খুঁজুন
                               
, ,
           

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ফের হামলার ঘোষণা জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ফের হামলার ঘোষণা জেলেনস্কির

রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, এসব স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কিয়েভ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ থাকলেও এর বিনিময়ে আরও মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা পাওয়াকে ন্যূনতম শর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্ক এবং ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

‘তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখছি না’

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘তেল শোধনাগারে হামলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা আর হামলা বন্ধ রাখছি না।’

ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। এসব স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন, সরবরাহ এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে কিয়েভ।

তবে জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হামলা বন্ধ রাখার সাময়িক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।

ট্রাম্পের রাশিয়া নীতি নিয়ে অসন্তোষ

ফিন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে জেলেনস্কিকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার সমালোচনাও করেন তিনি।

এর এক দিন আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। সেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলেনস্কির দৃষ্টিতে, একদিকে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে, অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের জ্বালানি ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের উদ্যোগ কিয়েভের অবস্থানকে জটিল করে তুলছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির পর দুই দিন হামলা বন্ধ রেখেছিল ইউক্রেন

চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখতে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইউক্রেন দুই দিনের জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রেখেছিল।

তবে ওই বিরতির সময়ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা পাচ্ছিল না বলে ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

একই সময়ে ইউক্রেনজুড়ে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এতে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে ইউক্রেনীয় সেনাদের কার্যক্রম এবং রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় মাঝারি পাল্লার হামলা পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়।

ইউক্রেনের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব সুবিধা সীমিত হলে সেনাদের মধ্যে সমন্বয়, প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি এবং দূরপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্য বন্ধের হুঁশিয়ারির অভিযোগ

জেলেনস্কির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পরে কিয়েভকে জানানো হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্যসংক্রান্ত সমস্যাটি একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেছে। তবে স্টারলিংক ব্যবস্থায় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন না।

ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি কোনো কারিগরি সমস্যা ছিল না, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত।’

তবে তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও স্টারলিংকের গতি কমানোর ঘটনাগুলোর পেছনে কী কারণ ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।

হামলা বন্ধের বিনিময়ে আরও প্যাট্রিয়ট চান জেলেনস্কি

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে ইউক্রেন রাজি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা পেলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

তিনি বলেন, আরও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া হবে তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন শর্ত।

প্যাট্রিয়ট একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর, সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য অবকাঠামো রক্ষায় ইউক্রেনের জন্য এ ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেনস্কির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি কেবল যুদ্ধবিরতির প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাও জড়িত।

ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে নতুন চাপ

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখা, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং স্টারলিংক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কিয়েভের সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্যোগ এবং পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের অবস্থান ইউক্রেনের নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জেলেনস্কির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এ অবস্থায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা এবং হামলা বন্ধের বিনিময়ে আরও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে জেলেনস্কির ঘোষণার পর রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় নতুন হামলা কখন বা কী মাত্রায় চালানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াও এখনো স্পষ্ট নয়।

কালের আলো/জেএন/এসএ

ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ডাক বিভাগকে লাভজনক করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ বিষয়টি ডাক বিভাগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে। সময়োপযোগী সেবা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগকে আরও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘নগদ’ বিক্রির পরিকল্পনা নেই

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং ‘নগদ’কে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সময়ে ‘নগদ’-এর কার্যক্রম আরও আধুনিক করা এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’

এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। গত ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বছরের প্রতিপাদ্যের ওপর একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়। ডাকসেবার ঐতিহ্য, গুরুত্ব এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে এর সম্ভাবনা তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি।

২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ শিক্ষার্থী এবং ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য চার কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় অবদানের জন্য ছয় কর্মচারী এবং ডাকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ছয় প্রতিনিধিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ডাকসেবার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

ডাকসেবা সপ্তাহের আয়োজন এবং বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন এবং কর্মীদের উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বয়স ৬০ বছর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিয়ে ও সংসার নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হলেও এখনো নিজের পরিবার গড়েননি এই অভিনেতা। এবার তাঁর বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় বিনোদনমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনে অতিথি হয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সালমান খান। সেখানে নিজের সন্তান চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অভিনেতার সরাসরি বক্তব্য বা অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ পর্বের তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে আলোচনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সালমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নিজের সন্তান না থাকার অভাব তিনি অনুভব করেন কি না। উত্তরে তিনি সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার, মানসিক নির্ভরতা এবং জীবনে জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেছেন অভিনেতা।

সালমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। পর্দায় নানা চরিত্রে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে বিয়ে কিংবা সন্তান নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে বাবা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা এবং বাস্তবে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। সালমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁর নিজের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন

সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার আরেকটি বড় বিষয় রুমানীয় গায়িকা ও অভিনেত্রী ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান ও আয়োজনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে সম্পর্কের বিষয়ে সালমান বা ইউলিয়া কেউই প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান কিংবা বিয়ে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সালমানের জীবনে পরিবার ও কাছের মানুষদের ভূমিকা নিয়ে আগেও নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে ইউলিয়ার সম্পর্কের কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি।

করণ জোহরের প্রশ্নে হাস্যরস

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে প্রকাশিত প্রচারসামগ্রীতে সালমান ও করণ জোহরের কথোপকথনের কিছু মজার মুহূর্ত দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সালমানকে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণ-এর পরে হবে কফি উইথ সালমান।’ তাঁর এ মন্তব্যে হেসে ওঠেন করণ।

অনুষ্ঠানে করণ সালমানকে ব্যক্তিগত একটি প্রশ্নও করেন—তিনি এখনো কুমার কি না। প্রশ্নের উত্তরে মজার ছলে সালমান বলেন, ‘সংযত হও ভাই, সংযত হও।’ দুই তারকার কথোপকথনে হাস্যরসের পাশাপাশি পুরোনো দিনের স্মৃতিও উঠে আসে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি সিজনে সালমান নিজেকে কুমার বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবারের কথোপকথনে সেই পুরোনো প্রসঙ্গ ফিরে আসায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

‘এবার নিজের পরামর্শ নিজেকেই মানতে হবে’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করণ জোহর মন্তব্য করেন, আগের তুলনায় সালমান এখন অনেক বেশি শান্ত ও সংযত হয়েছেন। জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘এত দিন অন্যদের যে পরামর্শ দিয়ে এসেছি, এবার নিজের সেই পরামর্শ মেনে চলার সময় এসেছে।’

তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্লেষণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এর সঙ্গে বাবা হওয়ার সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সালমানের মতো জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে অনুষ্ঠানে ঠিক কী বলেছেন, তা যাচাই করতে পূর্ণাঙ্গ পর্ব বা নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ সূত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে আগ্রহ

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের প্রথম পর্বে করণ জোহরের মুখোমুখি হবেন সালমান খান। অনুষ্ঠানটির নতুন সিজন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটিই শোটির শেষ সিজন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রায় ২২ বছর ধরে ‘কফি উইথ করণ’ বিনোদনজগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নানা অজানা ঘটনা নিয়ে আলোচনার একটি পরিচিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। তাই নতুন সিজনে সালমানের উপস্থিতি এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্ভাব্য বক্তব্য দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৬০ বছর বয়সে সালমান খান বাবা হতে চান—এমন খবর বিনোদনজগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিনেতার নিজের বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

কালের আলো/জেএন/এসএ

বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩–২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লালকার্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, হামজাকে লালকার্ড দেখানো হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

৯ মিনিটের ব্যবধানে দুই হলুদ কার্ড

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ফ্র্যাটন পার্কে পোর্টসমাউথের মাঠে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজা চৌধুরীর মাঠ ছাড়ার ঘটনায় ম্যাচের মোড় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করেন হামজা। এর আগে একই খেলোয়াড়কে ফাউল করার কারণে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। দ্বিতীয় ফাউলের পর তাঁকে আবার হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় শেফিল্ড ইউনাইটেডকে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। হামজার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।

রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াইল্ডারের প্রশ্ন

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তাঁর দাবি, হামজার সঙ্গে সংঘর্ষের পর রেফারি নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, লালকার্ড দেখানো হবে না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ওয়াইল্ডারের বক্তব্য অনুযায়ী, পোর্টসমাউথের খেলোয়াড়েরা ওই ঘটনায় রেফারির কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে রেফারি ঠিক কী বলেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রয়োজন।

ওয়াইল্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামজা মাঠে কোথায় যাবেন, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের জন্য মাঠে জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দলের আরেক খেলোয়াড় স্যাম ম্যাককালামকেও তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পেনাল্টি বক্সে জার্সি ধরে টানার অভিযোগ

শুধু হামজার লালকার্ড নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের একটি ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে। শেফিল্ড কোচের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁদের দলের একজনকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ধরে টেনেছিলেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ওই খেলোয়াড়ের জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ওয়াইল্ডার মনে করেন, ম্যাচে তাঁর দলের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ কোচের নিজস্ব বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে রেফারির ব্যাখ্যা বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ফুটবলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করা, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির মতো ঘটনা খেলার অংশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হামজার বহিষ্কারের পর শেফিল্ডের খেলোয়াড়সংখ্যা কমে যাওয়ায় ম্যাচের বাকি অংশে দলটির কৌশলও বদলাতে হয়।

পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে শেফিল্ড

চ্যাম্পিয়নশিপে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই শেফিল্ড ইউনাইটেড। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫তম স্থানে রয়েছে দলটি। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।

এমন পরিস্থিতিতে পোর্টসমাউথের কাছে হার দলটির জন্য আরেকটি ধাক্কা। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে।

চলতি মৌসুমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে দলের মাঝমাঠে তাঁর ভূমিকা এবং মাঠের লড়াইয়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও শেফিল্ডের ম্যাচগুলো বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

হামজার লালকার্ড নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের লালকার্ড এখন শেফিল্ডের হার এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য ম্যাচের সংশ্লিষ্ট মুহূর্ত এবং রেফারির ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে হামজার বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়নের ওপর।

কালের আলো/জেএন/এসএ