খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী

রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিবর্তে সরকারের সমালোচনা, ভুল সংশোধনের পরামর্শ এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা উচিত।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদের এক দফা আন্দোলনের সমালোচনা

বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, সামাজিক অন্যায়-অবিচার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতিতে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী দলের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি হাস্যকর, অরাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

‘ভোট দিলে সরকারে, না দিলে বিরোধী দলে’

নির্বাচন ও ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিনা ভোটে কিংবা ‘দিনের ভোট রাতে’ করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।তিনি বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে সরকার আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। জনগণ ভোট দিলে সরকার গঠন করবে, আর ভোট না দিলে বিরোধী দলে চলে যাবে।

মীর শাহে আলমের ভাষ্য, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর নির্বাচনে ভোট চাইতে যেতে চায় সরকার। উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেই সরকার পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের পকেটে নেই’

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, একসময় ধারণা করা হতো, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। তবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বেশি ভোট পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এর মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি অন্ধ আনুগত্যশীল নন; তাঁরা দেশের সচেতন নাগরিক।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আত্মীয় মনে করে। তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপনের সুযোগ তৈরি করতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

দুর্গাপূজায় ছুটি বৃদ্ধি ও মন্দিরে চাল বরাদ্দের কথা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি এক দিন বাড়ানো, মন্দিরে চাল বরাদ্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আরও আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে পারেন।

২০ অক্টোবর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রী

মীর শাহে আলম জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুদান বিতরণ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

৬৫ পূজামণ্ডপে অনুদান, দুস্থ নারীদের শাড়ি বিতরণ

শুক্রবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ করা হয়।শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সদস্যসচিব রোকন উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু এবং সনাতন ধর্মীয় নেতা নয়ন চন্দ্র।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়  ,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে রোগটিতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন মারা যান। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন। নতুন রোগী ভর্তি ও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপের চিত্র তুলে ধরছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালকে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৮৬৫ জন।অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬০ জন, খুলনায় ২৩৩ জন, বরিশালে ১৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৭ জন এবং রংপুরে ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এবারের অধিবেশনে শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওআইসিভুক্ত বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সংলাপ ও সংহতিতে গুরুত্ব

এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের মূল প্রতিপাদ্য—‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি, এই দুটি মৌলিক স্তম্ভ’। এই প্রতিপাদ্যের আওতায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সংহতি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ওআইসির বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির। এসব বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ওআইসি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ বৈঠকে সহসভাপতিত্ব

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সহসভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। এবারের অধিবেশনের সঙ্গে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্বেও পরিবর্তন এসেছে। তুরস্কের কাছ থেকে ইরাক আগামী এক বছরের জন্য পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের
স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা ও ক্লাবটির নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রমকে নাৎসি জার্মানির প্রচারণার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তেবাস। তাঁর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লা লিগা সভাপতির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

শুধু লা লিগার সভাপতির পদ নয়, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সহসভাপতির পদ থেকেও তেবাসের পদত্যাগ চেয়েছে ক্লাবটি। রিয়াল মাদ্রিদের মতে, তাদের ক্লাব, পরিচালনা পর্ষদ ও গণমাধ্যমকে এভাবে তুলনা করা গভীরভাবে অপমানজনক এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেবাসের অভিযোগ

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন হাভিয়ের তেবাস। তাঁর দাবি, ক্লাবটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের বক্তব্য প্রচারের জন্য একদল মুখপাত্রকে ব্যবহার করে এবং এ ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশন (আরএমটিভি) নেতৃত্ব দেয়।

তেবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের প্রচারকৌশলে নিজেদের সুবিধামতো ঘটনা বেছে নেওয়া, একই অভিযোগ বারবার তুলে ধরা, সন্দেহ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব পদ্ধতি নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচারণার কৌশলগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একই বার্তার পুনরাবৃত্তি, শত্রু তৈরি করা এবং বাস্তব ঘটনাকে নিজেদের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা ছিল সেই প্রচারণার বৈশিষ্ট্য।

তবে পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তেবাস স্পষ্ট করেন, তিনি গোয়েবলসের আদর্শের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের তুলনা করেননি; বরং প্রচারণার কৌশলগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি রিয়াল মাদ্রিদ

তেবাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির মতে, তিনি পরে যে ব্যাখ্যাই দিন না কেন, তাঁর মন্তব্যের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য চরিত্র এতে কমে না।

এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি ক্লাব, এর পরিচালনা এবং নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলকে নাৎসি শাসনের প্রচারণার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করবেন—এটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ অসহনীয় ও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেবাসের এই মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদ, ক্লাবটির সভাপতি এবং এর গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর বারবার আক্রমণের আরেকটি উদাহরণ। এ কারণে লা লিগার সভাপতি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে ক্লাবটি।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন মাত্রা

হাভিয়ের তেবাস ও রিয়াল মাদ্রিদের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রেফারিং এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেও একাধিকবার মতবিরোধ দেখা গেছে।

গত মাসেও রেফারিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদের সমালোচনা করেছিলেন তেবাস। এ ছাড়া ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।

২০২৫ সালে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ওই ঘটনার পর ক্লাবটি সম্পর্কে তেবাস মন্তব্য করেছিলেন, তারা ‘মাথা হারিয়ে ফেলেছে’।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার গোয়েবলসের প্রচারণার কৌশল নিয়ে করা মন্তব্য দুই পক্ষের বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

এখন কী হবে তেবাসের ভবিষ্যৎ?

রিয়াল মাদ্রিদ প্রকাশ্যে পদত্যাগ দাবি করলেও তেবাসের পক্ষ থেকে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্তের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, তাঁর মন্তব্যের পর লা লিগা বা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।

তবে ঘটনাটি স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশাসনিক নেতৃত্ব, ক্লাবগুলোর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্পর্ক এবং প্রকাশ্য বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তেবাসের মন্তব্যের প্রতিবাদে রিয়াল মাদ্রিদের কঠোর অবস্থানের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এএন/এসএ