বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটে ২৬ কোটি মানুষ, বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি
এ পরিস্থিতিতে শুধু জরুরি ত্রাণ দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জাতিসংঘ এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের মতে, আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা জোরদার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় খাদ্যসংকটের বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও সরবরাহব্যবস্থার অস্থিরতার পাশাপাশি এসব সংকটের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব এবং তা মোকাবিলার উপায় তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে সরকারি বাজেট
আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকে বারবার খাদ্যমূল্যের ধাক্কা মোকাবিলা করতে হয়েছে। যুদ্ধ, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর চালের দাম ৫০ শতাংশ, গমের দাম ৩৭ শতাংশ এবং সয়াবিনের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ুগত প্রতিকূলতা বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে নাইজারে বৃষ্টিপাত ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় চরম তাপপ্রবাহ গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
রদ্রিগো ভালদেসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চরম তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। এর প্রভাব শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সরকারি রাজস্ব আদায় এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, খাদ্যবাজার তেলের বাজারের মতো বিশ্বব্যাপী সমন্বিত নয়। খাদ্য উৎপাদন অনেকাংশে স্থানীয় আবহাওয়া, জমির অবস্থা ও ফসলের মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। ফলে খাদ্যসংকটের ধরন ও স্থায়িত্ব জ্বালানিসংকটের চেয়ে আলাদা হতে পারে। তবে এর রাজস্বগত প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
তাপপ্রবাহে কমতে পারে রাজস্ব, বাড়বে সরকারি ব্যয়
চরম তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে সরকারি রাজস্ব আয় ০.১৫ থেকে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র খরার কারণে সাহেল ও পূর্ব আফ্রিকায় সরকারি ব্যয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আলোচনায় তুলে ধরা হয়।
এই পরিস্থিতিতে সংকট দেখা দেওয়ার পর ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন রদ্রিগো ভালদেস। তাঁর মতে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের নিবন্ধন এবং ডিজিটাল অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা আগেভাগে প্রস্তুত রাখা জরুরি।
এ ধরনের অবকাঠামো ও তথ্যব্যবস্থা কার্যকর থাকলে দুর্যোগ বা খাদ্যসংকটের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে জরুরি সহায়তা বিতরণে বিলম্ব কমবে এবং সীমিত সরকারি সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করা যাবে।
খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এখন সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি
আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতাকে আর কেবল সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন পুনরাবৃত্তিমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্বগত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়াগত বিপর্যয় একই সময়ে খাদ্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এসব সংকটের প্রভাব পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নাইজেল ক্লার্কের মতে, উচ্চ ঋণ, চড়া সুদের হার এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে নিম্ন আয়ের ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব দেশের সরকারকে একদিকে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাজেটের ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফলে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় শুধু খাদ্য সহায়তা বা ভর্তুকি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা এবং সংকটের আগাম পূর্বাভাসের ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
আমদানিনির্ভর সোমালিয়ায় একের পর এক সংকট
সোমালিয়ার অর্থমন্ত্রী বিহি এগেহ তাঁর দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দেশটি কোনো একক সংকটের মুখোমুখি নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে একাধিক সংকটের সম্মিলিত প্রভাব মোকাবিলা করছে। তিনি পরিস্থিতিকে ‘ককটেল অব শকস’ বা বিভিন্ন সংকটের মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সোমালিয়ার মোট খাদ্য ব্যবহারের প্রায় ৭৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন কিংবা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির খাদ্যবাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে দ্রুত পড়ে।
বিহি এগেহ বলেন, ২০২০ সালের ধারাবাহিক খরা, ২০২৪ সালে এল নিনো-সংশ্লিষ্ট বন্যা, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সোমালিয়ার অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আমদানিনির্ভর খাদ্যব্যবস্থার পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার অনিশ্চয়তা দেশটির সংকট আরও জটিল করে তুলেছে। খাদ্যের আন্তর্জাতিক দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। অন্যদিকে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা একই হারে না বাড়লে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ত্রাণের বদলে খাদ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
বুরকিনা ফাসোর অর্থমন্ত্রী আবুবাকার নাকানাবো বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা কেবল কৃষিবিষয়ক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সরকারি রাজস্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলোও সরাসরি জড়িত।
দেশটি নিরাপত্তা সংকট, জলবায়ুজনিত ধাক্কা এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো আন্তঃসংযুক্ত সমস্যার মুখোমুখি। এ অবস্থায় শুধু জরুরি ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে মানুষকে নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আবুবাকার নাকানাবোর মতে, কৃষকদের সেচসুবিধা ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাঁরা নিজেরাই পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ উৎপাদনব্যবস্থার সক্ষমতা উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সরকারের ওপর আকস্মিক আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
খাদ্য আমদানি ও শরণার্থীর চাপে জিবুতি
জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ বলেন, প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি শতভাগ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে অবস্থান করায় দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, ২০১২-১৩ সালে জিবুতি প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও সুদানে কৃষিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোও বিভিন্ন সংকটে পড়ে। ফলে আঞ্চলিক কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চারণভূমি কমে যাওয়ায় প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে জিবুতিতে শরণার্থীদের আগমন বাড়ছে। নিজ দেশের জনগণের পাশাপাশি ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের খাদ্যের সংস্থানও করতে হচ্ছে দেশটিকে।
এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খাদ্য পরিবহন, সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।
খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা কমায় মানবসম্পদ হারানোর আশঙ্কা
জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিডব্লিউএ) নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি বলেন, সংস্থাটির ২২টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৯টি সরাসরি সংঘাত অথবা সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না; মানুষের সেই খাদ্য কেনার সক্ষমতাও থাকতে হবে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, একটি পুষ্টিকর খাবারের মূল্য প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
রোলা দাশতি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়লে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে খাবার পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে।
খাদ্যসংকটের প্রভাব শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। পরিবারের খাদ্য কেনার সামর্থ্য কমে গেলে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকটের কারণে তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক মূলধনের ক্ষতি হতে পারে। তাই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষা ও পুষ্টি সহায়তার সমন্বয় করা জরুরি বলে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
ব্যাংককের প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন খাদ্যবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে সরকারি বাজেট, রাজস্ব আহরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর, ঋণগ্রস্ত ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো একই সঙ্গে একাধিক সংকটের চাপে রয়েছে।
আলোচকদের বক্তব্যে সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো, কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং সরকারি বাজেটে সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব বিবেচনায় রাখা।
একই সঙ্গে সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সরবরাহ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ তাই শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সংকটের সময় দ্রুত সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কালের আলো/জেএন/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array