খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটে ২৬ কোটি মানুষ, বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটে ২৬ কোটি মানুষ, বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে চরম তাপমাত্রার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে যাচ্ছে। খাদ্য, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধের প্রভাবে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে শুধু জরুরি ত্রাণ দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জাতিসংঘ এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের মতে, আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা জোরদার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় খাদ্যসংকটের বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও সরবরাহব্যবস্থার অস্থিরতার পাশাপাশি এসব সংকটের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব এবং তা মোকাবিলার উপায় তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে সরকারি বাজেট

আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকে বারবার খাদ্যমূল্যের ধাক্কা মোকাবিলা করতে হয়েছে। যুদ্ধ, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর চালের দাম ৫০ শতাংশ, গমের দাম ৩৭ শতাংশ এবং সয়াবিনের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ুগত প্রতিকূলতা বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে নাইজারে বৃষ্টিপাত ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় চরম তাপপ্রবাহ গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।

রদ্রিগো ভালদেসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চরম তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। এর প্রভাব শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সরকারি রাজস্ব আদায় এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, খাদ্যবাজার তেলের বাজারের মতো বিশ্বব্যাপী সমন্বিত নয়। খাদ্য উৎপাদন অনেকাংশে স্থানীয় আবহাওয়া, জমির অবস্থা ও ফসলের মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। ফলে খাদ্যসংকটের ধরন ও স্থায়িত্ব জ্বালানিসংকটের চেয়ে আলাদা হতে পারে। তবে এর রাজস্বগত প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

তাপপ্রবাহে কমতে পারে রাজস্ব, বাড়বে সরকারি ব্যয়

চরম তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে সরকারি রাজস্ব আয় ০.১৫ থেকে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র খরার কারণে সাহেল ও পূর্ব আফ্রিকায় সরকারি ব্যয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আলোচনায় তুলে ধরা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সংকট দেখা দেওয়ার পর ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন রদ্রিগো ভালদেস। তাঁর মতে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের নিবন্ধন এবং ডিজিটাল অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা আগেভাগে প্রস্তুত রাখা জরুরি।

এ ধরনের অবকাঠামো ও তথ্যব্যবস্থা কার্যকর থাকলে দুর্যোগ বা খাদ্যসংকটের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে জরুরি সহায়তা বিতরণে বিলম্ব কমবে এবং সীমিত সরকারি সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করা যাবে।

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এখন সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি

আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতাকে আর কেবল সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন পুনরাবৃত্তিমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্বগত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়াগত বিপর্যয় একই সময়ে খাদ্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এসব সংকটের প্রভাব পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নাইজেল ক্লার্কের মতে, উচ্চ ঋণ, চড়া সুদের হার এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে নিম্ন আয়ের ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব দেশের সরকারকে একদিকে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাজেটের ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

ফলে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় শুধু খাদ্য সহায়তা বা ভর্তুকি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা এবং সংকটের আগাম পূর্বাভাসের ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

আমদানিনির্ভর সোমালিয়ায় একের পর এক সংকট

সোমালিয়ার অর্থমন্ত্রী বিহি এগেহ তাঁর দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দেশটি কোনো একক সংকটের মুখোমুখি নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে একাধিক সংকটের সম্মিলিত প্রভাব মোকাবিলা করছে। তিনি পরিস্থিতিকে ‘ককটেল অব শকস’ বা বিভিন্ন সংকটের মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সোমালিয়ার মোট খাদ্য ব্যবহারের প্রায় ৭৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন কিংবা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির খাদ্যবাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে দ্রুত পড়ে।

বিহি এগেহ বলেন, ২০২০ সালের ধারাবাহিক খরা, ২০২৪ সালে এল নিনো-সংশ্লিষ্ট বন্যা, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সোমালিয়ার অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আমদানিনির্ভর খাদ্যব্যবস্থার পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার অনিশ্চয়তা দেশটির সংকট আরও জটিল করে তুলেছে। খাদ্যের আন্তর্জাতিক দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। অন্যদিকে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা একই হারে না বাড়লে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ত্রাণের বদলে খাদ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

বুরকিনা ফাসোর অর্থমন্ত্রী আবুবাকার নাকানাবো বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা কেবল কৃষিবিষয়ক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সরকারি রাজস্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলোও সরাসরি জড়িত।

দেশটি নিরাপত্তা সংকট, জলবায়ুজনিত ধাক্কা এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো আন্তঃসংযুক্ত সমস্যার মুখোমুখি। এ অবস্থায় শুধু জরুরি ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে মানুষকে নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আবুবাকার নাকানাবোর মতে, কৃষকদের সেচসুবিধা ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাঁরা নিজেরাই পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ উৎপাদনব্যবস্থার সক্ষমতা উন্নয়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সরকারের ওপর আকস্মিক আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

খাদ্য আমদানি ও শরণার্থীর চাপে জিবুতি

জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ বলেন, প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি শতভাগ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে অবস্থান করায় দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, ২০১২-১৩ সালে জিবুতি প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও সুদানে কৃষিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোও বিভিন্ন সংকটে পড়ে। ফলে আঞ্চলিক কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চারণভূমি কমে যাওয়ায় প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে জিবুতিতে শরণার্থীদের আগমন বাড়ছে। নিজ দেশের জনগণের পাশাপাশি ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের খাদ্যের সংস্থানও করতে হচ্ছে দেশটিকে।

এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খাদ্য পরিবহন, সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।

খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা কমায় মানবসম্পদ হারানোর আশঙ্কা

জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিডব্লিউএ) নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি বলেন, সংস্থাটির ২২টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৯টি সরাসরি সংঘাত অথবা সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না; মানুষের সেই খাদ্য কেনার সক্ষমতাও থাকতে হবে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, একটি পুষ্টিকর খাবারের মূল্য প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

রোলা দাশতি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়লে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে খাবার পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে।

খাদ্যসংকটের প্রভাব শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। পরিবারের খাদ্য কেনার সামর্থ্য কমে গেলে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকটের কারণে তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক মূলধনের ক্ষতি হতে পারে। তাই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষা ও পুষ্টি সহায়তার সমন্বয় করা জরুরি বলে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

ব্যাংককের প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন খাদ্যবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে সরকারি বাজেট, রাজস্ব আহরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর, ঋণগ্রস্ত ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো একই সঙ্গে একাধিক সংকটের চাপে রয়েছে।

আলোচকদের বক্তব্যে সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো, কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং সরকারি বাজেটে সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব বিবেচনায় রাখা।

একই সঙ্গে সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সরবরাহ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ তাই শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সংকটের সময় দ্রুত সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ডাক বিভাগকে লাভজনক করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ বিষয়টি ডাক বিভাগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে। সময়োপযোগী সেবা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগকে আরও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘নগদ’ বিক্রির পরিকল্পনা নেই

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং ‘নগদ’কে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সময়ে ‘নগদ’-এর কার্যক্রম আরও আধুনিক করা এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’

এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। গত ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বছরের প্রতিপাদ্যের ওপর একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়। ডাকসেবার ঐতিহ্য, গুরুত্ব এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে এর সম্ভাবনা তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি।

২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ শিক্ষার্থী এবং ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য চার কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় অবদানের জন্য ছয় কর্মচারী এবং ডাকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ছয় প্রতিনিধিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ডাকসেবার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

ডাকসেবা সপ্তাহের আয়োজন এবং বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন এবং কর্মীদের উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বয়স ৬০ বছর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিয়ে ও সংসার নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হলেও এখনো নিজের পরিবার গড়েননি এই অভিনেতা। এবার তাঁর বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় বিনোদনমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনে অতিথি হয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সালমান খান। সেখানে নিজের সন্তান চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অভিনেতার সরাসরি বক্তব্য বা অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ পর্বের তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে আলোচনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সালমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নিজের সন্তান না থাকার অভাব তিনি অনুভব করেন কি না। উত্তরে তিনি সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার, মানসিক নির্ভরতা এবং জীবনে জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেছেন অভিনেতা।

সালমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। পর্দায় নানা চরিত্রে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে বিয়ে কিংবা সন্তান নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে বাবা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা এবং বাস্তবে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। সালমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁর নিজের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন

সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার আরেকটি বড় বিষয় রুমানীয় গায়িকা ও অভিনেত্রী ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান ও আয়োজনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে সম্পর্কের বিষয়ে সালমান বা ইউলিয়া কেউই প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান কিংবা বিয়ে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সালমানের জীবনে পরিবার ও কাছের মানুষদের ভূমিকা নিয়ে আগেও নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে ইউলিয়ার সম্পর্কের কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি।

করণ জোহরের প্রশ্নে হাস্যরস

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে প্রকাশিত প্রচারসামগ্রীতে সালমান ও করণ জোহরের কথোপকথনের কিছু মজার মুহূর্ত দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সালমানকে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণ-এর পরে হবে কফি উইথ সালমান।’ তাঁর এ মন্তব্যে হেসে ওঠেন করণ।

অনুষ্ঠানে করণ সালমানকে ব্যক্তিগত একটি প্রশ্নও করেন—তিনি এখনো কুমার কি না। প্রশ্নের উত্তরে মজার ছলে সালমান বলেন, ‘সংযত হও ভাই, সংযত হও।’ দুই তারকার কথোপকথনে হাস্যরসের পাশাপাশি পুরোনো দিনের স্মৃতিও উঠে আসে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি সিজনে সালমান নিজেকে কুমার বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবারের কথোপকথনে সেই পুরোনো প্রসঙ্গ ফিরে আসায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

‘এবার নিজের পরামর্শ নিজেকেই মানতে হবে’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করণ জোহর মন্তব্য করেন, আগের তুলনায় সালমান এখন অনেক বেশি শান্ত ও সংযত হয়েছেন। জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘এত দিন অন্যদের যে পরামর্শ দিয়ে এসেছি, এবার নিজের সেই পরামর্শ মেনে চলার সময় এসেছে।’

তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্লেষণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এর সঙ্গে বাবা হওয়ার সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সালমানের মতো জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে অনুষ্ঠানে ঠিক কী বলেছেন, তা যাচাই করতে পূর্ণাঙ্গ পর্ব বা নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ সূত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে আগ্রহ

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের প্রথম পর্বে করণ জোহরের মুখোমুখি হবেন সালমান খান। অনুষ্ঠানটির নতুন সিজন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটিই শোটির শেষ সিজন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রায় ২২ বছর ধরে ‘কফি উইথ করণ’ বিনোদনজগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নানা অজানা ঘটনা নিয়ে আলোচনার একটি পরিচিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। তাই নতুন সিজনে সালমানের উপস্থিতি এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্ভাব্য বক্তব্য দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৬০ বছর বয়সে সালমান খান বাবা হতে চান—এমন খবর বিনোদনজগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিনেতার নিজের বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

কালের আলো/জেএন/এসএ

বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩–২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লালকার্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, হামজাকে লালকার্ড দেখানো হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

৯ মিনিটের ব্যবধানে দুই হলুদ কার্ড

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ফ্র্যাটন পার্কে পোর্টসমাউথের মাঠে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজা চৌধুরীর মাঠ ছাড়ার ঘটনায় ম্যাচের মোড় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করেন হামজা। এর আগে একই খেলোয়াড়কে ফাউল করার কারণে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। দ্বিতীয় ফাউলের পর তাঁকে আবার হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় শেফিল্ড ইউনাইটেডকে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। হামজার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।

রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াইল্ডারের প্রশ্ন

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তাঁর দাবি, হামজার সঙ্গে সংঘর্ষের পর রেফারি নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, লালকার্ড দেখানো হবে না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ওয়াইল্ডারের বক্তব্য অনুযায়ী, পোর্টসমাউথের খেলোয়াড়েরা ওই ঘটনায় রেফারির কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে রেফারি ঠিক কী বলেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রয়োজন।

ওয়াইল্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামজা মাঠে কোথায় যাবেন, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের জন্য মাঠে জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দলের আরেক খেলোয়াড় স্যাম ম্যাককালামকেও তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পেনাল্টি বক্সে জার্সি ধরে টানার অভিযোগ

শুধু হামজার লালকার্ড নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের একটি ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে। শেফিল্ড কোচের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁদের দলের একজনকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ধরে টেনেছিলেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ওই খেলোয়াড়ের জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ওয়াইল্ডার মনে করেন, ম্যাচে তাঁর দলের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ কোচের নিজস্ব বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে রেফারির ব্যাখ্যা বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ফুটবলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করা, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির মতো ঘটনা খেলার অংশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হামজার বহিষ্কারের পর শেফিল্ডের খেলোয়াড়সংখ্যা কমে যাওয়ায় ম্যাচের বাকি অংশে দলটির কৌশলও বদলাতে হয়।

পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে শেফিল্ড

চ্যাম্পিয়নশিপে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই শেফিল্ড ইউনাইটেড। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫তম স্থানে রয়েছে দলটি। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।

এমন পরিস্থিতিতে পোর্টসমাউথের কাছে হার দলটির জন্য আরেকটি ধাক্কা। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে।

চলতি মৌসুমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে দলের মাঝমাঠে তাঁর ভূমিকা এবং মাঠের লড়াইয়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও শেফিল্ডের ম্যাচগুলো বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

হামজার লালকার্ড নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের লালকার্ড এখন শেফিল্ডের হার এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য ম্যাচের সংশ্লিষ্ট মুহূর্ত এবং রেফারির ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে হামজার বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়নের ওপর।

কালের আলো/জেএন/এসএ