বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, এবার বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ মনির
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পেয়েও নিয়োগের গেজেটে নাম আসেনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের। মৎস্য ক্যাডারে মেধাতালিকায় ২৮তম অবস্থানে থেকেও বাদ পড়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের ফেসবুক পোস্টে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মনির দাবি করেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরও তাঁকে বঞ্চনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাঁদের বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান না এলে রাজধানীর শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
মেধাতালিকায় ২৮তম হয়েও গেজেটে নাম নেই
মনিরুজ্জামান মনির বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ২৮তম।
তবে বুধবার রাতে প্রকাশিত নিয়োগের গেজেটে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাঁকে নিয়োগের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো উত্তর জানেন না বলে জানিয়েছেন মনির। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও হতাশার কথা তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে মনির লেখেন, ‘এই রাষ্ট্র আমার না। চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ধৈর্যের ফল আজ শূন্য।’ বৃদ্ধ বাবার সামনে কীভাবে দাঁড়াবেন, সেই দুশ্চিন্তার কথাও জানান তিনি। মেধাতালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও বাদ পড়ার কারণ জানতে চেয়ে মনির প্রশ্ন তোলেন। পোস্টে তাঁর হতাশা ও মানসিক বিপর্যয়ের প্রকাশ পাওয়া যায়।
‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছি, সেই বৈষম্যেরই শিকার’
ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে মনির অভিযোগ করেন, বৈষম্যহীন আন্দোলনের ভিত্তিতে দাঁড়ানো রাষ্ট্রেই তাঁদের মতো প্রার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভেরিফিকেশনের কথা বলে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৬ জন প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। মনির লেখেন, অবিলম্বে গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন, সেই বৈষম্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
মনিরুজ্জামান জানান, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরও কেন তাঁকে নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলো, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন
সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গেজেটে নাম না আসার কারণ জানতে চান মনির। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী প্রার্থীরা বলছেন, সুপারিশপ্রাপ্ত কিছু প্রার্থী পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। কারও কারও কাগজপত্রেও সমস্যা ছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সবকিছু ঠিক থাকার পরও ৫৪ জন প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অভিযোগ ও বাদ পড়ার প্রকৃত কারণের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হলে তাঁদের উদ্বেগের নিরসন হতে পারে।
৪৫তম বিসিএসে ১০৫ জনের নাম গেজেটে নেই
এর আগে বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে। এতে পিএসসির সুপারিশ করা ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জনের নাম নিয়োগের গেজেটে আসেনি। এই তালিকায় কারও ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়া বা কাগজপত্রসংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। তবে সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে বাদ পড়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুপারিশ পাওয়ার পরও গেজেটে নাম না আসায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে যাঁদের কাগজপত্র ও যোগ্যতা ঠিক রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেন প্রার্থীরা
গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সমাধান না এলে ওই দিন রাজধানীর শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এ কর্মসূচির ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অভিযোগের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং তাঁদের বাদ পড়ার কারণ স্পষ্ট করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array