খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদি-ইসরায়েলে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে চীনা যন্ত্রাংশে ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে হুতিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
সৌদি-ইসরায়েলে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে চীনা যন্ত্রাংশে ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে হুতিরা
ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য চীনে উৎপাদিত বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে গোষ্ঠীটি। এসব যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইরানের ‘খাইবার শেখান’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে নতুন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চলছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পরিকল্পনাটি সফল হলে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে হুতিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে অনুসন্ধান করা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের কর্তৃপক্ষ হুতিদের জন্য পাঠানো দুটি চালান জব্দ করার পর সেগুলোর সরঞ্জাম পরীক্ষা করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট ইঞ্জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদান, ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো তৈরির সরঞ্জাম এবং উড্ডয়নের সময় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অংশ। কিছু যন্ত্রাংশ বেসামরিক কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব হলেও কয়েকটি বিশেষভাবে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ হাজার ২০০ মাইলের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা

সিএআরের অনুসন্ধান অনুযায়ী, হুতিরা ইরানের ‘খাইবার শেখান’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে একটি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে। এটি কঠিন জ্বালানিচালিত এবং তুলনামূলক দ্রুত মোতায়েনযোগ্য অস্ত্রব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নকশা অনুসরণ করে হুতিদের তৈরি করতে চাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ১ হাজার ২০০ মাইলের বেশি হতে পারে। এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্ভাব্য হামলার আওতায় আসতে পারে। তবে হুতিদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত পাল্লা, পরীক্ষার অগ্রগতি এবং পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উড্ডয়নের একটি বড় অংশে নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। উন্নত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এতে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা আরও কঠিন হতে পারে।

খাইবার শেখানের নকশার আদলে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারলে হুতিদের অস্ত্রভান্ডারে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার হামলার ক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নতুন অস্ত্রটি বাস্তবে কতটা নির্ভুল ও কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে এর নকশা, উৎপাদনমান, পরীক্ষা এবং পরিচালনব্যবস্থার ওপর।

দুই বছর ধরে চীন থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির তথ্য

ইয়েমেনের ওপর নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক পর্ষদের সাবেক বিশেষজ্ঞ হেনরি টমসন বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই বছর ধরে চীন থেকে কঠিন জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ আমদানি করছে হুতিরা।

সিএআরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের জন্য হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এসব পণ্য কখনো অন্য বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে পরিবহন করা হয়েছে বলে ইয়েমেনের কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর জব্দ করা দুটি চালানে ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত ধাতব যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া উড্ডয়নের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ভারসাম্য ধরে রাখার পাখনা এবং রকেট ইঞ্জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপাদানও শনাক্ত করা হয়।

জব্দ করা সরঞ্জামের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালও ছিল। বিশেষ তাপরোধী উপাদানও পাওয়া গেছে, যা প্রচণ্ড তাপের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দিষ্ট অংশকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে এসব সরঞ্জাম শনাক্ত হওয়া এবং হুতিদের হাতে পূর্ণাঙ্গ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। অস্ত্রের চূড়ান্ত সক্ষমতা নির্ধারণে উৎপাদন, সংযোজন, পরীক্ষা ও সফলভাবে পরিচালনার মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিএআরের অনুসন্ধানে হুতিদের অস্ত্র কর্মসূচিতে বিদেশি সরবরাহকারীদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের জন্য পাঠানো বিভিন্ন চালানে চীনা প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে চীনের একটি সূক্ষ্ম ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম চালানসংক্রান্ত নথিতে থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের মহাকাশযানের জন্য বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীনে তৈরি কোনো যন্ত্রাংশ পাওয়া গেলেই চীন সরকার সরাসরি হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কোনো পণ্য কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে, কে তা সংগ্রহ করেছে এবং চূড়ান্ত ব্যবহারকারী সম্পর্কে সরবরাহকারীর জ্ঞান ছিল কি না, তা পৃথকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে কিছু যন্ত্রাংশের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়টিও রয়েছে। বেসামরিক শিল্প, মহাকাশ গবেষণা বা সাধারণ প্রকৌশলকাজে ব্যবহৃত কিছু উপাদান সামরিক ব্যবস্থাতেও কাজে লাগতে পারে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট অস্ত্র তৈরির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ত্র সংগ্রহের অভিযোগ

হুতিদের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জাতিসংঘের। যুক্তরাষ্ট্রও গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এসব বিধিনিষেধের লক্ষ্য হলো, গোষ্ঠীটির অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত করা।

কিন্তু সিএআরের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগানো হয়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাদের মধ্যে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টতার প্রমাণকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

গত বছর ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছিল, চীনের একটি প্রতিষ্ঠান লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালাতে হুতিদের সহায়তা করেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

বেইজিংয়ের বক্তব্য: বেসামরিক ও সামরিক পণ্যের পার্থক্য জরুরি

হুতিদের অস্ত্র কর্মসূচিতে চীনা যন্ত্রাংশের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বেইজিং জানিয়েছে, হুতিদের কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে তারা সম্মান করে। একই সঙ্গে চীন বেসামরিক ও সামরিক—দুই ধরনের কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের মধ্যে পার্থক্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনেক প্রযুক্তিগত পণ্য একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে কোনো যন্ত্রাংশের উৎপত্তি দেশ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেটি কী উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছিল, কোন পথে পরিবহন করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কার হাতে পৌঁছেছে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে শুধু সরাসরি অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও প্রযুক্তি কীভাবে সরবরাহব্যবস্থায় প্রবেশ করছে, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা জরুরি।

সৌদি আরবের সঙ্গে পুরোনো সংঘাত, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইয়েমেনের বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী নিয়ন্ত্রিত নয় এমন এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এ কারণে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হুতিদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোনের তুলনায় বেশি বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং দ্রুত লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে পারে। উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা নির্ভর করে ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য, আগাম সতর্কতা, শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।

ইরান, হরমুজ প্রণালি ও ট্রাম্পের উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটও এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুতিদের আচরণের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে জ্বালানি পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বিমা ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে হুতিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার আগে প্রতিটি ঘটনার স্বতন্ত্র প্রমাণ বিবেচনা করা জরুরি।

আগেও উন্নত অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহের চেষ্টা

হুতিদের বিদেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়। সিএআরের বিশেষজ্ঞরা ২০২৪ সালের শেষ দিকে স্বল্পপাল্লার ‘সদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষভাবে তৈরি যন্ত্রাংশ আমদানির তথ্য নথিবদ্ধ করেছিলেন। তবে সেসব পণ্যের সরবরাহকারী কে ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন অনুসন্ধানে অস্ত্র কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশেষ করে কঠিন জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

যদি হুতিরা এসব যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে কার্যকর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়, তাহলে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে

হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করলে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য হামলার পরিধি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও আগাম সতর্কতাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে।

তবে অনুসন্ধানে যেসব যন্ত্রাংশ শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো থেকে হুতিদের পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ বিষয়ে আরও স্বাধীন যাচাই, অস্ত্র পরীক্ষার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, চীনা প্রতিষ্ঠানের তৈরি যন্ত্রাংশের সম্ভাব্য ব্যবহার, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা অনুসরণের চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অস্ত্রের উপাদান সংগ্রহের অভিযোগ হুতিদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই কর্মসূচি কতটা এগিয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর প্রকৃত প্রভাব।

কালের আলো/জেএন/এসএ

ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ডাক বিভাগকে লাভজনক করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ বিষয়টি ডাক বিভাগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে। সময়োপযোগী সেবা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগকে আরও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘নগদ’ বিক্রির পরিকল্পনা নেই

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং ‘নগদ’কে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সময়ে ‘নগদ’-এর কার্যক্রম আরও আধুনিক করা এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’

এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। গত ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বছরের প্রতিপাদ্যের ওপর একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়। ডাকসেবার ঐতিহ্য, গুরুত্ব এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে এর সম্ভাবনা তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি।

২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ শিক্ষার্থী এবং ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য চার কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় অবদানের জন্য ছয় কর্মচারী এবং ডাকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ছয় প্রতিনিধিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ডাকসেবার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

ডাকসেবা সপ্তাহের আয়োজন এবং বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন এবং কর্মীদের উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বয়স ৬০ বছর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিয়ে ও সংসার নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হলেও এখনো নিজের পরিবার গড়েননি এই অভিনেতা। এবার তাঁর বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় বিনোদনমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনে অতিথি হয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সালমান খান। সেখানে নিজের সন্তান চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অভিনেতার সরাসরি বক্তব্য বা অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ পর্বের তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে আলোচনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সালমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নিজের সন্তান না থাকার অভাব তিনি অনুভব করেন কি না। উত্তরে তিনি সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার, মানসিক নির্ভরতা এবং জীবনে জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেছেন অভিনেতা।

সালমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। পর্দায় নানা চরিত্রে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে বিয়ে কিংবা সন্তান নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে বাবা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা এবং বাস্তবে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। সালমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁর নিজের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন

সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার আরেকটি বড় বিষয় রুমানীয় গায়িকা ও অভিনেত্রী ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান ও আয়োজনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে সম্পর্কের বিষয়ে সালমান বা ইউলিয়া কেউই প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান কিংবা বিয়ে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সালমানের জীবনে পরিবার ও কাছের মানুষদের ভূমিকা নিয়ে আগেও নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে ইউলিয়ার সম্পর্কের কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি।

করণ জোহরের প্রশ্নে হাস্যরস

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে প্রকাশিত প্রচারসামগ্রীতে সালমান ও করণ জোহরের কথোপকথনের কিছু মজার মুহূর্ত দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সালমানকে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণ-এর পরে হবে কফি উইথ সালমান।’ তাঁর এ মন্তব্যে হেসে ওঠেন করণ।

অনুষ্ঠানে করণ সালমানকে ব্যক্তিগত একটি প্রশ্নও করেন—তিনি এখনো কুমার কি না। প্রশ্নের উত্তরে মজার ছলে সালমান বলেন, ‘সংযত হও ভাই, সংযত হও।’ দুই তারকার কথোপকথনে হাস্যরসের পাশাপাশি পুরোনো দিনের স্মৃতিও উঠে আসে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি সিজনে সালমান নিজেকে কুমার বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবারের কথোপকথনে সেই পুরোনো প্রসঙ্গ ফিরে আসায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

‘এবার নিজের পরামর্শ নিজেকেই মানতে হবে’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করণ জোহর মন্তব্য করেন, আগের তুলনায় সালমান এখন অনেক বেশি শান্ত ও সংযত হয়েছেন। জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘এত দিন অন্যদের যে পরামর্শ দিয়ে এসেছি, এবার নিজের সেই পরামর্শ মেনে চলার সময় এসেছে।’

তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্লেষণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এর সঙ্গে বাবা হওয়ার সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সালমানের মতো জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে অনুষ্ঠানে ঠিক কী বলেছেন, তা যাচাই করতে পূর্ণাঙ্গ পর্ব বা নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ সূত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে আগ্রহ

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের প্রথম পর্বে করণ জোহরের মুখোমুখি হবেন সালমান খান। অনুষ্ঠানটির নতুন সিজন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটিই শোটির শেষ সিজন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রায় ২২ বছর ধরে ‘কফি উইথ করণ’ বিনোদনজগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নানা অজানা ঘটনা নিয়ে আলোচনার একটি পরিচিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। তাই নতুন সিজনে সালমানের উপস্থিতি এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্ভাব্য বক্তব্য দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৬০ বছর বয়সে সালমান খান বাবা হতে চান—এমন খবর বিনোদনজগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিনেতার নিজের বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

কালের আলো/জেএন/এসএ

বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩–২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লালকার্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, হামজাকে লালকার্ড দেখানো হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

৯ মিনিটের ব্যবধানে দুই হলুদ কার্ড

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ফ্র্যাটন পার্কে পোর্টসমাউথের মাঠে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজা চৌধুরীর মাঠ ছাড়ার ঘটনায় ম্যাচের মোড় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করেন হামজা। এর আগে একই খেলোয়াড়কে ফাউল করার কারণে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। দ্বিতীয় ফাউলের পর তাঁকে আবার হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় শেফিল্ড ইউনাইটেডকে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। হামজার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।

রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াইল্ডারের প্রশ্ন

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তাঁর দাবি, হামজার সঙ্গে সংঘর্ষের পর রেফারি নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, লালকার্ড দেখানো হবে না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ওয়াইল্ডারের বক্তব্য অনুযায়ী, পোর্টসমাউথের খেলোয়াড়েরা ওই ঘটনায় রেফারির কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে রেফারি ঠিক কী বলেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রয়োজন।

ওয়াইল্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামজা মাঠে কোথায় যাবেন, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের জন্য মাঠে জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দলের আরেক খেলোয়াড় স্যাম ম্যাককালামকেও তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পেনাল্টি বক্সে জার্সি ধরে টানার অভিযোগ

শুধু হামজার লালকার্ড নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের একটি ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে। শেফিল্ড কোচের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁদের দলের একজনকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ধরে টেনেছিলেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ওই খেলোয়াড়ের জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ওয়াইল্ডার মনে করেন, ম্যাচে তাঁর দলের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ কোচের নিজস্ব বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে রেফারির ব্যাখ্যা বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ফুটবলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করা, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির মতো ঘটনা খেলার অংশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হামজার বহিষ্কারের পর শেফিল্ডের খেলোয়াড়সংখ্যা কমে যাওয়ায় ম্যাচের বাকি অংশে দলটির কৌশলও বদলাতে হয়।

পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে শেফিল্ড

চ্যাম্পিয়নশিপে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই শেফিল্ড ইউনাইটেড। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫তম স্থানে রয়েছে দলটি। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।

এমন পরিস্থিতিতে পোর্টসমাউথের কাছে হার দলটির জন্য আরেকটি ধাক্কা। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে।

চলতি মৌসুমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে দলের মাঝমাঠে তাঁর ভূমিকা এবং মাঠের লড়াইয়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও শেফিল্ডের ম্যাচগুলো বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

হামজার লালকার্ড নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের লালকার্ড এখন শেফিল্ডের হার এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য ম্যাচের সংশ্লিষ্ট মুহূর্ত এবং রেফারির ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে হামজার বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়নের ওপর।

কালের আলো/জেএন/এসএ