খুঁজুন
                               
, ,
           

নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআইয়ের ‘বটনেট’ আতঙ্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআইয়ের ‘বটনেট’ আতঙ্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। এবার এআই মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই একাধিক ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বটনেট তৈরি করতে পারে। এরপর সেটি বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়া, বন্ধ করার প্রচেষ্টা এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং অবকাঠামোয় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত অ্যানথ্রপিকের এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাব্য ঝুঁকির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানটির উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও অন্যদের কেউ কেউ এ ধরনের পরিস্থিতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য কোনো পরিস্থিতি আর বাস্তবে ঘটতে যাওয়া ঘটনা এক নয়।

কীভাবে নিজের অনুলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই?

অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কিছু এআই মডেল নিজেদের অনুলিপি তৈরি, নতুন ডিভাইসে প্রবেশ এবং প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সংগ্রহের মতো কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হতে পারে। এসব সক্ষমতা একত্র হলে কোনো নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ের পক্ষে একাধিক ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বটনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বটনেট হলো ইন্টারনেটে যুক্ত একাধিক কম্পিউটার, সার্ভার বা অন্যান্য ডিভাইসের নেটওয়ার্ক, যেগুলো দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাইবার অপরাধীরা সাধারণত এসব ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা, কোনো এআই যদি নিজেই এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সেটিকে শনাক্ত করা ও নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে, যদি এআইটি কোনো একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা বন্ধ করে পুরো নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নাও হতে পারে।

মাঝারি আকারের এআই মডেল নিয়েও উদ্বেগ

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষায় ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলো নিজেদের অনুলিপি তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি পৃথক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পেরেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মডেলগুলোর এখনো সমস্যা রয়েছে।

প্যারামিটার হলো এআই মডেলের ভেতরে শেখা সংখ্যাগত মান, যেগুলোর মাধ্যমে মডেল ইনপুট বিশ্লেষণ করে ফলাফল তৈরি করে। সাধারণভাবে প্যারামিটারের সংখ্যা মডেলের আকার ও জটিলতার একটি ধারণা দেয়, যদিও শুধু এই সংখ্যা দিয়ে কোনো মডেলের সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না।

অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট-সংযুক্ত তুলনামূলক কম খরচের বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলোর কম্পিউটিং ক্ষমতা একত্র করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে। এমনটি সম্ভব হলে কোনো একক শক্তিশালী কম্পিউটারের ওপর নির্ভর না করেও একটি এআই ব্যবস্থা বিভিন্ন ডিভাইসের সম্মিলিত সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে।

তবে পরীক্ষায় পৃথক কিছু কাজ করতে পারা মানেই বাস্তব ইন্টারনেটে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারা নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটাতে আরও অনেক প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বাধা অতিক্রম করতে হবে।

২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সক্ষমতা বাড়ার পূর্বাভাস

অ্যানথ্রপিকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা যদি আগের গতিতেই বাড়তে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

প্রতিবেদনে সম্ভাব্য আরেকটি ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে। সেটি হলো, নিজেদের বিস্তার ঘটাতে এআই মডেলগুলো আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে পারে। এর মধ্যে ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত প্রসেসর ও অন্যান্য কম্পিউটিং সম্পদ থাকতে পারে। এসব অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এআইয়ের হাতে আরও বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এ পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বর্তমান প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিশ্লেষণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটবেই, এমন নিশ্চয়তা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতভেদ

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তার বাস্তবতা ও উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন মনে করেন, ছোট আকারের এআই মডেলকে কম খরচের কোনো ডিভাইসে চালাতে পারা নিজে থেকেই বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের প্রমাণ নয়। তাঁর মতে, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন প্রযুক্তিগতভাবে আকর্ষণীয় হলেও এতে নিজেদের প্রযুক্তি বা পণ্যের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের এই সংশয়ের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি রয়েছে। বড় এআই মডেলগুলো সাধারণত আকারে বিশাল এবং সেগুলো চালাতে উল্লেখযোগ্য কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন হয়। ফলে একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে মডেল সরিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংগ্রহ করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়।

এ কারণে কোনো এআই মডেল কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে পারলেও সেটি বাস্তবে একটি বিস্তৃত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বটনেট গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এআই ‘ওয়ার্মে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হলেও এ ধরনের পরীক্ষা সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আশঙ্কা করছেন, এআই কোনো একক কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে অসংখ্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারলে সেটি কম্পিউটার ওয়ার্মের মতো আচরণ করতে পারে।

ওয়ার্ম হলো এক ধরনের ক্ষতিকর কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা নিজে থেকেই নিজের অনুলিপি তৈরি করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণ ভাইরাসের মতো সব সময় অন্য কোনো ফাইলের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রয়োজন হয় না বলে ওয়ার্ম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

লি মনে করেন, এমন কোনো এআই যদি বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে পারে এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এ আশঙ্কাও এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকির পর্যায়ে রয়েছে; বাস্তবে এমন একটি এআই নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে বলে এখানে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নিয়ন্ত্রণহীন এআই নিয়ে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

এআইয়ের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন বৃহত্তর একটি নিরাপত্তা বিতর্কের অংশ। এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা চালানো, মানুষের সীমিত তদারকিতে জটিল কাজ সম্পন্ন করা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ বাড়ছে।

এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই এসব ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের কিছু কর্মকর্তা ও গবেষক নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন।

তবে এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বর্তমান সক্ষমতা, পরীক্ষাগারে পাওয়া ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। কোনো কাজ পরীক্ষামূলকভাবে করা সম্ভব হওয়া আর বাস্তব পরিবেশে বড় পরিসরে তা সফলভাবে সম্পন্ন করা এক বিষয় নয়।

ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি মনে করেন, গত তিন মাসে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের কার্যকলাপ নিয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলোর আলোকে মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা যুক্তিসংগত।

তবে এ ধরনের পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা কতটা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য নয়, কিন্তু এটি যে ঘটবেই, তারও নিশ্চয়তা নেই।

সব মিলিয়ে, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন এআইয়ের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো আগেভাগে শনাক্ত করা, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এবং এআইয়ের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরোধের কার্যকর কৌশল তৈরি করা। তবে নিয়ন্ত্রণহীন এআই ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।

কালের আলো/এসএ

চিনি খাওয়া কমছে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি ক্রয়ক্ষমতার সংকট?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
চিনি খাওয়া কমছে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি ক্রয়ক্ষমতার সংকট?
বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে চিনির ব্যবহার কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। এই পরিবর্তনের পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, চিনির দাম এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তবে চিনির ব্যবহার কমে যাওয়াকে সরাসরি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিস্তার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এ প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। পরের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২২ লাখ ৩৭ হাজার টনে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ব্যবহার আরও কমে ২০ লাখ ৪৫ হাজার টনে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার টনে। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে চিনির ব্যবহার ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টন হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান দেশের চিনির বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে মোট ব্যবহার কমার অর্থ এই নয় যে দেশের প্রত্যেক মানুষ আগের তুলনায় কম চিনি খাচ্ছেন। জনসংখ্যা, শিল্পকারখানায় চিনির ব্যবহার, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন এবং বাজার পরিস্থিতিও সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে চিনির ব্যবহার কমার প্রবণতার পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২০১১ সালের প্রায় ৮৪ লাখ থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আক্রান্তদের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের রোগ শনাক্ত হয়নি, সংখ্যায় যা প্রায় ৫৪ লাখ ২৬ হাজার। ফলে অনেক মানুষ রোগ সম্পর্কে না জেনেই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন চালিয়ে যেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০১১ সালে দেশে উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ২৬ শতাংশ, যা ২০১৭-১৮ সালের জরিপে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি তিনজনের একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ সিরোসিসের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের বিস্তারের সঙ্গে চিনির ব্যবহার কমা বা বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হলে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। এসব রোগের ঝুঁকিতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয়ও ভূমিকা রাখে।

চায়ে চিনি কমালেই কি কমবে স্বাস্থ্যঝুঁকি?

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক ভারসাম্যহীনতা ফ্যাটি লিভার ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ কারণে দৈনন্দিন খাবারে বাড়তি চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চা একটি নিয়মিত অনুষঙ্গ। চায়ে চিনি কমানো বা ধীরে ধীরে চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বাড়তি চিনি গ্রহণ কমানোর একটি উপায় হতে পারে। তবে শুধু চায়ের চিনির দিকে নজর দিলেই চলবে না। বিস্কুট, কেক, বেকারি পণ্য, কোমল পানীয়, মিষ্টি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চিনি থাকতে পারে।

খাদ্যপণ্যের লেবেল পড়ে চিনি বা যুক্ত চিনির পরিমাণ যাচাই করা, কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

চিনির দাম ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও কি বড় কারণ?

চিনির ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবারগুলো খাদ্য কেনার ক্ষেত্রে নতুন করে হিসাব করতে বাধ্য হয়। সে ক্ষেত্রে চিনি ও চিনিযুক্ত খাবারের ব্যবহার কমে যেতে পারে।

তবে ব্যবহার কমার কতটা অংশ স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে এবং কতটা অংশ মূল্যস্ফীতি বা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে ঘটেছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলতে হলে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস, আয়, বাজারদর ও কেনাকাটার ধরন নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। শুধু জাতীয় পর্যায়ের মোট ব্যবহার থেকে মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণ নিশ্চিত করা যায় না।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে চিনি কমানো জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার বা পুষ্টিকর বিকল্প থেকেও বঞ্চিত হলে সেটিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি বলা যাবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদনেও বড় পরিবর্তন

দেশের চিনির বাজারে পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর উৎপাদন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে এসব চিনিকলে উৎপাদন ছিল ৮২ হাজার টনের বেশি। ২০২২-২৩ মৌসুমে তা কমে মাত্র ২১ হাজার ৩১৪ টনে নেমে আসে। পরে ২০২৫-২৬ মৌসুমে নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে উৎপাদন দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৩২৬ টনে।

উৎপাদনের এই ওঠানামা চিনিশিল্পের সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারের চাহিদা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদন কমা এবং দেশের মোট চিনির ব্যবহার কমে যাওয়াকে একই ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশে চিনির সরবরাহে বেসরকারি খাত ও আমদানিরও ভূমিকা রয়েছে।

চিনির ব্যবহার কমা কি সত্যিই সুসংবাদ?

বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে, যদি এর পেছনে থাকে সচেতনভাবে বাড়তি চিনি কমানো ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। কিন্তু একই প্রবণতা যদি মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজারদর বৃদ্ধি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফল হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তাই চিনির ব্যবহার কমার প্রকৃত কারণ বুঝতে বাজারের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানুষের আয়, খাদ্যব্যয়, চিনিযুক্ত পণ্যের বিক্রি এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহ দেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, দেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও অর্থনৈতিক চাপ—দুই কারণই ভূমিকা রাখতে পারে। কোনটির প্রভাব বেশি, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ

বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সালাহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সালাহউদ্দিন আহমেদ

দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

দাফনের পর তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তাঁর ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চান।

বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। জানাজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা সাবেক এই সংসদ সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

নয়াপল্টনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদের মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর নিজ এলাকা রাজধানীর শ্যামপুরের লাল মসজিদে। সেখানে বিকেল ৩টায় তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জুরাইন কবরস্থানে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহসম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীনসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা শোক প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ রাজধানীর শ্যামপুরের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এই সদস্যপদ অর্জনের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, রন্ধন প্রতিযোগিতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশ এবং শেফদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের ওয়ার্ল্ডশেফসের ন্যাশনাল মেম্বারশিপ অর্জনের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ এবং অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা জানান, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের শেফরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক রন্ধন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।

রন্ধনশিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, নতুন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং বৈশ্বিক পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ সদস্যপদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

দক্ষ শেফ তৈরিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি এবং এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের শেফরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের রন্ধনশিল্পের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শেফদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ডশেফস

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিস বা ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত উন্নয়নে সংগঠনটি ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের এই সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের আলো/এসএ