পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ২৭ শিশুর, আহত ১৯
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
আফ্রিদি আবাদে স্কুল ভবন ধস, শ্রেণিকক্ষে ছিল শিক্ষার্থীরা
পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত আল খায়ের নামের বেসরকারি স্কুলটির ছাদ ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির সংবাদমাধ্যম ডনকে জানান, ছাদ ধসে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিক্ষার্থী ও অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৪০ জনকে উদ্ধার, অভিযান চলছে
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জীবিতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ডনকে জানান, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়েছে। আহত ১৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
তিন মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন এক অভিভাবক
দুর্ঘটনার পর সন্তানদের খোঁজে স্কুলে ছুটে যান অভিভাবকেরা। তাঁদেরই একজন সামিউল্লাহ। ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্কুলের ছাদ ধসের খবর পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন তিনি।
সামিউল্লাহ বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ি থেকে ফোন পান। এর প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়ে।
স্কুল ভবনের অবস্থা দেখে নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। সামিউল্লাহ বলেন, ‘ভবনটি দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমার ছেলেও মারা গেছে।’
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্বজনদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
ছাদধসের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং কী কারণে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে, তা খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিশুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ইসহাক দারের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইসহাক দার বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের এমন প্রতিটি মৃত্যু পুরো দেশের জন্যই এক দুঃখজনক ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্কুল ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
পেশোয়ারের এ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর প্রাণহানি পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্কুল ভবনের নির্মাণমান, ছাদের স্থায়িত্ব, নিয়মিত পরিদর্শন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তবে স্কুলটির ছাদ ঠিক কী কারণে ধসে পড়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
কালের আলো/জেএন/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array