খুঁজুন
                               
, ,
           

রিয়াদে হামলার আতঙ্ক, ‘মরুভূমির দাভোস’ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
রিয়াদে হামলার আতঙ্ক, ‘মরুভূমির দাভোস’ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সৌদি আরবের
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এফআইআই) আয়োজন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন আয়োজকেরা। সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্তত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নির্বাহী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিদের সৌদি আরবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্মেলন বাতিল বা নির্ধারিত সময় পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

অক্টোবর, ২০২৬ এর শেষ দিকে রিয়াদে এফআইআইয়ের দশম আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, বিনিয়োগকারী এবং আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি আরবের অর্থনীতি বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহীদের যাতায়াত পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন একজন ব্যক্তি বলেছেন, সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ রিয়াদের বাইরে অবস্থিত বিমানঘাঁটি কিংবা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবতরণ করে সড়কপথে সৌদি রাজধানীতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

এ ধরনের বিকল্প যাত্রাপথের পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সবাই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্মেলনে কারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং কতজন অনলাইনে যোগ দেবেন, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার খবর আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সম্মেলন শেষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আয়োজকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চলতি মাসের শুরুতে সম্মেলন আয়োজকেরা জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়েই এফআইআই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ হামলার কারণে সম্মেলন বাতিলের কোনো ঘোষণা তখন দেওয়া হয়নি। বরং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আয়োজনটি সম্পন্ন করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল।

এফআইআই ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহা আল সৌদ এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড আতিয়াসের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মেলনের দশম আসরে রিয়াদে হাজারো প্রতিনিধিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে বিবৃতিটি গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও হতাহতের ঘটনার আগেই দেওয়া হয়েছিল। ফলে পরবর্তী পরিস্থিতিতে আয়োজকদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সম্মেলনে অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ চালু করা হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে অনিচ্ছুক প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত থাকতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বজায় রাখার পাশাপাশি যাতায়াতসংক্রান্ত ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

‘মরুভূমির দাভোস’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন। বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক খাত এবং বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এখানে আলোচনা হয়। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, সরকারি প্রতিনিধি, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নেন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের সঙ্গে তুলনা করে এফআইআইকে অনেক সময় ‘মরুভূমির দাভোস’ বলা হয়। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের ক্ষেত্রে এ সম্মেলন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন, প্রযুক্তি, শিল্প, অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এফআইআই সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। সম্মেলনের মাধ্যমে দেশটি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে নেওয়া, বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।

এ কারণে সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সৌদি আরবের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আস্থা তৈরি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

হুতিদের হামলায় চাপে সৌদির আন্তর্জাতিক আয়োজন

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ( ১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে তথ্যের অসংগতি রয়েছে। তাই নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করাই সমীচীন।

বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজকদের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কারণ এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বিমানযাত্রা, হোটেলে অবস্থান, নিরাপত্তা এবং একাধিক স্থানে যাতায়াতের বিষয় জড়িত থাকে।

সরাসরি ও অনলাইনে অংশগ্রহণের বিকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিতি সাধারণত ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ আলোচনা এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে অনলাইন অংশগ্রহণ একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

এফআইআইয়ে অনলাইনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হলে যেসব প্রতিনিধি নিরাপত্তার কারণে রিয়াদে যেতে অনিচ্ছুক, তাঁরা দূর থেকেই আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। এতে সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সেশনগুলো চালিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে সরাসরি উপস্থিতি কমে গেলে সম্মেলনের বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত আলোচনার ধরনও বদলে যেতে পারে। বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সামনাসামনি আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আয়োজকদের জন্য নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।

তবে অনলাইনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি বিবেচনাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো তেল থেকে অর্জিত আয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। এ জন্য দেশটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের বাজার ও উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।

এফআইআইয়ের মতো সম্মেলন সেই প্রচেষ্টার অংশ। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী ও করপোরেট নেতাদের উপস্থিতি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা তৈরি করে। একই সঙ্গে বড় প্রকল্পে বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বড় আয়োজনের সময় হামলার আশঙ্কা থাকলে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয় এবং বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে হয়।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এফআইআইয়ের আয়োজকেরা অনলাইন অংশগ্রহণের বিকল্প বিবেচনা করছেন বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।

সম্মেলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর

চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় এফআইআইয়ের দশম আসর সৌদি আরবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। তবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা এবং বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগের কারণে আয়োজকদের বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করতে হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিতই থাকছে।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের বিনিয়োগ সম্মেলন ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির সামনে একটি দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। একদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। সম্মেলনে সরাসরি ও অনলাইনে অংশগ্রহণের বিকল্প শেষ পর্যন্ত কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আয়োজকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

কালের আলো/এসএ

 

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। ফলে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রড দৃশ্যমান হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। পুরো শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপদে বসে পড়াশোনা করার মতো পরিবেশ নেই। দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের বাচ্চারাও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠদান করছি। ভবন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হবে।’

গত ২০ জুন পাশের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে প্রকাশ দাস নামে এক দপ্তরি কাম প্রহরী আহত হওয়ার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সংসদ সদস্যের নজরে আনার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

মাধবপুরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ সংস্কার করতে হবে। সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকায় কমলেও সারা দেশে বেড়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকায় কমলেও সারা দেশে বেড়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন

এবার রাজধানী ঢাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা কমলেও সারা দেশে বেড়েছে পূজামণ্ডপ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার সারা দেশে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ১ হাজার ৫০০টি।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি। সে হিসাবে রাজধানীতে এবার তিনটি পূজামণ্ডপ কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, এবারের দুর্গাপূজার কয়েকটি বিশেষত্ব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পূজার ছুটি কমপক্ষে তিন দিন করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এ ছাড়া এবার পূজা ছয় দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছর পূজা পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হলেও এবার মহাসপ্তমী দুই দিন হওয়ায় উৎসবের সময় বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ও সরকারি বরাদ্দ বেড়েছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারি দল ও বিরোধী দল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সন্তোষ শর্মা বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা দেখছেন না। সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে দেশের বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রামু, নাসিরনগর, ২০২১ সালের কুমিল্লার ঘটনা ও সুনামগঞ্জের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে। দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে আগমন করবেন এবং নৌকায় গমন করবেন। বিজয়া দশমীতে বিকেল ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন এবং সারা দেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

১,৮০০ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা, প্রস্তুতিতে সমন্বয় ও পেশাদারত্বে জোর মহাপরিচালকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
১,৮০০ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা, প্রস্তুতিতে সমন্বয় ও পেশাদারত্বে জোর মহাপরিচালকের

শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মাঠে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দূরবর্তী মণ্ডপগুলোর জন্য ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’—সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিয়েছে সীমান্তরক্ষী এ বাহিনী।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে মণ্ডপ পরিদর্শন, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন এবং উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

  • রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে মহাপরিচালক
  • সীমান্তে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা
  • সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপে’ নিরাপত্তা সমন্বয়ে জোর

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বাহিনীর এসব প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় নিশ্চিত করতেই তাঁর এ পরিদর্শন।

সীমান্তের ১,৮০০ মণ্ডপে নিরাপত্তা, দূরবর্তী এলাকায় ১৮টি বেস ক্যাম্পের পরিকল্পনা
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবির প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে মণ্ডপ পরিদর্শন করেছে এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনায় দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিজিবি পালন করছে। ইতোমধ্যে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা সরেজমিনে পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছেন। সীমান্তের যেসব পূজামণ্ডপ বিজিবির বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবির সদর দপ্তর, রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ বক্তব্যে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবির পরিকল্পিত ও এলাকাভিত্তিক প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বিওপি থেকে দূরে অবস্থিত মণ্ডপগুলোর জন্য বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত করার উদ্যোগ। একই সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে আগাম যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমন্বয় জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’: প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা
বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা তদারকি ও দ্রুত সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তরে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।’

সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম এবং অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগকেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্ত:বাহিনী সমন্বয়ে গুরুত্ব
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির প্রস্তুতি শুধু মণ্ডপকেন্দ্রিক উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিজিবির সদস্যরা পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে সারা দেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হতে পারে।’

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের তাৎপর্য হলো, নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আগাম প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং জরুরি সাড়াদানের সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

রমনা কালীমন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময়, সম্প্রীতির বার্তা
নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান বিজিবি মহাপরিচালক। এ সময় তিনি রমনা কালীমন্দির সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ধর্মীয় উৎসবের সময় সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা, পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবি মহাপরিচালকের এ পরিদর্শনে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিজিবির ঘোষিত প্রস্তুতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সীমান্তবর্তী মণ্ডপের নিরাপত্তা, দূরবর্তী এলাকায় বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়—এই কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ও কার্যকর সমন্বয় দুর্গোৎসবের সময় নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বিজিবির এ প্রস্তুতি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাহিনীটির ভূমিকার প্রতিফলন। মাঠপর্যায়ের তৎপরতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ও স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

বিজিবি মহাপরিচালকের পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম, ঢাকা সেক্টর কমান্ডার, কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদসহ বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/টিইকে/এমকে