধানীতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

এ ধরনের বিকল্প যাত্রাপথের পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সবাই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্মেলনে কারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং কতজন অনলাইনে যোগ দেবেন, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার খবর আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সম্মেলন শেষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আয়োজকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চলতি মাসের শুরুতে সম্মেলন আয়োজকেরা জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়েই এফআইআই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ হামলার কারণে সম্মেলন বাতিলের কোনো ঘোষণা তখন দেওয়া হয়নি। বরং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আয়োজনটি সম্পন্ন করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল।

এফআইআই ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহা আল সৌদ এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড আতিয়াসের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মেলনের দশম আসরে রিয়াদে হাজারো প্রতিনিধিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে বিবৃতিটি গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও হতাহতের ঘটনার আগেই দেওয়া হয়েছিল। ফলে পরবর্তী পরিস্থিতিতে আয়োজকদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সম্মেলনে অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ চালু করা হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে অনিচ্ছুক প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত থাকতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বজায় রাখার পাশাপাশি যাতায়াতসংক্রান্ত ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

‘মরুভূমির দাভোস’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন। বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক খাত এবং বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এখানে আলোচনা হয়। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, সরকারি প্রতিনিধি, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নেন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের সঙ্গে তুলনা করে এফআইআইকে অনেক সময় ‘মরুভূমির দাভোস’ বলা হয়। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের ক্ষেত্রে এ সম্মেলন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন, প্রযুক্তি, শিল্প, অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এফআইআই সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। সম্মেলনের মাধ্যমে দেশটি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে নেওয়া, বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।

এ কারণে সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সৌদি আরবের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আস্থা তৈরি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

হুতিদের হামলায় চাপে সৌদির আন্তর্জাতিক আয়োজন

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ( ১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে তথ্যের অসংগতি রয়েছে। তাই নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করাই সমীচীন।

বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজকদের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কারণ এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বিমানযাত্রা, হোটেলে অবস্থান, নিরাপত্তা এবং একাধিক স্থানে যাতায়াতের বিষয় জড়িত থাকে।

সরাসরি ও অনলাইনে অংশগ্রহণের বিকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিতি সাধারণত ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ আলোচনা এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে অনলাইন অংশগ্রহণ একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

এফআইআইয়ে অনলাইনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হলে যেসব প্রতিনিধি নিরাপত্তার কারণে রিয়াদে যেতে অনিচ্ছুক, তাঁরা দূর থেকেই আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। এতে সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সেশনগুলো চালিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে সরাসরি উপস্থিতি কমে গেলে সম্মেলনের বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত আলোচনার ধরনও বদলে যেতে পারে। বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সামনাসামনি আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আয়োজকদের জন্য নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।

তবে অনলাইনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি বিবেচনাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো তেল থেকে অর্জিত আয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। এ জন্য দেশটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের বাজার ও উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।

এফআইআইয়ের মতো সম্মেলন সেই প্রচেষ্টার অংশ। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী ও করপোরেট নেতাদের উপস্থিতি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা তৈরি করে। একই সঙ্গে বড় প্রকল্পে বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বড় আয়োজনের সময় হামলার আশঙ্কা থাকলে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয় এবং বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে হয়।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এফআইআইয়ের আয়োজকেরা অনলাইন অংশগ্রহণের বিকল্প বিবেচনা করছেন বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।

সম্মেলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর

চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় এফআইআইয়ের দশম আসর সৌদি আরবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। তবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা এবং বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগের কারণে আয়োজকদের বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করতে হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিতই থাকছে।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের বিনিয়োগ সম্মেলন ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির সামনে একটি দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। একদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। সম্মেলনে সরাসরি ও অনলাইনে অংশগ্রহণের বিকল্প শেষ পর্যন্ত কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আয়োজকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

কালের আলো/এসএ

 

৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার আলোচনায় এসেছেন ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগের কারণে। ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন এই অভিনেত্রী। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাশমিকা। এত দিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ালেও সেসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না তিনি। তবে এবার মনে হয়েছে, তাঁর কাজের কথা জানলে অন্যরাও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

‘জয়াম্মার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে’

ইনস্টাগ্রামে নিজের উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে রাশমিকা তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালি’র চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

রাশমিকা লেখেন, ‘আপনারা অনেকেই জানতে চান, জয়াম্মার সঙ্গে আমার কোনো মিল আছে কি না। আমার উত্তর—হ্যাঁ। আর এটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি সব সময়ই এমন ছিলাম, জয়াম্মাও এমন।’

অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের জন্য কিছু করার এই আগ্রহ নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

এক বছর সহায়তা পাবে ৪০০ পরিবার

রাশমিকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪০০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। অর্থাৎ একবার সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এই খাতে সহায়তা পেলে পরিবারগুলো অন্য প্রয়োজন মেটাতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে বলে আশা করছেন রাশমিকা।

কর্মসূচির আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য কত টাকা ব্যয় করা হবে কিংবা পুরো কর্মসূচিতে মোট কত অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘ছোট্ট একটি ভালো কাজও বদলে দিতে পারে জীবন’

নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশমিকা জানান, আগে এ ধরনের কাজের কথা সাধারণত প্রকাশ্যে আনতেন না। বিষয়গুলো তাঁর নিজের এবং দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এবার মনে হয়েছে, উদ্যোগটি প্রকাশ্যে এলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাঁদের পক্ষে সম্ভব, তাঁদের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেও এমন উদ্যোগকে দেখছেন রাশমিকা। তাঁর আশা, নিজের কাজের কথা জানার পর অনুসারীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।

পরিবারগুলোর মুখের হাসিই বড় প্রাপ্তি

পেশাগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রাশমিকাকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ আনন্দের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের উপকার করতে পারার তৃপ্তি অন্য অনেক প্রাপ্তির চেয়ে আলাদা। সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর আনন্দ তাঁর নিজের কষ্টকেও সার্থক করে তোলে। এই অনুভূতিই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে আরও উৎসাহিত করে।

অভিনেত্রীর এই উদ্যোগ বিনোদনজগতের তারকাদের সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সহায়তার পরিমাণ এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মুক্তির অপেক্ষায় ‘রণবালি’

এদিকে পেশাগত জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাশমিকা মান্দানা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের বিশেষ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সিনেমাটিতে রাশমিকার সহশিল্পী তাঁর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রণবালি’র গল্পে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ‘গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ’-এর পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমাটি ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিকে নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ, অন্যদিকে ৪০০ পরিবারের খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় বহনের উদ্যোগ—দুই কারণেই এখন আলোচনায় রাশমিকা। অভিনয়ের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার যে আগ্রহের কথা তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত পাঁচ দিনে ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৪২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বাতিল হওয়া ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি ছিল সরাসরি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৬১টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শুধু ঢাকা থেকে যাত্রা করা যাত্রীরাই নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগকারী ফ্লাইটে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং ও অন্যান্য ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা

বেবিচক জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এ ধরনের বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমান সংস্থা থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও বাতিলের তথ্য জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে, তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

বলিউড অভিনেতা ও আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্বধারী এই অভিনেতার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিধির আওতায় ইমরানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে নোটিশের বিষয়ে ইমরান খান বা তাঁর প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন ও তথ্য কারচুপির অভিযোগ তুলে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর আহ্বানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

সমাবেশে অংশ নেন ইমরান খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সঙ্গী ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন অভিনেত্রী জাইন মেরি খান। একপর্যায়ে মুম্বাই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইমরানসহ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভটি ছিল ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কেন দেশ ছাড়ার নোটিশ?

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা কিরিট সোমাইয়া এ বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি ইমরানকে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

ওই অভিযোগের পর ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ও মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে নোটিশের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, এর বিরুদ্ধে ইমরানের কোনো আপিল বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে দেশ ছাড়ার নির্দেশের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং ইমরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ওপর।

ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইমরান

বলিউডে ‘জানে তু… ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ইমরান খান জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে।

২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, নাগরিক না হলেও সচেতনতা তৈরির কাজে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান, কারণ তিনি নিজেকে ভারতেরই অংশ মনে করেন।

তবে পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি। বর্তমান ঘটনায় তাঁর মার্কিন নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের ভ্যান থেকে দিয়েছিলেন মজার বার্তা

১০ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ইমরান। পুলিশের ভ্যান থেকে হাসিমুখে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি একটু ঘুরে আসতে যাচ্ছি!’

তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে ওই সময়কার রসিক মন্তব্যের বাইরে দেশ ছাড়ার নোটিশ নিয়ে অভিনেতার বর্তমান অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগেও প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা

চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং এ নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায়ও সরব হয়েছিলেন ইমরান খান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান আগেও আলোচনায় এসেছে।

তবে এবারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা মূলত বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে অবস্থান ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণের বিষয়কে ঘিরে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং ইমরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে এলে নোটিশের আইনি দিক ও পরবর্তী পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

এখন নজর ২৮ অক্টোবরের দিকে

ইমরান খানের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ২৮ অক্টোবর। এর মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়তে হবে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়বেন, নাকি নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন—তা এখনো জানা যায়নি।

বলিউডের পরিচিত এই অভিনেতাকে ঘিরে ঘটনাটি শুধু বিনোদনজগতেই নয়, বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আইনি সীমা নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইমরানের বক্তব্যের দিকেই এখন নজর থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এসএ