ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী
রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিবর্তে সরকারের সমালোচনা, ভুল সংশোধনের পরামর্শ এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা উচিত।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদের এক দফা আন্দোলনের সমালোচনা
বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, সামাজিক অন্যায়-অবিচার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতিতে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী দলের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি হাস্যকর, অরাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘ভোট দিলে সরকারে, না দিলে বিরোধী দলে’
নির্বাচন ও ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিনা ভোটে কিংবা ‘দিনের ভোট রাতে’ করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।তিনি বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে সরকার আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। জনগণ ভোট দিলে সরকার গঠন করবে, আর ভোট না দিলে বিরোধী দলে চলে যাবে।
মীর শাহে আলমের ভাষ্য, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর নির্বাচনে ভোট চাইতে যেতে চায় সরকার। উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেই সরকার পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
‘হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের পকেটে নেই’
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, একসময় ধারণা করা হতো, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। তবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বেশি ভোট পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এর মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি অন্ধ আনুগত্যশীল নন; তাঁরা দেশের সচেতন নাগরিক।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আত্মীয় মনে করে। তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
দুর্গাপূজায় ছুটি বৃদ্ধি ও মন্দিরে চাল বরাদ্দের কথা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি এক দিন বাড়ানো, মন্দিরে চাল বরাদ্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আরও আনন্দের সঙ্গে উদ্যাপন করতে পারেন।
২০ অক্টোবর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রী
মীর শাহে আলম জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুদান বিতরণ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।
৬৫ পূজামণ্ডপে অনুদান, দুস্থ নারীদের শাড়ি বিতরণ
শুক্রবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ করা হয়।শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সদস্যসচিব রোকন উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু এবং সনাতন ধর্মীয় নেতা নয়ন চন্দ্র।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array