খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংকক থেকে ঢাকায় কুশের চালান, নেপথ্যে ত্রিদেশীয় সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ব্যাংকক থেকে ঢাকায় কুশের চালান, নেপথ্যে ত্রিদেশীয় সিন্ডিকেট

বাংলাদেশকে নতুন মাদকের বাজারে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক পাচারচক্র। থাইল্যান্ড থেকে ভারতীয় নাগরিকদের মাধ্যমে আকাশপথে কুশ এনে দেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে চক্রটি। পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পোশাক, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের আড়াল। বিমানবন্দরে ধারাবাহিক অভিযানে একাধিক চালান ও বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামনে এসেছে মাদকটির বিস্তারের নতুন কৌশল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্বেগ, বিদেশি পাচারকারীদের পাশাপাশি দেশীয় সহযোগীদের সক্রিয়তা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

  • ভারতীয় নাগরিকদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করে দেশে মাদক ছড়ানোর অভিযোগ
  • বিমানবন্দর ও সীমান্তকে ঘিরে সক্রিয় পাচারচক্র

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে কুশের একাধিক চালান জব্দ হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে পাঁচটি পৃথক অভিযানে প্রায় ৩০ কেজি কুশ উদ্ধার এবং ভারতীয় তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর বাইরে সীমান্তেও চালান আটকের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎ দাসের কাছ থেকে চার কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, ভারতীয় শাড়ির নিচে লুকিয়ে তিনি মাদকটি দেশে এনেছিলেন।

তিন দেশের যোগসাজশ, দেশীয় বাজারে বিস্তারের পরিকল্পনা
ডিএনসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, থাইল্যান্ডের ব্যাংককভিত্তিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কুশ সংগ্রহ করে ভারতীয় বাহকেরা বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। পরে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজে ভারতের নিম্ন আয়ের মানুষকে বাহক হিসেবে ব্যবহারের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজিউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের কয়েকজন মাদক কারবারিকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক ভারতীয় নাগরিকের জিজ্ঞাসাবাদেও স্থানীয় সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

পাচারের রুট হিসেবে বিমানবন্দরের পাশাপাশি স্থলসীমান্ত ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ডিএনসির তথ্য বলছে, বাংলাদেশে কয়েক দিন অবস্থান করে চালান হস্তান্তরের পর চক্রের সদস্যরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যায়। অন্যদিকে, গত ৬ আগস্ট সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১২ কেজি কুশসহ একজন গ্রেপ্তার হন। ফলে আকাশপথ ও স্থলপথ—দুই দিকেই নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হচ্ছে।

উচ্চমাত্রার নেশা, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি
কুশ মূলত উচ্চমাত্রার টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) সমৃদ্ধ গাঁজাজাতীয় মাদক। এর মনঃপ্রভাব সৃষ্টিকারী উপাদান বেশি থাকায় সেবনে বিচারবোধ, স্মৃতিশক্তি ও স্বাভাবিক চিন্তাপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারে গুরুতর মানসিক ও শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিও রয়েছে। ডিএনসির পরীক্ষাগার বিশ্লেষণে মাদকটির উচ্চ ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে তরুণদের মধ্যে কুশের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিজাত পরিবারের তরুণদের কাছে এর চাহিদা থাকার তথ্যও তদন্তে এসেছে। উচ্চমূল্যের কারণে মাদকটি সীমিত পরিসরের বাজারে বিক্রি হলেও সেই বাজার বিস্তারের চেষ্টা করছে পাচারকারীরা।

শুধু চালান জব্দ নয়, প্রয়োজন সমন্বিত অভিযান
বারবার চালান উদ্ধার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আরও মাদক দেশে ঢুকেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই বাহক গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী, অর্থায়নকারী ও স্থানীয় পরিবেশকদের শনাক্ত করা জরুরি। বিমানবন্দরে যাত্রী ও পণ্যের ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি, সীমান্ত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কুশের বিস্তার ঠেকাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান সফল হলেও চাহিদা ও স্থানীয় বিতরণব্যবস্থা অক্ষত থাকলে নতুন চালানের পথ বন্ধ করা কঠিন হবে।

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে

মাত্র ৫ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি দূর হয় সব জীবাণু?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি দূর হয় সব জীবাণু?
সংক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন তাড়াহুড়ো করে। খাওয়ার আগে, রান্না শুরুর সময় কিংবা বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে মাত্র কয়েক সেকেন্ড পানির নিচে হাত ধুয়েই দায়িত্ব শেষ করেন অনেকে। কিন্তু এভাবে হাত ধুলে কি সত্যিই দূর হয় রোগজীবাণু?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কার্যকরভাবে হাত পরিষ্কার করতে শুধু পানি ব্যবহার বা কয়েক সেকেন্ড হাত ভিজিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সাবান, হাতের সব অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ধোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ঘষার পরামর্শ দেয়।

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাতে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

পাঁচ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি পরিষ্কার হয়?

দ্রুত হাত ধুলে দৃশ্যমান কিছু ময়লা দূর হতে পারে। তবে হাতের ত্বকে থাকা রোগজীবাণু কার্যকরভাবে কমানোর জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, নখের আশপাশ, বুড়ো আঙুল ও হাতের পেছনের অংশ ঠিকভাবে পরিষ্কার না হলে সেখানে জীবাণু থেকে যেতে পারে।

হাত দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও তাতে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব থাকতে পারে। দূষিত হাতের মাধ্যমে এসব জীবাণু খাবার, মুখ কিংবা অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হাত পরিষ্কারের কার্যকারিতা মূলত সাবান ব্যবহার, ঘর্ষণ এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ধোয়ার ওপর নির্ভর করে। সাবান ময়লা ও জীবাণু ত্বক থেকে আলগা করতে সাহায্য করে। হাত ঘষার ফলে সেগুলো দূর হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং প্রবাহমান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে আলগা হয়ে আসা ময়লা ও জীবাণু সরে যায়।

কতক্ষণ ধরে হাত ধোয়া উচিত?

সিডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাতের সব অংশ কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বর্ণিত প্রচলিত হাত ধোয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় হাত ভেজানো, সাবান লাগানো, ঘষে পরিষ্কার করা, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা এবং শুকানোসহ সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ড সময় লাগে।

সঠিকভাবে হাত ধোয়ার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে হাত ভিজিয়ে সাবান লাগাতে হবে। এরপর দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল, আঙুলের ডগা ও নখের আশপাশ ভালোভাবে ঘষতে হবে। সবশেষে পরিষ্কার পানিতে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

অনেকেই হাতের তালু পরিষ্কার করলেও আঙুলের ফাঁক কিংবা নখের নিচের অংশে যথেষ্ট মনোযোগ দেন না। ফলে হাত ধোয়ার পরও কিছু জায়গায় ময়লা ও জীবাণু থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হাতের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার করা জরুরি।

গরম পানি নাকি ঠান্ডা পানি—কোনটি বেশি কার্যকর?

হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রার চেয়ে সাবান ব্যবহার এবং ভালোভাবে হাত ঘষে পরিষ্কার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় গরম ও ঠান্ডা পানি জীবাণু দূর করার ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম কার্যকর হতে পারে।

তাই হাত পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বরং বেশি গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নিজের জন্য আরামদায়ক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করলেই চলে।

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সাধারণ সাবানই যথেষ্ট। প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা জরুরি নয়। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা বা তৈলাক্ত হলে সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হাত শুকানোও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর হাত শুকানোর বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু হাত ধোয়ার প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

ভেজা হাতে জীবাণু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই হাত ধোয়ার পর পরিষ্কার তোয়ালে অথবা পেপার টাওয়েল দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।

বাড়িতে হাত মোছার তোয়ালে ব্যবহার করলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকলে তাতে ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। তাই তোয়ালে নোংরা হয়ে গেলে বদলে ফেলুন এবং ব্যবহারের পর শুকানোর ব্যবস্থা রাখুন।

কখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন?

সাবান ও পরিষ্কার প্রবাহমান পানি পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল ও আঙুলের ডগায় স্যানিটাইজার ভালোভাবে লাগাতে হবে। এরপর হাত শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঘষতে হবে।

তবে স্যানিটাইজার সব পরিস্থিতিতে সাবান ও পানির বিকল্প নয়। হাত দৃশ্যত নোংরা বা তৈলাক্ত থাকলে এটি কম কার্যকর হতে পারে। আবার নোরোভাইরাসের মতো কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া বেশি উপযোগী।

বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তন করার পর, ময়লা আবর্জনা স্পর্শ করার পর এবং কাশি, হাঁচি বা নাক পরিষ্কার করার পরও হাত ভালোভাবে ধুতে হবে।

কোন কোন সময়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে জরুরি?

দৈনন্দিন জীবনে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন—

  • খাবার তৈরি করার আগে, খাবার খাওয়ার আগে এবং অন্যকে খাবার পরিবেশনের আগে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর।
  • শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করার পর।
  • কাশি, হাঁচি বা নাক ঝাড়ার পর।
  • আবর্জনা, ময়লা কিংবা দূষিত বস্তু স্পর্শ করার পর।
  • অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যা করার আগে ও পরে।
  • বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর, বিশেষ করে হাত ময়লা হলে।

এসব সময়ে হাত পরিষ্কার রাখলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সচেতনতাই পারে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে

হাত ধোয়া ছোট একটি দৈনন্দিন কাজ হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাড়াহুড়ো করে কয়েক সেকেন্ড হাত ধোয়ার পরিবর্তে সঠিক নিয়ম মেনে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ঘষে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে হাতের সব অংশ পরিষ্কার করা এবং ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। পরিবারের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস শেখানো গেলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, শুধু হাত ভিজিয়ে নেওয়া আর কার্যকরভাবে হাত ধোয়া এক বিষয় নয়। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই এই সহজ অভ্যাস থেকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া সম্ভব।

কালের আলো/জেএন/এসএ

কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

কিশোর গ্যাং নির্মূলে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীমকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ওসিকে সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যে পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর চাপ দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান তিনি।

সভায় চাঁদাবাজি বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারত্বের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

চিফ হুইপের বক্তব্যে নিজের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার অভিযোগও উঠে আসে। এ বিষয়ে ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’ তবে আউয়াল ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য তথ্য বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ দখলবাজি করলে তাঁকে সরাসরি ফোনে না পেলেও যেন বার্তা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি।’ নিজের নাম ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পেলে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজির সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। কোস্টগার্ডের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’ থানায় দালালি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন তিনি। পাথরঘাটায় উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি এবং থানাকেন্দ্রিক দালালি বন্ধ করা। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

প্রতি রাতে মুখ খুলে ঘুমান? শরীরে হতে পারে যেসব সমস্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রতি রাতে মুখ খুলে ঘুমান? শরীরে হতে পারে যেসব সমস্যা
মুখ খোলা রেখে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাস। বিশেষ করে সর্দি, অ্যালার্জি কিংবা নাক বন্ধ থাকলে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রতিদিন রাতে মুখ খুলে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা মুখের স্বাস্থ্য, দাঁত ও মাড়ির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি এটি নাকের সমস্যা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে জটিলতারও ইঙ্গিত হতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ কিংবা ঠোঁট ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এমনটা চলতে থাকলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া কেন বেশি উপকারী

মানবদেহে নাক শুধু শ্বাস নেওয়ার অঙ্গ নয়, বরং ফুসফুসে প্রবেশের আগে বাতাসকে পরিশোধন, উষ্ণ ও আর্দ্র করার গুরুত্বপূর্ণ কাজও করে। নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম লোম ও শ্লেষ্মা ধুলাবালি এবং বাতাসে থাকা কিছু ক্ষতিকর কণা আটকে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।

অন্যদিকে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস সরাসরি মুখ ও গলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে। এতে মুখের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে মুখ ও গলা শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে নাইট্রিক অক্সাইডেরও সম্পর্ক রয়েছে। এই গ্যাস রক্তনালির কার্যক্রম এবং ফুসফুসে অক্সিজেন ব্যবহারে ভূমিকা রাখে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়াই শরীরের জন্য বেশি উপযোগী।

মুখ খুলে ঘুমালে যেসব সমস্যা হতে পারে

মুখ খোলা রেখে নিয়মিত ঘুমানোর সবচেয়ে পরিচিত প্রভাব হলো মুখের শুষ্কতা। ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে বাতাস চলাচল করলে লালা শুকিয়ে যেতে পারে। অথচ মুখের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং দাঁত ও মাড়িকে সুরক্ষিত রাখতে লালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া: রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকনো লাগতে পারে। কারও কারও গলায় অস্বস্তি, খুসখুসে ভাব কিংবা ব্যথাও দেখা দেয়।

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ: লালা মুখের ভেতরের খাবারের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। লালার পরিমাণ কমে গেলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম বাড়তে পারে। ফলে সকালে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যা: মুখের লালা দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত রাখতে এবং মুখের অম্লীয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ এবং মুখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঠোঁট ফেটে যাওয়া ও জিহ্বায় আস্তরণ: সারা রাত মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। একই সঙ্গে জিহ্বায় সাদা বা ঘন আস্তরণ দেখা দিতে পারে, যদিও এর অন্য কারণও থাকতে পারে।

নাক ডাকা ও ঘুমের ব্যাঘাত: মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে নাক ডাকার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে নাক ডাকার কারণ সব সময় মুখ খোলা রেখে ঘুমানো নয়; নাক বন্ধ থাকা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার মতো সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।

২০২২ সালে Polymers সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় মুখের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার সঙ্গে দাঁতের ক্ষয় ও মুখের সংক্রমণের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কি ঘুমের মান নষ্ট করে?

প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি সকালে ক্লান্ত লাগে, মাথাব্যথা হয় কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পাশাপাশি এসব লক্ষণ থাকলে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ধরনের সমস্যার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই অবস্থায় ঘুমের সময় গলার পেছনের শ্বাসনালি বারবার আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা বা হাঁসফাঁস করা, সকালে মাথাব্যথা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে শুধু মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়েছে, এমন নয়। নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি, নাকের পর্দা বাঁকা হওয়া কিংবা টনসিলের সমস্যার কারণেও রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

কেন মুখ খুলে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি হয়?

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ সর্দি বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করেন। আবার দীর্ঘদিনের নাকের সমস্যা, নাকের ভেতরের গঠনগত জটিলতা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে নাক, গলা ও শ্বাসনালির সমস্যা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করে কিংবা দিনের বেলায় অস্বাভাবিক ক্লান্ত থাকে—এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মুখ খুলে ঘুমানো কমাতে কী করবেন?

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস কমাতে প্রথমে এর কারণ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নাক বন্ধ থাকলে তার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ঘুমানোর ঘর অতিরিক্ত শুষ্ক না রাখার বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাসনালির সমস্যা শনাক্ত না করে মুখ বন্ধ রাখার জন্য জোর করা কিংবা ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানো নিরাপদ সমাধান নয়। এতে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে, বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকলে বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার আশঙ্কা থাকলে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সাধারণত বড় সমস্যা নয়। তবে প্রতিদিন সকালে মুখ অতিরিক্ত শুকিয়ে থাকা, দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা, নিয়মিত জোরে নাক ডাকা কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে বারবার দম বন্ধ হয়ে আসা, হাঁসফাঁস করা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত মূল্যায়ন জরুরি।

সব মিলিয়ে, মুখ খুলে ঘুমানো সব সময় গুরুতর রোগের লক্ষণ না হলেও দীর্ঘদিনের অভ্যাস হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। মুখের আর্দ্রতা ও দাঁতের সুরক্ষা বজায় রাখার পাশাপাশি নাক দিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার পথে কোনো বাধা আছে কি না, সেটি শনাক্ত করাই সুস্থ ঘুম ও ভালো স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন/এসএ